বৈদেশিক-সম্পর্ক
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দরজা আরও প্রশস্ত করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার দরজা খোলা রাখার পাশাপাশি তা আরও প্রশস্ত করতে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক, পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই ও তিনটি নোট আদান–প্রদানের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অতীতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের শ্রমিকদের আন্তরিকভাবে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই দরজা খোলা থাকবে এবং আরও প্রশস্ত হবে, যাতে আরও বেশি তরুণ এখানে এসে কাজ করতে ও অনেক কিছু শিখতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে অনেক কিছু শিখে দেশে ফিরে নিজ ব্যবসা শুরু করেন, নিজের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যান। এজন্য আমরা মালয়েশিয়ার কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, বিশেষত যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক এখানে কাজ করছেন তাঁদের জন্য।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা তাঁদের আয় দেশে পাঠান, যা তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের জীবনে স্থায়িত্ব এনে দেয়, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সহায়তা করে এবং ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করে।’
‘এরা বহিরাগত কর্মী নয়—তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। তারা এখানে কাজ করতে পেরে খুবই খুশি,’ যোগ করেন তিনি।
প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ান উদ্যোক্তাদের বিশাল সুযোগ রয়েছে। আমরা মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ চাই। আমাদের আছে মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি, যা আমরা অফার করতে পারি। মালয়েশিয়া চাইলে বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে সারা বিশ্বে বিক্রি করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এটাই আমরা চাই—বাংলাদেশে আর্থিক ও বিনিয়োগ–সংক্রান্ত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হোক, যাতে আমাদের অর্থনীতি টেকসই ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে পৌঁছায়।’
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও বহুপাক্ষিক ইস্যুতেও একযোগে কাজ করার ব্যাপারে কথা হয়েছে; ‘মালয়েশিয়ার জনগণের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে শৃঙ্খলা ও অর্থনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে; প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করেছে। এখন আমরা নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।’
তিনি জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং দেশ স্বাভাবিক পথে চলে। ‘এক্ষেত্রে আমরা মালয়েশিয়ার সহযোগিতায় সর্বদা ভরসা রাখি,’ যোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রফেসর ইউনূসের অবদানকে প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অগ্রগতি রেখেছেন এবং এখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা খাতে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করছেন।’
তিনি আরও জানান, দুই মন্ত্রী—স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ—মাল্টিপল–এন্ট্রি ভিসা সুবিধায় একমত হয়েছেন, যাতে শ্রমিকরা পরিবারের কাছে যেতে ও কাজে নিরাপত্তায় থাকতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, বিশেষত শ্রমিকদের জন্য যারা আটকা পড়েছেন।’
ইতিমধ্যে, গত বছরের অক্টোবরে তাঁর প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি ও উন্নয়নের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছিল বলে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০৬ দিন আগে
জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ৫ সমঝোতা স্মারক ও ৩ নোট বিনিময়
জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই এবং তিনটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ বিনিময় করেছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় এ নোট বিনিময় হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সমঝোতা স্মারক সই ও নোট বিনিময়ের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম নোট বিনিময় হয়। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান এবং বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজ নিজ দেশের পক্ষে নোট বিনিময় করেন।
দ্বিতীয় নোটটি ছিল কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত, যা বিনিময় করেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
হালাল ইকোসিস্টেম খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তৃতীয় নোট বিনিময় হয়। এটি বিনিময় হয় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপমন্ত্রী সিনেটর ড. জুলকিফলি বিন হাসান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের মধ্যে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক
প্রথম সমঝোতা স্মারকটি ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে। তাতে সই করেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ বিন নর্দিন এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
২০৬ দিন আগে
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক
মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার সকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা ঢাকা-কুয়ালালামপুরের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপগুলো চিহ্নিত করেন এবং বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
সীমিত পরিসরের এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের উভয় বৈঠকেই তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা এবং পর্যটন খাত নিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুর মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: কুয়ালালামপুরে ড. ইউনূস: মঙ্গলবার আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক
পরে সমঝোতা স্মারক সই ও ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দুই নেতার। এরপর তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।
২০৬ দিন আগে
মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসছে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দল
ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতা ও সিভিল সোসাইটির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল আগামী মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) থেকে ঢাকায় তিন দিনের সফর শুরু করবে। সফরের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংলাপ জোরদার করা।
ফ্রিডরিশ নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডমের (এফএনএফ) দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আয়োজনে এই সফরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিসহ আঞ্চলিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এফএনএফ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. কার্স্টেন ক্লেইন বলেন, “এই সফরের উদ্দেশ্য হলো ইউরোপ, বিশেষ করে জার্মানির সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার গতিশীল প্রবৃদ্ধি অঞ্চলের সম্পর্ক জোরদার করা এবং পারস্পরিক শেখার সুযোগ সৃষ্টি করা।”
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জার্মান বুন্ডেসটাগ সদস্য সান্দ্রা ওয়েজার, বুন্ডেসটাগ প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ড. মার্কুস ফাবার, লিবারেল ইন্টারন্যাশনালের ডয়চে গ্রুপের সভাপতি ড. জুর্গেন মার্টেন্সসহ জার্মান রাজনীতি, অর্থনীতি ও সিভিল সোসাইটির অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
ঢাকায় অবস্থানকালে তারা বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং নেটজ বাংলাদেশ, গ্যোথে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, বিমস্টেক সচিবালয় ও বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিজিসিসিআই) সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন।
সফরের অংশ হিসেবে তারা সাভারের একটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করবেন, যেখানে শ্রম অধিকার, শিল্প সরবরাহ শৃঙ্খল এবং দক্ষ শ্রমিক অভিবাসনের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা নেবেন।
এছাড়া তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নীতি সংস্কার নিয়ে খ্যাতনামা অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবেন।
দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংযোগ ও বঙ্গোপসাগর নিরাপত্তায় একটি কৌশলগত কেন্দ্র। বিমস্টেকসহ বিভিন্ন সংস্থার আতিথেয়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ শ্রমিক অভিবাসন ও বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত।
এফএনএফ নিয়মিত এই ধরনের স্টাডি ট্যুর আয়োজন করে, যার লক্ষ্য উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
দক্ষিণ এশিয়া প্রায় দুইশ’ কোটি মানুষের আবাসস্থল হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইউরোপের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
২০৭ দিন আগে
কুয়ালালামপুরে ড. ইউনূস: মঙ্গলবার আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক
তিন দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি দেশটিতে পা রাখেন।
মঙ্গলবার সকালে পুত্রজায়া কমপ্লেক্সে একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন ড. ইউনূস। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রতিনিধি স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি পর্যালোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
এরআগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। জাতীয় সংগীতের পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গার্ড অব অনার পরিদর্শন করবেন অধ্যাপক ইউনূস।
পড়ুন: মালয়েশিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার সফর গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মমুখর হবে: প্রেস সচিব
ব্যক্তিগত ও প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ, আরও পেশাজীবী নিয়োগ, কর্মীদের সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি মালয়েশিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এরআগে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীরা বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সোমবার দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের বুংগা রায় ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার চিফ অব প্রোটোকল স্বাগত জানান। পরে মালয়েশিয়ার গৃহমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশান বিন ইসমাইল প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
২০৭ দিন আগে
কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা, অভ্যর্থনায় প্রস্তুত মালয়েশিয়া
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরে গেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টায় সফরসঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
গত বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটি সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এক বড় সমর্থক আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু।
মালয়েশিয়া জানিয়েছে, ১৯৭২ সালে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গড়ে ওঠা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এই সফর। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন এবং প্রতিরক্ষা খাতসহ অন্যান্য খাতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন আনোয়ার ইব্রাহিম ও অধ্যাপক ইউনূস। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও আলোচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার সফর গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মমুখর হবে: প্রেস সচিব
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজয়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার কথা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের সম্মানে সেরি পেরদানা কমপ্লেক্সে সরকারি ভোজসভা আয়োজন করবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
আগামী ১৩ আগস্ট জনসাধারণের সামনে বক্তৃতা দেবেন অধ্যাপক ইউনূস। এছাড়া ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) থেকে সামাজিক ব্যবসায়ে সম্মানসূচক দর্শন ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন তিনি। এরপর ইউকেএমের আয়োজনে সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় তিন বিলিয়ন (২.৯২ বিলিয়ন) ডলারে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও রপ্তানি গন্তব্য বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পেট্রোলিয়াম, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে তৈরি পোশাক, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও অন্যান্য উৎপাদিত দ্রব্য।
২০৭ দিন আগে
বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনা অর্জনে সক্ষম: জার্মান রাষ্ট্রদূত
সংস্কার ও পুনর্গঠনের এই সময়ে বাংলাদেশ তার বিপুল সম্ভাবনা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জামার্নির নতুন রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
৭ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় তার স্ত্রী ইভানা লোটজও সঙ্গে ছিলেন।
সোমবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জার্মান দূতাবাস।
রাষ্ট্রদূত বলেন, জার্মানি ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এই পথ আমরা একসঙ্গে চলতে থাকব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আতিথেয়তার মূলে রয়েছে আস্থা, উদারতা এবং অন্যের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। বাংলাদেশের মানুষের মনোবল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
২০৭ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার সফর গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মমুখর হবে: প্রেস সচিব
মালয়েশিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন তিন দিনের সরকারি সফরটি ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর’ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ‘সফরটি কর্মব্যস্তময় হবে। আমরা এই সফরের সফলতার প্রত্যাশা করছি। এতে সব বিষয়ে গভীর ও বিস্তৃত আলোচনা হবে।’
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থল হিসেবে বিবেচিত এবং এ সফরে কর্মী নিয়োগ ও ভিসা সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
‘সফরে মাইগ্রেশন ও বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে,’ শফিকুল আলম বলেন।
গভীর সাগরের মাছ ধরা ও বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনের জন্য যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইবে বলে জানান তিনি।
এ সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক শাহ আসিফ রহমান জানান, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও তিনটি অতিরিক্ত নোট সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মজবুত করা ও বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শ্রম সহযোগিতাসহ একাধিক ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস সোমবার (১১ আগস্ট) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। আনোয়ার বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও একনিষ্ঠ সমর্থক।
সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নিয়োগ, শক্তি, বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, হালাল খাদ্য উৎপাদন, ব্লু ইকোনমি এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ নানা বিষয় আলোচনা করা হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পড়ুন: জিরো রিটার্ন’ দাখিল বেআইনি, শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত অক্টোবর মাসে প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় সরকারি সফর করেছিলেন।
মঙ্গলবার পুত্রাজায়ার পারদানাপুত্রায় সরকারি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম এরপর মালয়েশিয়ান প্রতিনিধি দলকে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে পরিচয় করিয়ে দেবেন, এরপর অতিথি বইয়ে স্বাক্ষর করবেন তিনি।
সোমবার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুংগা রায়া ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর অধ্যাপক ইউনুসকে বোর্ডিং ব্রিজে মালয়েশিয়ার প্রধান প্রোটোকল কর্মকর্তা গ্রহণ করবেন।
এরপর তাকে ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে মালয়েশিয়ার গৃহমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিয়ান বিন ইসমাইল স্বাগত জানাবেন এবং একটি স্থির গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রধান উপদেষ্টার সম্মানে সরকারি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে বুধবার (১৪ আগস্ট) রাতে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকায় ফিরবেন।
২০৮ দিন আগে
আঙ্কারায় 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' দিবস পালিত
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট শাসন বিলোপ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সমতার সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করেছে তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাস।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস দিবসটি উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এর আগে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা ও তুরস্কে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে পৃথক একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
আঙ্কারায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও তাদের সহধর্মিণীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে তৈরিকৃত পোস্টার এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জিহাদ এরগিনেই। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক তার স্বাগত বক্তব্যে উপস্থিত কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বলেন, তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতির প্রতীক।
পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা দিতে চায় কুনমিং চক্ষু হাসপাতাল
তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ২০২৪’-এ লাখো মানুষ অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সমতার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল এবং আমাদের সাহসী প্রজন্ম ফ্যাসিবাদ ও খুনীদের রুখে দিয়েছিল। এই বিপ্লব ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত বিজয় এবং মানবাধিকারের জন্য একটি ঐতিহাসিক জাগরণ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই অভ্যুত্থান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক চেতনার অনুপ্রেরণা। তিনি ‘জুলাই বিপ্লব’র শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।
সেজন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে দোষীদের বিচার নিশ্চিতে এবং দেশে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পটভূমি, প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারেন।
২০৯ দিন আগে
তামাবিল দিয়ে নারী-শিশুসহ ২২ জনকে ফেরত পাঠাল ভারত
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগের পর দেশে ফিরেছেন শিশুসহ ২২ বাংলাদেশি নাগরিক।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবির উপস্থিতিতে ওই ২২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায় ভারত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ এসআই মো. শামীম মিয়া।
তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে ফেরা ২২ বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন সময় সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ওয়েস্ট গারো হিলস জেলার তুরা কারাগারে ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কারাভোগ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন বিজিবি-বিএসএফের উপস্থিতিতে তাদের বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের কাছে হস্তান্তর করে।
দীর্ঘ কয়েক মাস জেল খেটে তারা আজ শুক্রবার বিকালে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরত আসেন।
ফেরত আসা ২২ জন হলেন— নেত্রকোণার পিজুস তালুকদার (৬০), শুভেন্দু সরকার তালুকদার (২৬), রনি তালুকদার (২৭), মিতু তালুকদার (১৫), পান্না তালুকদার (১৯), সরস্বতী মহানায়ক, স্বপ্ন মহানায়ক (৮), সেজুতি মহানায়ক ঝিনুক (১১), নারায়ন মহানায়ক, প্রনয় সাহা (৪৬), উদয় দাস (২৫), রাজশাহীর গোদাবাড়ি থানার মো. কাউসার আলী (১৭), মো. নুর আমিন (১৫), সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মারজান হোসাইন (১৭), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মো. ইসলাম উদ্দিন (২৫), বিয়ানীবাজার উপজেলার ইকরামুর রহমান সায়েম (১৬), সিলেট এয়ারপোর্ট থানা এলাকার মোবারক হোসাইন (১৭), সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার পপি রানী (১৬), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শাহরিয়া আহমেদ শাওন (১৫), বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানা এলাকার মো. হাসান আলী (৩০), যশোরের সদর থানা এলাকার কাশফিয়াতুন নূর (১৭), জামালপুরের সরিষাবাড়ি থানা এলাকার মো. শামীম (৩৫)।
তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ এসআই শামিম মিয়া জানান, দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিএসএফ ও বিজিবির মাধ্যমে ২২জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে পাঠানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২১০ দিন আগে