বৈদেশিক-সম্পর্ক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন ব্রাজিলের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (২০২৬–২০২৭) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন জানিয়েছে ব্রাজিল।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ব্রাজিলের সমর্থনের কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, কৃষিখাত, পোলট্রি শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
২১ ঘণ্টা আগে
আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের কিছু জাহাজও রয়েছে।
তিনি বলেছেন, ইরান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত এসব জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধবিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইরান বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোকেও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
তিনি বলেন, মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে ইরান অংশ নেবে, অন্যথায় কোনো আলোচনায় যাবে না—এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।
ইসলামাবাদে আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এর আগেও আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই আলোচনায় অংশ নেয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে চায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, হামলার মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে জনগণ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি আয়োজন করায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব হামলায় হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশটি যুদ্ধ চায় না, কারণ যুদ্ধ মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব হামলায় শিশুদের হত্যা করা বিশ্ব বিবেকের ওপর আঘাত এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না।
আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ ও জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ আহমদ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা শাখার আহ্বায়ক রকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান ফারসি, মাহফুজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আল আমীন শেখ এবং জালালুদ্দিন রুমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাক্ষর দিয়ে যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান।
১ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহায়তায় ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা
পরিবেশ রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে দেশটি এ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এ অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের দৈনন্দিন রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পসংলগ্ন নাজুক পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা উন্নত হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেছেন, ‘কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক সহায়তা পরিবেশগতভাবে নাজুক একটি অঞ্চলে বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এটি শরণার্থী, স্থানীয় বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে। পাশাপাশি, অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএমকে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করা যায়।’
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, ‘নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং এর জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে বসবাস নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
বাংলাদেশে আইওএমের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, ‘নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক, যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করবে যে শরণার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’
২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে।
কানাডার এই অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত হ্রাস পাবে, একই সঙ্গে স্থানীয় সক্ষমতাও জোরদার হবে বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।
১ দিন আগে
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি শেষ হবে না বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা সবাই বিপদে আছি। এর প্রভাব আগামী দিনেও পড়বে। এমনকি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আমাদের বহুপাক্ষিকতা হ্রাসের মতো আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায় ঢাকা। দিল্লি এই অনুরোধটি সহজভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকতে পারি, তবে বাইরে থেকে আসা ঝড়গুলো মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বেশি হবে। বর্তমান সংকটের প্রভাব যদি ৭০-এর দশকের ধাক্কার চেয়েও বড় হয়, তবে আমরা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে আছি তা কল্পনা করা যায়। এটি একটি তাৎক্ষণিক সমস্যা, তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো যে প্রেক্ষাপটে এটি ঘটছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বিশ্ব যা পুরোপুরি সুশৃঙ্খল ছিল না ঠিকই, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ছিল যে, বৈশ্বিক ব্যবস্থা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে। তবে তা এখন গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহুপাক্ষিকতার ওপর আঘাত এবং বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে একতরফা পদক্ষেপের প্রবণতা বাড়ছে। এসব কাঠামো এই ইস্যুগুলো মোকাবিলায় আমাদের আর কার্যকরভাবে সাহায্য করছে না। তাই আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখন সম্মিলিত পদক্ষেপের সময়, কারণ একক কোনো দেশের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মরিশাস সরকার এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ মরিশাসে এই নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতা, নীতি-নির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা পারস্পরিক দায়িত্ব ও আঞ্চলিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন।
৩ দিন আগে
বেলজিয়াম ও ইইউতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হলেন প্রণয় ভার্মা
বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এই নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রণয় ভার্মা খুব শিগগিরই তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের নাম এখনও ঘোষণা না হওয়ায় প্রণয় ভার্মা আরও এক বা দুই মাস এখানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এর আগে, ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন।
১৯৯৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিক হংকং, সান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু এবং ওয়াশিংটনে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রণয় ভার্মা ২০১৭ সালের জুন থেকে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি পরমাণু শক্তি বিভাগে বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক যুগ্ম সচিব হিসেবে ভারতের পরমাণু কূটনীতির বিষয়টি দেখভাল করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রণয় ভার্মা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী।
ভারতীয় পররাষ্ট্র সেবায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভারতের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টাটা স্টিলে তার পেশাদার জীবন শুরু করেছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার ওপর তার মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে।
৩ দিন আগে
খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিল্লি সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নয়াদিল্লির হায়দারাবাদ হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে নিজের ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘আজ বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।’
তিনি বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে বর্ণিত এই সফরের মধ্য দিয়ে ‘পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের’ ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
যদিও ঢাকা এই সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলেই উল্লেখ করছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা এবং বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরতে নয়াদিল্লির সঙ্গে এই সফরে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বুধবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযুষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
৫ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। একে ওই অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ঢাকা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সমর্থন জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আশা করে যে সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই যুদ্ধবিরতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। একইসঙ্গে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে এই সুযোগটিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগিয়ে পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবে।
এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যেসব পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতা করেছে, তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব এবং বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতিতে সেটিই কাম্য।
৫ দিন আগে
ভারতে শুভেচ্ছা সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ১০-১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে আজ মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করেন।
পথিমধ্যে নয়া দিল্লিতে যাত্রা বিরতিতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়কমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, এসব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহকে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাহবুবুল আলম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত ফেরত চাইবে ঢাকা। মাসুদ বর্তমানে কলকাতায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।
ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করবে ঢাকা। চিকিৎসা পর্যটন থেকে ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হবে। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও জোর দেবে বাংলাদেশ।
উভয় পক্ষ জ্বালানি সহযোগিতা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য বাধা সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হবে ভারতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। দিল্লিতে আগামী ৮ এপ্রিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেছিলেন। মোদি তার চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনযোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মরিশাস সম্মেলন ও ভারত সফরে যাবেন।
৬ দিন আগে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর: দিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোর দেবে ঢাকা
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই শুভেচ্ছা সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ঢাকা এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর হিসেবে অভিহিত করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে বুঝতে এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়কমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও ড. খলিলুর রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রত্যর্পণ ও সীমান্ত ইস্যু
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত ফেরত চাইবে ঢাকা। মাসুদ বর্তমানে কলকাতায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।
এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন বলেন, এটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে আমরা আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেখতে চাই।
ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করবে ঢাকা। চিকিৎসা পর্যটন থেকে ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হবে। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ।
উভয় পক্ষ জ্বালানি সহযোগিতা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য বাধা সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং আরও বহুবিধ সাদৃশ্যের গভীর বন্ধন রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই আলোচনায় আসে।
সফরের সময়সূচি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখান থেকে তিনি মরিশাস যাবেন। নয়াদিল্লি সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সঙ্গে থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হবে ভারতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। দিল্লিতে আগামী ৮ এপ্রিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ভারতের আমন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেছিলেন। মোদি তার চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনযোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আজ (সোমবার) পারস্পরিক স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক লাভের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী পন্থায় একত্রে কাজ করার বিষয়ে ভারতের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতীয় দূত এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, আলোচনায় দুই দেশের জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্বিপাক্ষিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের আলোচনায় জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো স্থান পায়।
হাইকমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক ও সংযোগমূলক সম্পর্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে ভৌগোলিক নৈকট্য থেকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করা উচিত।
পানি বণ্টন
আলোচনায় তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ আবারও উত্থাপন করবে। এছাড়া ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এটি নবায়নের বিষয়টিও এবারের আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চুক্তিটি নবায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তখন বিষয়টি এগিয়ে নেয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতও এ ক্ষেত্রে ভারত সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে।
ভিসা ও সংযোগ
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে স্থগিত থাকা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে জনবল স্বল্পতা থাকায় সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে পরিবহন, জ্বালানি এবং ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ কাজ করছে। সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ এবং ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও গভীর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকা ও দিল্লি উভয় পক্ষই এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে কাজ করছে যা দুই দেশের জন্যই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
৭ দিন আগে
ঢাকার সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে কাজ করতে আগ্রহী দিল্লি: প্রধানমন্ত্রীকে প্রণয় ভার্মা
পারস্পরিক স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক লাভের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী পন্থায় একত্রে কাজ করার বিষয়ে ভারতের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে তার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার এই আগ্রহের কথা জানান।
৮ দিন আগে