বৈদেশিক-সম্পর্ক
মক্কা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ। বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের প্রমাণিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মক্কা চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে বলেন?’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখব। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান থাকবে, সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে।’
জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন কোনো বিষয় নয়।
‘আমরা সারা বিশ্বে এটা করছি। তাহলে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্বের জন্য কেন তা করতে পারব না?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা খারাপ কিছু নয়। বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরব ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ। দেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ ব্যবস্থায় অন্যতম বৃহৎ অবদান রেখে আসছে।
‘আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি,’ বলেন তিনি।
কোনো বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মূল্যায়ন করেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
চীনের সঙ্গে ‘২+২’ সংলাপের প্রস্তুতি
এ সময় চীনের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ‘২+২’ সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে অদূর ভবিষ্যতে এ সংলাপ শুরু হবে। তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২+২’ সংলাপ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশের কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।
এর আগে, রবিবার চীনের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি জেদ্দায় ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে এ বৈঠকে।
ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কুয়েতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ‘গুডউইল’ বা সুনাম এখন বেশ দৃশ্যমান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ইতিবাচক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি
বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি—ইউএনডিপি। একই সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য উঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানান। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।
১২ ঘণ্টা আগে
সেপ্টেম্বরের শেষে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি সমাপ্ত হবে বলে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে সর্বমোট ২ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। এর বাইরে মালয়েশিয়া আরও ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে নেবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আর এর বাইরে ১০ হাজার শ্রমিক তারা একদম ফ্রি নেবে, যেটাতে কোনো খরচ নেই। জিরো কস্ট। ওটাও সেপ্টেম্বরের শেষের দিক থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।’
এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়াকে এলএনজি আনার জন্য দেওয়া চিঠির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী আলোচনা হয়নি বলে জানান।
১৫ ঘণ্টা আগে
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কাঠামোর আওতায় আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ভারত। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল এবং বাংলাদেশ-ভারতের সব পানি ও নদী-সংক্রান্ত বিষয় দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠকগুলোও কারিগরি পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের জনগণের পানির অধিকার সংরক্ষণ করেই নতুন চুক্তি করার বিষয়ে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
‘আমরা এখন তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। আগামী ডিসেম্বর মাসে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে চুক্তি করার আগে বিদ্যমান চুক্তিটি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, যথাযথভাবে পানি বণ্টন না হলে বাংলাদেশকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
মরিশাসে নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, জনগণের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ।
সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে তিনি বলেছিলেন, ‘এগুলো অভিন্ন নদী। এখানে আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য, অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। তাই এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, যা জনগণের আস্থা অর্জন করবে। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, প্রায় তিন দশক আগে চুক্তিটি হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতায় তা সংশোধন করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ইউএনবিকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সংশোধন করতে হবে। এর খুব সহজ কারণ হলো, চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে করা হয়েছিল।’
১ দিন আগে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী আইরিন জুবাইদা খান।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে বিশ্ব সংস্থাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি।
মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নে আইরিন খানের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০২০ সাল থেকে তিনি মতপ্রকাশ ও মতামতের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন আইরিন খান। সংগঠনটির নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী তিনি।
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন।
কর্মজীবনের শুরুর দিকে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে (ইউএনএইচসিআর) ২১ বছর কাজ করেন আইরিন খান। সেখানে ভারতের চিফ অব মিশন এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিভাগের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬ সালে তিনি সিডনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ বইটির লেখকও আইরিন খান।
তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল’ স্কুলে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
১ দিন আগে
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপাল সরকার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ধরন মূল্যায়ন করছে এবং আজ সন্ধ্যা বা শুক্রবারের মধ্যে বাংলাদেশকে তা জানাবে।
তিনি বলেন, ‘আজ সকালবেলা আমার সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তাকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে নেপালে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে, সে বিষয়ে সমবেদনা ও শোক জ্ঞাপন করেছি। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অফার করেছি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করছেন। ‘এবং আজকে সন্ধ্যা কিংবা কালকের ভেতরে তিনি নিশ্চিতভাবে আমাদের জানাবেন। আমরা তৈরি আছি।’
নেপালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, এখন পর্যন্ত তা জানা যায়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার কথায়, ‘আমি তাকে বলেছি যে, আমরা তো এখনও পর্যন্ত জানতে পারিনি যে কোনো বাংলাদেশি এতে অ্যাফেক্টেড হয়েছেন কিনা। যদি হয়, তাহলে পরে আমাদের যেন জানান এবং আমরা তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করব।’
বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নেপালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কোনো ফ্লাইট প্রস্তুত করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপাল সরকারের চাহিদা জানার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘উনারা যখন বলবেন তখন, আগের থেকে তো করা যাবে না। কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, নেপালে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানসলু পর্বতের দিকে যাচ্ছিলেন, সে সময় দুর্যোগটি ঘটে। এ দুর্ঘটনায় জীবিত বা মৃত অবস্থায় বাংলাদেশি কারও খোঁজ পাওয়া গেলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
৩ দিন আগে
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে শোক জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকবার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় তিনি এ শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি বাংলাদেশের গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে।
ড. খালিলুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানানোর জন্য নেপাল সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের এই কঠিন সময়ে দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান ড. খালিলুর রহমান। পাশাপাশি নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠিন এই সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সহমর্মিতার উষ্ণ বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পর নেপালের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট চাহিদার কথা বাংলাদেশকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্যোগের পর চলমান অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়েও আলোচনা করেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৭৩ জন নিহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ নেই বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের বিশাল ভূমিধসের কারণে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতও পানির প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। তবে কম্পনের সঙ্গে বন্যার সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনও তদন্ত করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
৩ দিন আগে
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনায় সরকার
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শিল্প অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে চীনের গুয়াংডংয়ে ‘কারিগরি শিক্ষা সেতুবন্ধন ও চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-বাণিজ্য মেধা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের মূল অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখতে মান্দারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বসহ দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা বিনিময় জোরদার করা উভয় দেশের সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, এ ধরনের সহযোগিতা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও টেকসই ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে টেকসই করতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের ই-কমার্স, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি ও আধুনিক লজিস্টিকসে পারদর্শী মানবসম্পদ তৈরি করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন যুগোপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে, যারা সরাসরি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
এ লক্ষ্যে উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, নিয়মিত ফ্যাকাল্টি সহযোগিতা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চীনের আধুনিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বৃত্তি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়ানোও সরকারের অন্যতম পরিকল্পনা বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, চীনের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার আলোকে কারিগরি পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস, আন্তর্জাতিক মানের কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন এবং যৌথ সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পাশাপাশি চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনা শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক কর্মসংস্থান বিনিময় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরপরই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চীনা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাডেমিক অংশীদারত্ব গড়তে চীনের প্রতি আহ্বান মাহ্দী আমিনের
বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি বা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিক্ষাকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, চীনের বহু বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্ব র্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসব বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা ও উন্নত গবেষণার সংস্কৃতি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংঝুতে চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক এক সভায় মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন—এই চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমাদের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা অপরিসীম; প্রয়োজন কেবল যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও আধুনিক প্রশিক্ষণ, যেখানে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বৃত্তি বহুগুণে বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়েও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে যৌথ গবেষণা প্রকল্প হাতে নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার পরেই চীনে এসেছিলেন।’
৪ দিন আগে
লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত
সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সোমবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আব্দুল মুহিতের অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যোগদানের তারিখ থেকে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর পদে তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে গ্রেড-১ পদমর্যাদায় তাকে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ দিন আগে