বৈদেশিক-সম্পর্ক
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত তারেক
রোহিঙ্গাদের রাখাইনে স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সব পক্ষের সাথে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
শুক্রবার (৪ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশনে ওআইসির উত্থাপিত ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত একটি অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।
রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার চলমান সংঘাত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত।
শনিবার (৫ জুলাই) জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, রাখাইনের সংঘাতে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বাংলাদেশের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যে চলমান হত্যাযজ্ঞ, নিপীড়ন এবং সহিংসতা এড়াতে শুধু ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ আঠারো হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
এ ছাড়াও, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা নিয়ে অনুষ্ঠেয় উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাস্তবমুখী এবং সময়াবদ্ধ সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ড. ইউনূসকে জাইকা শীর্ষ কর্মকর্তা
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকতর দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে জোর দেয়া হয়।
এ ছাড়াও, এতে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোকে রাখাইনে নিরবিচ্ছিন্ন এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবটিতে রাখাইনে বিচারহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়। এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সব স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের অংশগ্রহণ এবং অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
গত ১৬ জুন শুরু হওয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশন আগামী ৯ জুলাই শেষ হবে।
২৪৪ দিন আগে
কলম্বোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায় ঢাকা
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বীকৃতি দিয়ে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কলম্বোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল বীরাককোডি বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে সিয়াম এই মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এসময় তারা উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন পথ অন্বেষণের গুরুত্বারোপ করেছেন।
হাইকমিশনার তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র সচিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ড. ইউনূসকে জাইকা শীর্ষ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা বাণিজ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং পর্যটনসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তারা বাংলাদেশি ওষুধ শ্রীলঙ্কায় কীভাবে রপ্তানি করা যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রীলঙ্কা তার প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে উন্মুক্ত করতে পারে—তা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
পররাষ্ট্র সচিব চলতি বছরের শেষে পরবর্তী পর্যায়ের পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (এফওসি) আহ্বানের শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।
২৪৫ দিন আগে
বাংলাদেশ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ড. ইউনূসকে জাইকা শীর্ষ কর্মকর্তা
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেছেন, এশিয়ায় বাংলাদেশ এখনও জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিয়াজাকি কাতসুরা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের জন্য আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে বিনিয়োগ, মৎস শিল্প, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও তরুণদের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপান সবসময়ই আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। সম্প্রতি জাপান সফরকালে আমি ও আমার প্রতিনিধি দল যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা পেয়েছি, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মাতারবাড়ি প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে একে দেশের ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন: গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের জড়িতের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: সেনা সদর দপ্তর
সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি জাপানে জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমি বলেছিলাম আমরা একটি ব্লু ইকোনমির দেশ হতে চাই।’
ড. ইউনূস বাংলাদেশের তরুণদের জন্য জাপানে শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে যেতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো ভাষায়। আমরা আহ্বান করছি যে—জাপানি শিক্ষকরা এখানে আসুক, অথবা দূরশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের মানুষকে জাপানি ভাষা ও কর্মক্ষেত্রের আচরণ শেখানো হোক।’
প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সমস্যার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। হাজার হাজার রোহিঙ্গা তরুণ ক্যাম্পে ভবিষ্যতের কোনো আশা ছাড়াই বেড়ে উঠছে। এতে তারা ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।’
জবাবে মিয়াজাকি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘জাইকা এ দেশের বিচার বিভাগ, সরকারি প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে সহায়তায় নজর দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পে স্থানীয় সরকার, কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্ত থাকবে।
তরুণদের উন্নয়নের প্রসঙ্গে ড.ইউনূস বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ উন্নতি করেছে। তারা সব জায়গায়ই জিতছে। গতকালও তারা একটি ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে। আমরা তাদের জন্য হোস্টেলের সংখ্যা বাড়াচ্ছি। তবে তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণের জন্য সহায়তা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মিয়াজাকি বলেন, জাপান বিভিন্ন দেশে শিক্ষা প্রকল্পে স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নারীদের ক্রীড়া খাতে আরও সহযোগিতা বিবেচনায় নিচ্ছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি ১০০ কোটি ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তির জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। এই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় হবে। তিনি বার্ষিক জাপানি অনুদানের পরিমাণ ৩০০০ কোটি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সাড় ৪ হাজার কোটি ইয়েনে উন্নীত করার অনুরোধ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,‘বাংলাদেশের জনগণ জাপানের বন্ধুত্ব ও উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।’
২৪৬ দিন আগে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ অব্যাহত থাকবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে পালিয়ে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হানিসার প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রায় এক বছর পরেও হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ব্যর্থতার জন্য কোনো অনুশোচনা আছে কিনা—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কে কতটা অনুতপ্ত, তবে আমরা বিষয়টি এভাবেই দেখি- প্রয়োজনে, বিষয়টি (প্রত্যর্পণের অনুরোধ) অনুসরণ করা হবে।’
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতে একটি কূটনৈতিক নোট (নোট ভার্বাল) পাঠিয়েছিল—যেটির সঙ্গে কিছু প্রাসঙ্গিক নথিও ছিল। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের জড়িতের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: সেনা সদর দপ্তর
তিস্তা চুক্তি ও ৩০ বছরের পুরনো গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, এই ধরণের বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
ঢাকা, বেইজিং এবং ইসলামাবাদের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠক সার্কের বিকল্প জোট হিসেবে করা হয়েছিল—গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, এই ব্যাখ্যাটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, বৈঠকটি কখনই সার্কের বিকল্প জোট হিসেবে মনে করা হয়নি। এটি সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠক ছিল এবং এটি কোনোভাবেই কোনো জোট ছিল না বলেও জানান তিনি।
২৪৬ দিন আগে
যৌথ চেষ্টায় ডেঙ্গু মহামারিকে জয় করবে বাংলাদেশ: চীন
সরকার, সমাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ চেষ্টায় বাংলাদেশে ডেঙ্গু মহামারি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করছে চীন। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, প্রতিটি ডেঙ্গু রোগী সর্বোত্তম চিকিৎসা পাবে এবং দ্রুত সেরে উঠবে।’
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় চীন বাংলাদেশের জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ সামগ্রী হস্তান্তর করে। চীনা সরকার বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ পাওয়ার পরপরই ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ নেয় বলেও জানান ড. লিউ।
তিনি বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৭৮৯ বক্স (১৯ হাজার ৭০০ ইউনিট) ডেঙ্গু র্যাপিড টেস্ট কিট সংগ্রহ করেছি। এ সহায়তা শুধু মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলনও।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আমাদের বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতার এটি আরেকটি বাস্তব উদাহরণ।’
চীনা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, ডেঙ্গু এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিস্তৃত জলাধার থাকায় এখানে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আরও বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশের সরকার যে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ব্যবস্থা উন্নয়ন, জনসচেতনতা বাড়ানো—তা আমরা আন্তরিকভাবে প্রশংসা করি।’
চীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং আরও বেশি মানুষের উপকারে স্বাস্থ্যসেবায় পারস্পরিক বিনিময় ও অংশীদারিত্ব জোরদার করবে বলেও জানান ড. লিউ।
এ সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন।
২৪৬ দিন আগে
বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া খবরই আমাদের প্রধান সমস্যা: অধ্যাপক ইউনূস
জাতিসংঘকে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করতে এবং নৈতিক মান বজায় রেখে গণমাধ্যমকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউনেস্কোর কার্যালয় প্রধান ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং ইউনেস্কোর সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ।
ইউএনডিপি এবং ইউনেস্কোর যৌথভাবে প্রস্তুত করা 'বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থার একটি মূল্যায়ন: মুক্ত, স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যমের উপর গুরুত্বারোপ' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ইউনেস্কোর কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সত্যিই প্রতিবেদনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা হলো বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া খবর...এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের কিছু অংশ বাইরে বসবাসকারী লোকেরা ছড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে কিছু স্থানীয় মানুষ জড়িত। এটি একটি ক্রমাগত তথ্যবোমা।’
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি নিয়মিত গণমাধ্যমও অনেক বিভ্রান্তির উৎস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা কামনা করেন। বলেন, ‘আপনারা শুধু সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন না, গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন।’
আরও পড়ুন: আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড
স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনো গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিতে থাকে—তাহলে সেই গণমাধ্যমকে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতিসংঘ। আপনার কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ...আপনাদের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটিতে কী কার্যকর হচ্ছে, আর কী হচ্ছে না—তা তুলে ধরা হয়েছে। এটি মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রয়েছে। এই মানের সঙ্গে অনুশীলনগুলোকে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং বিচার বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে।’
ইউনেস্কোর জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ বলেন, প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে কিছু সুপারিশ করা হবে—যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয় এবং সংবাদ কক্ষে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, এই বিষয়গুলোতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেদনটি ইউএনডিপির ‘প্রতিষ্ঠান, নীতি ও সেবার সক্ষমতা উন্নয়ন (এসআইপিএস)’ প্রকল্পের আওতায় এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যম বিকাশে ইউনেস্কোর দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।
২৪৭ দিন আগে
বাংলাদেশকে ডেঙ্গু প্রতিরোধী উপকরণ দিচ্ছে চীন
ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ডেঙ্গু প্রতিরোধী উপকরণ দিচ্ছে চীন সরকার।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে এসব উপকরণ বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে (ডিজিএইচএস) অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বর্ষা শুরু হওয়ার পর দেশে ডেঙ্গু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জুন মাসে মশাবাহিত এই রোগে ১৯ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৯৫১ জন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এ ছাড়া মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন আক্রান্ত ও ৩ জনের মৃত্যু হয়।
২৪৭ দিন আগে
জাতীয় এমএসডিআই প্রতিষ্ঠা সময়োপযোগী ও উপকারী: রাষ্ট্রদূত মাসদুপুই
সমুদ্র অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে সামুদ্রিক স্থানিক তথ্য পরিকাঠামো (এমএসডিআই) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই। বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে তিনি এটিকে সময়োপযোগী ও উপকারী উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) পর্যবেক্ষণে ভূপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ব্যবস্থার সম্ভাবনাময় অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় এমএসডিআই প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও উপকারী হবে।’
গত জুনে ফ্রান্সের নিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনের (ইউএনওসি৩) পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সহযোগিতায় ‘ব্লু টক’ সিরিজের এই তৃতীয় আয়োজনটি করে ফরাসি দূতাবাস।
গত বছরের নভেম্বরে ‘সমুদ্র অর্থনীতি’ ও এ বছরের এপ্রিলে ‘স্যাটেলাইট তথ্য প্রয়োগ’ বিষয়ে দুটি আলোচনার পর তৃতীয় দফার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
বুধবার (২ জুলাই) ফরাসি দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশে এমএসডিআই উন্নয়ন বিষয়ক এই সেমিনারে নীতিনির্ধারক, গবেষক, জলসীমা জরিপ বিশেষজ্ঞ (হাইড্রোগ্রাফার) ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আরও জানানো হয়, এমএসডিআই প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্যাটেলাইট ও সামুদ্রিক তথ্যের মানসম্মতকরণ, একীভূতকরণ ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক খাতে ব্যবহার উপযোগী তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য সহজলভ্য হবে।
২৪৭ দিন আগে
আগামী বছরের শুরুর দিকেই নির্বাচন: রুবিওকে প্রধান উপদেষ্টা
আগামী বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও কামনা করেন তিনি।
সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় এসব বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী বছরের শুরুর দিকেই নির্বাচন হবে এবং সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রত্যাশিত সংস্কারে সহায়ক হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠনে নির্বাচন কমিশন নিরলস পরিশ্রম করছে, যা পূর্ববর্তী সরকার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিল। আমাদের তরুণরা এবার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাপক ইউনূস ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ফোনালাপ করেন। এ সময় তারা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা করেন, যা দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে তুলে ধরে বলে জানান তিনি।
আলোচনায় তারা পারস্পরিক আগ্রহের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, গণতন্ত্রে উত্তরণের রূপরেখা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা।
আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি এবং আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগকে সমর্থন জানান।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং রেমিট্যান্স আয়ের শীর্ষ উৎস। এ পরিপ্রেক্ষিতে উভয় নেতা শিগগিরই শুল্ক বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটাবে।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এ ছাড়াও, বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটি কার্যকর পদক্ষেপ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে আপনাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের উদার সহায়তার প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই মানবিক সহায়তায় সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ এ লক্ষ্যে কাজ করছে।
ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধান উপদেষ্টা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি’র জন্য তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিও নিশ্চিত করেন।
দুই নেতা ভূরাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন, যার মধ্যে ছিল শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সফরের জন্য রুবিওকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘এমন সফর আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’
২৪৮ দিন আগে
অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও রুবিও। এসময় উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে নিজেদের 'অংশগ্রহণযোগ্য প্রতিশ্রুতি' নিশ্চিত করেন।
ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধান উপদেষ্টা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে 'নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি’র জন্য তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিও নিশ্চিত করেন।
টেলিফোনে কথোপকথনের পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারা এই ফোনালাপ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাপক ইউনূস ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫ মিনিট ধরে ফোনালাপ করেন।
এসময় তারা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা করেন, যা দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে তুলে ধরেন বলে জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে যুক্তরাজ্যের শিল্প কৌশল: সারা কুক
২৪৯ দিন আগে