বৈদেশিক-সম্পর্ক
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: শান্তি ও সংযমের আহ্বান বাংলাদেশের
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৭ এপ্রিল) এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই দেশকে শান্ত থাকার পাশাপাশি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উদ্ভূত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’
এতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ আশাবাদী যে এই উত্তেজনা কূটনৈতিকভাবে নিরসন হবে এবং শান্তি ফিরে আসবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তানে বহু ফ্লাইট বাতিল, বিমানবন্দর বন্ধ
পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেশি দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ ও ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তান। যেকোনো সময় হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ। তিনি বলেছেন, ‘কোথায় ও কীভাবে জবাব দেব, সেটি একান্তই আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’
অন্যদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘ভারতের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে, এমন অন্তত ৯টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: ‘দায়িত্বপূর্ণ সমাধান’ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান
এমন বাস্তবতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাতে ভারতের হামলার মধ্য দিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও দেশ।
৩৯৩ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক গড়তে চায় কানাডা: ড. ইউনূসকে বাণিজ্য দূত
দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ জোরদার করার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বৈঠক করেছেন সফররত কানাডার ইন্দো-প্যাসিফিক বাণিজ্য দূত পল থোপিলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (৬ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক বৈঠকে তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
বাণিজ্য দূত পল থোপিল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় বিশ্বাস করি। এজন্যই আমি আমার সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে এসেছি। কারণ, আমরা আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’
বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় সরকারি সফরে এসেছেন দূত থোপিল। তিনি এই সফরে কানাডার সবচেয়ে স্বীকৃত কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বেল হেলিকপ্টার, ব্ল্যাকবেরি, গিল্ডান অ্যাক্টিভওয়্যার, জেসিএম পাওয়ার ও অ্যাডভানটেক ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনস।
আরও পড়ুন: সংঘাত নয়, শান্তি চায় ঢাকা: পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উপদেষ্টা তৌহিদ
তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সাহসী এবং প্রয়োজনীয় বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে বলেন, ‘আপনারা একটি দারুণ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। আমরা অগ্রগতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আপনার সরকার যে সংস্কারগুলো শুরু করেছে—তা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করছে এবং কানাডা বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।’
জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা জঞ্জাল পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি, যা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি—এগুলো ছিল একটি বিপর্যয়। এটি ১৫ বছরের দীর্ঘ ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়েছিল। অসম্ভব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, আমরা গুরুতর সংস্কারের মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের পাশে আপনার মতো বন্ধুদের প্রয়োজন।’
প্রধান উপদেষ্টা কানাডার বিনিয়োগকারীদের উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান। শিল্প সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং একটি আঞ্চলিক রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে এর সম্ভাবনার উপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে বিনিয়োগ ও উৎপাদন করতে পারেন। এখান থেকে অন্যান্য বাজারে পুনঃরপ্তানিও করতে পারেন। আমরা আমাদের জনগণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কানাডার ব্যবসার অংশীদার হতে প্রস্তুত। কানাডাকে সর্বদা স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ।’
এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কানাডা প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, কানাডার হাই কমিশনের সিনিয়র ট্রেড কমিশনার ডেব্রা বয়েস, বেল হেলিকপ্টারের বাণিজ্যিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক উইলিয়াম ডিকি, ব্ল্যাকবেরির হেড অব গর্ভনমেন্ট সলুউশন ব্র্যাড কলওয়েল, রপ্তানি উন্নয়ন কানাডার দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান প্রতিনিধি লাডিসলাউয়া পাপারা, গিল্ডান অ্যাক্টিভওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুয়ান কনট্রেরাস, জেসিএম পাওয়ারের এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক মো. আলী ও অ্যাডভানটেক ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনসের গ্লোবাল সেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট টনি র্যাডফোর্ড।
৩৯৪ দিন আগে
সংঘাত নয়, শান্তি চায় ঢাকা: পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উপদেষ্টা তৌহিদ
বাংলাদেশ এই অঞ্চলে যেকোনো ধরণের সংঘাত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (৫ মে) রাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশের এই বার্তা দেন। এসময় তিনি যেকোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সংলাপের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (৬ মে) সাংবাদিকের এক প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।
তৌহিদ বলেন, ‘পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করার পর থেকে আমি তাকে বলেছি— আমরা শান্তি চাই। আমরা এখানে কোনো সংঘাত দেখতে চাই না।’
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে সোমবার রাতে হওয়া তার কথোপকথন সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ভারতকে বার্তাটি জানানো হবে কিনা এমন প্রশ্নে হোসেন বলেন, ‘ভারত যদি আমার কাছ থেকে কিছু জানতে চায়, তাহলে আমি দিল্লিকেও ঠিক একই কথা বলব। আগে থেকে আমার কিছু বলার দরকার নেই।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পর ইসলামাবাদ কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করার জন্য ফোন করেছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি কোনো সমর্থন বা কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া চাননি। আমি কেবল বলেছিলাম যে শান্তি বজায় রাখা দরকার এবং উত্তেজনা কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এমন কোনো ঘটনা ঘটা উচিত নয়, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এটি আমাদের প্রত্যাশা। আমরা আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান চাই।’
টেলিফোনে কথোপকথনের সময় তিনি এই অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সকল পক্ষের সংযম প্রদর্শনের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: তৌহিদি জনতাই না, বিশৃঙ্খলায় জড়িত সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে: উপদেষ্টা
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, হোসেন উত্তেজনা দূর করার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন।
সোমবার রাত ১০টা ৪১ মিনিটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলের এক পোস্টে এসব তথ্য জানায়।
উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং একতরফা পদক্ষেপের ফলে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা সম্পর্কে উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এর মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তির বিধান স্থগিত করার ভারতের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের বিষয়টি রয়েছে।
উভয় পক্ষই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন তারা।
তারা আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
৩৯৪ দিন আগে
ইতালিতে বৈধ অভিবাসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে: ড. আসিফ নজরুল
ইতালিসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে বৈধ অভিবাসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের ৬টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইসহ যুগান্তকারী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার (৬ মে) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং ইতালির পক্ষে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা ও বৈধ অভিবাসন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতালির সঙ্গে প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন অ্যান্ড মবিলিটি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করল বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বৈধ পথে মাইগ্রেশন বৃদ্ধি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। যারা ইতালি যেতে ইচ্ছুক তারা যেন নিরাপদে যেতে পারেন, ভালো পারিশ্রমিক পান সেটাই লক্ষ্য আমাদের’। তিনি বলেন, ‘ইতালি সিজনাল ও নন সিজনাল দুইভাবে লোক নিবে। আমাদের পরিকল্পনা আমরা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা বছরে একবার করে মিটিং করবে। আমাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার আছে, যেখানে ইতালি যেন আমাদের কর্মীদের ইতালি ভাষা শিখতে পারে, আমরা এই বিষয়ে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, আমাদের এম্বাসির ফাইল গুলো যেন দ্রুত কার্যকর হয়। এছাড়া ইতালিতে যারা বাংলাদেশি ছাত্র আছে, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া যেন সহজ হয়। অভিবাসনের দিক দিয়ে আমাদের যেন ইতালির সরকারের ঝুকিপূর্ণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, সেই বিষয়টিও আলোকপাত করা হয়েছে।
ইতালিতে কোন কোন সেক্টরে কি পরিমাণ লোক পাঠানো হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকে এত ডিটেইলস থাকে না। বর্তমানে আমাদের যে কোটা আছে, সেটা বাড়ানো হবে। কোটা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতালি চিন্তাভাবনা করবে। আমরা আশা করছি, অবৈধ পথে যাওয়া অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।’
এসময় ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আমরা সবসময় শ্রমিকদের বৈধ পথে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করি। ইতালি সরকার দীর্ঘদিন থেকে এটা নিয়ে কাজ করে আসছে। এই সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্যে দুইটা দেশের বন্ধুত্ব আরও বাড়বে।’
এছাড়াও ড. আসিফ নজরুল সম্প্রতি সৌদি সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরবে অবৈধভাবে বসবাসকারী নারী কর্মীদের বৈধ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী প্রেরণের বিষয়েও সৌদি সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘জর্ডানে পুরুষ কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও জর্ডান সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া জর্ডানে কর্মরত যে সকল নারী কর্মী নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মস্থল পরিবর্তনসহ নানা কারণে অবৈধ হয়েছেন, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বৈধ হতে পারবেন। এর ফলে তারা জরিমানা ছাড়াই বৈধতা পাবেন।’ অন্যথায় তাদের বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৩৯৪ দিন আগে
বৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিতে আগ্রহী ইতালি
ঢাকা, ৬ মে (ইউএনবি)— বৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিতে ইতালি আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও জানান তিনি।
সোমবার (৫ মে) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তাকে এ কথা জানান ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এছাড়া ঢাকার সঙ্গে রোমের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নবায়ন ও পুনরুজ্জীবিতকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান মাত্তেও।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি অসাধারণ বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। আমরা তাদের নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। তারা তরুণ ও পরিশ্রমী। ইতালীয় সমাজে চমৎকারভাবে মিশে গিয়েছেন তারা। আমাদের আরও বাংলাদেশির প্রয়োজন।’
তবে অনেক বাংলাদেশি অবৈধ উপায়ে ইতালিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘এভাবে ইতালিতে আসা খুব বিপজ্জনক। আমরা চাই তারা বৈধ পদ্ধতি অনুসরণ করুক।’
মাত্তেও জানান, সমুদ্রপথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অভিবাসীদের আগমন ইতালির জন্য সমস্যাজনক। এ কারণে অবৈধ অভিবাসন ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দূর করতে তিনি বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধের মতো বিষয়ে বাংলাদেশও ইতালির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে মাত্তেওকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, ‘ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞ। তারাও ইতালির প্রতি সন্তুষ্ট।’
প্রধান উপদেষ্টা জানান, কিছু আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। এরাই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে বলে মনে করেন তিনি।
অন্তর্বতী সরকারপ্রধান বলেন, ‘অভিবাসীরা হলেন মানবপাচারের ভুক্তভোগী, তারা সুবিধাভোগী নন।’
এ সময় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকের কথাও উল্লেখ করে তিনি। বৈঠকে দুই দেশ একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।
৩৯৫ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও বেশি হারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিতে আগ্রহী ইতালি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ মে) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।
বৈঠকে ইতালির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে সফররত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ম্যাথু পিয়ান্তেডোসি।
উপদেষ্টা বলেন, ইতালির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমিকরা খুব পরিশ্রমী ও দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশটি নতুন করে বৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী। তবে অন্য দেশের ভিসা নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়ার প্রবণতাকে তারা সম্পূর্ণরূপে নিরুৎসাহিত করেছে।
তিনি বলেন, ইতালি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে ও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা খাতেও সহায়তা বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে যেসকল বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইতালিতে গিয়েছেন, তাদের যেন উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় বৈধতা দেওয়া হয়- সে বিষয়েও ইতালিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ইতালির পুলিশ মাফিয়া চক্রসহ সংগঠিত ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পারদর্শী। সেজন্য তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে চায়। তিনি বলেন, বৈঠকে আমরা পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ডের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইতালির সহায়তা কামনা করেছি।
আরও পড়ুন: আলজেরিয়ার সঙ্গে দ্রুত পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সম্প্রতি এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় ৫৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধ নেটওয়ার্ক দমনে বাংলাদেশের গৃহীত নীতি ও কর্মপন্থা, অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ইতালির পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিপ্লোমেটিক অ্যাডভাইজার ম্যাক্রো ভিলানি ও ডেপুটি হেড অভ কেবিনেট সাবিনা মাদারো, ইমিগ্রেশন ও বর্ডার পুলিশের সেন্ট্রাল ডিরেক্টর ক্লডিও গালজেরানো প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
৩৯৫ দিন আগে
নির্বাচনের সময় নির্ধারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়: ইইউ রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সংস্কারমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, ‘নির্বাচন কবে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই কোনো নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন আয়োজনের।’
সোমবার (৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘নির্বাচনের সময় নির্ধারণ বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত। আমরা এই রাজনৈতিক রূপান্তরকে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে অগ্রগতি হিসেবে দেখি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে মতামত নেই।‘
ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুনও বক্তব্য রাখেন।
মিলার বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো এবং অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুস্পষ্ট ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার তালিকায় একমত হবে। আমাদের কাছে সেই অভিজ্ঞতা আছে, আর্থিক সহায়তা আছে, এবং আছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস সম্প্রতি বলেছেন, ‘মানুষ এখনো মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই সঠিক উত্তর। তবে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোত্তম নির্বাচন আয়োজন করতেই হবে।’
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘এই সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত যেন তারা প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।’
জুলাই-আগস্টের সহিংসতা প্রসঙ্গে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন।
এসব বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের কাজকে আমরা সমর্থন করি। এসব ভয়াবহ অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার যেন যথাযথভাবে প্রক্রিয়ায় সুরক্ষিত হয় - সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
নারীর অধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘পুরুষ ও নারীর সমতা ইউরোপের মৌলিক মূল্যবোধ। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা উচিত। আমরা চাই, রাজনৈতিক দলগুলো এই সুপারিশগুলো বাস্তবে রূপ দিক।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সীমান্তের ওপারে এখনো সহিংসতা চলছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছি—রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া অবশ্যই নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক হতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২০২৫ সালে ৩২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলো মিলে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দিয়েছে।
৩৯৫ দিন আগে
বাংলাদেশিদের জন্য আরব আমিরাতের ভিসা প্রাক্রিয়া জোরদার
বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার ফলস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রমে গতি বাড়িয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এরইমধ্যে আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
রবিবার (৪ মে) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএই’র রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হমুদি। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, ‘ইউএই দূতাবাস এখন প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা ইস্যু করছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের জন্য দলগত ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে, যা বাণিজ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ইউএই’র মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিসা সিস্টেমও আবার চালু করেছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভিসা সহজীকরণ থেকে শুরু করে বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোমবার দুপুরের মধ্যে ভিসা আবেদন না করলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত
এরই মধ্যে বিপণন ব্যবস্থাপক ও হোটেল কর্মীদের মতো পেশাজীবীদের জন্য ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ৫০০টি ভিসা এরইমধ্যে ইস্যু হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে, যা খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভিসা নীতিতে আরও শিথিলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও জানান, মানবিক বা বিশেষ প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে সেসব ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখানো হবে।
লুৎফে সিদ্দিকী এসব অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও আমিরাত এরইমধ্যে একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
৩৯৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে পুরো অঞ্চলের সমস্যা হবে: তৌহিদ হোসেন
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেন, ‘যদি ওই সংকটের সমাধান করা না হয়, তাহলে এটা কেবল বাংলাদেশ না, পুরো অঞ্চলের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’
রবিবার (৪ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন।
রোহিঙ্গারা যাতে প্রত্যাশিত অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজভূমিতে ফিরে যেতে পারেন, সেই উপায় খুঁজে বের করার প্রতি জোর দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা ফিরে যাবেন।’
‘মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ, দেশটির অভ্যন্তরে বিভক্তি এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তার অব্যাহত অনুপস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখন সুদূরপরাহত,’ যোগ করেন তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘এই সংকটের আমরা এখনো একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে পাইনি। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর দুটি দিক রয়েছে, একটি হলো অধিকার, অন্যটি নিরাপত্তা। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে না।’
‘তবে আমরা কোনো অযৌক্তিক প্রত্যাশায় নেই। যে-ই নির্যাতন থেকে তারা বাঁচতে চেয়েছিলেন, আমরা কি তাদের সেই জায়গায় ফেরত পাঠাব,’ প্রশ্ন রাখেন উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান চাইলে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এ বিষয়ে বাস্তব কোনো ফল আসবে না। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির ওপর বাংলাদেশের প্রাথমিক নির্ভরতা ছিল। আমিসহ অনেকেই সতর্ক করেছিলাম যে, এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
‘বছরের পর বছর ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়াটি নিরর্থক, কেননা একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন করা যায়নি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘মিয়ানমারে অবশ্যই বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে। সেই পরিবর্তন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে। যদিও এটি কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ঐক্যবদ্ধ না হলে এটা সম্ভব হবে না।’
‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর থেকে মনোযোগ যেন সরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে একটি রোডম্যাপ থাকা দরকার।’
মিয়ানমারে কখনও গণতন্ত্র ছিল না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, ‘অং সান সু চির অধীনেও এটি একটি আধা-সামরিক শাসনব্যবস্থা হিসেবে কাজ করেছিল। আমরা এখন যা দেখছি, তা হলো পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ।’
‘মিয়ানমারের এখন মূল অংশীদার সামরিক জান্তা, আরাকান আর্মি এবং জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)। যেকোনো স্থায়ী সমাধানে এই তিন পক্ষকেই যুক্ত হতে হবে। বিশেষ করে আরাকান আর্মিকে, যারা এখন রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ করছে,’ বলেন তৌহিদ হোসেন।
৩৯৬ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় ‘ভুল সংবাদ’ প্রচারে প্রেস উইংয়ের নিন্দা
ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল আজ তাক বাংলায় প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদেরকে প্রধান উপদেষ্টার পদক প্রদানের ছবিকে গোপন ছবি বলে প্রচার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ মে) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ ও চরম নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে পুলিশের ইউনিফর্মকে পাকিস্তানের জেনারেলের পোশাকের সঙ্গে মিল রয়েছে রয়েছে এমন দাবি করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এমন প্রশ্ন তোলা হয়।
মূলত গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ লাইন্সে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ৬২ জন সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের অবস্থার পরিবর্তন না হলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠন সম্ভব নয়: প্রধান উপদেষ্টা
তাদের মধ্যে এই ছবিতে রয়েছেন, তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও ছিবগাত উল্লাহ এবং উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক কাজী ফজলুল করিম। তারা প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক পেয়েছেন।
এটি কোন গোপন ছবি নয়। এই ছবিটি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিলো। আজ তাক বাংলার এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জড়িয়েও মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এগুলো সবই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ এবং চরম নিন্দনীয়।
৩৯৬ দিন আগে