বৈদেশিক-সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের পর সম্মতি সাপেক্ষে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তথ্য অধিকার (তথ্য অধিকার আইন-আরটিআই) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই চুক্তিটি প্রকাশ করব।’ চুক্তি সই হওয়ার পরে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে, বলেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তির বিষয়টি ফাঁস হওয়া কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক। ‘আপনিও দেখেছেন। আসলে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছুই নেই।’
শনিবার (২ আগস্ট) ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে মন্ত্রী (প্রেস) গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। গোলাম মোর্তোজা নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ গণমাধ্যমের জন্য এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা স্পষ্টতই সেই বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে এসেছেন, যা পরোক্ষভাবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে এবং মূলত তারা বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে।
তিনি বলেন, যদি তারা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চায়—তাহলে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ‘একই সঙ্গে, এ বিষয়ে আত্মতুষ্টিরও কোনো সুযোগ নেই,’ বলেন উপদেষ্টা।
পড়ুন: শুল্ক নিয়ে আলোচনায় সোমবার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ‘এর সাফল্য বা ব্যর্থতা আমাদের সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করবে। এর সুফল পেতে হলে আমাদের সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। আমি শুনেছি, আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। আমি এতে শতভাগ একমত। কোনো অবস্থাতেই আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে বশির বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় বিষয়টি মোটেও উত্থাপন করেনি। ‘এই বিষয়টি একতরফা। বোয়িং গত বছর ১২টি বিমান তৈরি করেছিল। তাই এই চুক্তি অনুসারে, তারা ২০৩৭ সালে প্রথম বিমান সরবরাহ করতে সক্ষম হতে পারে।’
কৃষি পণ্যের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী ছিল। বাংলাদেশ দেড় থেকে দুই হাজার কোটি ডলার মূল্যের খাদ্যপণ্য আমদানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রও কৃষিপণ্যের একটি বৃহৎ উৎপাদক।
বাংলাদেশ মূলত জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের ভিত্তিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথা বলেছে। যে পণ্যগুলো বাংলাদেশকে ইতোমধ্যেই আমদানি করতে হচ্ছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। তুলা, সয়াবিন, ভুট্টা এবং গমজাত পণ্য আমদানি বাড়িয়ে বাংলাদেশ ২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করতে পারে।
তিনি বলেন, এই পদ্ধতি বাংলাদেশকে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করবে। ‘বোয়িং বিমান খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়,’ উল্লেখ করে বশির বলেন, ‘আপনি প্রতিদিন এটি(বোয়িং) কিনবেন না, তবে আপনাকে প্রতিদিন সয়াবিন কিনতে হবে।’
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিমানের পরিচালনা ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতিরিক্ত ১ কোটি যাত্রী পরিবহনের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫টি বিমান খুব বেশি নয়, বলেন তিনি।
পড়ুন: দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তির জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দেন। বলেন, পুরো আলোচনায় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিজের দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যা কিছু করেছি, আমরা আমাদের দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে করেছি—যেমন আমেরিকা তার জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। ‘তারা এমন কিছু করবে না—যা তাদের নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।’
২১৬ দিন আগে
১৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো বিএসএফ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে ১৭ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ।
শুক্রবার সকালে (১ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) সঙ্গে ভারতের ১৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে শূন্য রেখায় মেইন পিলার ১০৫ এর কাছে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
বিজিবির মুজিবনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার তপস কুমার বৈঠকে নেতৃত্ব দেন, আর বিএসএফের পক্ষে হ্নাদায়পুর ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর ধর্মেন্দ্র দাহ অংশ নেন।
ফেরত আসা ১৭ জনের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেছিল বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই স্বীকার করেছে, তাদের কারোরই ভারতে প্রবেশের উপযুক্ত কাগজপত্র ছিল না।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব বাংলাদেশিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২১৭ দিন আগে
শুল্ক হ্রাসে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন
বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যে পাল্টা শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হলেও এখনই একটি কার্যকর, বৈচিত্র্যময়, প্রতিযোগিতামূলক ও সহনশীল বাণিজ্য কৌশল নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বর্তমানে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা রুবেল বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশ সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে।’
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এই চুক্তিকে একটি ‘সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আজকের সাফল্য প্রমাণ করে বাংলাদেশ কতটা প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রগতিতে অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা দেখিয়েছে।’
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচকরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন এবং শুল্ক, অশুল্ক ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক জটিল আলোচনার মধ্য দিয়ে সফলভাবে পথ অতিক্রম করেছেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অক্ষুণ্ন থাকল। সেই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়ল এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থও সুরক্ষিত হলো।
এই অর্জন শুধু বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকেই শক্তিশালী করেনি বরং আরও বেশি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও স্থায়ী সমৃদ্ধির পথ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি
বাণিজ্যিক গতিশীলতায় এটিকে ‘দারুণ অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশ পাকিস্তান, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশে নির্ধারণ করেছে, যা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, ভারতের ২৫ শতাংশ ও চীনের তুলনামূলক উচ্চ শুল্কহারের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের এই অবস্থান বাণিজ্য পরিবেশ অনুকূল করে তুলতে পারে এবং চীনের কিছু বাজারও বাংলাদেশে সরতে পারে।
রুবেল আরও বলেন, খুচরা দামে সম্ভাব্য বাড়তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদে বিক্রয়ে কিছু প্রভাব পড়তে পারে, তবে অতীতের দৃঢ়তা ও সহনশীলতা ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে সফলতার জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুত।
খুচরা সাময়িক বাড়তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রিতে স্বল্পমেয়াদে কিছু প্রভাব পড়লেও, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যে দৃঢ়তা ও অটলতা দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।‘যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে স্বল্পমেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ওঠানামা করতে পারে, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও অতীত দক্ষতা ভবিষ্যতে স্থায়ী অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়,’ বলেন রুবেল।
একটি সুযোগ, একটি সতর্কবার্তা
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘এটি যেমন একটি সুযোগ, তেমনি একটি সতর্কতাও। বাংলাদেশকে এখনই একটি বৈচিত্র্যময়, প্রতিযোগিতামূলক এবং সহনশীল বাণিজ্য কৌশল গড়ে তুলতে হবে।’
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করাকে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
তিনি বলেন, ‘এই হ্রাস মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পাল্টা শুল্ক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের অংশ, যা তাদের অনেক বাণিজ্য অংশীদার দেশেই প্রযোজ্য হচ্ছে।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কার ওপর শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ ও ভারতের শুল্ক হার ২৫ শতাংশে রয়েছে।
পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বিজয়: প্রধান উপদেষ্টা
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের নতুন শুল্কহার এখন প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক সামান্তরালে এসেছে, যা রপ্তানি বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে বাণিজ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনবে এবং বড় ধরনের অস্থিরতার সম্ভাবনাও হ্রাস করবে।
তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে—চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কহার এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিশ্ব উৎপাদনে চীনের প্রধান ভূমিকা এবং বেশ কিছু রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে, চীনের ওপর শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেলিম রায়হান বলেন, ‘যদি চীনের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে—বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চাহিদা স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিপরীতে, চীনের জন্য অনুকূল হার নির্ধারিত হলে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।’
তাই, আগামী দিনে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্য কোন দিকে ঝুঁকবে—তা নির্ধারণে চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত শুল্ক শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত বিজয়
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার সিদ্ধান্তকে অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক কৌশলের ‘একটি বড় কৌশলগত বিজয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় কর্মরত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিজ।
তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় স্পষ্ট যে, এই আলোচনার কৃতিত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত অবস্থান ও কৌশলগত সক্ষমতারই প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আসার বাকি থাকলেও এটি উভয় দেশের জন্যই একটি ইতিবাচক অর্জন।
পড়ুন: আরও ৬৯ দেশের ওপর নতুন হারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ
গত চার মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রধান আলোচক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নানা দিক থেকে প্রবল চাপের মুখে থেকেও ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন ড্যানিলোভিজ।
‘আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় এখন সমালোচকদের নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে,’ বলেন ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক কূটনীতিক।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদে অগ্রগতি, জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বিষয়ে ইতিবাচক খবর—সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ভালো সপ্তাহ।’
এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্য স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন প্রমাণ করেছেন, তিনি দায়িত্ব পালনে দৃঢ় এবং কার্যকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা তার প্রতি সন্দেহ পোষণ করেছিলেন, এই অর্জনের পর তাদের হতাশই হতে হবে।’
আমরা সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা করেছি
বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খালিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীলভাবে আলোচনা করেছি যাতে আমাদের অঙ্গীকারগুলো জাতীয় স্বার্থ ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। আমাদের পোশাক শিল্পকে রক্ষা ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়তা করবে এবং মার্কিন কৃষিভিত্তিক রাজ্যগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানই ধরে রাখিনি, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগও তৈরি করেছি।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার কার্যাদেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম ও সয়াবিন আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২৭ জুলাই বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের ২৫টি বিমান কেনার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি গম ও সয়াবিন আমদানিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী কয়েক বছরে বিমানের প্রয়োজন মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের অর্ডার ১০০, ভিয়েতনামেরও ১০০ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫০। আমরা তুলনামূলকভাবে কম কিনলেও, আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা যথেষ্ট।’
পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যে শুল্ক কমানো ‘সন্তোষজনক’: আমীর খসরু
এ দিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক কার্যকর করার কথা জানালেও তা সাত দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এপির মতে, যদিও এই পরিবর্তন এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না করা দেশগুলোর জন্য সম্ভাব্য শুভ সংবাদ হলেও, এতে কখন-কি ঘটবে তা নিয়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
২১৭ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে প্রতারণার বিষয়ে হাইকমিশনের সতর্কবার্তা
মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ব্যাপক প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের এসব অসাধু চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।
শুক্রবার (১ আগস্ট) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে থেকে এ বিষয়ে এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে কর্মী পাঠানোর কথা বলে সেখানে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও নগদ টাকা সংগ্রহ করছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে কর্মী নেওয়ার জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো চুক্তি বা সমঝোতা নেই। এ ছাড়া, সাবাহ প্রদেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগর কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৯৬ জন বাংলাদেশিসহ ১৩১ জনকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাধা
তাই সাবাহ প্রদেশ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের প্রতারকচক্রের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হতে এবং এদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলে সেটি কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২১৭ দিন আগে
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হক নান্নুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করা হয়।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিনিময় আরও জোরদার করার মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের জন্য বেশি সুফল নিশ্চিত করার বিষয়েও তারা মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাতকালে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ‘সুশৃঙ্খল, সফল ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন চায় চীন
২১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বিজয়: প্রধান উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি সই উপলক্ষে বাংলাদেশের শুল্ক আলোচক দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই চুক্তিকে একটি ‘সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে টানা তিন দিন আলোচনা করে। এরপর বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এই নতুন শুল্ক ঘোষণার পর শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শুল্ক আলোচক দলকে অভিনন্দন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি করায় বাংলাদেশের শুল্ক নিয়ে আলোচকদের আমরা গর্বের সঙ্গে অভিনন্দন জানাই। এটি একটি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বিজয়।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যাশিত হারের চেয়ে ১৭ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণের মাধ্যমে আমাদের আলোচকরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রগতিতে অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা এবং অবিচল প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল। আজকের সাফল্য আমাদের জাতির দৃঢ়তা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সাহসী দৃষ্টিভঙ্গির একটি শক্তিশালী প্রমাণ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই: প্রধান উপদেষ্টা
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচকরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন এবং শুল্ক, অশুল্ক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক জটিল আলোচনার মধ্য দিয়ে সফলভাবে পথ অতিক্রম করেছেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলামের মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অক্ষুণ্ন থাকল। সেই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়ল এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থও সুরক্ষিত হলো।
এই অর্জন শুধু বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকেই শক্তিশালী করেনি বরং আরও বেশি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে যা ভবিষ্যতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও স্থায়ী সমৃদ্ধির পথ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২১৭ দিন আগে
প্রতিযোগী দেশগুলোর সমান ২০ শতাংশ শুল্কহার অর্জন করেছে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর আরোপিত শুল্কহার ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এই হার যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ, যেমন: শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ১৯ থেকে ২০ শতাংশের সমতুল্য। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের জন্য ২৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারিত হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। সে সময় শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে আলোচনার সুযোগ দেয় ওয়াশিংটন।
ওই মেয়াদ শেষে ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে টানা তিন দিন আলোচনা করে। এরপরই নতুন শুল্ক নির্ধারিত হলো।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে গড় শুল্কহার ১৫ শতাংশ। এবার নতুন ২০ শতাংশসহ মোট শুল্ক দাঁড়াল ৩৫ শতাংশে।
আরও পড়ুন: শুল্ক আলোচনা: বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও অগ্রগতির দেখা নেই
শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। ১৫ শতাংশ শুল্কহার কমানোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকব। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরা ২০ শতাংশের নিচে প্রত্যাশা করেছিলাম।’
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পক্ষে অন্যতম প্রধান আলোচক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ আমরা সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপ এড়াতে পেরেছি। এটি আমাদের পোশাক শিল্প এবং পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। সেই সঙ্গে আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও ধরে রেখেছি এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা করেছি যাতে আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় স্বার্থ ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে রক্ষা করা। এর পাশাপাশি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি মার্কিন কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সাহায্য করবে।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ (স্থানীয় সময় ৩১ জুলাই) এক ঘোষণায় ৭০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কহার প্রকাশ করেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত সময়সীমা, অর্থাৎ ১ আগস্টের ঠিক আগে এই ঘোষণাটি দেওয়া হলো।
এই চুক্তিগুলো কেবল শুল্ক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত দেশীয় নীতির সংস্কারও এর অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও এ সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আলোচনার অংশ হিসেবে দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনার ব্যাপারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছিল যাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যায়। চুক্তিগুলোতে বিষয়বস্তু বিস্তৃত হওয়ায় আলোচনা প্রক্রিয়া ছিল জটিল ও দীর্ঘ।
শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এই শুল্কছাড় কেবল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর সঙ্গে নয়, বরং অ-শুল্ক বাধা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মার্কিন উদ্বেগের প্রতি একটি দেশের সদিচ্ছাও এর সঙ্গে জড়িত ছিল।
আরও পড়ুন: কানাডায় ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, অনিশ্চয়তায় ইউএসএমসিএ চুক্তি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্পষ্ট করা হয়, প্রতিটি দেশের জন্য নির্ধারিত শুল্কহার নির্ভর করবে এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতির গভীরতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রীলংকার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ ও পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি।
২১৭ দিন আগে
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আবারও জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানাল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আবারও পূর্ণ স্বীকৃতি ও সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বাস্তবায়ন এখনই শুরু করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের একসঙ্গে সাহসিকতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ইতিহাসের সঠিক পক্ষে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার হোক আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’
গাজা পুনর্গঠনে জাতিসংঘের নেতৃত্বে যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন পরিকল্পনায় কর্মী পাঠাতে প্রস্তুত।
সৌদি আরব ও ফ্রান্সকে সম্মেলনের আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে ফিলিস্তিনে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্য ও দ্রুততার প্রয়োজন ছিল। আট সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপের নিষ্ঠা ও অঙ্গীকার প্রশংসনীয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি টেকসই ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অটল অবস্থানে রয়েছে।
‘আমরা বিশ্বাস করি, ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচার ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সম্ভব নয়। আর এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনাগুলোর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত,’ বলেন তৌহিদ হোসেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল এলায়েন্স ফর দ্য ইমপ্লিমেনটেশন ফর দ্য টু- স্টেইট সলিউশন’— এর উদ্যোগকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এই ঐকমত্যকে এখন বাস্তব রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য একটি স্পষ্ট ও সংযুক্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
উপদেষ্টা বলেন, ‘স্কুল, হাসপাতাল ও ত্রাণ শিবিরগুলো হামলার শিকার হয়েছে। গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে রয়েছে অসংখ্য লাশ। আমরা নিঃসন্দেহে আমাদের সময়ের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার সাক্ষী হচ্ছি। বাংলাদেশ গাজায় চলমান এই গণহত্যাকে ঘৃণাভরে নিন্দা জানাচ্ছে এবং দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের যে পন্থা ইসরায়েল গ্রহণ করেছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
মানবিক সংকট মোকাবিলা ও গাজা পুনর্গঠনের জন্য নতুন সম্পদ ও অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দিয়ে তিনি আরব-ইসলামিক পুনর্গঠন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।
২১৯ দিন আগে
আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তি ২০২৫-এর জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিদায় জানাতে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভারতীয় হাইকমিশনের এক বার্তায় জানানো হয়, এ বছর সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের শুধু ব্যক্তিগত পেশাগত উন্নয়নই নয়, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, এটি গড়ে উঠেছে আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যৌথ ত্যাগের ভিত্তিতে। এই বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে সেই বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, আইসিসিআর বৃত্তি ভারত সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি, যার আওতায় মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান।
২২০ দিন আগে
বাংলাদেশে ‘সুশৃঙ্খল, সফল ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন চায় চীন
বাংলাদেশ এখন সংস্কার ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ যাত্রায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চীনের সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল জাতীয় নির্বাচন এবং দেশের প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত উন্নয়ন পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায়ও চীনের সমর্থন রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতা অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব বলেন।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন চাইছে বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল, সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল বাংলাদেশের জনগণের, বাইরের কোনো দেশের নয়।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাবেক ডিক্যাব সভাপতি শামিম আহমেদের মৃত্যুতে এবং সম্প্রতি উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিশু ও অন্যান্য নিরীহ মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের মানসম্মত উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
বাংলাদেশ-পাকিস্তান-চীন ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি লক্ষ করেই চীন এই উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের বহু ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ রয়েছে। এ উদ্যোগটি সর্বশেষ সংযোজন মাত্র।’
গত কয়েক মাসে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সব রাজনৈতিক দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যেহেতু বাংলাদেশে এখন সুযোগ রয়েছে তাই চীন সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।
এর আগে বিএনপি ও জামায়তসহ কিছু দলের সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগে বাধা ছিল। এ নিয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই!’
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার
এ সময় চীন বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও।
বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে চীন অভিজ্ঞতা বিনিময়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, দুর্যোগ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তুতি রেখেছে বলে তিনি জানান।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একত্রে আধুনিকতা অর্জন এবং এশিয়ার উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে অবদান রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, সম্প্রতি কুনমিংয়ে চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বাস্তব অগ্রগতি অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সুইস রাষ্ট্রদূতের প্রাতরাশের বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক দক্ষিণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মূল অংশীদার হিসেবে চিহ্নিত করে ইয়াও বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময়ই চীনের প্রতিবেশি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এবং বাইরের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে আসছি।’
এ সময় ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও চীনের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগে দৃঢ় সমর্থনেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ত্রিপক্ষীয় এই উদ্যোগে কেন শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, বাকি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে নয়—এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশকেও এ উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেছে। তবে তারা কেমন সাড়া দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
২২০ দিন আগে