বৈদেশিক-সম্পর্ক
এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৬ দিন আগে
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আশাবাদী ওআইসি নেতারা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তারা এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিলিস্তিনবিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি দলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এ সময় তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাক্লিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি।
২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব থেকে ফিলিস্তিন ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে এখন এই পদের জন্য বাংলাদেশ সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছেন।
ওআইসি প্রতিনিধি দলের নেতারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিশাল বিজয় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসাও করেন তারা।
বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার আশা প্রকাশ করেন যে, ঢাকায় নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সমৃদ্ধ হবে।
তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুলাক্লিকায়া তুরস্ক ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও প্রসারিত হবে। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তুরস্কের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষই রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সৌদি আরবের আমন্ত্রণ
সৌদি প্রতিনিধি দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন খাতে অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং তার সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ওআইসি সচিবালয়ের সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি অটল সমর্থন
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আরব-ইসলামিক দেশগুলোর সমর্থন থাকবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনজিকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ গাম্বিয়ার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান ড. খলিলুর রহমান। উভয় পক্ষই চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে একমত হন। গাম্বিয়া ইউএনজিএ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় আটক ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের দেশে আনা হয়।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ৩০ জন এবং বেনগাজী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ১৪৫ জন রয়েছেন। তারা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
জানা যায়, তাদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন। অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
৮ দিন আগে
ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থী দিল বাংলাদেশ
২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। এরপর ওই পদে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। প্রার্থী দেওয়ায় এ পদে এবার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ।
৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিনের আগেই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। তবে ফিলিস্তিনকে আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক ২০২৬ সালের মে মাসে প্রার্থীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভার আহ্বান করবেন।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে এ মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও এ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা করা হচ্ছে।
৮ দিন আগে
অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে তারেক-সরকার বদ্ধপরিকর: লন্ডনে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম
লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি সত্যিকারের মাইলফলক। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে ভিশন উপস্থাপন করেছে, তা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি রুমে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইলেকশন: হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন, চ্যাথাম হাউজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো সিতেজ বাজপেয়ী এবং ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সোহেলা নাজনীন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, সংসদ সদস্য রূপা হকসহ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবনার মধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সামঞ্জস্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে তিনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল দর্শন হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
অন্যদিকে, ব্যারোনেস উইন্টারটন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অর্থ পাচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারোনেস উইন্টারটন জানান, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বা আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে।
প্যানেলিস্ট সিতেজ বাজপেয়ী বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপির এই নির্বাচনী বিজয় প্রত্যাশিতই ছিল।
৯ দিন আগে
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত হতে চলা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার’ জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘প্লান অব অ্যাকশান অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কর্পোরেশন’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ, দীপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দীপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে টোকিও।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদি আমিন; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ড. রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
দুই পক্ষ এমপ্লয়মেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইএসডিপি)-এর আওতায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে জাপানি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের সংযোগ সহজ করতে একটি ডিজিটাল ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, মেট্রোরেল সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন নিয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে একই দিনে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশকে জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন।
৯ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ-পরবর্তী এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমিন বাজার পানি শোধনাগার সচল করার বিষয় কথা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান আছে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন খাতে চীন কীভাবে আরও বেশি সহযোগিতা দিতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে। চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১০ দিন আগে
সমস্যার সম্মানজনক সমাধান, সবার সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক চায় ঢাকা
নতুন সরকারের প্রতি বিদেশিদের গভীর আস্থা রয়েছে। তারা সকলেই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গতকাল থেকে আমাদের দেশের বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমরা বৈঠক শুরু করেছি। আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশ ফার্স্ট; সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি, তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, আশা করি, আমাদের অঞ্চলের এবং বিশ্বের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হব।
খলিলুর রহমান বলেন, আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব, কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। আমাদের সব ইস্যু আমরা পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্মানজনকভাবে সমাধান করব। আগামী দিনে আমরা অত্যন্ত গতিশীল বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সৌজন্যমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। ভবিষ্যতে আমরা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ করব, এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
এ সময় অবিবেচনাপ্রসূত বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে উল্লেখ করে তিনি গুজব এড়িয়ে চলতে এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
১১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান এবং ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
১১ দিন আগে