বৈদেশিক-সম্পর্ক
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সুস্পষ্ট পথ দেখাবে জাতিসংঘ সম্মেলন, আশা অধ্যাপক ইউনূসের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন যে আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে একটি সুস্পষ্ট সমাধানের পথ তৈরি করবে।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ মৌলিক সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ সময় মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজকে পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার টম অ্যান্ড্রুজ অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার কেন্দ্রে নিতে প্রচেষ্টা জোরদার সরকারের
অ্যান্ড্রুজ স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগেই জাতিসংঘ সদরদফতরে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ড. ইউনূসের প্রতি বিশ্ব কৃতজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সংকট সমাধানে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। তবে হতাশা প্রকাশ করে এই প্রতিবেদক বলেন, রাখাইনকে স্থিতিশীল করতে এবং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগটি দুরভিসন্ধিমূলক প্রচারণার কারণে ব্যর্থ হয়েছে।
তবুও অ্যান্ড্রুজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূমিকা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিতব্য অংশীজন সংলাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফর করছেন অ্যান্ড্রুজ। ওই সংলাপের উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
১৯৬ দিন আগে
নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলে ভিসা ইস্যু করে না যুক্তরাষ্ট্র: দূতাবাস
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের সমাধান না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভিসা ইস্যু করে না বলে জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ভিসা সংক্রান্ত এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানিয়েছে দূতাবাস।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, ভিসা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যতক্ষণ না সব ধরনের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের সমাধান হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ভিসা ইস্যু করা হয় না।
আরও পড়ুন: সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ভিসা নবায়নের ঝুঁকি: দূতাবাসের সতর্কতা
ওই বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ভুয়া নথিপত্র দাখিলকারী আবেদনকারীদের কোনো ভিসা দেওয়া হয় না। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট দেশেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৯৭ দিন আগে
সরকারি সফরে চীন গেলেন সেনাপ্রধান
সরকারি সফরে আজ বৃহস্পতিবার চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরকালে ওয়াকার-উজ-জামান চীনের সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা উন্নয়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় করবেন।
সফর শেষে সেনাবাহিনী প্রধান ২৭ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরবেন।
১৯৭ দিন আগে
চার দিনের সফরে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায়
বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্য সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়গুলো এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাম কামাল খান ২১ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন। সফরকালে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এ সময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সফরের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর, একটি ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইস্পাত কারখানাও পরিদর্শন করবেন।
এই উচ্চ পর্যায়ের সফরটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
১৯৭ দিন আগে
ঢাকার বিবৃতিতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে: দিল্লি
ভারতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ বা ভারতীয় আইনের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকার অবগত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংবাদ বিবৃতি বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বুধবার তিনি বলেন, ‘ ভারতের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না সরকার।’
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংবাদ বিবৃতি 'ভুলভাবে উপস্থাপন' করা হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, ভারত প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে যে, জনগণের ইচ্ছা এবং রায় নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব 'অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক' নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পড়ুন: ঢাকার সঙ্গে সব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনায় প্রস্তুত ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
এর আগে ভারতে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি যাতে দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হতে না পারে সেব্যাপারে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (২০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার ভারত সরকারকে এ ধরনের কোনো কার্যকলাপের অনুমতি বা সমর্থন না করার জন্য অনুরোধ করেছে এবং ভারতের মাটিতে ‘কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং কলকাতায় ‘কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপনের খবর বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে।
ঢাকা দাবি করেছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের পটভূমিতে এই ঘটনা ঘটেছে।
মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধের কারণে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় পলাতক দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এখনও ভারতীয় ভূখণ্ডে রয়েছেন বলে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২১ জুলাই সন্ধ্যায় একটি অস্পষ্ট এনজিওর আড়ালে এই ‘কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি জনসাধারণের প্রচারণার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং অবশেষে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আজ পর্যন্ত ভারতীয় গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ভারতে অবস্থান করে দলের ক্রমবর্ধমান প্রচারণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৯৮ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বঙ্গভবনে আয়োজিত এক সৌহার্দপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, অভিন্ন বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের উপর গভীরভাবে প্রোথিত। পাকিস্তান পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধন আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলে জোর দেন এই কূটনীতিক।
পড়ুন: প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ
হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে হাইকমিশনারের সফলতা কামনা করেন।
১৯৯ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উদযাপন
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) কুয়ালামপুরের হাইকমিশনের মিলনায়তনে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহনে 'জুলাই বিয়ন্ড বর্ডারস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্টানে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের ওপর গ্রাফিতি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। ডিজিটাল মাধ্যমে এই প্রদর্শনীটি দূতাবাসে আগত সেবাপ্রার্থী ও দর্শনার্থীদের জন আগামী সপ্তাহেও উন্মুক্ত থাকবে।
গ্রাফিতি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানের ওপর এবং অভ্যুত্থানে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান নিয়ে নির্মিত দুটি পৃথক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উপলক্ষে হাইকমিশনার শামীম আহসান অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
'২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বীর যোদ্ধাদের এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন হাইকমিশনার।
পড়ুন: জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত সন্দেহে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তারে ঢাকার উদ্বেগ, কুয়ালামপুরের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান
অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে অভ্যুত্থান অনুষ্ঠিত হয়, সে আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ রুপ দিতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রবাসীবান্ধব এই সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে বহুমাত্রিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সরকারের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু করেছে মালয়েশিয়ার সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ইতিহাসের সেরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবস্থান করছে। এছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত, ব্যবসা বাণিজ্যসহ প্রসারসহ বহুমাত্রিক দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে এ সফরে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের চাওয়া সেবা যেমন পাসপোর্ট-ভিসা, কনসুলার সেবা, কর্মসংস্থানসহ কল্যাণমূলক সকল প্রকার সেবা দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। দূতাবাসের সেবা ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমেও সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাইকমিশনের ভ্রাম্যমান কনস্যুলার সেবা ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতা, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি, প্রবাসী সাংবাদিক এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯ দিন আগে
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) দুপুরে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে এ সাক্ষাতটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা পারস্পারিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান বিচারপতি বিগত এক বছরে বাংলাদেশের বিচারবিভাগের উন্নয়নে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার প্রধান বিচারপতির এক বছর পূর্তিতে তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বিগত এক বছরে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রচেষ্টা ও কর্মপরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, প্রধান বিচারপতির একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচারবিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা, বিচার সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা আনয়নে ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া, মামলায় বিবাদী পক্ষকে লিগ্যাল এইড প্রদানে ক্যাপাসিটি টেস্ট চালু, সুপ্রিম জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আইন প্রণয়ন, বিচারপ্রার্থীদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন চালু এবং অধস্তন আদালতের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলোকে কার্যকরী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে যুক্তরাজ্যের শিল্প কৌশল: সারা কুক
আগামী দিনগুলোতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়া, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিচার বিভাগ গঠনে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সারাহ কুক।
১৯৯ দিন আগে
বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনে ৪ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার অঙ্গীকার ইইউর
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ৪ মিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করবে বলে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪ মিলিয়ন ইউরোর বেশি একটি সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করবে, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করবে।’
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ছয় সদস্যের ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
মাইকেল মিলার বলেন, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে।
‘আমরা ২০২৬ সালের শুরুর একটি সময়সীমার দিকে এগোচ্ছি,’ তিনি যোগ করেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, এখন আলোচনার বিষয় হলো আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে নির্বাচনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে যে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে নেওয়া প্রয়োজন।
‘এবং এ কারণেই আমরা এখন আমাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি। কারণ আমরা চাই আপনাদের নির্বাচনগুলো অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হোক, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হোক এবং অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হোক,’ তিনি বলেন।
মিলার আরও বলেন, তিনি শুধু ইইউ প্রতিনিধি দলের সহকর্মীদের সঙ্গেই আসেননি, বরং ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও এসেছেন। তারা বাস্তবায়নকারী অংশীদার ও নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ, যারা আসন্ন নির্বাচনে নাগরিক পর্যবেক্ষণে জোরালো মনোযোগ নিশ্চিত করতে এখানে থাকবেন।
আরও পড়ুন: ইইউবি নিয়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি: কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
তিনি উল্লেখ করেন, সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে—যার মধ্যে অপারেশনাল পরিকল্পনা ও বিরোধ নিষ্পত্তির মতো ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের কাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে এখানকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সম্ভাব্য ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের জন্য অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ‘এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগামী মাসগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব,’ তিনি উল্লেখ করেন।
আরেকটি প্রশ্নের জবাবে মাইকেল মিলার বলেন, আগামী মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসবে এ বিষয়টি বিবেচনা করতে যে এখানে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর মতো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে কিনা।
তিনি বলেন, ‘সুতরাং, আমরা সম্ভাব্যতা ও যৌক্তিকতা বিবেচনা করছি। তবে আমি আপনাদের যা বলতে পারি তা হলো রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে একটি অগ্রাধিকার, বিশেষ করে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েনের ক্ষেত্রে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি মনে করেন বেশ কিছু বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন, কারণ বাংলাদেশ এখন একটি গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অবশ্যই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের অভিজ্ঞতা রাখে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই নির্বাচনগুলো পরিচালনা ও ফলাফলের দিক থেকে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
১৯৯ দিন আগে
হিন্দুকুশ হিমালয় নিয়ে ভারত-চীন সংলাপের সেতুবন্ধন নেপাল: দেবপ্রিয়
হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) উদ্যোগ সফল করতে হলে ভারত ও চীনকে ‘সরাসরি ও চোখে চোখ রেখে’ দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, “নেপালকে ভারত ও চীনের মাঝখানে কৌশলগতভাবে অবস্থান করতে হবে, যাতে সেই সংলাপ এগিয়ে নেওয়া যায়। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও তা হবে।”
সোমবার (১৮ আগস্ট) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের একটি হোটেলে শুরু হওয়া হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) সংসদ সদস্যদের সম্মেলন-২০২৫-এর ফাঁকে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দুর্যোগ ঝুঁকি এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় এক প্রশ্নের উত্তরে দেবপ্রিয় এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “দেখুন, আমরা এমন একটি নীতিগত বিষয় নিয়ে কথা বলছি, যা সীমান্ত অতিক্রম না করে সফল হতে পারে না। এটি একটি আঞ্চলিক বিষয়।”
দেবপ্রিয় বলেন, যে আটটি দেশ—আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল এবং পাকিস্তান—নিয়ে তারা আলোচনা করছেন, তাদের মধ্যে এই মুহূর্তে বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক রয়েছে।
তার দৃষ্টিতে এই দেশগুলোর প্রতিটি দেশই তাদের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কিন্তু আসল কথা হলো, এই আটটি দেশের মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো ভারত ও চীন এবং কেউই এই বিষয়ে কথা বলছে না।”
অর্থনীতিবিদ হিসেবে দেবপ্রিয় মনে করেন, যদি তাদের বিনিয়োগ করার জন্য কোনো রাজনৈতিক পুঁজি থাকে, তাহলে তা এই খাতে ব্যবহার করা উচিত এবং তাদের সঙ্গে জড়িত হওয়া উচিত। পাশাপাশি বোঝানো উচিত যে, দেশের স্বতন্ত্র পদ্ধতি সফল হবে না যদি আঞ্চলিক বা সম্মিলিত পদ্ধতিতে নতুন বহুকেন্দ্রিকতা গ্রহণ না করা হয়।
পড়ুন: আবারও জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটিতে ড. দেবপ্রিয়
দেবপ্রিয় বলেন, “আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করব, ভবিষ্যতে যখন জনপ্রতিনিধিরা জড়িত হবেন, তখন তারা চীন ও ভারতের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও জোরালোভাবে জড়িত হবেন, যারা ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে এতে অংশগ্রহণ করছে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) সংসদ সদস্যদের সম্মেলন-২০২৫-এ যোগ দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘এইচকেএইচ অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের কথোপকথন এবং মানব কল্যাণের ভারসাম্য রক্ষায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক পৃথক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক।
নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন, এবং স্পিকার দেবরাজ ঘিমিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, আন্তর্জাতিক কেন্দ্র ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)-এর মহাপরিচালক পেমা গ্যামটশো এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিরাও উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
পড়ুন: জাতিসংঘের এলডিসি সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হলেন ড. দেবপ্রিয়
উদ্বোধনী অধিবেশনের পর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানটি হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাধারণ বোঝাপড়া, সংলাপ এবং সমন্বয় অন্বেষণ করছে। হিন্দুকুশ হিমালয় মানব সভ্যতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ টিকিয়ে রাখে। পাহাড়ের ২৪ কোটি এবং ভাটির ১৬৫ কোটি মানুষের জন্য পানি, খাদ্য এবং জীবিকা সরবরাহ করে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলটি জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, দুর্যোগ এবং বায়ু দূষণের কারণে জরুরি এবং আন্তঃসংযুক্ত হুমকির সম্মুখীন। নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্ট হিন্দুকুশ হিমালয় সংসদ সদস্যদের সম্মেলন আয়োজন করছে—যা এই অঞ্চলের আইন প্রণেতাদের সর্ববৃহৎ সমাবেশ।
এই যুগান্তকারী অনুষ্ঠান নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করার এবং আরও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য সম্মিলিত আন্তঃসীমান্ত সমাধান এগিয়ে নেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।
যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন (ইউকেআইডি) এর বিদেশি কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন অফিস (এফসিডিও) এবং সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি) উদ্যোগে এইচকেএইচ পার্লামেন্টারিয়ানদের সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনটির লক্ষ্য—এইচকেএইচ দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যদের একত্রিত হওয়া, এইচকেএইচ অঞ্চলের সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ সম্পর্কে সর্বশেষ জ্ঞান ও তথ্য পাওয়ার সুযোগ দেয়া, সেরা সংসদীয় অনুশীলনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং ভবিষ্যতমুখী নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা।
হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) অঞ্চল ক্রমবর্ধমানভাবে জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং দূষণের তীব্র প্রভাবের পাশাপাশি ত্বরান্বিত আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের মুখোমুখি, যার ফলে বাস্তুতন্ত্র, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীবিকা এবং মানব জীবনের উপর গুরুতর প্রভাব পড়ছে।
পড়ুন: বাজেটে নতুন চমক থাকছে না: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
আয়োজকরা বলেছেন, নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং জনমত গঠনে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে, এইচকেএইচ দেশগুলোর সংসদ সদস্যরা এই অঞ্চলের জলবায়ু কর্মকাণ্ড এবং স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
তবে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক ফোরামে লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক, গ্রহ-বান্ধব, পর্বত-বান্ধব এবং জলবায়ু-বান্ধব নীতিমালা সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিতে তাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রমাণের সুবিধা প্রয়োজন।
বিভিন্ন পরিবেশগত এবং আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ ভাগাভোগ সত্ত্বেও, এইচকেএইচ সংসদ সদস্যদের তাদের ভাগ করা চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা এবং সম্মিলিতভাবে সমাধান চিহ্নিত করার জন্য আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মের অভাব রয়েছে বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন।
২০০ দিন আগে