বৈদেশিক-সম্পর্ক
নিউইয়র্কে অধ্যাপক ইউনুস ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা জোরদার
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে সোমবার নিউ ইয়র্কের জন. এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর উদ্দেশ্যমূলক হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সরকারের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সহযোগী এবং সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা, তা বাংলাদেশের ভেতরে হোক বা এর সীমানার বাইরে হোক, কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারি প্রতিনিধিদলের সব সদস্যের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে।
সরকার বলেছে, ‘এই নিন্দনীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে গড়ে ওঠা বিধ্বংসী ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক স্পষ্ট ও মর্মান্তিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এই বিধ্বংসী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সফরের সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করেছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলটিকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ভিভিআইপি গেট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি বিশেষভাবে সুরক্ষিত পরিবহন ইউনিটে ওঠানোও হয়েছিল। তবে, অপ্রত্যাশিত এবং শেষ মুহূর্তের ভিসা-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে প্রতিনিধিদলটিকে পথ পরিবর্তন করে বিকল্প পথে অগ্রসর হতে হয়।
বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ভিভিআইপি প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুঃখজনকভাবে সেই অনুরোধ রাখেনি। এর ফলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
ঘটনার পরপরই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে দ্রুত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
সরকার জানিয়েছে, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান।’
সরকার আরও বলেছে, এই ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রতিনিধিদলের সকল সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশে তার প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক ঘনিষ্ঠ এবং অবিচ্ছিন্ন সমন্বয় রেখে যাচ্ছে।
১৬৪ দিন আগে
অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
সার্জিও গোর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এ প্রচেষ্টায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্কের পুনরুজ্জীবন, রোহিঙ্গা সংকট এবং ঢাকাকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার-সহ বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তা কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এর জবাবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ড. ইউনূস বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবনে তৎপরতা জোরদার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সম্মেলনের লক্ষ্য রাজনৈতিক সমাধান: মৌনির সাতৌরি
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগদানে আগ্রহী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ ছাড়া নেপাল, ভুটান ও ভারতের সাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে পারলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত হবে।
বৈঠক শেষে সার্জিও গোরকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার দুপুরে (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম.
সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা ঢাকা থেকে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগ দেন। এ ছাড়া জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধি দলে যুক্ত হন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৪ রাজনীতিবিদ
এ ছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জ্বালানি উপদেষ্টা এম ফাওজুল কবির খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকি, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার প্রধান সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
১৬৪ দিন আগে
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সব ক্রয়প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে: যুক্তরাষ্ট্র
প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সব ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া পুরোপুরি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে সাবেক সরকারের অধীনে চলমান সব সরাসরি দরকষাকষি বা আলোচনাকে স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদন ২০২৫- এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা উন্নত করতে ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আইন বা বিধির মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য চুক্তি ও লাইসেন্স দেওয়ার মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশের সরকার। কার্যক্ষেত্রে সেসব বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও মনে করে ওয়াশিংটন। তবে সরকারি ক্রয়চুক্তি সম্পর্কিত সীমিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের কারণে দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের হিসাব নিরীক্ষা করেনি, তবে সংক্ষেপে কিছু ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেগুলো যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে ওই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে স্বাধীন নয় বলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সম্মেলনের লক্ষ্য রাজনৈতিক সমাধান: মৌনির সাতৌরি
বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা আরও বাড়াতে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো— অর্থবছর শেষে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা; বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করা; বাজেটে নির্বাহী দপ্তরগুলোর ব্যয় খাত আলাদাভাবে উপস্থাপন করা; সরকারের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা; সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বাধীনতা প্রদান এবং যথেষ্ট সম্পদ ও সময়োপযোগী পূর্ণাঙ্গ বাজেট নথিতে প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া; নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সুপারিশ, বিশ্লেষণ ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রকাশ করা; প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানের তথ্য প্রকাশ করা এবং সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য জনসমক্ষে আনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যালোচনাকালীন সময়ে বাংলাদেশে অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারকে প্রতিস্থাপন করেছে। তারা আগের সরকারের বাজেট সুপারিশ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু করেছে।
আগের সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব ও অনুমোদিত বাজেট জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিল, অনলাইনেও তা পাওয়া যেত। তবে অর্থবছর শেষে প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হয়নি। বাজেটের তথ্য সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী বাজেট নথি তৈরি করা হয়নি বলে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঋণসংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। বাজেট নথিতে পরিকল্পিত আয় ও ব্যয়ের চিত্র ছিল, যার মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের আয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নির্বাহী দপ্তরগুলোর ব্যয় আলাদা করে দেখানো হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের চিত্রও বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। যদিও বাজেট নথিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ও আয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৪ রাজনীতিবিদ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আর্থিক স্বচ্ছতা কার্যকর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি বাজারে আস্থা তৈরি করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক স্বচ্ছতা সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক করে তোলে কারণ এতে সরকারের বাজেট ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা জনসমক্ষে উন্মুক্ত হয়। বার্ষিক এই স্বচ্ছতা মূল্যায়ন মার্কিন করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও সহায়ক বলেও মনে করেন তিনি।
২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৪০টি সরকার ও সংস্থার মধ্যে ৭১টি ন্যূনতম আর্থিক স্বচ্ছতার মানদণ্ড পূরণ করেছে। বাকি ৬৯টি মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এদের মধ্যে ২৬টি সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ অর্থবছরের পররাষ্ট্র কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বরাদ্দ আইন অনুযায়ী ২০২৫ সালের প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ২০১৪ সালের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে চিহ্নিত দেশ ও সংস্থাগুলো এবং গত এক বছরে ন্যূনতম আর্থিক স্বচ্ছতা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ দেশগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাজেট নথি, চুক্তি ও লাইসেন্স প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে এবং যেসব দেশ ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, তারা এই সময়কালে কতটা অগ্রগতি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাজেট নথির প্রাপ্যতা, পূর্ণতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা মূল্যায়ন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
১৬৭ দিন আগে
নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সম্মেলনের লক্ষ্য রাজনৈতিক সমাধান: মৌনির সাতৌরি
আসন্ন নিউইয়র্ক সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মৌনির সাতৌরি।
সম্প্রতি, ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
মৌনির সাতৌরি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বাস্তুচ্যুত জনগণের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) এই লক্ষ্য সমর্থন করে বলে জানান তিনি।
সাতৌরি বলেন, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে সহায়ক হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক দমনপীড়নের কারণে পালিয়ে আসা ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বর্তমানে আশ্রয় দিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, সীমিত সম্পদ ও চলমান মানবিক চ্যালেঞ্জের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান
অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে সাতৌরি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে এখন ইইউ প্রধান দাতায় পরিণত হয়েছে। তবে তহবিল সংকট মোকাবিলায় অন্য দাতাদের, বিশেষ করে আঞ্চলিক দাতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের ভার বাংলাদেশের বহন করা সম্ভব নয়, আবার সেটি স্বাভাবিকও নয়। তবে আপাতত শরণার্থীরা বাংলাদেশেই আছে এবং তাদের প্রয়োজন মেটাতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা স্বীকার ও প্রশংসা করার একটি রাজনৈতিক বার্তাও।
তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই প্রশংসা করি এবং স্বাগত জানাই যে বাংলাদেশ গত আট বছর ধরে দশ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এই বিশাল প্রচেষ্টা অনেক সময় অবহেলিত থেকে গেছে।’
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে সহায়তা করছে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মিলার
ইইউ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি অব্যহত রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি বৈঠক করবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে অংশ নেবেন।
এই বৈঠকের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা, বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং একটি কার্যকর, সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা প্রস্তাব করা যাতে টেকসই সমাধানসহ বাস্তুচ্যুত জনগণের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন অধ্যাপক ইউনূস।
সম্প্রতি কক্সবাজারে ‘স্টেকহোল্ডার্স ডায়ালগ’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল কথার জালে বন্দি থাকতে পারি না। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।’
পড়ুন: জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৪ রাজনীতিবিদ
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব। সমাধান নিয়ে ভাবা এবং বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সবার কর্তব্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও এর টেকসই সমাধানকে অবশ্যই বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখতে হবে। কারণ তাদের প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত সহায়তার প্রয়োজন থাকবে।
১৬৮ দিন আগে
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত গেল ১২০০ কেজি ইলিশ
শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে ১ হাজার ১৯২কেজি ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৯০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ২টি পিকআপে করে মাছগুলো ত্রিপুরা রাজ্যের
আগরতলা স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। প্রতি কেজি ইলিশের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ মার্কিন ডলার।
এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানী করেছে যশোরের বেনাপোলের মাহতাব এন্ড সন্স। মাছের আমদানীকারক আগরতলার পরিতোষ বিশ্বাস।
উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, মাছের তাপমাত্রাসহ অন্যান্য বিষয় তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন। মাছ রপ্তানিযোগ্য মনে হওয়া সেই অনুযায়ি ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রক্রিয়া বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ করবেন।
এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে।
প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার হিসেবে দাম পড়েছে ১৫২৫ টাকা। একেকটি ইলিশ প্রায় এক কেজির মতো ওজন।
স্থলবন্দরের মাছ রপ্তানীকারক মোঃ নেছার উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ২টি পিকআপে ৫৩টি বক্সে ১ হাজার ১৯২ মাছ পাঠানো হয়েছে।
আজ বিকালে আরও কিছু ইলিশ পাঠানোর কথা রয়েছে।
১৬৯ দিন আগে
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৪ রাজনীতিবিদ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
এ অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কে পৌঁছাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রতিনিধি দলের আলোচ্যসূচির মধ্যে যেগুলো ঠিক হয়েছে, এর মধ্যে কিছু যোগও হতে পারে আবার কিছু বাদও হয়ে যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে: ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ইতালি, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, কসোভো, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক।
জাতিসংঘের অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘বেটার টুগেদার: এইটি ইয়ারস অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানোর ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব দেবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পেছাতে চাইলেই যে হয়ে যাবে এমন কিন্ত নয়, এর সঙ্গে অনেক বিষয়াদি যুক্ত থাকে।’
সফরে নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশে কোনো দলের আন্দোলন দমানোর মতো ক্ষমতা সেদেশের সরকারেরও নেই। আমরা ধরে নিচ্ছি সেখানে প্রটেস্ট (আন্দোলন) হবে। তবে, আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত নই।’
২২ সেপ্টেম্বর এবার উচ্চপর্যায়ের সভার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান শুরু হবে।
ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বিতর্ক পর্ব। ওই দিন থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সাধারণ বিতর্কে অংশ নেবেন। জাতিসংঘের তিনটি মূল স্তম্ভ— শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার সবই সমানভাবে এবারের অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবার ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অফ রোহিঙ্গা মুসলিম এন্ড আদার মাইনরিটিজ ইন মায়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমন একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভার আয়োজন এবারই প্রথম বলে জানান উপদেষ্টা।
২৬ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। তিনি তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত এক বছরে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সংস্কার ও আগামী দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, জাতিসংঘের এবারের অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোর প্রত্যকটিই বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুগুলোর ওপর যেসব ইভেন্ট আছে, বাংলাদেশ তার সব কটিতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করছি। বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে মনে করে।
সার্বিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১৭০ দিন আগে
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে সহায়তা করছে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মিলার
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সহায়তা করছে এবং নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইইউয়ের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
(১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসাডরস (এওএফএ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ ও ইইউয়ের সম্পর্কের মূলভিত্তি হলো মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি।
তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো সমৃদ্ধি গড়ে তোলা, একসঙ্গে কাজ করে টেকসই প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সক্রিয় করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা
দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সফরের প্রসঙ্গ টেনে মিলার জানান, তিনি ঢাকার বাইরে মানুষের প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করছেন এবং ইইউ-অর্থায়িত প্রকল্প থেকে উপকৃত জনগণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায় থেকে পরিস্থিতি বোঝা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত অতিক্রম করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রূপান্তরে কীভাবে সহায়তা করা যায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জ কিংবা সহায়তার অনুরোধের দ্রুত জবাব দেওয়া যায়— তা নিয়ে ভাবছে ইইউ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশটিতে মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা, গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিক সমাজের জন্য পরিসর তৈরির একটি অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে বলেও জোর দেন মিলার।
সংস্কার আলোচনায় ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার দৃঢ় মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, শান্তি, অংশীদারত্ব ও সহযোগিতায় আমরা অটল থাকব, আপনারা আমাদের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনতেও তারা সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত হলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
বাণিজ্য প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। ইইউ একটি দৃঢ় অংশীদার। পরিবহন, জ্বালানি, পানি, ডিজিটাল ও টেলিকম খাতে নিরাপদ ও টেকসই সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশকে রূপান্তরিত করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) বাংলাদেশে তাদের ঋণ দ্বিগুণ করবে। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই তা করা হবে। পাশাপাশি, ইউরোপের ভেতর থেকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিশ্চিতে ইইউ তাদের বাজেট ব্যবহার করছে।
রাষ্ট্রদূত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার ইইউয়ের অব্যাহত দায়িত্বের কথাও এ সময় উল্লেখ করেন।
১৭১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি পণ্যে আরোপিত মার্কিন শুল্ক আরও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
গত ৩১ জুলাই বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে ব্রেন্ডেন লিঞ্চকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেইসঙ্গে ইউনূস এ পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে তিন দিনের সফরে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় এসেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টার সাক্ষাৎ
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি, বেসামরিক বিমান কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চলমান রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আবুল কালাম আজাদ।
এদিকে, দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করে চলমান আলোচনার খসড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের স্বার্থের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। তাই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা 'বাংলাদেশ লেবার অ্যাকশন প্ল্যান' বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ন্যায্য অনুশীলন রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ এবং স্বল্পসুদে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে।
সেইসঙ্গে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করবে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত হলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
বৈঠকে ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশের গঠনমূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি একতরফাভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর ফলে আলোচনার প্রক্রিয়া মসৃণ হয় এবং ইতিবাচক ফল এসেছে।
শুল্ক চুক্তি ও আমদানি প্রতিশ্রুতিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন এই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টাশেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ইউএসটিআরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মুরশেদ, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
১৭২ দিন আগে
নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি
নেপালে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিককে জরুরি নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঘর বা হোটেলে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নেপালে বর্তমানে বসবাসকারী বা আটকে পড়া সকল বাংলাদেশি নাগরিককে বাইরে না যাওয়ার এবং নিজ নিজ স্থান বা হোটেলে অবস্থান করার জন্য কঠোরভাবে পরামর্শ দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণেচ্ছুক সকল বাংলাদেশি নাগরিককে আপাতত নেপাল ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে—
· মো. সাদেক: +৯৭৭ ৯৮০৩৮৭২৭৫৯।
· সারদা: +৯৭৭ ৯৮৫১১২৮৩৮১।
১৭৮ দিন আগে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টার সাক্ষাৎ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম লীগ-এন সভাপতি নওয়াজ শরীফ এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
সোমবার(৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকিস্তানের লাহোরে নওয়াজ শরীফের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তারা দু'দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সকল ধরনের সম্পর্ক উন্নত করতে চায়। তিনি পাঞ্জাবের পক্ষ হতে বাংলাদেশকে কৃষি ও প্রযুক্তিতে সহয়তার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে বৃত্তি প্রদানের জন্যও তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
নওয়াজ শরীফ বলেন, পাকিস্তানি জনগণের হৃদয়ে এখনও বাংলাদেশি ভাইদের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সীমান্ত পেরিয়ে প্রজন্ম পরম্পরায় ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ যোগাযোগ দুদেশের জনগণের এই সম্পর্ককে আরেও শক্তিশালী করবে। তিনি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ও বিভিন্নক্ষেত্রে নারীর অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করেন। গ্রীন এনার্জিসহ বিভিন্নক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া, বন্যা ব্যবস্থাপনা ও কৃষিক্ষেত্রে পাঞ্জাব ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারত্বকেও স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।
তিনি দুদেশের বন্ধুত্বকে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য স্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সাক্ষাতকালে উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, কাউন্সিলর (প্রেস) মো. তৈয়ব আলীসহ দুদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৭৯ দিন আগে