উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বরখাস্ত হওয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়া আদালতের রায়ে স্বপদে ফিরেছেন।
রবিবার (১ মার্চ) নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদারের সই করা এক আদেশে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, একই দিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দা ইউএনও মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইদুর রহমান ভুঁইয়া জেলার কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লেংগুড়া বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে ইউএনও মাসুদুর রহমান ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে মো. পারভেজকে আটক করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কার অনুমতিতে এসেছেন? আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে।’ তখন ইউএনও বলেন, ‘এটা কোন আইনে আছে?’ পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’
এমন কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এদিকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান ইউএনও।
পরদিন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
এদিকে, ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সামিউল আমিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এই খবর পেয়ে ইউএনওর বদলির আদেশ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয় লোকজন। পরে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান পদ ফেরত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। গত ২৫ জানুয়ারি আদালত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরে গতকাল (রবিবার) সাইদুর রহমানকে স্বপদে বহালের আদেশ দেয় নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগ। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ বাতিল করা হয়।