বৈদেশিক-সম্পর্ক
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই বলেছেন: হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য (সেভেন সিস্টার্স) নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা যদি অন্যরকম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তা ঠেকাতে পারছি না।’
বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান ড. ইউনূস। সে সময় বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের গুরুত্ব উল্লেখ করে বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সমুদ্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘নেপাল ও ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ, যাদের কোনো সমুদ্র নেই। ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বঞ্চলীয় রাজ্যও স্থলবেষ্টিত। সমূদ্রের সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ নেই।’
‘এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রে আমরাই একমাত্র অভিভাবক। সুতরাং, এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। সুতরাং, চীনা অর্থনীতির সম্প্রসারণে এটি দারুণ সম্ভাবনাময় হতে পারে।’
আরও পড়ুন: চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা
চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করুন, বাজারজাত করুন, চীনেও নিয়ে আসুন এবং তা সারা বিশ্বের কাছে নিয়ে যান।’
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, ‘নেপাল ও ভুটানের সীমাহীন জলবিদ্যুৎ রয়েছে, যা এ অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কারখানা স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আমরা এটিকে আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারি।’
‘বাংলাদেশ থেকে আপনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। সমুদ্র আমাদের আঙিনায়। সুতরাং, এই সুযোগটি আপনি নিতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টার এ মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ভারত। এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পবন খেরা এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারতকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ চীনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এই আচরণ (ভারতের) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক।’
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এই মন্তব্য খুবই আপত্তিকর এবং নিন্দনীয়। এটি ভারতের কৌশলগত ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের দুর্বলতা নিয়ে প্রচলিত বর্ণনাকে পুনরায় উসকে দিচ্ছে।”
ভারতের এমন প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে এই প্রথমবার কথা বলেননি। তিনি ২০১২ সালেও একই ধরনের কথা বলেছিলেন।’
‘এর চাইতে একটু এগিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশ একটি ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করা এবং তিনি এ প্রসঙ্গে একটি একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথাও বলেছিলেন তিনি, যেটাকে বিগ বে ইনেশিয়েটিভ বলে গণ্য করা হয়।’
আরও পড়ুন: মোদি-ইউনূসের বৈঠক হতে পারে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে
তিনি বলেন, ‘কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রের এক্সেস পাওয়া খুব কঠিন। কিন্তু আমরা কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেব না, সেটি করার মতো অবস্থাও আমাদের নেই।’
‘কেউ যদি নেয় খুব ভালো, না নিলে কী করব আমরা? কিছু করার নেই। অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথাই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা যদি অন্যরকম দেওয়া হয়, আমরা সেই ব্যাখ্যা ঠেকাতে পারছি না। আমরা শুধু সবার সমান লাভের জন্য কানেক্টিভিটি দিতে আগ্রহী আছি। কেউ নিলে ভালো, না নিলে নেবেন না।’
আগামী বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
এ বিষয়ে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের বক্তব্য, ‘আশা করা যাচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বৈঠক না হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু বলব না।’
৩৩৮ দিন আগে
মোদি-ইউনূসের বৈঠক হতে পারে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে
বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হতে পারে। বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছি। এ ক্ষেত্রে আশাবাদী থাকতে আমাদের কাছে সঙ্গত কারণ আছে। বৈঠকটি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম মজুমদার এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
যদি তা-ই হয়, তাহলে এটি হবে মোদি-ইউনূসের প্রথম সরাসরি কোনো বৈঠক। বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা দেবেন ড. ইউনূস।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর গেল বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরআগে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-ইউনূসের বৈঠকের আয়োজনে কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
আগামী ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ঢাকায় বিমসটেকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ২৬তম সম্মেলনের আয়োজন করবে।আরও পড়ুন: বিমসটেক ইয়াং জেন ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ইউনূস
সম্প্রতি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন বলন, ‘মোদির সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক হলে দুই দেশের সম্পর্ক ঘিরে যে টানাপোড়েন চলছে, তা কেটে যাবে।’
এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদি। এতে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাওয়া হয়েছে। মোদি বলেন, ‘দুদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’
সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে প্রধান উপদেষ্টার গণমাধ্যম শাখার প্রকাশিত বার্তায় এমন তথ্য জানা গেছে। পবিত্র রমজান মাস যখন শেষ হয়ে আসছিল, তখন সেই সময়টিকে ড. ইউনূসকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে কাজে লাগান মোদি।
বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল এন্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) একটি আঞ্চলিক জোট। ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে এই জোট গঠন করা হয়।
বিমসটেকের মূল উদ্দেশ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগর উপকূলের দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পোশাক ও চামড়া শিল্পসহ আরও অনেকগুলো ক্ষেত্র বিমসটেকের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে জড়িত।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘এবারের সম্মেলনের শেষের দিন বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যানের পদ থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকে বিমসটেকের পরিচালনার একটা প্রধান ভূমিকা পালন করবে।’
৩৩৮ দিন আগে
‘অত্যন্ত সফল’ চীন সফর শেষে রাতে দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা
চীনে চার দিনের সরকারি সফরকে ‘মাইলফলক’ ও ‘অত্যন্ত সফল’ আখ্যায়িত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আজ (শনিবার) রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
শনিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ইউএনবিকে জানান, বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ড. ইউনূসকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চিফ প্রটোকল অফিসার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী হং লেই।
আরও পড়ুন: বিমসটেক ইয়াং জেন ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ইউনূস
এর আগে, চার দিনের সফরে ২৬ মার্চ চীন পৌঁছান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) মহাসচিবের আমন্ত্রণে ২৬ ও ২৭ মার্চ দেশটির হাইনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত বিএফএ বার্ষিক সম্মেলন ২০২৫-এ যোগ দেন তিনি। সম্মেলনের সাইডলাইনে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার ডিং জুয়েশিয়াং।
তারপর চীন সরকারের আমন্ত্রণে ২৭ থেকে ২৯ মার্চ বেইজিং সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে গতকাল (শুক্রবার) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন অধ্যাপক ইউনূস। সেখানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের।
বৈঠককালে উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে মতবিনিময় করে উভয় পক্ষ। আলোচনাগুলোতে দুপক্ষ ব্যাপকভাবে ঐকমত্যেও পৌঁছায়।
আজ (শনিবার) সকালে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন প্রধান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন: ড. ইউনূস
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের চেয়ারম্যান হে গুয়াংচাইসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, পরিষদ চেয়ারম্যান ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি ছোট্ট দল তাকে স্বাগত জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকও করেন মুহাম্মদ ইউনূস।
৩৪২ দিন আগে
২১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেইজিংয়ের
চীন সফরকালে দেশটির সরকার ও চীনা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা চীনের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পর দেশটির প্রায় ৩০টি কোম্পানি (বাংলাদেশের) বিশেষ চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে।
এছাড়া মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে আরও প্রায় ৪০ কোটি ডলার, চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নে ৩৫ কোটি ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে আরও ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণ সহায়তা হিসেবে আসবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ১ চুক্তি, ৮ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
প্রধান উপদেষ্টার চার দিনের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সফর।’
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এই সফর বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে চীনের প্রেসিডেন্টকে চীনা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়ার অনুরোধ জানান ড. ইউনূস।
শি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের উৎপাদন কারখানা স্থানান্তরে উৎসাহিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন আশিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এই সফর অনেক চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।’
আরও পড়ুন: সুদহার কমাতে ইতিবাচক সাড়া চীনা প্রেসিডেন্টের, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আশ্বাস
আজ (শুক্রবার) বেইজিংয়ে ড. ইউনূস ও আশিক চৌধুরী বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তমসহ শতাধিক চীনা কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে বিশেষ করে উন্নত টেক্সটাইল, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে তারা বক্তব্য রাখেন। এ ব্যাপারে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’
৩৪৩ দিন আগে
ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ১ চুক্তি, ৮ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি ও আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার চার দিনের চীন সফরের তৃতীয় দিন শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি ও স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের কালজয়ী সাহিত্য ও শিল্পকর্মের অনুবাদ ও সৃজন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও খবর আদান-প্রদান, গণমাধ্যম, ক্রীড়া এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিময় সহযোগিতা।
এর পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছে।
এগুলো হলো— বিনিয়োগ আলোচনা শুরু করা, চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু, মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ, একটি রোবট ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং একটি কার্ডিয়াক সার্জারি গাড়ি অনুদান।
৩৪৩ দিন আগে
সুদহার কমাতে ইতিবাচক সাড়া চীনা প্রেসিডেন্টের, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আশ্বাস
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো চীন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন।
ড. ইউনূসের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের বৈঠককে অত্যন্ত সফল উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ইউএনবিকে বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করেছে। এরমধ্যে বাংলাদেশকে দেওয়া চীনা ঋণের সুদের হার কমানো ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দেশটির সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি ছিল।’
আলম বলেন, ‘বৈঠকে আলোচনা অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ, গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।’
প্রেসসচিব বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার এটি ছিল প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। এখন পর্যন্ত এটি একটি বড় সফলতা।’
প্রেসিডেন্ট শি বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনে চীন তার দেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে।
আলম বলেন, প্রেসিডেন্ট শি ফুজিয়ান প্রদেশের গভর্নর থাকাকালীন দুইবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন—সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট শির উদ্বৃতি দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, তিনি বাংলাদেশি আম ও কাঁঠাল খেয়েছেন। ‘এগুলো সুস্বাদু।’ আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশ আগামী মৌসুমে এই দুটি ফল চীনে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করবে।
চীনা প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টা চীনের পিপলস গ্রেট হলে করা বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে কাজ করছে সরকার: শফিকুল আলম
তারা দুই দেশের সম্পর্ককে জোরদার করা ও ঢাকা-বেইজিংয়ের পারস্পরিক ও কৌশলগত স্বার্থকে এক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন।
উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় বিষয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থের সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটিকে পারস্পরিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে ড. ইউনূস দুদেশের মধ্যে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনের ব্যাপক ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ও সামাজিক ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।
বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো ভূমিকা কামনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ইউএনবিকে বলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী এবং সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন।
চীনা প্রতিনিধি দলে ছিলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
এদিন সকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস গ্রেট হল অব চায়নায় পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে বৃহস্পতিবার রাতে ড. ইউনূস বেইজিং পৌঁছেন।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক এলে আর কেউ ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারবে না: শফিকুল আলম
৩৪৩ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে বাস করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি।
এবারে কক্সবাজারের উপকূলে বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জনপ্রতি মাসিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১২ ডলার করে, যা আগে ছিল সাড়ে ১২ ডলার।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডব্লিউএফপি এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে।
ভাসানচরে যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করছেন তারা পাবেন জনপ্রতি ১৩ ডলার করে। কক্সবাজারে যারা বসবাস করছেন তাদের চেয়ে এক ডলার বেশি।
গত ৫ মার্চ বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনের কাছে খাদ্য সহায়তা কমানো সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছিল ডব্লিউএফপি।
ডব্লিউএফপি তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য এপ্রিল থেকে মাসিক খাবারের বরাদ্দ সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে জনপ্রতি ৬ ডলার করার কথা বলা হয় ওই চিঠিতে।
এরপর ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় তার কাছে তুলে ধরা হয় ৬ ডলারে রোহিঙ্গারা আসলে কী পরিমাণ খাবার পাবেন। এর পরই এমন সিদ্ধান্ত জানাল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপি।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ মহাসচিবের ইফতার মাহফিলে পদপিষ্ট হয়ে ১ রোহিঙ্গা নিহত
৩৪৪ দিন আগে
রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ৭০ হাজার টন সার কিনছে সরকার
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ৭০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৪১৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি সার এবং সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে দুটি পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মা আদেন সৌদি আরব ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় চতুর্থ লটের ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। সৌদি আরবের মা আদেন থেকে প্রতি টন সার ৬২৭.৫০ ডলারে কেনা হবে।
এছাড়া রাশিয়ার বিদেশি অর্থনৈতিক করপোরেশন (প্রোডিন্টর্গ) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় নবম লটের ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
রাশিয়র প্রোডিন্টর্গ থেকে আনা প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩০৬.৩৭ ডলার। এতে মোট খরচ হবে ১১২ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা।
৩৪৪ দিন আগে
জ্বালানি অনুসন্ধানে মস্কোর সহযোগিতা চায় ঢাকা
তেল-গ্যাস উত্তোলন ও বাণিজ্যের রুশ প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম বাংলাদেশের সমুদ্র ও সমতল এলাকায় আরও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অপরদিকে, রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ গম ও সার আমদানি করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের রিসোর্ট শহরে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি ওভারচুকের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা। এর মধ্যে রাশিয়ার অর্থায়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি স্থান পায়। এছাড়া রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ গম ও সার আমদানি এবং বাংলাদেশে সমুদ্র ও সমতল ভূমিতে গ্যাস অনুসন্ধানে গ্যাজপ্রমের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ঢাকায় একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের মধ্যে দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর্থিক সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্টারলিংক বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতে বিপ্লব আনবে: প্রধান উপদেষ্টা
আলেক্সি ওভারচুক দুদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এছাড়া রাশিয়ায় আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ করে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরও বেশি সার ও গম রপ্তানি করতে আগ্রহী রাশিয়া।
এ সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ও প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৩৪৪ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত: ড. ইউনূসকে মোদি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে পাঠানো বার্তায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক বার্তায় মোদি বলেন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের (দুদেশের) যে আকাঙ্ক্ষা, তার দ্বারা পরিচালিত হয়ে এবং একে অপরের স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমরা এই অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ড. ইউনূস ও এদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের অভিন্ন ইতিহাস ও ত্যাগের সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দুদেশের সম্পর্কের পথপ্রদর্শক হিসেবে অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি বিকশিত হয়েছে এবং দুদেশের জনগণের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে এনেছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন
দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পাঠানো বার্তায় বলেন, ‘ভারতের সরকার, জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে বহুমুখী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বহুমুখী যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের ‘প্রতিবেশী আগে’ ও ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া রয়েছে আমাদের সাগর মতবাদ ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন।
গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
৩৪৫ দিন আগে