বৈদেশিক-সম্পর্ক
কাশ্মীরে হামলার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার নিন্দা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার (২৩ এপ্রিল) কাশ্মীরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।’
মঙ্গলবার ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহেলগামে একটি রিসোর্টে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ২৬ জন পর্যটককে নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাটি অঞ্চলটির সংঘাত-প্রবণ ইতিহাসে এক নতুন মোড়ের আভাস দিয়েছে, যেখানে এতদিন পর্যটকরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিলেন।
আরও পড়ুন: শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ইউএনবিকে বলেন, ‘কাশ্মীরের পাহেলগামে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।’
বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা কাতারের রাজধানী দোহায় আর্থনা সামিটে অংশ নিচ্ছেন।
৩১৭ দিন আগে
শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্থবহ ও টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত: ড. ইউনূস
বৈশ্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের অবশ্যই একত্রিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংকট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে— যার কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উল্লেখযোগ্য ক্ষতি রয়েছে। সংহতির নিদর্শন হিসেবে সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। বৈশ্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের অবশ্যই একত্রিত হতে হবে।’
আরও পড়ুন: টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ড. ইউনূস
তিনি বলেন, ‘আজকের সংকটপ্রবণ বিশ্বে যুদ্ধ ও সংঘাত অধিকার খর্ব করে এবং অর্থনীতিকে ব্যাহত করে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেকোনো অর্থবহ ও টেকসই উন্নয়নের মৌলিক পূর্বশর্ত। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা পর্যন্ত যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে, তা বিশ্বের উপেক্ষা করা উচিত নয়।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচারহীনতা এবং মানবাধিকারের প্রতি নির্লজ্জ অবজ্ঞা বিশ্বের যেকোনো দেশের উন্নয়নের জন্য হুমকি। ফিলিস্তিনে চলমান দুর্দশা কেবল একটি অঞ্চলকে নয়, পুরো মানবতাকে উদ্বিগ্ন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আমরা সবার জন্য একটি স্থিতিস্থাপক, সমৃদ্ধ ও টেকসই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, তবে বিভিন্ন হুমকি রয়েছে, যা আমাদের ভবিষ্যতের উন্নয়নকে লাইনচ্যুত করতে পারে। আমরা গভীর অনিশ্চয়তার সময়ে বাস করছি, যেখানে বহুপাক্ষিকতা মারাত্মক হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে। উদীয়মান নিয়ম, প্রযুক্তি ও শাসন মডেলগুলো বিশ্বকে দ্রুত নতুন আকার দিচ্ছে; অতীতের অনেক অনুমানকে অপ্রচলিত করে তুলছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার নবায়নযোগ্যতার তাগিদ কখনও এতটা ছিল না।’
দোহায় আজ (মঙ্গলবার) শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী দ্বিতীয় আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা: স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান’।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায় জামায়াত
এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পন্থাগুলো আধুনিক টেকসই উন্নয়নে কীভাবে অবদান রাখতে পারে, তা অনুসন্ধান করা হয়, যা একটি আরও সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করবে।
৩১৮ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে ৭২৫ সেনা নেবে কাতার: শফিকুল আলম
বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৭২৫ সেনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশ কাতার। এমন এক সময় দেশটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, যখন তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক বৈচিত্র্যকরণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।
কাতারের দোহায় ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের’ ফাঁকে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সঙ্গে আলাপে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আগামী দুমাসের মধ্যে কাতারে এই সেনা পাঠাতে পারবে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।’
আরও পড়ুন: স্টারলিংক এলে আর কেউ ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারবে না: শফিকুল আলম
আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বর্তমানে দোহা সফরে রয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়াতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। এমনকি যাদের গ্যাস দরকার পড়বে, এমন বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাও বাড়াতে চাচ্ছে বাংলাদশে।’
কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি আছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।’
আরও পড়ুন: সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে কাজ করছে সরকার: শফিকুল আলম
কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি জায়ান্ট কাতার এনার্জি এলএনজির পাওনা তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শোধ করা হবে বলেও জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আসছে দিনগুলোতে উপসগারীয় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এবারের আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা: স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান।’ চার দিনের এ সফর চলাকালে অধ্যাপক ইউনূস কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
৩১৮ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় ক্রেন দুর্ঘটনায় শার্শার আসাদুলের মৃত্যু
মালয়েশিয়ার সুবাং জয়া শহরে ক্রেন দুর্ঘটনায় আসাদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার সময় সকাল সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টা) একটি নির্মাধীন ভবনে।
আসাদুলের মৃত্যুর বিষয়টি মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে নিশ্চিত করেন তার বাবা হাতেম আলী সর্দার।
নিহত আসাদুল (৪০) যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের কৃষক হাতেম আলী সর্দারের ছেলে।
হাতেম আলী জানান, ৮ বছর আগে ভাগ্য ফেরানোর আশায় আসাদুল মালয়েশিয়ায় যান এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন ক্রেনের হলার পরিবর্তনের সময় খিল খুলে একটি লোহার অংশ তার মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তিনি বলেন, ‘ছেলের মৃত্যুতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
তিনি ছেলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
ছেলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মৃত প্রবাসীর পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। বরাদ্দ পেলে আসাদুলের পরিবারকে যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে।
৩১৮ দিন আগে
সৌদিতে সড়ক দুঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোরে সৌদি আরবের আবহা শহরের মাহাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রবাসী মো. মিজানুর রহমান (৪৮) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদশা গ্রামের মৃত এরশাদ মিজির বড় ছেলে।
মিজানের এক মেয় ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই মানিক হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি ইউএনবি কে নিশ্চিত করেন। মানিক সৌদি আরবে নিহত মিজানের কাছেই থাকেন।
তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে আমার জেঠাতো ভাই মিজান মালামাল লোড করে গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ একটি দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মানিক আরও বলেন, খবর পেয়ে ভোরে আমরা হাসপাতালে এসে দেখি ভাই আর বেঁচে নাই। এখন লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, মিজান গত ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে ছিলেন। তিনি নিজস্ব একটি পণ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আড়ত থেকে সবজি সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে সরবরাহ করতেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
মিজানের আরেক চাচাতো ভাই পারভেজ জানান, মিজান পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৩ সালের শেষ দিকে দেশে ছুটিতে এসেছিলেন।
মিজানের মেয়ে জেরিন (২৩) বিবাহিত এবং ছেলে সামির (১৭) এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। লাশ দেশে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
৩১৮ দিন আগে
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ থেকে আরও নারী শান্তিরক্ষী নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (২০ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়ের ল্যাক্রোয়া সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় ড. ইউনূস বলেন, ‘শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বেশি বাংলাদেশি নারী অংশগ্রহণ করুক—বিষয়টিকে আমি উৎসাহিত করি।’
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হলেন সুফিউর
বাংলাদেশ অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েনে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। জাতিসংঘের পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমের (পিসিআরএস) র্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট লেভেলে ৫টি ইউনিট প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে শান্তিরক্ষী নেতৃত্বে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ বিষয়ে জাতিসংঘও বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে বলে জানান ল্যাক্রোয়া।
বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ ৩টি সেনা/পুলিশ প্রেরণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ১১টি সক্রিয় শান্তিরক্ষা মিশনের মধ্যে ১০টিতে বাংলাদেশের মোট ৫ হাজার ৬৭৭ জন শান্তিরক্ষী কর্মরত।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল শান্তিরক্ষায় আরো বেশি নারীর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর নীতিতে অটল রয়েছে বলেন উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। শান্তিরক্ষার সব স্তরে নারীদের নিয়োগে জাতিসংঘ সহায়তা করবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী যাচাইকরণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ কঠোরভাবে অনুসরণ করে এবং মানবাধিকার নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতা জোরদারে জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
বৈঠকে জানানো হয়, জার্মানির বার্লিনে ১৩-১৪ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মিয়ানমারে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তে গুলিবিনিময়, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও নাফ নদীর আশপাশে জীবন-জীবিকার বিঘ্ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার তাগিদ
তিনি বলেন, চলমান অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন রোহিঙ্গাদের মধ্যে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আশার সঞ্চার করেছে।
৩২০ দিন আগে
এক প্রতিবেশীকে খুশি রাখতে অন্যের সঙ্গে দূরত্ব পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না: উপ-প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, ঐতিহাসিক অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানের সবচেয়ে ভালো বিকল্প অবশ্যই আলোচনা, আর ঠিক সেটিই করার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ব্যাখ্যায় শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
আবুল কালাম আজাদ লিখেছেন, ‘প্রাক্তন শত্রুদের মিত্রে পরিণত হওয়ার বহু দৃষ্টান্ত আছে। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড শত শত বছর ধরে অসংখ্য যুদ্ধ করলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তারা একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়েছে। একই যুদ্ধে আমেরিকা জাপানে বোমা মেরেছিল; কিন্তু পরে দেশটিকে মিত্রে পরিণত করে।’
‘সেদিন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, বাংলাদেশ কি তার পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করে পাকিস্তানপন্থী হচ্ছে? এতে আমরা মোটেও অবাক হইনি। সবসময়ই কিছু মানুষ থাকবে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীন পরিচয়ে বিশ্বাস করতে চাইবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অতীতে যা-ই হয়ে থাকুক না কেন, এখন থেকে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাংলাদেশকেন্দ্রিক, যা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই পরিচালিত হবে। এক প্রতিবেশীকে খুশি রাখতে গিয়ে আরেক প্রতিবেশী থেকে দূরত্ব বজায় রাখা—এটা কোনো স্বাধীন দেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না।’
উপ-প্রেস সচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় লেগেছে পাকিস্তানের সফররত পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচকে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিতে এবং একই সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হতে।’
তার মতে, ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আবেগঘন সমস্যা হলো, বাংলাদেশ চায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও নৃশংসতার জন্য পাকিস্তান ক্ষমা প্রার্থনা করুক।’
‘এমনকি পাকিস্তানের সুশীল সমাজ, মিডিয়া এবং বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এই ক্ষমা চাওয়াটা হবে সদিচ্ছা ও সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সামরিক আমলাতন্ত্র সব সময়ই এ ধরনের ধারণার বিরোধিতা করেছিল এবং তাই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান।’
বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পদ বিভাজনের বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘যা অতীতের সরকারগুলোর কাছে একপ্রকার ভুলে যাওয়া বিষয় ছিল, কারণ তারা আলোচনা নয়, বিচ্ছিন্নতাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছিল।’
বিষয়টির ব্যাখ্যা করেছেন তিনি এভাবে, ‘১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কমপক্ষে ৪.৩২ বিলিয়ন ডলারের দাবি করতে পারে। অভ্যন্তরীণ মূলধন সৃষ্টি, বৈদেশিক ঋণ নিষ্পত্তি ও বৈদেশিক আর্থিক সম্পদের মালিকানা ধরে রাখার ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।’
‘বাংলাদেশের প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের আরও একটি দাবি আছে, ১৯৭০ সালের নভেম্বরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড়-দুর্গতদের জন্য বিভিন্ন বিদেশি দেশ ও সংস্থা অনুদান হিসেবে এই অর্থ দিয়েছিল। এই টাকা তখন ঢাকায় পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের দপ্তরে জমা ছিল, যা ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্থানান্তর করে পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের লাহোর শাখায় পাঠানো হয়।
তার মতে, ‘দুই দেশের সম্পর্কের প্রতিবন্ধকতার আরেকটি বড় বিষয় হলো, (বাংলাদেশে) আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন। অতীতে পাকিস্তান মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার নাগরিককে ফেরত নিয়েছে। অথচ এখনও প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাংলাদেশের ১৪টি জেলার ৭৯টি ক্যাম্পে বসবাস করছে।’
এই বিষয়গুলোই দুই দেশের মধ্যে একটি সুস্থ ও ভবিষ্যৎমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে দীর্ঘদিন ধরে বাধা হিসেবে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে তিনি জানিয়েছেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় নিঃসন্দেহে আলোচনা—আর অন্তর্বর্তী সরকার ঠিক এটিই করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বছর পর পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে আনা হয়েছে এবং আলোচনার সময় যথাযথভাবে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধার জন্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’
উপ-প্রেস সচিব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছরের শুরুতে মিসরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আমনা বালুচের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি আবারও সেই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।’
‘তবে একই বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে।’
‘সম্ভবত এখনই সময়, ভবিষ্যতের স্বার্থে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অতীতের বিষয়গুলো নিরসন করে একসঙ্গে কাজ করার,’ বলেন তিনি।
৩২২ দিন আগে
পশ্চিমবঙ্গের সহিংসতা নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য অযৌক্তিক: ভারত
ওয়াকফ আইন ঘিরে সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশের দেওয়া বক্তব্য ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ভারতের বক্তব্য, অনভিপ্রেত মন্তব্য না দিয়ে বাংলাদেশ বরং নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগ দিক।
গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তিনি এই বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন।
জয়সোয়াল বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে মন্তব্য করা হয়েছে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নিপীড়ন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে তুলনা টানার বিষয়টি প্রায় প্রকাশ্য ও কপট অপচেষ্টা। সংখ্যালঘু নির্যাতনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনো সেখানে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘অযৌক্তিক মন্তব্য এবং ভালোর বেশ না ধরে নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগ দিলে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার) মুর্শিদাবাদের ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়ানোর চেষ্টার প্রতিবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বাংলাদেশকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টাকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বাংলাদেশ সরকার মুসলিমদের ওপর হামলা এবং তাঁদের জানমালের নিরাপত্তাহানির ঘটনার নিন্দা জানায়।’
আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদের সহিংসতা: বাংলাদেশের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ঢাকার
৩২২ দিন আগে
বাধা দূর করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘কিছু বাধা রয়েছে। সেগুলো অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
১৫ বছর পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আমনা বালুচের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরে রয়েছে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল।
অতীতের কথা উল্লেখ করে আমনা বালুচ বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে বিশাল আঞ্চলিক বাজার রয়েছে। আমাদের এটি কাজে লাগানো উচিত। আমরা প্রতিবারই সুযোগ হারাতে পারি না।’
দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) যোগাযোগ এবং সব পর্যায়ে সফর বিনিময় হওয়ার প্রয়োজনের কথাও এ সময় তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলেছে ঢাকা: পররাষ্ট্রসচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যবসায়ী চেম্বার এফপিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। সে সময় এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করে তারা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করেন, এপ্রিলের শেষের দিকে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের আসন্ন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি বরাবরই পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে ছিলেন, বিশেষ করে সার্ক কাঠামোর আওতায়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও বেশি যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আদান-প্রদান করা উচিত, যাতে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হয়।’
‘আমরা অনেকদিন ধরে একে অপরকে মিস করেছি, কারণ আমাদের সম্পর্ক হিমায়িত ছিল। আমাদের সেই বাধা অতিক্রম করতে হবে।’
অধ্যাপক ইউনূস জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে কায়রোতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে তার বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সার্ক, ওআইসি এবং ডি-৮-এর মতো বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ফোরামে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৩২৩ দিন আগে
একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলেছে ঢাকা: পররাষ্ট্রসচিব
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর গণহত্যার জন্য দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ঝুলে থাকা আর্থিক পাওনাসহ ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো পাকিস্তানের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান ঐতিহাসিকভাবে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আমি উত্থাপন করেছি। এর মধ্যে রয়েছে—আটকেপড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা প্রদান, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঠানো বিদেশি সাহায্যের অর্থ হস্তান্তর এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সশস্ত্রবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান ঐতিহাসিকভাবে অমীমাংসিত বিষয়সমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি মজবুত, কল্যাণমুখী ও অগ্রসরগামী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করি। এই লক্ষ্যে আমরা একযোগে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করি।’
এসব ইস্যুতে পাকিস্তান কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে—জানতে চাইলে মো. জসীম উদ্দিন বলেন, এসব বিষয়ে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে চান বলে আশ্বস্ত করেছেন।
‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বিষয়গুলো তুলে ধরা। তারাও এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন,’ বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: বিটিভি-পিটিভির মধ্যে সমঝোতায় আগ্রহ পাকিস্তানি হাইকমিশনারের
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আগামী ২৭-২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করবেন বলেন জানান তিনি। এমনকি শিগগিরই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৩২৩ দিন আগে