সিলেট
সিলেটে নিখোঁজ শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান।
শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তেল ও খনিজ প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায়।
পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ১০/১১ জনের একটি গ্রুপ বিছনাকান্দি এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটতে নামেন তারা। এ সময় বৃষ্টির কারণে উজান থেকে হঠাৎ ঢল নামলে পানির স্রোত বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতের তোড়ে একপর্যায়ে শান্ত বণিক পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। এ সময় তার বন্ধুদের চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে নৌকা নিয়ে তাকে উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা টুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
স্থানীয় ডুবুরিরা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও শান্তকে খুঁজে না পেয়ে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিছানাকান্দি টুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শান্ত বণিকের মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
১৯ দিন আগে
এমপির ঝটিকা সফর: সুনামগঞ্জের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলেনি শিক্ষকের দেখা
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি পাননি তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। পথিমধ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার পরিদর্শনে উঠে আসে হতাশাজনক চিত্র।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। পরে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তিনি দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের ফটক খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংসদ সদস্য সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
পরপর তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের এ ধরনের পলায়নপর মনোভাবকে তিনি শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সরকার যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের এই ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সকাল ১০টা বেজে গেলেও যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসেন, তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এটি স্পষ্টত দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থপরিপন্থি।’
ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তিনি এই তিন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম এলাকায় তদারকি কম থাকায় শিক্ষকরা প্রায়ই এমন অনিয়ম করে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এমন তদারকির ফলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
২১ দিন আগে
নতুন জীবনে পা রাখলেন কুড়িয়ে পাওয়া সেই ছোট্ট শিশু স্বপ্না
মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে অসহায় অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ছোট্ট এক শিশুকে। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে না পারা সেই শিশুটির চোখে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা ভবিষ্যতের শঙ্কা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই শিশুই আজ নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন।
স্বপ্না আক্তার নামের সেই তরুণী বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ তার নতুন জীবনের সূচনা করে দিল।
বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল আবেগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতোই। এ ঘটনায় উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। ফলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রেই তার বেড়ে ওঠা। এখান থেকেই তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়। ২০২৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেন বলেন, ‘স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায়, তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।’
জানা গেছে, স্বপ্নার পাত্রও সিলেটের বাসিন্দা এবং ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি করেন। বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি স্বপ্নাকে সংসারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উপহার দেন। এছাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয় এবং একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এ বিয়েতে ১০০ কাপ দই উপহার দেয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।’ তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ ও পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই
২১ দিন আগে
সিলেটে চলন্ত ট্রেনে আগুন, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তঃনগর ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আগুন লেগেছে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা।
বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টায় সিলেট স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনটি সিলেট স্টেশন থেকে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পারাইরচক এলাকায় যাওয়ার পর ইঞ্জিনে ধোঁয়া ও আগুনের ফুলকি দেখা যায়। বিপদ আঁচ করতে পেরে চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। আগুন লাগার পর ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দিলে যাত্রীদের অনেকে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনের বগি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক যাত্রী দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ট্রেনটিকে নিরাপদ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। টোকাইদের একটি বস্তা ইঞ্জিনের বগির ওপরে রাখায় সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইনসপেক্টর টিটব শিকদার জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিনের সাইলেন্সারের কাছে ভুলবশত কিছু কাপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। ইঞ্জিন কিছুক্ষণ চলার পর সাইলেন্সার অতিরিক্ত গরম হয়ে কাপড়ে আগুন লাগে। আমাদের তিনটি ইউনিটসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রায় ২০ মিনিট পর ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। আগুনের কারণে ইঞ্জিনের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলেও জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
২১ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
বুধবার (১৩ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো— সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২ বছর ৩ মাস বয়সী হাফিজা আক্তার, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ১ বছর ৪ মাস বয়সী রাইসা জান্নাত এবং ছাতকের ৮ মাস বয়সী আরিয়া জান্নাত। এদের মধ্যে দুজন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপরজন ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (বুধবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছে ১১০ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫০ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে।
কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৬ জন রোগী।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে।
হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমএ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত ১১ মে থেকে ৩২ শয্যার বিশিষ্ট ‘হাম আইসোলেশন ইউনিট’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ৫ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। সবমিলিয়ে বর্তমানে সিলেটে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর মুনীর রাশেদ বলেন, ‘হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। এজন্য শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ হাম আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।’
এদিকে, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৭টি শিশু।
২২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, সিলেট থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগীর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বয়স ৭ মাস এবং অন্যজনের ১০ মাস। ৭ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেট জেলায় এবং ১০ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন ভর্তি হয়েছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ২৮৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭২ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন রোগী ভর্তি আছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীরা ভর্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৪৭ জনের হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৭৩ জন, সিলেটে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ দিন আগে
এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চামড়া শিল্পে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকে কওমি মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও ইসলামের হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কোরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্যতম উৎস।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায় না।
পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টারিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এই সরকার ভাঙতে পারেনি।’
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব ও এতিমদের ইসলামী শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় দাবি করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়া পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৯ মাস এবং আরেকজনের ৮ মাস।
রবিবার (১০ মে) গত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।
মৃত শিশুদের একজনের বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা। অপরজনের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। তাদের মধ্যে একজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে এবং অপরজন ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা গেছে ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৩ শিশু।
এদিকে, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ভর্তি আছেন ২৬৮ জন।
গতকাল (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (রবিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে সিলেটের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২২ জন।
২৫ দিন আগে
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। তাদের বয়স ছিল পাঁচ থেকে সাত মাসের মধ্যে।
মৃত শিশুরা হলো— সিলেট মহানগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আবদুল মুমিনের ছেলে মাহাদি হাসান (৫ মাস), সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুন্নাহ মিয়ার ছেলে মুসতাকিন (৬ মাস) এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুরেশনগর এলাকার জাকারিয়ার মেয়ে জারা (৭ মাস)।
সর্বশেষ এই তিন শিশুসহ সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে একজন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে ল্যাব টেস্টের সীমিত সুযোগ থাকায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রাথমিকভাবে হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ শিশু, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শিশু এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু এবং ফেঞ্চুগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে ভর্তি হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৪১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ শিশু, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ শিশু, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ শিশু, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ শিশু, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ শিশু এবং সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া, বাহুবল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন করে, আজমিরিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন করে এবং কিছু স্থানে একজন করে রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
২৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রদান
অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।
৩০ দিন আগে