বৈদেশিক-সম্পর্ক
এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি বড় কূটনৈতিক সাফল্য: হুমায়ুন কবির
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রবিবার (১ নভেম্বর) টেলিফোনে ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মধ্যে এ সাফল্য অর্জিত হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ১ থেকে ৪ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যেখানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাংলাদেশকে আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে।
বাংলাদেশ শুক্রবার জানায়, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন। এর ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটাচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে নয়, বরং এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্য লক্ষ্য এবং সরকার তা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবর্তিত বাণিজ্য পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বাংলাদেশের আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। এরপর ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠানোর সুপারিশ করে।
আলোচনা সহজ করতে সরকার একটি তিন বছর মেয়াদি রূপরেখা তৈরি করে, যেখানে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিতে পরিমাপযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।
বর্ধিত এই সময় বাংলাদেশকে কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের বাড়তি সুযোগ দেবে।
এছাড়া নতুন নির্ধারিত উত্তরণের সময়সীমার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য এই সময় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ করে দেবে।
২ ঘণ্টা আগে
জাপানের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি: হুমায়ুন কবির
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশ বা বঙ্গোপসাগর নিয়ে কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, যৌথ বিবৃতিতে তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই। এখানে বঙ্গোপসাগরেরও কোনো উল্লেখ নেই। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করে বিগ-বি ধারণাকে আঞ্চলিক শিল্প সরবরাহব্যবস্থায় সম্প্রসারণ করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম।
আঞ্চলিক উদ্যোগে অন্য দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে। একইভাবে আমাদেরও তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, জাপান থেকে এলএনজি আমদানি করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্মিনালটি পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশও এ ধরনের একটি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ কারণে টার্মিনালটির নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনাপদ্ধতি সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের এলএনজি টার্মিনাল একটি পরীক্ষিত উদাহরণ। তাই সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল, টার্মিনালটি দেখতে কেমন, তারা কীভাবে এটি তৈরি করেছে এবং এটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখা। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের জন্য একটি ধারণা পেতে চেয়েছি।
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত জাপানি অর্থনৈতিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ বৈঠকের পর শিগগিরই মিশন পাঠানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা যেখানেই যাই না কেন, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয়—এটি আমাদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও বিনিয়োগনির্ভর একটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তে থাকা ঝুঁকি, প্রযুক্তির দ্রুত উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জাপান বিগ-বি ধারণাকে ‘সমৃদ্ধির অংশীদারত্বের জন্য বিগ-বি’ (বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি) নামে নতুন রূপ দিতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অংশীদারত্বের আওতায় এটিকে ‘কৌশলগত সহযোগিতা’ উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।
গত ২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা ‘জাপান-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় জাপান হালনাগাদ ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ (ফ্রিপ অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক—এফওআইপি) রূপকল্পের আওতায় বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার দৃঢ়তাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। পাশাপাশি ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে জাপান আগ্রহী। এছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন সানায়ে তাকাইচি।
২ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭২ বাংলাদেশি
লিবিয়ার মিসরাতা থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ১৭২ অনিয়মিত বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৫১ মিনিটে বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।
বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন। তাদের অনেকে সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশে ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য আইওএমের পক্ষ থেকে যাতায়াতের খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম যৌথভাবে কাজ করছে।
৩ দিন আগে
সৌদি আরবে হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ
দম্মাম বিমানবন্দরে হামলাসহ সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং সৌদি সরকার ও জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ এবং কূটনৈতিক উপায়ে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় দম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুজন নিহত এবং দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ আটজন আহত হন।
আহত বাংলাদেশিরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সজল চন্দ্র দাস এবং নোয়াখালী সদর থানার গোবিগল্লপপুর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুর রহিম।
আহতদের পরিচয় প্রকাশ করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আহতরা বর্তমানে দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৯ দিন আগে
সৌদি আরবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে বন্দি রয়েছেন: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অভিযোগে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে আনুমানিক সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম এই তালিকায় ছিল কি না, আমরা তা যাচাই করে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কোনো তথ্য পাইনি। রায়ের অনুলিপি দেওয়ার জন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি। অনুলিপি পেলে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একা কাজ করে না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্ত থাকে।
তিনি আরও বলেন, যখনই আমরা জানতে পারি কোনো বাংলাদেশি সৌদি আরবে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তখনই আমরা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সাজা কমানো বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
অন্য দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই সরকার নিজের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই অন্য কোনো দেশের বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করব না, তবে এমন ঘটনার খবর পেলেই সরকার নিজের নাগরিকদের রক্ষায় সাধ্যমতো চেষ্টা করে।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, মূল সমস্যা হলো, যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের দণ্ডাদেশের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি।
সম্প্রতি সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপন নথির তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে দেশটিতে আটক ছিলেন।
নথিতে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে কোনো সময়ই সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।
গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বক্তব্যের বরাত দিয়ে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই তথ্যটি জানা যায়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কাজের’ অভিযোগে মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-জাপান, টোকিওতে বৈঠকে বসছেন দুই প্রধানমন্ত্রী
‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
চার দিনের আসন্ন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অন্যদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে সমন্বয়ও বাড়বে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতির মিল রয়েছে।
এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে অথবা নতুন কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানাতে পারে।
সূত্রটি আরও বলে, চ্যালেঞ্জিং সময়েও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং এ বাজার থেকে সরে যায়নি।
কয়েকটি কোম্পানি সফরকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, সফরের সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে।
সফরের সময় এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম এবং চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাপান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি।
গত এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি-সংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা তা সমাধান করা সম্ভব নয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনলাইনে ওই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবার এ সফরের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও সিয়াম আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বাড়বে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই নেতা বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সিয়াম।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
সিয়াম বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলছে।
এ সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব।
বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার জন্য আসন্ন সফরকে সময়োপযোগী সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের চিবা প্রিফেকচারের কাৎসুরা শহরে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লো সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
১২ দিন আগে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপির অপেক্ষায় ঢাকা
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ এখনও বিস্তারিত জানার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাই দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া বিদেশে কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে তাকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আগেই বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলে প্রত্যাশা করে সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব তথ্য জানান।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ‘খুবই হতাশাজনক’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এখানে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে কেন ঘাটতি হয়েছে, তা জানতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আমরা আলোচনা করছি।
পুরো প্রক্রিয়ার কোনো এক পর্যায়ে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের সঙ্গে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক ও গভীর বন্ধন রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার সময় আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, এ ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তারা এখনও রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত দয়া করে অপেক্ষা করুন। এরপর আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং কী করা যেতে পারে তা খতিয়ে দেখব।
শামা ওবায়েদ বলেন, নিয়মিত বিরতিতে তারা আমাদের একটি তালিকা দেয়। ওই তালিকার মাধ্যমে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারি, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কখন করা হয়েছে। তালিকায় তাদের নাম রয়েছে কি না, তা আমরা যাচাই করছি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার এখনও বিস্তারিত তথ্য পায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই। আমরা তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছি। তারা তা দিলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে সরকার তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
২০২৩ সালে সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে নিহত এক বাংলাদেশির দুই সন্তানের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছিল সরকার। সোমবার পরিবারটি সেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একেক দেশের আইনি প্রক্রিয়া একেক রকম। সৌদি আরবেরও নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিককে ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলে দেশটির কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অন্তত তাদের জানা উচিত, তাদের একজন নাগরিক বাংলাদেশের মাটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশও সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের কাছ থেকে একই ধরনের যোগাযোগ প্রত্যাশা করে, যাতে দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তা করা যায়।
সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী সবাইকে সেই আইন মেনে চলতে হয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থানে যান, সেখানে কারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা
এর আগে রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও তথ্য চায় ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানান মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাকু ও বাগদাদে কবিরের কর্মসূচি
অন্যদিকে বিদেশ সফর নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, আজারবাইজানের বাকুতে সিআইসিএ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদে যান।
তিনি এ সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলোতে আন্তর্জাতিক অংশীজনরা বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন কবির।
তিনি বলেন, আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সফরকালে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
১৩ দিন আগে
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন সচিব
সম্প্রতি সৌদি আরবে কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ঢাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৪ দিন আগে
সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবে সম্প্রতি বাংলাদেশি এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা এখনও বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি সরকারকে বাংলাদেশ চিঠি পাঠিয়েছে।
এর আগে সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ওই দুজন ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে তাদের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে থাকতে পারে এবং সে অনুযায়ী দেশটির আদালত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যা যা জানার প্রয়োজন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাব আসলে তিনি জানাতে পারবেন।
এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সৌদি আরবের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সে সফরের প্রস্তুতিও চলছে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সাংবাদিকেরা আবার জানতে চান, দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে না জানানোর কারণটি সরকার আলাদাভাবে জানতে চেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যা যা জানার দরকার, সবকিছুই আমরা জানতে চেয়েছি। এখন তাদের উত্তর আসুক। এরপর আবার জিজ্ঞেস করলে বলতে পারব।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৫ দিন আগে
সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে রেমিট্যান্সে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এর কারণ হিসেবে তিনি ওই অঞ্চলে অনেক বাংলাদেশির চাকরি হারানো, বাধ্য হয়ে অনেকের দেশে ফিরে আসা এবং চাকরি ছাড়া অনেকের সেখানে টিকে থাকার চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিআইআইএসএস মিলনায়তনে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সৌদি আরবে তিন মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন বিদেশি শ্রমবাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মগন্তব্য চিহ্নিত করতে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে দক্ষ কর্মী পাঠানো ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দক্ষতা বৃদ্ধি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই দিনে এসব ঘটনায় বাংলাদেশ দুই নাগরিককে হারিয়েছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে কয়েকজন আইসিইউতেও রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে। কারণ সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন, পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আরও প্রাণহানি ও দুর্ভোগ এড়াতে সংঘাতের দ্রুত অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০ দিন আগে