বৈদেশিক-সম্পর্ক
ভারতীয় গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, সেনাবাহিনীর কড়া জবাব
ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ টু ডিক্লেয়ার কক্সবাজার টু বান্দরবান এরিয়া এজ এ মিলিটারি ওপারেসনস জোন’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
রবিবার (১ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই ধরনের সংবাদ ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের পরিকল্পিত অপচেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করা।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে’ বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, যা একেবারে ভিত্তিহীন, অসত্য ও এক ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার। প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের কাল্পনিক সংবাদ একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।’এটি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও বিভেদ উসকে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও সংবিধান রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে সেনাবাহিনী কখনোই আপস করেনি, আর ভবিষ্যতেও করবে না।আএসপিআর জানায়, ‘এ ধরনের বানোয়াট প্রতিবেদনকে সাংবাদিকতা বলা যায় না। এটি একটি সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কুৎসা রচনার অংশ। বাংলাদেশ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকেছে। দেশের জনগণ ও ভূখণ্ড রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত ও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
২৭৮ দিন আগে
জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হতে পারে জাপান: প্রেস সেক্রেটারি
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সদ্যসমাপ্ত জাপান সফরকে অত্যন্ত সফল আখ্যা দিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ সফরের কারণে জাপান থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।
রবিবার (১ মে) বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাপান সফরটি অত্যন্ত সফল । এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় হয়েছে।’
ব্রিফিংয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘বড় বড় জাপানি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আসবেন।’
জাপানে দেশীয় জনশক্তি রপ্তানি সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, ‘এ সফরে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স এরমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশ জাপানে আরও জনশক্তি পাঠাতে পারবে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনশক্তি রপ্তানি গন্তব্য হবে।’
আরও পড়ুন: আগামীকাল ফের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের বৈঠক
গেল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও জাপান দুটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশের কর্মশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাপানে তাদের কর্মসংস্থান সহজ করার উদ্দেশ্যে এ দুটি সমঝোতা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে জাপানি কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই দিন প্রধান উপদেষ্টা ‘৩০তম নিক্কেই ফোরাম: ফিউচার অব এশিয়া’তে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক ইউনূস নিক্কেই ফোরামের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশকে আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে সমর্থনের আহ্বান জানান।
শুক্রবার সোকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ইউনূসকে সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়।
২৭৮ দিন আগে
চীনের সঙ্গে দুই সমঝোতা স্মারক সই বাংলাদেশের
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসময় দুটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে কৃষিখাতে ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তা কামনা করেছেন উপদেষ্টা বশিরউদ্দিন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করতে এই সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শনিবার(৩১ মে) বিকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে শেখ বশিরউদ্দীন বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সার, বীজ বপন, কীটনাশক ছিটানো ও ফসল নিরীক্ষণে বিপ্লব আনা সম্ভব। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
আরও পড়ুন: কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিতে সংরক্ষণে সহায়তা দেবে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা
চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চীন কৃষি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে স্মার্ট কৃষি ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আমরা সহযোগিতা করতে পারি।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা থাকলেও আধুনিক ফিশিং জাহাজ ও প্রযুক্তির অভাবে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। চীনের সহায়তায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ও প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ বাড়লে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
ফিশিং জাহাজ ও প্রযুক্তি সহায়তা কামনা করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘সামুদ্রিক মৎস্য খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য অত্যাধুনিক ফিশিং জাহাজ ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি প্রয়োজন। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।’
বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক সুবিধায় আছে। এখানে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে শ্রমিক পাওয়া যায়। এখানকার শ্রমিকরা দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হওয়ায় তারা দ্রুত ও ভালো কাজ করতে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আসুন এদেশে বিনিয়োগ করুন এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করুন।’
এসময় তিনি চামড়াজাত শিল্প, হালকা প্রকৌশল, এগ্রি মেশিনারিজ ও এগ্রো টেকনোলজি, ফুড প্রসেসিং ও ঔষধ শিল্পে চীনের বিনিয়োগের প্রত্যাশা করেন।
চীনা বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে মৎস্য ও সমুদ্রসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের মৎস্য খাত ও সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’
চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি ইতোমধ্যে পার হয়েছে। দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বিশেষ করে এদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার সুফল এদেশের জনগণ ভোগ করছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। আগামী দিনে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য-শিল্প প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক
বৈঠকে চীনের প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল অব আউটওয়ার্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল অব দ্য ডিপার্টমেন্ট অব এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, কৃষি সচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য প্রসারে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও ই-কমার্স বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও চীনের পক্ষে সে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও সই করেন।
এর আগে আজ দুপুরে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর একটি দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান।
২৭৯ দিন আগে
এশিয়ায় নেতৃত্ব দেবে জাপান, বাংলাদেশকে সহযোগিতা বাড়ানোর আশায় ড. ইউনূস
টোকিও সফরকালে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার আশা, জাপান এশিয়ায় নেতৃত্ব দেবে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য একটি নতুন সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।
টোকিওতে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার ক্ষেত্রে জাপান নেতৃত্ব দেখাবে এবং আমাদের দেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াবে— এটাই আমার প্রত্যাশা।
সাক্ষাৎকারে জাতীয় নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান বলেন, ‘সরকার পুরনো কাঠামো, নীতিমালা ও বিচারব্যবস্থায় ফিরতে চায় না। সেগুলো ছিল দমন-পীড়নের হাতিয়ার, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার উপায়।’
তার ভাষায়, ‘বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে সেগুলো পরিবর্তন করা হবে।’
আরও পড়ুন: দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আশা করা হচ্ছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
জাপানের কর্মী সংকট ও বাংলাদেশে উদ্যোগ
এদিকে, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিতে চায় জাপান। এ লক্ষ্যে দেশটির রেস্তোরাঁ গ্রুপ ওয়াতামি ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।
খবরে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে স্থানীয়দের কৃষিকাজ, গ্রাহকসেবা, কারখানায় কাজের দক্ষতা এবং খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশিকে ‘বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ভিসা’য় জাপানে পাঠানোর লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।
এ বছরের অক্টোবরে চালু হতে যাওয়া জাপানের প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি থাকবে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায়।
খাদ্য পরিষেবাসহ ১১টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৩ সালে এন্ট্রি ভিসার আওতা সম্প্রসারণ করে জাপান। এর ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি কর্মীরা এখন দোকান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার মতো কাজে অংশ নিতে পারছেন।
আরও পড়ুন: ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণে জাপান ও দেশটির উদ্যোক্তাদের পাশে চাইলেন অধ্যাপক ইউনূস
ওয়াতামির চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, ‘রেস্তোরাঁ ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির পথে মানবসম্পদ নিশ্চিত করা একটি বড় বাধা। সে ক্ষেত্রে নিজেদের কর্মী নিজেরাই গড়ে তুলতে পারাটা আমাদের জন্য একটি বড় শক্তি হবে।’
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াতামি এজেন্ট নামের মানবসম্পদ উন্নয়ন ইউনিটটি ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯০০ বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে ছিলেন কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষানবিস ও নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী। তাদের মধ্যে ৪০০ জনকে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করা হয়েছে।
২৭৯ দিন আগে
বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সংস্কার উদ্যোগে জাপানি কোম্পানিগুলোকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ে রয়েছি, যখন আপনাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। বাকি পথটা একসঙ্গে কাজ করে আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই পাড়ি দিতে চাই।’
শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপানের বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘গত ১৬ বছরে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো অনেকাংশে ভেঙে পড়েছিল। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থাও কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আমরা মূলত খারাপ অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছি।’
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১০ মাস ছিল এক ধ্বংসস্তূপ থেকে টুকরো টুকরো করে পুনর্গঠনের সময়। এ কাজে জাপান সরকার ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা অত্যন্ত সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সরকার নতুন বাংলাদে গড়তে চায়, কারণ পুরোনো বাংলাদেশে অনেক খারাপ জিনিস রয়েছে। সেই যাত্রায় আপনারা আমাদের বন্ধু ও অংশীদার হবেন।’
ড. ইউনূস বলেন, অতীতের সব ভয়াবহ ঘটনা পেছনে ফেলে জাতি গঠনের এটি একটি সুযোগ। আমরা আশা করি, সেগুলো অতীতেই রয়ে যাবে। আমরা সবাই সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি, এখন তা অতীত করে রাখতে চাই। আমরা একটি নতুন ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তুলতে চাই।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুনভাবে জীবন ফিরে পেয়েছে এবং তিনি এই বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছুটা ‘শ্বাস নেওয়ার সুযোগ’ চান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান ঘাটতিগুলো শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা যাবে।
জেট্রোর চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বাজেট সহায়তা দেবে জাপান
জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান ফুমিয়া কোকুবু বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করা ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানি আশা করছে, চলতি বছর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি(ইপিএ) সই হবে।
তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর আইনের সংস্কারের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি রক্ষা করতে পেরেছে, তা হলো— অর্থনীনৈতিক কোনো প্রকল্প বন্ধ হয়নি, কোনো ব্যবসাও থেমে যায়নি।
অনুষ্ঠানে সুমিতোমো করপোরেশনের সিইও শিনগো উএনো, ইউগ্লেনা কোম্পানির সিইও মিতসুরু ইজুমো, জেরা গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভেন উইন, জেবিআইসির সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজুনোরি ওগাওয়া, ওনোদা ইনকের প্রেসিডেন্ট শিগেওশি ওনোদা, জেট্রোর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুয়া নাকাজো এবং আইডিই-জেট্রোর ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা বক্তব্য দেন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এতে সমাপনী বক্তব্য দেন।
২৮০ দিন আগে
বাংলাদেশকে ১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বাজেট সহায়তা দেবে জাপান
বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেবে জাপান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে এ সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি সই হয়েছে।
এই ঋণ সহায়তার অর্থের ৬৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার দেশের রেলওয়ে খাতের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েল-গেজ ডাবল-লেন রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তন স্থিতিশীলতার জন্য ৪১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার ও মানব উন্নয়ন বৃত্তির জন্য অনুদান ৪২ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে।
আরও পড়ুন: ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণে জাপান ও দেশটির উদ্যোক্তাদের পাশে চাইলেন অধ্যাপক ইউনূস
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এসব চুক্তিতে সই করেন।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এসব চুক্তি সই ও নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
২৮০ দিন আগে
ফেনীর পশুরাম সীমান্তে শূন্যরেখায় বিএসএফের খাল খননের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
ফেনীর পরশুরামের বল্লামুখার বাঁধের পাশে শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) খাল খননের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, তাদের এ অপতৎপরতা স্থানীয়দের সহায়তায় থামিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত ১১টার দিকে মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে বল্লামুখার বেড়িবাঁধের উত্তরে নোম্যান্সল্যান্ডের ১৫০ মিটারের ভিতরে এ ঘটনা ঘটেছে।
পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ মিয়া (৬০) জানান, বৃহস্পতিবার রাতে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির মধ্যে স্কেভেটর ও যন্ত্রপাতি নিয়ে খাল খননের চেষ্টা করে বিএসএফ ও ভারতীয়রা। সীমান্তের পিলার থেকে ২০-৩০ গজ ভিতরে তারা খনন করার চেষ্টা করে। আমরা বিজিবির সঙ্গে উপস্থিত থেকে তাদের বাধা দিলে তারা চলে যায়।
স্থানীয় সংবাদকর্মী এম এ হাসান জানান, ভারত পূর্বের খননকৃত একটি খাল খননের কাজ পুনরায় শুরু করতে চাইলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর ভারতীয়রা সেখান থেকে সরে গেছে।
আরও পড়ুন: দুই জেলায় আরও ২৭ জনকে ঠেলে পাঠালো বিএসএফ
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, ভারত সীমান্তে টিলা কেটে পানি বাংলাদেশের ভেতরে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিজিবি ও স্থানীয় মানুষ এটি প্রতিরোধ করেছে। আমরা সতর্ক রয়েছি। এ ধরনের কাজ আমরা করতে দেব না।
বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অংশে বাঁধ দেওয়ার ফলে যে পানি জমে তা সরানোর জন্য ভারতের নিজেদের জমিতে একিটি মোটা ড্রেন করে। সেটি শুন্য লাইন থেকে ভারতের দিকে ১৫০ গজের মধ্যে পড়ায় সেটার আমরা প্রতিবাদ করি।
তিনি বলেন, নোম্যান্সল্যান্ডে স্থাপনা তৈরি উভয় দেশের আইনে নিষেধ রয়েছে। তাদের খাল খননের জায়গা নোম্যান্সল্যান্ডে হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। বিজিবি-বিএসএফ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৮০ দিন আগে
অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিল জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয়
মাইক্রোক্রেডিট, সামাজিক ব্যবসা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে জীবনভর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে জাপানের খ্যাতনামা সোকা ইউনিভার্সিটি।
শুক্রবার (৩০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসকে এই মর্যাদাপূর্ণ ডিগ্রি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে তিনি বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে একটি বিশেষ বক্তব্য দেন।
নিক্কেই ফোরাম: ৩০তম ফিউচার অব এশিয়া’য় অংশগ্রহণ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে অধ্যাপক ড. ইউনূস বুধবার (২৮ মে) বিকালে টোকিও পৌঁছান।
আরও পড়ুন: জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ সমঝোতা স্মারক সই
তিনি ২৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি সফরে জাপানে অবস্থান করবেন।
এ অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের শীর্ষ নেতাদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ‘নিক্কেই ফোরাম: থার্টিয়েথ ফিউচার অব এশিয়া’য় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বৈঠকও করেছেন অধ্যাপক ড. ইউনূস।চার দিনের সফর শেষে তিনি শনিবার (৩১ মে) রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২৮০ দিন আগে
‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণে জাপান ও দেশটির উদ্যোক্তাদের পাশে চাইলেন অধ্যাপক ইউনূস
বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণে জাপান সরকার ও দেশটির উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার ইন টোকিও’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। জেট্রো ও জাইকার আয়োজনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা বড় সমস্যায় আছি। বাস্তবিক অর্থেই বাংলাদেশ গত ১৬ বছর ধরে একটি ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে। সবকিছু ভেঙে পড়েছে... এখন আমরা সেগুলো গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করছি।’
বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে জাপানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘একজন ভালো বন্ধু কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায়; জাপান তেমনই এক বন্ধু। আমি এসেছি আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে এবং আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে।’
আরও পড়ুন: জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ সমঝোতা স্মারক সই
তরুণদের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণের অসংখ্য স্বপ্ন আছে। সেই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে তাদের সহযোগিতার দরকার।’
এই চ্যালেঞ্জকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাসকে দেখাতে চাই—হ্যাঁ, এটি সম্ভব হয়েছিল এবং তা হয়েছিল নিখুঁতভাবে।’
‘আমরা নিজেদের প্রস্তুত করেছি এবং বলছি— আমরা কাজে নামার জন্য তৈরি। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে এটি সম্ভব। চলুন একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং কাজটি শেষ করি। এটি অর্থ শুধু উপার্জন নয়, মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার বিষয়।’
অধ্যাপক ইউনূস জানান, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে তার সরকার, আর সে পথে জাপান বাংলাদেশের বন্ধু ও অংশীদার।
তিনি বলেন, ‘আরেকটি বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করুন, যাকে আমরা “নতুন বাংলাদেশ” নাম দিয়েছি। আমরা একসঙ্গে সেই বাংলাদেশ গড়ব। আপনারা পাশে থাকলে এটি অবশ্যই সম্ভব, আর তার ভিত্তি ইতোমধ্যে আমরা স্থাপন করেছি।’
মাতারবাড়ী উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি পিছিয়ে পড়া দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দেবে জাপান
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্যে, ‘নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের মানুষ মাতারবাড়ীর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। মাতারবাড়ী হবে বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্তির দরজা... আমরা এই দরজা সবার জন্য খোলা রাখব।’
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি তাকেউচি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশ এশিয়ার দেশগুলোকে সংযুক্তকারী কৌশলগত কেন্দ্র এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা এখন ৩০০ ছাড়িয়েছে, যা গত এক দশকে ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে জাপান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে চায়।
জাপান সরকার দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে বলে জানান তিনি। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন শিনজি। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মূলত টেক্সটাইলকেন্দ্রিক হলেও তা আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান ভাইস-মিনিস্টার।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকার ও সংস্কার প্রচেষ্টায় জাপানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
অনুষ্ঠান শেষে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহযোগিতাবিষয়ক ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেট্রো চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান এবং মারুবেনি করপোরেশনের নির্বাহী করপোরেট উপদেষ্টা ফুমিয়া কোকুবু।
২৮০ দিন আগে
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ সমঝোতা স্মারক সই
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরের তৃতীয় দিনে দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহযোগিতা বিষয়ে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩০ মে) টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন (জেবিআইসি) ও বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রথম সমঝোতা স্মারকটি সই হয়। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেবিআইসি ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপ-প্রেস সচিব।
বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বিএসইজেড) জমি ইজারা চুক্তির জন্য জাপানের ওনোডা ইনকরপোরেশনের সঙ্গে দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারকটি সই হয়। ওনোডা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) উদ্যোগে বাংলাদেশে গ্যাস মিটার স্থাপনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং বিএসইজেডের একটি কারখানায় গ্যাস মিটার অ্যাসেম্বলি, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ১০৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দেবে জাপান
তৃতীয় সমঝোতা স্মারকটিও বিএসইজেডের একটি জমি ইজারা চুক্তির জন্য বাংলাদেশ ন্যাক্সিস কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সই হয়। বিএসইজেডের কারখানায় পোশাক সামগ্রী উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে ন্যাক্সিস।
ব্যাটারিচালিত সাইকেল ও ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল তৈরির একটি কারখানা স্থাপনে সহযোগিতার বিষয়ে গ্লাগিট, মুসাশি সেইমিৎসু ইন্ডাস্ট্রি গ্লাফিট ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মধ্যে চতুর্থ সমঝোতা স্মারকটি সই হয়।
পঞ্চম সমঝোতা স্মারকের আওতায় সাইফার কোর কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে তথ্য নিরাপত্তার জন্য ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্ভাবক তাকাতোশি নাকামুরার কমপ্লিট সাইফার টেকনোলজির ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্প বাংলাদেশকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরে সহায়তা করবে।
ষষ্ঠ সমঝোতা স্মারকটি জাইকা ও বিআইডিএর মধ্যে সই করা হয়। এই সমঝোতা স্মারকটি ইন্টিগ্রেটেড সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের (আইএসডব্লিউপি) প্রাথমিক পর্যায়ের উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত ও ইন-কাইন্ড সহায়তা প্রদানের জন্য জাইকার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
এই প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার পরিচালিত ব্যক্তিগত ওয়ান-স্টপ পরিষেবাগুলোকে একীভূত করার জন্য বিডার নেতৃত্বে একটি প্রচেষ্টা।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকার ও সংস্কার প্রচেষ্টায় জাপানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস এই চুক্তিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ এগুলো বাস্তবায়ন করা। আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।’
বাংলাদেশের গত ১৬ বছরের পরিস্থিতিকে ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘অনবরত ভূমিকম্পের মুখে পড়ার কারণে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট একটি আকৃতি পেতে ব্যর্থ হয়েছে।’
‘এই পরিস্থিতিতে একজন ভালো বন্ধু এগিয়ে এসেছে… সেই বন্ধু হলো জাপান। আমি এখানে এসেছি আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে।’
এই চ্যালেঞ্জকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাসকে দেখাতে চাই—হ্যাঁ, এটি সম্ভব হয়েছিল এবং তা হয়েছিল নিখুঁতভাবে।’
‘আমরা নিজেদের প্রস্তুত করেছি এবং বলছি— আমরা কাজে নামার জন্য তৈরি। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে এটি সম্ভব। চলুন একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং কাজটি শেষ করি। এটি অর্থ শুধু উপার্জন নয়, মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার বিষয়।’
অধ্যাপক ইউনূস জানান, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে তার সরকার, আর সে পথে জাপান বাংলাদেশের বন্ধু ও অংশীদার।
তিনি বলেন, ‘আরেকটি বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করুন, যাকে আমরা “নতুন বাংলাদেশ” নাম দিয়েছি। আমরা একসঙ্গে সেই বাংলাদেশ গড়ব। আপনারা পাশে থাকলে এটি অবশ্যই সম্ভব, আর তার ভিত্তি ইতোমধ্যে আমরা স্থাপন করেছি।’
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি তাকেউচি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশ এশিয়ার দেশগুলোকে সংযুক্তকারী কৌশলগত কেন্দ্র এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা এখন ৩০০ ছাড়িয়েছে, যা গত এক দশকে ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে জাপান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে চায়।
আরও পড়ুন: মহেশখালী-মাতারবাড়ী উন্নয়ন জোরদারে জাইকার সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
সমঝোতা সই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেট্রো চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান এবং মারুবেনি করপোরেশনের নির্বাহী করপোরেট উপদেষ্টা ফুমিয়া কোকুবু।
২৮০ দিন আগে