বৈদেশিক-সম্পর্ক
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা দিতে চায় কুনমিং চক্ষু হাসপাতাল
কুনমিং চক্ষু হাসপাতাল চীনের ইউনান প্রদেশের একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল। বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে হাসপাতালটি।
কুনমিং চক্ষু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং মিন বলেন, ‘আপনাদের দেশে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চোখের চিকিৎসা নিয়ে আপনার উদ্বেগ থাকতে পারে। আমাদের হাসপাতাল সাশ্রয়ী খরচে তাদের জন্য মানসম্পন্ন চোখের চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।’
শুক্রবার (৮ আগস্ট) হাসপাতাল পরিদর্শনকারী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি দলের সঙ্গে আলাপকালে ঝাং মিন এই মন্তব্য করেন।
কুনমিং হাসপাতালের প্রস্তাব ও জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় সহায়তা করার এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতা জোরদারের ইঙ্গিত দেয়।
পড়ুন: ইউনানে বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি চীনের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যদিও এটি একটি বেসরকারি হাসপাতাল, এটি কম খরচে খুব ভালো চিকিৎসা এবং পরিষেবা দেয়। ‘চোখের চিকিৎসার জন্য আমাদের হাসপাতালটি ইউনানের সেরা হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি।’
তিনি বলেন, তারা গুরুতর চোখের সমস্যা এবং আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও কর্নিয়া প্রতিস্থাপনসহ বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয় আমাদের হাসপাতালে।
ঝাং বলেন, দক্ষ চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী এবং অত্যন্ত উন্নত সরঞ্জামসহ উন্নতমানের চক্ষু সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের হাসপাতাল ২৮ বছর ধরে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকরা বিদেশি রোগীদের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ এবং তারা সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে পারেন। তাই, বাংলাদেশি রোগীদের ভাষার বাধা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।’
ঝাং আরও বলেন, কুনমিং চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা তাদের চোখের সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত ইমেল পাঠিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ‘আমরা আপনাদের পরে প্রতিক্রিয়া জানাব।’
তিনি বলেন, ভারত, রাশিয়া, কোরিয়া, জাপান এবং কিছু প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সবসময়ই তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
পড়ুন: বাংলাদেশে ‘সুশৃঙ্খল, সফল ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন চায় চীন
চীন সরকার চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৩ সদস্যের গণমাধ্যমকর্মীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
২১০ দিন আগে
গভীর রাতে নওগাঁ সীমান্তে ১৪ জনকে পুশইন
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৪ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া সীমান্তের ২৭১/১ এস পিলার কাছে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়।
পত্নীতলা ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ১৪ বিজিবির কালুপাড়া বিওপির হাবিলদার রুপম চাকমার নেতৃত্বে একটি টহল দল বাংলাদেশের ৫০ গজ অভ্যন্তরে সাতনাপাড়া আমবাগানে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করে।
বিজিবির হাবিলদার রুপম চাকমার নেতৃত্বে টহল দলের সদস্যরা তাদের বাংলাদেশের ৫০ অভ্যন্তরে সাতনা পাড়া আম বাগান নামক স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখে এখান থেকে। আটকদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৭ জন মহিলা ও ৩টি শিশু রয়েছে।
পড়ুন: গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৫
আটক ব্যক্তিরা হলেন— খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের বাদশা মিয়া (২০), ইমরান গাজী (৩৪), নাজমুল হাসান (২৪), খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের শিশু মোছা. সুমা মোল্লা (৪), শিশু রায়হান মোল্লা (৪), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মোছা. নুপুর খানম (২২), শিশু মোছা. আশিকা খানম (৪), মোছা. মনিরা খাতুন (১৮), মোছা. রাবেয়া শেখ (২৮), বাবু শিকদার ( ১৭), প্রিয়া শিকদার (২৬), শিশু ফাতেমা শেখ (৭), মোছা. ববিতা শিকদার (৩৫), যশোহর জেলার কোতোয়ালি থানার মোছা. দুলি বেগম (৪০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পুশইন হওয়া ওই ১৪ জনের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। কয়েক বছর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতের মুম্বাই শহরে যান। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ (সিআইডি) তাদের আটক করে।
পরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিমানযোগে পুনে বিমানবন্দর নিয়ে এসে পরবর্তীতে বালুরঘাট থানার মাধ্যমে ১২৩/সানারপাড়া বিএসএফের সদস্যরা ওই ১৪ জন বাংলাদেশিকে গাড়িযোগে সীমান্ত পিলার ২৭১/১-এস এর কাছ দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেন। শুক্রবার সকালে তাদের ধামইরহাট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
২১০ দিন আগে
ইউনানে বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি চীনের
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য উচ্চমানের ও ঝামেলামুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল’ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এই আশ্বাস দেন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের প্রধানরা।
ইউনান প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কমিশনের উপপরিচালক ওয়াং জিয়ানকুন জানান, তারা আন্তর্জাতিক রোগীদের ন্যায্যমূল্যে উচ্চমানের সেবা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের এই পাইলট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া বাংলাদেশি রোগীরা অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের সহায়তায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের সরকার এবং ঢাকায় আমাদের দূতাবাস স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৩ সদস্যের ওই গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নেয়।
সেশনে হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট জেং ঝিং, মেডিকেল প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক শি হংবিন এবং আন্তর্জাতিক মেডিকেল বিভাগের পরিচালক হান রুইসহ চীনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সেখানে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত ব্যয়, বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ, লিয়াজোঁ অফিস, ফলো-আপ চিকিৎসা ও বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া এবং মৃতদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উচ্চ খরচ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন চীনা কর্মকর্তারা।
ওয়াং জিয়ানকুন বলেন, আমরা বাংলাদেশি রোগীদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত রয়েছি তা সমাধানের চেষ্টা করছি।
চীনা কর্তৃপক্ষকে তাদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান আজাদ মজুমদার। এতে তারা বাংলাদেশি রোগীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, গত ছয় মাসে ৬৭ জন বাংলাদেশি রোগী লিভার সিরোসিস, স্তন ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন।
চীনের স্থানীয় ফরেন অফিসের আয়োজিত ভোজসভায়ও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার (৮ আগস্ট) কুনমিংয়ের আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২১০ দিন আগে
হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা হবে আগামী নির্বাচন: কুগেলম্যান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে, তখন ‘শেখ হাসিনা-পরবর্তী’ বাংলাদেশকে একটি বড় ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান।
মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি-র সাউথ এশিয়া ব্রিফে এক লেখায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আর আগামী বছরের নির্বাচন হবে হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ঘোষণা করেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অনুরোধ জানানো হয়।
এই চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রতি সরকারের অনুরোধের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমদের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিঞা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত মানসম্পন্ন একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে মঙ্গলবার। এদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গেল বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন।
কুগেলম্যান লেখেন, ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কয়েক সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের পর হাসিনার পদত্যাগের খবর আসে। তার কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, যাতে প্রাণ হারান ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।’
তিনি বলেন, হাসিনার বিদায়ের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে এমন এক দেশে, যেটি টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনে ছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্যের চোখে দেখে ওয়াশিংটন: কুগেলম্যান
আজ বাংলাদেশের মানুষ সাধারণভাবে আগের চেয়ে বেশি সুখী ও স্বাধীন, তবে কুগেলম্যানের ভাষায়, ‘বিপ্লব-পরবর্তী মধুচন্দ্রিমা এখন অনেকটাই অতীত।’
নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করা ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারে সংগ্রাম করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, ‘এদিকে, ফরেন পলিসিতে সালিল ত্রিপাঠি লিখেছেন, দেশে প্রতিশোধপরায়ণ রাজনৈতিক চক্র এখনো অব্যাহত রয়েছে।’
আন্দোলনের সময় নেতৃত্ব দেওয়া অনেকেই, যারা পরে অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিয়েছিলেন, চলতি বছরের শুরুতে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। কুগেলম্যান লেখেন, তারা এখনো হাসিনার পতনের পর দেওয়া উচ্চাভিলাষী কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সচেষ্ট।
‘তবে অগ্রগতি থমকে আছে, এবং এতে অনেক বাংলাদেশি হতাশ’, বলেন তিনি।
মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘নির্বাচন সামনে। আপনি যদি নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে থাকেন, এখন থেকেই নিয়মিত যাতায়াত শুরু করুন। যোগ্যতম প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিজেকে প্রস্তুত করুন।’
তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার সময় যেন তাদের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যাদের তাজা রক্ত আমাদের এই পবিত্র অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।’
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ফেব্রুয়ারি বেশি দূরে নয়। প্রস্তুতির দিনগুলো দ্রুত পেরিয়ে যাবে, আর খুব শিগগিরই আসবে ভোটের দিন।
আরও পড়ুন: অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের সমস্যার মুখে পড়তে হবে পরবর্তী সরকারকে: কুগেলম্যান
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর এবার সবাই ভোট দেবেন, কেউ পেছনে পড়ে থাকবেন না।
‘চলুন সবাই গর্ব করে বলি: নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় আমি ভোট দিয়েছি। আর এই ভোটেই দেশ সেই পথে এগিয়ে গেছে’, বলেন অধ্যাপক ইউনুস।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান, ‘চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রথম বড় পরীক্ষাটি আমরা সবাই মিলে সফলভাবে উতরে যাই।’
২১১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনার শর্তবলি প্রকাশযোগ্য নয়: অর্থ উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনার শর্তাবলি জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে যেগুলো প্রকাশ করা যায় না। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলব না।’
তিনি বলেন, ‘এটা বহুপাক্ষিক আলোচনা নয়, এটা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বা জাতিসংঘ নয়, যেখানে একটি প্রস্তাব গৃহীত হলে সবাই জানতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘হারটা আরেকটু কমলে ভালো লাগত। এখনকার হার যথাযথ না হলেও সহনীয়। ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে, এটা খুব একটা খারাপ নয়। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের অবস্থান খারাপ বলা যাবে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, দেশের নিট পোশাক (নিটওয়্যার) কারখানাগুলো দ্রুত এই শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে—তবে ওভেন কারখানাগুলোর জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবস্থা দুর্বল।
তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি এখনো সই হয়নি। কোথায় আরও শুল্ক কমানো যায় তা আমরা পর্যালোচনা করব।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আর্থিক খাতে কিছু স্বল্পমেয়াদি সংস্কার এনেছে, তবে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য সময় লাগবে।
পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র অসম্পন্ন, গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই: জামায়াত
তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছেবাংলাদেশ ব্যাংক। যেটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে। পুঁজিবাজারেও কিছু সংস্কারের চেষ্টা চলছে, কিছু অগ্রগতি আশা করা যায়।
এছাড়া এনবিআর অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে এনবিআরকে দুটি বিভাগে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানান উপদেষ্টা—একটি রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
সরকার যেসব প্রকল্প নিয়েছে তা সময়োপযোগী ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিনা সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এই সরকার যেহেতু সীমিত সময়ের জন্য, তাই এমন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে—যা বাস্তবায়নযোগ্য।
গত এক বছরে সরকারের সাফল্য সম্পর্কে এক প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অর্থনীতি এক সময় ধ্বংসের মুখে ছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিতে তখন অস্থির অবস্থা ছিল, যা একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন তা কিছুটা স্বস্তিকর জায়গায় এসেছে, বলেন তিনি।
মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন তা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হতে আরও সময় লাগবে। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি এখনও একটি চ্যালেঞ্জ।
২১২ দিন আগে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টায় ইসলামাবাদের ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এ সময় মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য ও স্থানীয় পাকিস্তানি নাগরিকসহ চার শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
পরে দূতালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরে মিশনের কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকগণ জুলাই পুনর্জাগরণে ছাত্র-জনতার সাহসী ভূমিকার স্মৃতিচারণ করেন। আলোচকরা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।
পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র: চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে ‘রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে’
হাইকমিশনার রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে বৈষম্যমুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা শেষে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
হাইকমিশনার অতিথিদের সাথে নিয়ে দূতালয়ে স্থাপিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেন।
২১৩ দিন আগে
হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এখনো ভারতের ইতিবাচক সাড়া মেলেনি: তৌহিদ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করলেও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নতুন করে বলার মতো কিছু নেই। শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এখনও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও নয়া দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় আছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়ে গেছে। কেউ আসুক বা না আসুক, বিচার চলবে।
পড়ুন: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সফরে ১৯৭১ সালের বিষয় তুলবে ঢাকা: তৌহিদ হোসেন
আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজন মনে করলে এমন সহায়তা চাইতে পারে। তবে এখনই আমি এর প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।
তিনি জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে কূটনৈতিক বার্তা (নোট ভারবালে) পাঠানো হয়েছিল। এতে প্রয়োজনীয় কিছু দলিলপত্রও সংযুক্ত করা হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের চাপে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
গত মাসেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেষ্টার বিষয়টি অব্যাহত থাকবে।
২১৪ দিন আগে
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সফরে ১৯৭১ সালের বিষয় তুলবে ঢাকা: তৌহিদ হোসেন
বাংলাদেশে আগামী ২৩ আগস্ট সফর করবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী। তাকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশ প্রস্তত এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো ঢাকা আলোচনার টেবিলে তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের কাছ থেকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো বাংলাদেশ উত্থাপন করবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিটি বিষয়ই আলোচনার টেবিলে থাকবে।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বাস্তবসম্মত উপায়ে’ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের নির্ধারিত সফরের সময় সবকিছু আলোচনায় থাকবে।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনায় পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো উত্থাপন করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে যে নৃশংসতা চালিয়েছে—তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি আদায়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে এই বিষয়গুলোর সমাধান করা প্রয়োজন, বলেছেন তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন।
এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারত কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে—তা বাংলাদেশ নির্ধারণ করে না এবং একইভাবে ভারতও কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে—তা নির্ধারণ করে না।
পড়ুন: ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী
হোসেন বলেন, তারা সম্পর্কের একটি দিক অন্য দিকে আটকে যেতে দেখতে চায় না।
তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলোতে জড়িত থাকার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
অন্যান্য ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি ২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর আগে গত এপ্রিলের তার পূর্ব নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হয়।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এক প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছিল।
সে সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৫ সালের ২৭-২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করতে পারছেন না।’
পরবর্তীতে, উভয় পক্ষ পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে নতুন তারিখ চূড়ান্ত করে।
গত সপ্তাহে জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি নিজেদের অটল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে।
পড়ুন: হাসিনা ও তার দোসরদের অপরাধ পাকিস্তানি বাহিনীকে হার মানিয়েছে: আইন উপদেষ্টা
জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে ইসহাক দার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বার্তাটি জানানো হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এটি ছিল তাদের চতুর্থ বৈঠক।
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপায় অনুসন্ধান করে।
উভয় পক্ষ অদূর ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সফর করতে সম্মত হয়েছে।
২১৪ দিন আগে
২৩ আগস্ট ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তিনি এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৪ আগস্ট তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং অন্যান্য কার্যক্রমেও অংশ নেবেন। সোমবার (৪ আগস্ট) এ তথ্য বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে, এ বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের এই সফর স্থগিত হয়। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রাণহানির এক ভয়াবহ ঘটনার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সফরটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সেদিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৫ সালের ২৭-২৮ এপ্রিল বাংলাদেশের সফর করতে পারছেন না।’
পরবর্তীতে দুই পক্ষ পরস্পরের পরামর্শে নতুন তারিখ চূড়ান্ত করে।
২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানের কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর করা বর্বরতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা এবং বকেয়া আর্থিক দাবিসহ ঐতিহাসিক অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো উত্থাপন করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সেসময়ের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি গড়ার জন্য এসব বিষয় সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ মনে করছে, ওই বিষয়গুলো আলোচনায় থাকার জন্য পাকিস্তান ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যদিও ঢাকা-ইসলামাবাদ মধ্যকার কথাবার্তা ১৫ বছর পর শুরু হয়েছে।
গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও মানবিক সংকটের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি তাদের অটুট সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে।
২১৪ দিন আগে
ইসলামাবাদে ‘জুলাই বিয়ন্ড বর্ডার’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই বিয়ন্ড বর্ডার’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে আয়োজিত ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৫ পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান।
এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণ ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সুসজ্জিত করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে নির্মিত পোস্টার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এর পর মিশনের কর্মকর্তারা জুলাই-আগস্ট পুনর্জাগরণে ছাত্র-জনতার ভূমিকার স্মৃতিচারণ করে আলোচনা করেন। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুথান বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাইকমিশনার। বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গঠনে সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করেন তিনি।
আলোচনা শেষে ২৪ এর জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
২১৬ দিন আগে