বৈদেশিক-সম্পর্ক
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানি করবে সরকার
দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার দুইশ টন ইলিশ শর্তসাপেক্ষে ভারতে রপ্তানির জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার উপসচিব এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবছরের ন্যায় চলতি ২০২৫ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১,২০০ (এক হাজার দুইশত) ইলিশ ভারতে শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সে আলোকে আগ্রহী রপ্তানিকারকদের নিকট হতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে হার্ড কপিতে আবেদন আহ্বান করা হচ্ছে।
পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়: ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ইআরসি, আয়কর সার্টিফিকেট, ভ্যাট সার্টিফিকেট, বিক্রয় চুক্তিপত্র, মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করতে হবে।
সরকার প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই যারা আবেদন করেছেন, তাদেরকেও নতুনভাবে আবেদন দাখিল করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
১৭৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম
জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরগুলোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলামকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়ামের পররাষ্ট্র সচিব পদে নিয়োগের পর থেকে এই পদটি খালি ছিল।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রদূত আরিফুল ইসলাম ইতোমধ্যে জেনেভা থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যোগদান করেছেন।
গত বছরের জুনে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারেক মো. আরিফুল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা তারেক মো. আরিফুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।
তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে কূটনীতি ও বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত হলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, মানবাধিকার ও অভিবাসন বিষয়ে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
পেশাগত জীবনে আরিফুল ইসলাম নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশে সর্বশেষ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালকের (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৮৪ দিন আগে
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত হলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশের জন্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে পেশাদার কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনীত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এতে বলা হয়েচছে, সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের সদস্য ও ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
একাধিক নিয়োগ ও মনোনয়নের অংশ হিসেবে এই পদে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ। ক্রিস্টেনসেনের পাশাপাশি বর্তমান স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত এবং সের্গেই গরকে ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনটি নিয়োগই দেশটির সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বর্তমানে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিন বছর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক বিভাগে কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে পররাষ্ট্র দপ্তরের পাকিস্তান ও বাংলাদেশবিষয়ক অফিসে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অবশ্য বর্তমানে এ নামে আর কোনো অফিস নেই।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়: ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত প্রোফাইল অনুসারে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পুরো নাম ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর (২০১৬-২০১৯) এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির এশিয়া ও প্যাসিফিক সাব-কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের স্টাফে পারসন ফেলো (২০১৫-২০১৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়াও উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, ইস্ট এশিয়া ও প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সাইবার কো-অর্ডিনেটর, ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসে অর্থনীতিবিষয়ক ডেপুটি কাউন্সেলর, সান সালভাদরে মার্কিন দূতাবাসে ডেপুটি ইকোনমিক কাউন্সেলর, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এবং হো চি মিন সিটিতে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের ভাইস কনসাল হিসেবে কাজ করেছেন।
সিনেটে অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন ক্রিস্টেনসেন। গত বছর বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদায় নেওয়ার পর অবসরে যান হাস। তারপর থেকে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস রাষ্ট্রদূতশূন্য রয়েছে।
হাসের পর মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ অবসরপ্রাপ্ত আরেক পেশাদার কূটনীতিক ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই পদে দায়িত্বে রয়েছেন।
১৮৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়: ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, রাজনীতিক বা নির্বাচনী ফলাফলের পক্ষে নয়। বরং আশা করে আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচন শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার(১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন এই কূটনীতিক এমন মন্তব্য করেন।
ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। তবে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের কর্মসূচি ও লক্ষ্য বোঝার জন্য বৈঠক করে থাকি।
তিনি বলেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনীতিবিদকেও সমর্থন করি না। তবে তাদের লক্ষ্য বোঝার জন্য তাদের সঙ্গে দেখা করি। আমরা কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী ফলাফলও সমর্থন করি না। এটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত। আমরা সেই প্রচেষ্টায় আপনাদের সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করি।
পড়ুন: নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই: আইন উপদেষ্টা
জ্যাকবসন বলেন, আমি আমার কিছু সহকর্মীকে নিয়ে এখানে এসেছি শুনতে, জানতে এবং বুঝতে। যেহেতু বাইরে অনেক গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াচ্ছে।
মার্কিন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও ইসিকে সমর্থন করি, যাতে তারা আগামী বছরের শুরুর দিকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণ করতে পারে। আমরা আশা করি, সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা একটি সফল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, যা বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।
সভার সময় জ্যাকবসনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। অন্য দুই সদস্য হলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক প্রধান ডেভিড মু ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
১৮৬ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট হাসিনার নিপীড়ন ও নৃশংসতা প্রতিবাদে জেগে উঠেছিল শিক্ষার্থী-জনতা: মাহফুজ আলম
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের উপর যে নিষ্ঠুর অত্যাচার, নিপীড়ন ও নৃশংসতা চালিয়েছেন তার প্রতিবাদ জেগে ওঠেছিল ছাত্র-জনতা। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন, হত্যাযজ্ঞ, গুম-খুন ও দূর্নীতির কারণে মানুষ ছিল অসহায়।
উপদেষ্টা মাহফুজ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বতী সরকারের উদ্দেশ্য হলো বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা—যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও একটি উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণে সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার(২৬ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন হয়েছিল, যা বাংলাদেশে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
এসময় রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে শাসন ব্যবস্থার গুনগত পরিবর্তন, বৈষম্য দূর, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
পড়ুন: আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না: মাহফুজ আলম
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ প্রদর্শন করা হয়। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় যা মানুষের মাঝে জুলাই চেতনাকে জাগ্রত রাখবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উজ্জীবিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্য, কমগ্রেসম্যান ও স্টেটস ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও প্রবাসীরা।
১৯১ দিন আগে
মেক্সিকোয় বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার করলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল
ঢাকায় মেক্সিকোর দূতাবাস খোলার ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার-প্রসারের ওপর জোর দিয়েছেন মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মেক্সিকো সিটির বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করে। ওই দলটিকে স্বাগত জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, ‘দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও মেক্সিকো একই মূল্যবোধে বিশ্বাসী। বন্ধুত্ব, সংহতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য— যা আমাদের দুই জাতিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এই সফর পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াবে এবং আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও মজবুত করবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এনডিসি জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশল ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মূলমন্ত্র ‘জ্ঞানই নিরাপত্তা’ আমাদের ভবিষ্যৎ নেতাদের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আরও প্রস্তুত করে তুলছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
১৯১ দিন আগে
টেকসই সমাধানে রোহিঙ্গাদের ক্ষমতায়িত কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইইউ
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের শক্তিশালী এবং প্রতিনিধিত্বশীল কণ্ঠস্বর থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর পাশাপাশি এ বিষয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানায় বলে জানিয়েছে ইইউ দূতাবাস।
এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, রাজনৈতিকভাবে, মানবিক অর্থায়ন সহায়তার মাধ্যমে, উন্নয়ন সহযোগিতায়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়বদ্ধতায় এবং কার্যকর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমরা পাশে আছি। কিন্তু এই সংকট এমন এক পরিস্থিতি যা যৌথ পদক্ষেপের জন্য জোর দাবি করছে।
আরও পড়ুন: এনসিসির কাজ শেষ পর্যায়ে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারকে সমর্থন করে ইইউ
সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার্স ডায়ালগ’-এ অংশ নেন বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পূর্তিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজুর মাধ্যমে এক ব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে ইইউ।
ঢাকার ইইউ দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার এক বার্তায় এ অনুষ্ঠানকে ‘উদ্বেগজনক হলেও অনুপ্রেরণামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
১৯১ দিন আগে
বিডিআরসিএসকে ১৫ লাখ ডলারের জরুরি বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম দিলো চীন
বন্যায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) অনুদান হিসেবে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের সরঞ্জাম দিয়েছে চীন সরকার।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১০০টি ইঞ্জিনসহ রাবার বোট, ১৫টি ওয়াটার পিউরিফিকেশন ইক্যুপমেন্ট, ১০টি ডিজেল জেনারেটর, ৬সেট সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ যন্ত্র, ৫০০টি লাইফ ভেস্ট, ৫০০টি রেসকিউ হেলমেট, ৫০০ জোড়া রেসকিউ বুট, ৫০০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস, ৩০০টি সামুদ্রিক ফার্স্ট এইড কিট, ২৫০টি রেসকিউ রোপ, ২৫০ সেট রেসকিউ রোপ ব্যাগ, ১০০ সেট লাইফ র্যাক্ট, ৫০টি ফ্লোট প্লেট, ৫০টি রেসকিউ প্যানেল এবং ২৫টি সফট স্ট্রেচার।
অনুষ্ঠানে ফারুক ই আজম বলেন, বাংলাদেশ বন্যা ও প্রকৃতির দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রতিটি দুর্যোগে সরকার মানবিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার কাজ করে। চীন সরকারের এ সহায়তা আমাদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সারা দেশে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। আমি বিডিআরসিএসকে অনুরোধ করছি যাতে কার্যকরভাবে এই সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং উদ্ধার কার্যক্রমে এসকল সরঞ্জমাদির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
উপদেষ্টা বলেন, এই হস্তান্তর বাংলাদেশ এবং চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং সহযোগীতারই প্রতিফলন। আমরা এই সংহতিকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি।
আরও পড়ুন: সংস্কার হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৪ বিদ্যালয়, ফেরত গেল সাড়ে ১২ কোটি টাকা
বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস-চেয়ারম্যান ড. তাসনিম আজিম, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির বাংলাদেশস্থ হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এবং বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ট্রেজারার মো. আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
১৯২ দিন আগে
নিউইয়র্কে কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায় মার্কিন পুলিশ ও পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে সংঘটিত ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ, মেয়র ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
এতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গত রোববার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রায় দেড়শতাধিক অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অনুরোধে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতবিনিময় সভাটি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এবং প্রধান অতিথিকে সরাসরি আক্রমণ করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে বিকেল ৫টা থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা আগত অতিথিদের ধাওয়া করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেন। তাঁরা আরও নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করেন।
‘যার অংশ হিসেবে তাঁরা অতিথিদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপ করেন। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে কনস্যুলেটের প্রবেশপথের পার্শ্ববর্তী অন্য একটি অফিসের (একই ভবনের) কাচের দরজায় আঘাত করেন। এতে দরজায় ফাটল ধরে। পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয়। কয়েকজনকে আটক করে। দুষ্কৃতকারীদের এই ন্যক্কারজনক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা এই ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।’
আরও পড়ুন: মার্কিন উপদেষ্টাকে গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি দেখালেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কনস্যুলেটের চারদিকে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি যথাসময়ে কনস্যুলেটে গাড়িযোগে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত পথে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় ও রাতের খাবার শেষে প্রধান অতিথি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত গাড়িতে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি চলে যাওয়ার পর পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে কনস্যুলেট জেনারেল ইতিমধ্যে স্থানীয় পুলিশ, মেয়র ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে পত্র দিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান অতিথির অনুষ্ঠানে আগমন কিংবা প্রস্থানের সময় দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা দূরতম কোনো সংযোগ কিংবা সংশ্লেষ ঘটেনি। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করতে পারেনি। এই কাজে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নানাবিধ অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তারা। এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছে কনস্যুলেট জেনারেল।
১৯২ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ পক্ষকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়: খলিলুর রহমান
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষকে বাদ দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি। যদি না বলি, তাহলে কোনো সমাধান হবে না। আমি এখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের এই কাজ করতে হবে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’
সোমবার (২৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন খলিলুর রহমান।
মিয়ানমারের গণমাধ্যম, সরকার, সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সঙ্গে কথা বাংলাদেশ সরকার যোগাযোগ করেছে কিনা— এই প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে এক সাংবাদিক বন্ধুকে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। আপনারা আসতে থাকুন, আরও নিয়ে আসুন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষকে বাইরে রেখে সমাধান করা সম্ভব নয়, এটিই বাস্তবতা। আলোচনা মানেই সেটি যেকোনো সমাধানের জন্য, আর সেই সমাধান সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।’
‘যদি কোনো পক্ষকে বাইরে রাখা হয়, তাহলে কোনো চুক্তি বাস্তবায়িত হবে না বা খুব দ্রুত ভেঙে পড়বে। তাই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দরজা খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে, ২০১৭ সালে শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতার কারণে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, যা সক্রিয় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অবশ্যই মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ১৯৭৮ সালে কুতুপালং ক্যাম্পের প্রথম ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলাম এবং আমার রোহিঙ্গা বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করেছি। সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং তা তাদের উদ্যোগেই সমাধান করতে হবে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরিতে প্রধান উপদেষ্টার ৭ দফা প্রস্তাব
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির নেতা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার হোসেনসহ অনেকে এই সেশনে বক্তব্য রাখেন।
রাশেদ খান বলেন, আমরা চাই চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিক। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবাই মিলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।
জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার জানান, তার দল রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার ও টেকসই সমাধানের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার চাই। নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়া পর্যন্ত তাদের খাদ্য, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে, রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯২ দিন আগে