বৈদেশিক-সম্পর্ক
এশিয়াকে অভিন্ন সমৃদ্ধির বাতিঘরে পরিণত করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের নতুন পথ নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি এশিয়াকে অভিন্ন সমৃদ্ধির বাতিঘরে পরিণত করার লক্ষ্যে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত ৩০তম নিক্কেই ফোরাম ‘ফিউচার অব এশিয়া’র উদ্বোধনী অধিবেশনের মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি ভবিষ্যতের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, এশীয় দেশগুলো আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। আমাদের একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধির সুস্পষ্ট পথ তৈরি করতে হবে।’
এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে সহযোগিতায় রূপান্তরিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এশিয়ার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈচিত্র্য একদিকে যেমন শক্তি, অন্যদিকে তেমনি তা একটি কঠিন পরীক্ষাও। আমাদের পরস্পরের ভাগ্য এখন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে গেছে। এক দেশে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিলে তা অন্য দেশেও প্রভাব ফেলে।’
‘এক দেশের পরিবেশ বিপর্যয় অন্য দেশের বৃষ্টিপাতের ওপর প্রভাব ফেলে; এক অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ প্রভাবিত হয়।
‘এই আন্তঃনির্ভরতাকে সংঘাতে নয়, সহযোগিতায় রূপ দিতে হবে; অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতায় যাওয়া যাবে না।’
৩৭১ দিন আগে
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা ইইউর
১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন উল্লেখ করে তাদের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এক বার্তায় ঢাকাস্থ ইইউ দূতাবাস এ কথা জানিয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, সংঘাতের অবসান ও প্রাণ রক্ষার এই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি জানাই আমরা। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ইইউ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের এই কর্মকাণ্ড আমাদের নিরাপদ রাখে এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
৩৭২ দিন আগে
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আসন্ন এই বৈঠক দুই দেশের বিভিন্ন খাতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওর ইমপেরিয়াল হোটেলে নিক্কেই ইনকরপোরেশেনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী সুয়োশি হাসেবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
নিক্কেই ফোরাম ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের প্রাক্কালে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। জাপান সফরের তৃতীয় ও শেষ দিনে শুক্রবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে; আমি এটির ওপর কাজ করতে চাই।’
অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি নিয়মিত জাপানে সফর করতেন, তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এই প্রক্রিয়ায় ছেদ পড়ে। পাশাপাশি নিক্কেই ফোরামের মাধ্যমে জাপানে অনেক বন্ধু তৈরির সুযোগ পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও আজ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান হাসেবে। প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও প্রধান উপদেষ্টা এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জাপানে একটি প্রবাদ আছে— আগুন থেকে বাদাম তোলার সাহস থাকতে হয়।’
সাক্ষাৎ শেষে নিক্কেই ফোরাম ‘ফিউচার অব এশিয়া’য় বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইউনূস।
আরও পড়ুন: টোকিও থেকে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তায় চায় ঢাকা
৩৭২ দিন আগে
চীনা বাজারে বাংলাদেশি আমের প্রবেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশি আম। এটি শুধু চীন-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধিই করবে না, ভারসাম্য উন্নত করবে বলে মন্তব্য করেন ঢাকায় নিযুক্ত বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বুধবার (২৮ মে) বাংলাদেশের তাজা আমের প্রথম চালানের বিমান পরিবহনের বিদায়ের অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এই পদক্ষেপ বাণিজ্যের ভারসাম্য উন্নতির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘উইন-উইন‘ অবস্থা সৃষ্টি করবে। যেখানে দুই পক্ষই জয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি বাংলাদেশি আম চীনা ভোক্তাদের টেবিলে ঠিকঠাকভাবে পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক উচ্চমানের বাংলাদেশি কৃষিপণ্য চীনা বাজারে প্রবেশ করবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মো. আনোয়ার হোসাইন।
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, গঙ্গার বদ্বীপ এলাকার উর্বর মাটিতে উৎপাদিত বাংলাদেশি আম সবুজ ও উচ্চমানের কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিত।
চীনা ভোক্তাদের সবজির ঝুড়িতে এটি বৈচিত্রপূর্ণ বিকল্প সরবরাহ করবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চীনা বাজারের বিশাল সম্ভাবনা বাংলাদেশের আম শিল্পে সরাসরি উন্নয়ন আনবে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি এ উদ্যোগ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলেও মত দেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বহুবার উল্লেখ করেছেন, চীনের উন্মুক্ত হওয়ার দরজা কখনো বন্ধ হবে না, বরং ক্রমশ আরও বিস্তৃত হবে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও জানান, ‘চীনে বাংলাদেশি আমের রপ্তানি কেবল একটি সূচনা মাত্র। ইতোমধ্যে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পেয়ারা ও কাঁঠালের প্রবেশ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে বেইজিং।’
বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পশম আমদানি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ থেকে চীনে ইলিশ মাছ রপ্তানির প্রত্যাশাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আশা করছি শিগগিরই আরও বেশি সংখ্যক উচ্চমানের বাংলাদেশি কৃষিপণ্য চীনের সুপারমার্কেটে জায়গা করে নেবে, যা দুই দেশের মানুষের জন্য বাস্তবিক সুবিধা বয়ে আনবে।’
ইয়াও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিরাজ করছে অস্থিরতা ও অনিশ্চিয়তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে শুরু করা বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে।
চীন ও বাংলাদেশসহ সব দেশ শান্তিপূর্ণ বিশ্ব ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিবেশ কামনা করে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমর্থন, সমতা ও উইন-উইন সহযোগিতা বজায় রাখতে চায় বেইজিং।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক কাঠামোতে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করব এবং দুই দেশের শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সমন্বিত উন্নয়ন ঘটাবো।’
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বেইজিং সফরের কথা উল্লেখ করে ইয়াও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সফলভাবে সফর সম্পন্ন করেছেন এর ফলাফল প্রত্যাশার বাইরে। বাংলাদেশের আম চীনে রপ্তানি হওয়া এ ফলাফল বাস্তবায়নের একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
৩৭২ দিন আগে
জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সফরকালে তিনি টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ৩০তম ‘নিক্কেই ফোরাম ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ইউএনবিকে জানান, মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর আড়াইটায় তিনি জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এবং সফর শেষে আগামী শনিবার (৩১ মে) তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।
এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সফরে বাংলাদেশ ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা এবং রেল খাতে আরও ২৫ কোটি টাকার সহায়তা পাওয়ার আশা করছে।
আরও পড়ুন: এমআইডিআই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ানোর তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার
জাপানের সঙ্গে এক বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের ‘সফট লোন’ চুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঋণ ঘোষণা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রেস সচিব।
তিনি আরও জানান, জাপানে ১ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে একটি সেমিনারে অংশ নেবেন অধ্যাপক ইউনূস। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ঘনিষ্ঠ করতে জেট্রো ও জাইকার যৌথ আয়োজনে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই দেশের শতাধিক ব্যবসায়ী অংশ নেবেন।
সফরকালে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এটি অধ্যাপক ইউনূসের প্রথম জাপান সফর। এর আগে তিনি ২০০৪ ও ২০০৭ সালে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনূসের এ সফরে রোহিঙ্গা সংকট, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও মানবসম্পদসহ কৌশলগত নানা বিষয়েও আলোচনা হবে।
৩৭৩ দিন আগে
টোকিও থেকে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তায় চায় ঢাকা: শফিকুল আলম
বাংলাদেশ জাপান থেকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা এবং অতিরিক্ত ২৫ কোটি ডলার রেল খাতে সহায়তা প্রত্যাশা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে অন্যান্য খাতেও জাপানের সহায়তা পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস বুধবার (২৮ মে) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ৩০তম নিক্কেই ফোরাম ‘ফিউচার অব এশিয়া’-তে অংশগ্রহণ করবেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
‘এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর,’ বলেন প্রেসসচিব। ‘বাংলাদেশ জাপান থেকে ১ বিলিয়ন ডলার সফট লোন হিসেবে চেয়েছে এবং দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নোট বিনিময় স্বাক্ষরিত হবে।’
মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আহম্মাদ ফয়েজ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাপানে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য ১ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানো।’
‘প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ, বিশেষ করে ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করে তাদের দ্রুত পাঠাতে চায় সরকার। এটি প্রধান উপদেষ্টার অগ্রাধিকারভুক্ত বিষয় এবং বাংলাদেশ এ খাতটি নিয়ে কাজ করছে।’
শফিকুল আলম বলেন, এছাড়াও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে—একটি জেট্রো ও জাইকা আয়োজিত বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যেখানে দুই দেশের শতাধিক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করবেন। অন্যটি হবে দক্ষ শ্রমিক বিষয়ে, যা বাংলাদেশ পক্ষ আয়োজিত এবং এতে জাপানি সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণ থাকবে।
উভয় সেমিনারে কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা এরইমধ্যে মাতারবাড়ি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। উপকূলীয় এই এলাকাকে দেশের প্রধান শিল্প ও রপ্তানিমুখী ফ্রি ট্রেড জোনে পরিণত করার লক্ষ্যে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর স্টেট গেস্ট হাউস যমুনায় এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অধ্যাপক ইউনুস মহেশখালী-মাতারবাড়ি ইন্টিগ্রেটেড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআইডিআই) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এই এমআইডিআই অঞ্চল উন্নয়ন তার আসন্ন জাপান সফরের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আগামী ৩০ মে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং মূল প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
“আমরা মাতারবাড়িকে দেশের বৃহত্তম বন্দর, লজিস্টিকস, শিল্প ও জ্বালানি হাবে পরিণত করতে চাই। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে বলেন, এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান অপরিহার্য।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এটি হবে অধ্যাপক ইউনুসের প্রথম জাপান সফর। এর আগেও তিনি একাধিকবার জাপান সফর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে নিক্কেই এশিয়া প্রাইজ পুরস্কার গ্রহণ এবং ২০০৭ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অপিনিয়ন লিডার ইনভাইটেশন প্রোগ্রাম’-এ অংশগ্রহণ।
তিনি টোকিও সময় বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এবং শনিবার দেশে ফিরবেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী জানান, ৩০ মে টোকিওতে প্রধান উপদেষ্টা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
‘এই বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে—বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন,’ বলেন তিনি। রোহিঙ্গা ইস্যুটিও আলোচনায় থাকবে বলে জানান রুহুল আলম সিদ্দিকী।
প্রধান উপদেষ্টাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এই সফরের মূল ফোকাস হচ্ছে বাজেট সহায়তা।’ পাশাপাশি কৌশলগত সব বিষয় আলোচনা হবে। সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।
২৮ মে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়োহেই সাসাকাওর আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন, যেখানে জাপানি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থাকবেন। নৈশভোজের পর প্রধান উপদেষ্টা জাপানি বিশিষ্টজনদের সঙ্গে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সভায় অংশ নেবেন।
২৯ মে নিক্কেই ফোরামের উদ্বোধনের আগে নিক্কেই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে অধ্যাপক ইউনুস ‘এক অস্থির বিশ্বে এশিয়ার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বিষয়ের ওপর মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং বিশ্বকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাবেন।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে জাইকার ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস-মিনিস্টার ইকুইনা আকিকো অধ্যাপক ইউনুসকে এই নিক্কেই ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তিনি ২০০৪ সালে নিক্কেই এশিয়া প্রাইজ পান।
সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, খাতভিত্তিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, রোহিঙ্গা ইস্যু, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো আলোচিত হবে।
‘জাপান-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩৭৩ দিন আগে
কমলগঞ্জ সীমান্তে ২১ জনকে ঠেলে পাঠালো বিএসএফ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ২১ জনক আটক করেছে বিজিবি। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের ঠেলে পাঠানো (পুশ-ইন) করেছে। আটকরা বাংলাদেশি নাগরিক বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (২৬ মে) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মতেরবল সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৮ শিশু রয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, এদিন সকালে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় ২১ জনক আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সবাই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বিজিবি-৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এ এস এম জাকারিয়া ২১ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকদের কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
আটরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানার দেওয়াবের খামার গ্রামের বেলাল হোসেন (৪৫), রাশেদা বেগম (৩৫), ফুলবাড়ি উপজেলার শিমুল বাড়ি গ্রামের মজিবুল (২২), সেলিনা (২০), মৌপিতা (৩), মরিয়ম (৮ মাস),গোলদার (৫০), আনজু (৪০), রাশেদুল (২০), জেসমিন (৮), রাঙ্গামাটি গ্রামের আশরাফ (৪০), রাহেনা (৩০), রায়হান (৮), আশা মনি (১৮), আখের আলী (২৩), তৈয়ব আলী (৪৫), ইব্রাহিম (২ মাস), খাদিতা (২), নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম শুকাতি গ্রামের নাজমুল হাসান (২৪), ইনচার আলী (৫০), হামিদা বেগম (২০) ও রাবেয়া খাতুন (২)।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকদের এখনও থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে চলতি মাসের ৭ মে কমলগঞ্জের দলই সীমান্তে নারী, শিশুসহ ১৫ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এ নিয়ে চলতি মাসে কমলগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ঠেলে পাঠানো মোট ৩৬ জনকে আটক করল বিজিবি।
৩৭৪ দিন আগে
বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলোহাব সাইদানি বৈঠক করেছেন। সোমবার (২৬ মে ) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও টেকসই করতে উভয়দেশকে বাণিজ্যিক সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এসময় তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বে পাট ও বাংলাদেশ সমার্থক হিসেবে পরিগণিত হয়। এসময় তিনি বাংলাদেশ থেকে পাটজাত ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য আমদানি করতে আলজেরিয়ার প্রতি আহবান জানান।
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ইন্টার গভর্নমেন্ট জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (আন্ত:সরকার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন)গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিতে সংরক্ষণে সহায়তা দেবে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা
তিনি বলেন,আলজেরিয়ায় পাট পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। সেকারণে বাংলাদেশ থেকে পাটের তৈরি পণ্য আমদানি করতে তারা আগ্রহী।এসময় তিনি আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এক্সপোতে বাংলাদেশি পাট ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আফ্রিকা উইং) বি এম জামাল হোসেন ও অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৩৭৪ দিন আগে
প্রবাসীদের হাত ধরে দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে ‘ব্রিজ টু বাংলাদেশ’: হাইকমিশনার
বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক বাংলাদেশি প্রবাসীদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ‘ব্রিজ টু বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত দেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম।
শনিবার (২৪ মে) লন্ডনে অক্সফাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগ চালু করা হয়। আবিদা ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রবাসীরা শুধু টাকা পাঠান না, তারা কমিউনিটি গড়েছেন, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছেন, আর সব সংকটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
প্রবাসীদের এই অবদানকে ব্রিজ টু বাংলাদেশ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রচনায় অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো বলে মত দেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কমিউনিটি হিসেবে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা এবং বাংলাদেশ উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী ও অক্সফাম একসঙ্গে কাজ করছে।
যুক্তরাজ্যে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ বাংলাদেশির বসবাস। রাজনীতি, ব্যবসা, একাডেমিয়া— সবক্ষেত্রে তাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি রয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটস, বার্মিংহাম, লুটন প্রভৃতি এলাকায় তারা নীতি-নির্ধারক, রাজনীতিক, উদ্যোক্তা, একাডেমিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্যকর্মী ও জননেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত।
আরও পড়ুন: ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে থাইল্যান্ডের গ্র্যান্ড মুফতির সাক্ষাৎ
যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে বছরে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্রিজ টু বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য প্রবাসীদের সম্পদ, দক্ষতা, বিনিয়োগ ও সমর্থন বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু সহনশীলতা, লিঙ্গ সমতা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি।
প্রবাসী সম্পর্ককে আবেগ ও রেমিট্যান্সের বাইরে নিয়ে যাওয়া উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, প্রবাসী নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, একাডেমিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের সমাজ-পরিবর্তকরা একত্রিত হন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রবাসী সম্পৃক্ততা এখন নতুনভাবে বিকশিত হওয়া উচিত।
অক্সফাম ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কাছে বৈশ্বিক নাগরিকদের ক্ষমতা কাজে লাগানোর কোনো শক্তিশালী কাঠামো নেই। ব্রিজ টু বাংলাদেশ সেই শূন্যতা পূরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস পোলা উদ্দিন এই উদ্যোগকে ‘সমষ্টিগত স্বপ্নের একটি সময়োপযোগী কাঠামো’ বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা বাংলাদেশের সম্প্রসারণ নয়, বাংলাদেশেরই অংশ।’
স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের (এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন) অধ্যাপক নওমি হোসেন বলেন, ‘মর্যাদা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে।’
অক্সফাম জিবির প্রধান নির্বাহী হালিমা বেগম বলেন, ‘পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে অক্সফাম বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশ সবসময় যাদের হৃদয়ে জায়গা পেয়েছে।’
এ সময় প্রজন্মগত সেতুবন্ধন গড়তে এ উদ্যোগে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদেরও আহ্বান জানানো হয়। জ্ঞান বিনিময়, বিনিয়োগ, যুবসম্পৃক্ততা, কূটনীতি ও বৈশ্বিক সমর্থনের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি একটি বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশে যুক্ত হওয়ার স্পষ্ট ও বাস্তব পথ তৈরি করবে বলে উদ্যোগ সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দমলে বলেন, ‘এটি শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়—এটি দেশগড়ার প্রয়াস। প্রবাসীরা কেবল অর্থ নয়, নতুন ধারণা, নেটওয়ার্ক ও প্রভাবও দিতে পারে। আমরা সেই সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে টেকসই প্রভাব তৈরি করতে চাই।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অক্সফাম জিবির প্যাট্রন আজিজ-উর-রহমান। উপস্থাপনায় ছিলেন সংস্থাটির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের হেড অব ইনফ্লুয়েন্সিং মো. শরিফুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছেন ৮২ রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর
এতে অংশগ্রহণকারীরা ব্রিজ টু বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। এই উদ্যোগের ওয়েবসাইট ইতোমধ্যেই চালু হয়েছে। অক্সফাম ও তাদের অংশীদাররা ব্যবসায়ী থেকে শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সব বাংলাদেশিকে এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
৩৭৫ দিন আগে
ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে থাইল্যান্ডের গ্র্যান্ড মুফতির সাক্ষাৎ
থাইল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা ও দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আরুন বুনচমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
শুক্রবার (২৩ মে) বিকালে থাইল্যান্ডে গ্র্যান্ড মুফতির দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তারা ধর্ম, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধের বিকাশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা গ্র্যান্ড মুফতিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি শিগগিরই এদেশ সফরে সম্মতি জানান। এ সময় থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজি ও শ্রম কাউন্সিলর ফাহাদ পারভেজ বসুনিয়া উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শায়খ আরুন বুনচম থাইল্যান্ডে সকল ইসলামিক বিষয় তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং দেশের অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) রমজান প্রচারণা এবং তুরস্কে অধ্যয়নরত থাই মুসলিম শিক্ষার্থীদের সহায়তার মতো উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সহিংসতা ও দারিদ্র্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শরণার্থী ও অন্যান্য বাস্তুচ্যূত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা করাই এই প্রচারণার লক্ষ্য।
মদিনা ইসলামি বিশ্নবিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিপ্রাপ্ত এ মনীষী ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ১৯তম শাইখুল ইসলাম হিসেবে নিয়োগ পান।
৩৭৬ দিন আগে