বৈদেশিক-সম্পর্ক
একটি গ্রহণযোগ্য ও উপভোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চাই: প্রধান উপদেষ্টা
দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও উপভোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যদি বৈধ না হয় তাহলে নির্বাচন আয়োজনের কোনো মানে হয় না।
তিনি বলেন, ‘আমার কাজ হলো একটি গ্রহণযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও উপভোগ্য নির্বাচন করা।’
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরকালে কুয়ালালামপুরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক চ্যানেলনিউজএশিয়া (সিএনএ) টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, তা দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
গত বছরের জুলাইয়ের সহিংস আন্দোলনের পর প্রথমবার বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, সেগুলো অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কিছু সংস্কার করতে হবে, কারণ আমাদের যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে সেটি কারচুপি ও অপব্যবহারের শিকার হয়েছে।’
সিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ দলের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে সেই আন্দোলন প্রাণঘাতী সহিংসতায় পরিণত হয়।
এরপর স্বৈরশাসন, ব্যাপক দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভিন্নমত দমনের নির্মম অভিযানের অভিযোগে কলঙ্কিত শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন এই গণঅভ্যুত্থানে পতিত হয়। এরপর তিনি পালিয়ে ভারত চলে যান। তার অনুপস্থিতিতেই দেশে তার বিচার চলছে। এমনকি শেখ হাসিনার নির্দেশে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার প্রাণহানি ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।
সিএনএ জানায়, শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পর তাকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তারা সামাজিকমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনাকে প্রত্যাবাসনের অনুরোধেও ভারত সাড়া দেয়নি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনাকে ভারত থেকে বের করতে আমরা সংঘাতে যাচ্ছি না। আমরা বলেছিলাম, আপনারা তাকে রাখতে পারেন। তবে আমাদের বিচার চলবে। এর মধ্যে তাকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না। এখনো বাংলাদেশে তার অনেক অনুসারী রয়েছেন; তারা অতীতে যেমন দেশকে অস্থিতিশীল করেছিলেন, এখনো তেমন চেষ্টা করতে পারেন।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে পারে মালয়েশিয়ার ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস’ ভিসা
সিএনএ জানায়, শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এখানে পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত মাসে চীন সফরে গিয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
চীন ও পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে পিছিয়ে গেছে কিনা জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, এমন যেকোনো দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ঢাকা।
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা ভারতের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই।’
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, ‘চীনের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বিশেষ কিছু নয়। ভারতও চাইলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে। চাইলে যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারে। বিষয়টি হলো সুযোগের ব্যবহার। শুধু চীনকে যে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা নয়।’
জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিতে না চাইলেও পরে ছাত্রনেতাদের অনুরোধে তিনি রাজি হন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পর আর সরকারে থাকার পরিকল্পনা নেই তার। তবে এখন থেকে বাংলাদেশ সঠিক পথে থাকবে এবং আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।
২০৩ দিন আগে
আজ ৪৫ জনকে পুশইন ও ২৭ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বুধবার সারাদিনে ৪৫ জনকে পুশইন ও ২৭ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
পঞ্চগড়ে ২৩ জন, লালমনিরহাটে ৯ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ জন এবং মেহেরপুরের সীমান্ত দিয়ে ৫ জনকে পুশইন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গায় ২২ জন ও জয়পুরহাটে ৫ জনকে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সঙ্গে বৈঠকের পর ফেরত পাঠায় বিএসএফ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব পুশইন ও ফেরতের ঘটনা ঘটে।
পঞ্চগড় সীমান্তে ২৩ বাংলাদেশিকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৯ জন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে তাদের ঠেলে দেয় বিএসএফ। পরে ঘাগড়া বিওপির টহল দল তাদের আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের পরিচয় যাচাই করছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ৯ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বিএসএফ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। বুধবার ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২ (৬১ বিজিবি)-এর একটি টহল দল বুড়িমারী সীমান্ত এলাকার মাছিরবাড়ি থেকে তাদের আটক করে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৮ জন এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর সীমান্ত দিয়ে ৪ জনকে পুশইন করা হয়।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী ২২ বাংলাদেশিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ৭৬-এর কাছে শূন্যরেখায় এ বৈঠক হয়। ফেরত আসাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী রয়েছেন।
পড়ুন: তামাবিল দিয়ে নারী-শিশুসহ ২২ জনকে ফেরত পাঠাল ভারত
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও হায়দ্রাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ। বুধবার দুপুরে উপজেলা কয়া সীমান্তের ২৭১/৫৪ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফ তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ২০২০ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যের এন্নাকুলাম এলাকায় একটি ভাঙাড়ি দোকানে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফেরার পথে বিএসএফ তাদের আটক করে।
পাঁচবিবি থানার ওসি ময়নুল ইসলাম জানান, ‘বিজিবি পাঁচজন নারী-পুরুষ ও শিশুকে থানায় জমা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় বিএসএফ তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।’
২০৫ দিন আগে
মালয়েশিয়ার শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, বন্দর, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (১৩ আগস্ট) মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়।
অধ্যাপক ইউনূস সানওয়ে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা জেফ্রি চিয়াকে বিশেষভাবে বাংলাদেশের কারখানা শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কার করেছে, যা এখন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।’
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, আবাসন ও নির্মাণ খাতে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যেখানে নতুন বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নগরায়ন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও নতুন শহরবাসীর জন্য বাড়ি ও সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে বড় বিনিয়োগ দরকার।
অধ্যাপক ইউনূস সানওয়ে গ্রুপকে বাংলাদেশে হাসপাতাল স্থাপনের জন্যও উৎসাহিত করেন।
জেফ্রি চিয়া বলেন, তার প্রতিষ্ঠান অবশ্যই বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ খুঁজবে। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন। বর্তমানে হাজার হাজার বাংলাদেশি সানওয়ের নির্মাণ ও হাউজিং বিভাগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে পারে মালয়েশিয়ার ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস’ ভিসা
চিয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রশংসা করে জানান, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকে তিনি তাদের ছয় বছরের অনুমোদিত কর্মমেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন।
পৃথক এক বৈঠকে, মালয়েশিয়ার জাতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রোটন ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান এমএমসি করপোরেশন বেরহাদের মালিক—শীর্ষ শিল্পপতি সৈয়দ মোকতার আল-বুখারি বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু মুনাফার জন্য নয়, আমরা এটি করতে চাই বাংলাদেশের মানুষের জন্য।’
তিনি নদী উন্নয়ন ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করা প্রকল্পে দায়িত্বশীল পুনর্বাসনের গুরুত্বও উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাপক সংস্কার এনেছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সৌরশক্তি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণকে অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগ খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সৈয়দ মোকতার বাংলাদেশের সৌরশক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সৈয়দ মোকতার অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে ১৮ শতকের ভারতীয় ঔপনিবেশিক বিরোধী শাসক টিপু সুলতানের ওপর ২০ বছরের গবেষণা সংকলিত একটি বই উপহার দেন।
২০৫ দিন আগে
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে পারে মালয়েশিয়ার ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস’ ভিসা
মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস’ ভিসা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কার্যকর হলে দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য মালয়েশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে উচ্চ দক্ষতার চাকরির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউকেএম) দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি উত্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নীতিগতভাবে তিনি মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট পাস ভিসা দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এই নীতি কার্যকর করতে হলে উভয়পক্ষের কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ: অধ্যাপক ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার পেলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এতদিন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
২০৫ দিন আগে
ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ: অধ্যাপক ইউনূস
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ক্ষমতা তার প্রকৃত মালিক দেশের জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমান সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই মনোযোগী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
একটি বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি, যাতে জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়।’
বুধবার (১৩ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউকেএম) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আনন্দঘন পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। সামাজিক ব্যবসায় অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বনন্দিত এই অর্থনীতিবিদকে সম্মানে ভূষিত করে ইউকেএম।
আরও পড়ুন: সামাজিক ব্যবসায়ের পথিকৃত হিসেবে ইউকেএম থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন অধ্যাপক ইউনূস
ডিগ্রি গ্রহণের পর দেওয়া বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ এক বিশাল সম্মান এবং চমৎকার এক অনুষ্ঠান।’ তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে একটি আরও বলিষ্ঠ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি বিশ্বের স্বপ্ন আমি দেখি, যেখানে মানুষ মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বসবাস করবে, সবাই বৈষম্য ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত থাকবে।
২০৫ দিন আগে
সামাজিক ব্যবসায়ের পথিকৃত হিসেবে ইউকেএম থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন অধ্যাপক ইউনূস
সামাজিক ব্যবসায় অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউকেএম)।
বুধবার (১৩ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে ইউকেএমের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আনন্দঘন পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
ডিগ্রি গ্রহণের পর বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এ এক বিশাল সম্মান এবং চমৎকার এক অনুষ্ঠান।’ তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং আরো বলিষ্ঠ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০৫ দিন আগে
‘হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ স্থাপনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল সরকার
দ্রুত বিস্তার লাভ করতে থাকা বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে ‘হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার হালাল শিল্প খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই আবেদন জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘চলুন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিই।’
মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হালাল-বিষয়ক সমন্বয়ক দাতিন পদুকা হাজাহ হাকিমাহ বিনতি মোহাম্মদ ইউসুফ।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার ইসলামী উন্নয়ন বিভাগের (জেএকেআইএম) মহাপরিচালক সিরাজউদ্দিন বিন সুহাইমি এবং হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এইচডিসি) প্রধান নির্বাহী হাইরল আরিফেইন সাহারি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দরজা আরও প্রশস্ত করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বের হালাল পণ্যের বাজারমূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তত ১৪টি হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মাধ্যমে এই বিরাট বৈশ্বিক বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশীদার মালয়েশিয়া। এ খাতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার আজ বুধবার জানান, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারলে এই বাজারে যুক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশই একমাত্র সংস্থা যারা হালাল পণ্যের আনুষ্ঠানিক সনদ প্রদানের জন্য অনুমোদিত। এখন পর্যন্ত মাত্র ১২৪টি প্রতিষ্ঠান এ সনদ পেয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে সহায়তার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘হালাল পণ্যের শিল্প গড়ে তোলার জন্য কী কী দরকার, আমরা একসঙ্গে বসে তা নির্ধারণ করতে পারি।’ অনেক বাংলাদেশি কোম্পানি হালাল সার্টিফাইড পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনুস বৈঠকটিকে মূল্যবান শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘আপনাদের তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। এটি যেন হালাল পণ্যের ওপর একটি ক্লাস।’
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
এর আগে, গতকালই হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি সহযোগিতা নোট বিনিময় করে, কর্মকর্তারা যেটিকে ‘হালাল কূটনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সিরাজউদ্দিন বিন সুহাইমি জানান, স্থানীয় চাহিদা মূল্যায়নের জন্য মালয়েশিয়া শিগগিরই একটি দল বাংলাদেশে পাঠাবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লতফি সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ।
২০৫ দিন আগে
৫জি চালু ও ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগে আক্সিয়াটাকে ড. ইউনূসের আহ্বান
মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি আক্সিয়াটাকে বাংলাদেশে ৫জি সেবা চালু করতে এবং দেশের ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট অপরিহার্য এবং বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলোকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণে আগ্রহী করতে হবে।
তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটরদের জন্য ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকার লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজতর করছে।
রবি সেলুলার অপারেটরের প্রধান শেয়ারহোল্ডার ও আক্সিয়াটা গ্রুপের সিইও বিবেক সুদ জানান, রবি গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ৫জি সেবা চালুর জন্য আগ্রহী। তবে পূর্ণ ৫জি বাস্তবায়নের জন্য দেশের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ জরুরি।
তিনি ব্যয়বহুল স্পেকট্রাম ফি ও জটিল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে বিদেশি বিনিয়োগে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া আক্সিয়াটা ডেটা সেন্টারে যৌথ বিনিয়োগেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পড়ুন: মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বেসরকারি খাত ও নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একে অপরকে কাছে আনা এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে আক্সিয়াটা গ্রুপের চেয়ারম্যান শারিল রিদজা রিদজুয়ান নেতৃত্ব দেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ।
সঙ্গে ছিলেন আক্সিয়াটা গ্রুপের প্রধান নিয়ন্ত্রক ফুং চি কিয়ং ও প্রধান ব্যবসা ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা থমাস হুন্ড্ট।
২০৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ১৫ শতাংশে নামানোর চেষ্টা চলছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে শুল্ক কমানোর জন্য সরকারের সব মহল থেকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির আগে শুল্ক কমানো হতে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে শুল্ক কমতে পারে, তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় কারণ শুল্ক আরোপকারী পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিষয়টি নির্ভর করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনও পাওয়া যায়নি।
পড়ুন: সবে তো শুরু, আরও দেখতে পাবেন: শুল্কারোপ নিয়ে ট্রাম্প
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ ঘোষণার পরও এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। এ মাসের শেষে চুক্তি হতে পারে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) চুক্তির খসড়া তৈরি করছে।
বাজারে পেয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আমদানি করা হবে কিনা এবং ভারত থেকে আমদানি হবে কিনা—এসব প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে এবার পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। শুধুমাত্র ভারত থেকেই নয়, ব্যবসায়ীরা যেখান থেকে আমদানি করতে চান সেখান থেকেই অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য পেঁয়াজের দাম কমানো ও সরবরাহ বৃদ্ধি করা। এজন্য যেখান থেকে কম দামে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।
এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব (ডাব্লিউটিও) ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বিকেএমই এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন।
২০৬ দিন আগে
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ব্যবসার জন্য বাজার খুলছে এবং এখানে বাজার সম্প্রসারণ ও বর্ধিত ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন, নিজ চোখে দেখুন… আমি আপনাদের বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’
প্রফেসর ইউনূস আরও জানান, বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় দেশ যেখানে অধিকাংশ জনসংখ্যাই তরুণ এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এখনো পূর্ণরূপে কাজে লাগানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তরুণ ও সৃজনশীল মানুষ রয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবসায়বান্ধব হওয়ার চেষ্টা করছে… আমি বাংলাদেশে সীমাহীন পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখেছি।’
ড. ইউনূস মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের তরুণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী তরুণরা সবসময় বাংলাদেশের জন্য কিছু করার তৃষ্ণায় উদ্বুদ্ধ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের বিনিয়োগের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাসমূহ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের প্রচেষ্টা উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রবি সেলুলার অপারেটরের প্রধান শেয়ারহোল্ডার ও অ্যাক্সিয়াটা গ্রুপের সিইও বিবেক সুদ ২৮ বছর ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করা সফল অংশীদারিত্ব তুলে ধরেন।
পড়ুন: জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ৫ সমঝোতা স্মারক ও ৩ নোট বিনিময়
২০৬ দিন আগে