বৈদেশিক-সম্পর্ক
বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন: জার্মান রাষ্ট্রদূত
আগামী বছর বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এই প্রেক্ষাপটে সব দলের অংশগ্রহণে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটস।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, দেশটির একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন—এমন একটি নির্বাচন যেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আগামী বছর বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ পাবেন।’
ড. লোটস বলেন, ‘এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এশিয়া ও বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের সারিতে দেশটির পুনঃঅভ্যুদয়ের একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। তাই এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গণতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিশাল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য অসাধারণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি তাদের শুভকামনা জানাই এবং বাংলাদেশের জনগণকেও তাদের গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের জন্য শুভেচ্ছা জানাই।’
১৩৪ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলোর মাত্র একটি বাতিল হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের সঙ্গে দশ চুক্তি বাতিলের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘যে তালিকা একজন উপদেষ্টার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন, সেটা সঠিক নয়। এই তালিকার অধিকাংশ চুক্তি বাস্তবে নেই। একটি চুক্তি আছে অনেক পুরোনো। আর কয়েকটি চুক্তি আছে, যেগুলো পর্যালোচনার মধ্যে আছে, ঠিক ওই নামে নেই।’
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ‘বাতিল ও বিবেচনাধীন চুক্তি/প্রকল্পগুলোর’ একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটা চুক্তিই বাতিল করেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসই’র সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি, এটা আমরা বাতিল করেছি। বিবেচনা করে দেখা গেছে যে এটি বাংলাদেশের জন্য খুব একটা লাভজনক নয়।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যখন কোনো চুক্তি সই হবে বা বাতিল হবে, তখন আমরা আপনাদের জানাব।
উপদেষ্টা জানান, ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প, অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ নামে কোনো প্রকল্প নেই। আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর নামে নেই কিছু, যে নামে আছে তা হচ্ছে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন প্রকল্প, এটার একটা প্যাকেজ বাতিল হয়েছে। ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নামে কিছু নেই, যেটা আছে সেটা একটা সমঝোতা স্মারক আছে, সেটা বাতিল হয়নি।
কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন প্রকল্প বলে কিছু নেই উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন জানান, যেটা আছে সেটা একটা সমঝোতা স্মারক। এটি স্থগিত হয়নি। বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নামেও কোনো চুক্তি নেই। যেটা আছে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহণ, সেটা বাতিল হয়নি। ফারাক্কা বাঁধ সংক্রান্ত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব, এরকম কিছু নেই। সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প নামে কোনো প্রকল্প নেই। পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি, এরকম কোনো চুক্তি হয়নি।
উপদেষ্টা জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল হয়নি, প্রক্রিয়া চলছে। আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে যেটা বলা হয়েছে সেটা মোটামুটি ঠিক আছে। এটা পুনর্বিবেচনার জন্য আলোচনা চলছে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে। এটা নবায়নের জন্য আলোচনা হবে, যোগাযোগ চলছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। খুব যে অগ্রগতি, তা নয়।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের আপডেট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। আপডেট হলে আমরা জানাব।’
ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করে। ‘আমরা আশা করি, তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) তা নিশ্চিত করবে।’
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় এবং পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) সফরকে স্বাগত জানায়।
তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে চাই এবং সে দিকেই এগোচ্ছি।
১৩৬ দিন আগে
দ্বিতীয়বারের মতো মালাক্কা আন্তর্জাতিক হালাল ফেস্টিভালে বাংলাদেশ
দ্বিতীয়বারের মতো মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘মালাক্কা আন্তর্জাতিক হালাল ফেস্টিভাল ২০২৫’-এ অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মালাক্কা প্রদেশে অবস্থিত মালাক্কা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারে (এমআইটিসি) ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসবে খাদ্য ও পানীয়, হালাল ফ্যাশন, হালাল ট্যুরিজমসহ মোট ৯টি ক্লাস্টারে ৪০০টি বুথের মাধ্যমে বাংলাদেশ, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ৮টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মালাক্কা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএবি দাতুক সেরি উতামা এবি রউফ বিন ইউসুহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকদের আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।
অনুষ্ঠান শেষে অন্যান্য স্টলের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টল পরিদর্শন করেন মালাক্কা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা। এ সময় হাইকমিশনার তাদের স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের বুথে প্রদর্শিত রপ্তানিযোগ্য পণ্য যেমন- তৈরিপোশাক, পাটজাত পণ্য, সিরামিকস, ওষুধসামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি হালাল বাণিজ্য সম্প্রসারণে মালাক্কা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে এই মেলায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ হাইকমিশন কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য প্রদেশে বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং বাজার সম্প্রসারণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজধানী কুয়ালালামপুর ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫’-এর প্রচারণা, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা বিতরণ এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মেলার শেষ দিনে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাইকমিশনকে সফল অংশগ্রহণের জন্য সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করে।
১৩৮ দিন আগে
বাংলাদেশ–কুয়েত প্রথম রাজনৈতিক সংলাপ: সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য
বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে প্রথম রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জনশক্তি, উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়।
রোববার (১৯ অক্টোবর) ঢাকায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মো. নাজরুল ইসলাম এবং কুয়েতের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সামীহ ইসা জোহার হায়াত স্ব স্ব পক্ষের নেতৃত্ব দেন।
সংলাপে সিদ্ধান্ত হয়, এ সংলাপ প্রতি দুই বছর অন্তর ঢাকা ও কুয়েতে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
উভয় পক্ষ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয় এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জ্বালানি, অবকাঠামো, আইসিটি, খাদ্য নিরাপত্তা ও হালাল খাতকে অগ্রাধিকার দেয়।
বাংলাদেশ কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। এ ছাড়া দুই দেশ কুয়েত ফান্ডের সহায়তায় চলমান প্রকল্পে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও বিমান সংযোগে সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করে। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে মতৈক্য হয়।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটে কুয়েতের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় এবং তাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজের প্রত্যয় ব্যক্ত করে। উভয় দেশ জাতিসংঘ ও ওআইসির মতো বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সংলাপ শেষে একটি যৌথ সংবাদ বিবৃতি ইস্যু করা হয়। সফরকালে কুয়েতের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সামীহ ইসা জোহার হায়াত মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জনাব মো. তৌহিদ হোসেন এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
১৩৮ দিন আগে
লালনের সম্প্রীতি ও মানবতার দর্শন জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে: ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা লালন শাহের জীবন ও সংগীতে প্রতিফলিত হওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর আলোকপাত করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটরিয়ামে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত ‘লালন সন্ধ্যা’ শীর্ষক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, লালনের অন্তর্ভুক্তি, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার দর্শন জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে এবং দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক যাত্রায় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে অব্যাহতভাবে কাজ করে।
লালন শাহের ১৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতীয় হাইকমিশন, ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহায়তায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে লালন গীতির রানি ফারিদা পারভীনের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শিল্পীগণ, গবেষকবৃন্দ, সঙ্গীতপ্রেমী, যুবসমাজ এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী লালনের দর্শন, সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি, জাতপাত, শ্রেণি ও আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান এবং মানবিক ঐক্যের বার্তা—ভারতের ভক্তি ও সুফি আন্দোলন এবং বাংলার বাউল ঐতিহ্যের আদর্শকে প্রতিধ্বনিত করে। তার গান উভয় দেশে এখনও গাওয়া হয়, যা শান্তি, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধ স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৪১ দিন আগে
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ অক্টোবর) রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য ফোরামের (ডব্লিউএফএফ) প্রধান অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠককালে প্রেসিডেন্ট লুলা এ এ আগ্রহের কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, এই দুই নেতা বিশ্ব খাদ্য ফোরামে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এবং পরে এফএও সদরদপ্তরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। সেখানে সামাজিক ব্যবসা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় কৌশলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধ করুন, খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করুন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে: বিশ্বনেতাদের প্রতি অধ্যাপক ইউনূস
বৈঠকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রেসিডেন্ট লুলাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান প্রধান উপদেষ্টা। লুলা দা সিলভা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব।’ ব্রাজিল তার নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে এবং বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণের পথপ্রদর্শক অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘দারুণ হবে!’
দুই নেতা গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল খাত—বিশেষ করে টিকা পেটেন্টমুক্ত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ—জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা (আসন্ন কপ-৩০ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে) এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়েও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে স্মরণ করেন, তিনি ২০০৮ সালে তৎকালীন ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে সফর করেছেন।
১৪৩ দিন আগে
যুদ্ধ বন্ধ করুন, খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করুন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে: বিশ্বনেতাদের প্রতি অধ্যাপক ইউনূস
বিশ্বনেতাদের প্রতি যুদ্ধ বন্ধ করে ক্ষুধা দূর করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতি বছর বিশ্বে সামরিক ব্যয়ে ব্যয় হয় ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, অথচ ক্ষুধা দূর করতে কয়েক বিলিয়ন ডলারও জোগাড় করা যায় না। পাশাপাশি বিদ্যমান কাঠামোর রূপান্তর ঘটিয়ে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে (ডব্লিউএফএফ) মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ক্ষুধা দূর করতে আমরা কয়েক বিলিয়ন ডলারও তুলতে পারি না, অথচ অস্ত্র কেনায় সারা বিশ্বে ব্যয় হয়েছে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এটাকেই কি আমরা উন্নয়ন বলব?’
তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা ও সংঘাতের দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে। আমাদের অবশ্যই যুদ্ধ থামাতে হবে, সংলাপ শুরু করতে হবে এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করুন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।’
এ সময় খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) স্থিতিশীল রাখতে আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া অর্থায়ন, অবকাঠামো ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিশেষত তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাণিজ্যনীতি যেন খাদ্য নিরাপত্তাকে ব্যাহত না করে, বরং সহায়তা করে।’
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ নিশ্চিত করুন, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের, গ্রামের তরুণ-তরুণীদের জন্য।’
১৪৪ দিন আগে
রোমে এফএও সদরদপ্তরে প্রধান উপদেষ্টাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদরদপ্তরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা এফএও সদরদপ্তরে পৌঁছালে সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. কু দংইউ প্রধান ফটকে এসে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
এফএও সদরদপ্তরে ব্রাজিলের কৃষিবিজ্ঞানী ও লেখক জোসে গ্রাজিয়ানো দা সিলভার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: আইএফএডিকে সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার পর ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের (ডব্লিউএফএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি মূল বক্তব্য দেবেন।
১৪৪ দিন আগে
আইএফএডিকে সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলকে (আইএফএডি) বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাসহ নারী, কৃষক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
স্থানীয় সময় রোববার (১২ অক্টোবর) ইতালির রোমে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের সাইডলাইনে আইএফএডি প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
বৈঠকের এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের জন্য তিনি আইএফএডিকে উৎসাহিত করেন। এ ধরনের একটি তহবিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ, কৃষক, নারী ও মৎস্যখাতের সঙ্গে জড়িতদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও মনে করেন তিনি।
বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ শিল্প চালু করা, আম ও কাঁঠালের রপ্তানি বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি এবং মহিষের দুধ থেকে মোজারেলা চিজসহ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে খামারিদের সহায়তা– এসব কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: রোমের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
এ সময় আইএফএডি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপপাশি কৃষি, সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোরও আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় আইএফএডি প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগে অংশীদার হতে এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ছয়টিরও বেশি কৃষি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে আইএফএডি।
বৈঠকে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, গুদামজাতকরণ এবং আম-কাঁঠালের মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আম রপ্তানি শুরু করেছি, তবে পরিমাণ এখনো সীমিত। চীন বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে আম ও কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে বাংলাদেশি নারী দুগ্ধশিল্পীরা ভেড়ার দুধ থেকে মোজারেলা চিজ উৎপাদন করছেন তা উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: কর্মী নিয়োগে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথমবারের মতো চুক্তি সই
আইএফএডির সমর্থনের মাধ্যমে দেশে চিজ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণের অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ঘাটতির কারণে বেশিরভাগ জেলে এখনো অগভীর পানিতে মাছ ধরেন। আমরা এখনো গভীর সমুদ্রে যেতে সাহস পাই না। আইএফএডির অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আইএফএডির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ৩৭টি প্রকল্পে অংশীদারিত্ব করেছে, যার মোট মূল্য ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সরাসরি অর্থায়ন হয়েছে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশে ছয়টি প্রকল্প (মোট ৪১২ মিলিয়ন ডলার) চলমান রয়েছে এবং আরও একটি প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে।
এর আগে, ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টে দিতে রোববার বিকেল ৫টার দিকে রোমে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে তিনি বক্তৃতা দেবেন এবং উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
১৪৪ দিন আগে
ভারত ভ্রমণে নতুন নিয়ম, বেনাপোলে যাত্রী যাতায়াত নেমেছে ২০ শতাংশে
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের যাতায়াত কমে নেমে এসেছে ২০ শতাংশে। ভিসা জটিলতা ও নতুন নিয়মের কারণে যাত্রী কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারত ভ্রমণের আগে অনলাইনে আগমন ফরম পূরণ করা বাধ্যতামূলক করেছে ভারতীয় দূতাবাস। গত ১ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এটিকে ভোগান্তি ও হয়রানি বলে অভিযোগ করে আসছেন যাত্রীরা।
পাসপোর্ট যাত্রীরা জানান, ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে ‘ইন্ডিয়ান ভিসা অনলাইন এরাইভেল’ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ফরমের প্রিন্ট কপি সঙ্গে নিতে হচ্ছে। কিন্তু সার্ভার সচল না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
আগে ভারতগামী যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে গিয়ে হাতে লিখেই আগমন ফরম পূরণ করতে হতো বলেও জানান তারা।
গত বছরের ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ দেখিয়ে ট্যুরিস্ট, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও নানা শর্ত যুক্ত হওয়ায় সেই ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ভিসা ফি ও ভ্রমণ ফি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারী সুনীতি পাল বলেন, স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিতে গিয়ে নতুন ফরম পূরণে ১০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। সার্ভার সমস্যার কারণে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
আরেক এক যাত্রী উজ্জল কুমার অভিযোগ করে বলেন, ভিসা পেতে আমার প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভোগান্তির শেষ নেই। হয় ভিসা সহজ করুক, না হয় বন্ধ করে দিক। একের পর এক শর্তে ভ্রমণ ও ভিসা প্রাপ্তি দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ভিসা প্রাপ্তির হার কমে আসায় পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচলও স্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে। শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনে তিন হাজার ৭৮১ জন পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত করেছেন।
তিনি জানান, একের পর এক শর্ত আরোপের ফলে ভারতগামী যাত্রীদের যাতায়াত কমে এখন ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক হাজারের নিচে।
১৫১ দিন আগে