বিএনপি
বিকেলে তারেক রহমানের সংবাদ সম্মেলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ (শনিবার) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলেও কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি তিনি।
নির্বাচনে ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন।
২০ দিন আগে
জামায়াত একটি উগ্রবাদী দল: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘উগ্রবাদী দল’ আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানের পেছনে আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, তার আগেও করেছে। জনগণের কল্যাণের জন্য বিএনপি কাজ করেছে, জনগণের সঙ্গে থেকেছে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হবে।
জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসন ছিল। যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, তাকে যখন আটকে দেওয়া হয়, তার যখন কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়; তখন অন্য উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং সেটাই এদেশে হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যেটুকু উত্থান হয়েছে জামায়াতের, সেটা আওয়ামী লীগের কারণে। তাদের দমন-পীড়নমূলক যে শাসন, বিরোধী দলকে ফাংশন করতে না দেওয়া, তাদের ইনোসিয়েট করতে না দেওয়া, এর কারণে এমন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জনগণ তাদের রিজেক্ট (প্রত্যাখ্যান) করেছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) পেয়ে গেছে। জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মধ্য দিয়ে সব অপপ্রবণতাগুলো রুখে দিতে সক্ষম হবে।’
নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
বিজয় মিছিল নয়, দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকলেও কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল বা বিজয় সভা না করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিজয়োল্লাসের পরিবর্তে দলটি দেশব্যাপী দোয়া ও প্রার্থনা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারেক রহমান শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিশেষ দোয়ার আয়োজন করতে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে অন্য এক বিবৃতিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে দলের বিজয়ের প্রেক্ষাপটে ঢাকাসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুলসংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমআ ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশবাসীর প্রতি শুভ কামনায় বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
তবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ মিছিল কিংবা কোনো সভা করা যাবে না।
ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণকে দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিতব্য দোয়ায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
একইসঙ্গে সারা দেশে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করার জন্যও অনুরোধ করা হলো।
২১ দিন আগে
এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এবার আমরা স্বাধীনভাবে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে, তবে কিছুটা তো শঙ্কা থেকেই যায়। আশা করছি, এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’
ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময়ই ফলাফল গ্রহণ করেছি। ২০০৮ সালে বিএনপি যখন ৩০টি আসন পেল, তখনও আমরা সংসদে গিয়েছি। এবার আমরা আশাবাদী, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।’
জামায়াত ও প্রতিপক্ষের মাঠ গোছানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াত খুব কৌশলী দল। তারা খুব অপপ্রচার চালায়, ধর্মকে ব্যবহার করে, চরিত্র হনন করে। জামায়াত কৌশলগতভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে আমি জনগণকে বোকা ভাবি না। অপরদিকে বিএনপি ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এ ছাড়াও প্রতিপক্ষকে আমরা কোনদিনই দুর্বল মনে করি না। সে যেমনই হোক, তাকে সবল মনে করেই আমরা আমাদের কাজ চালাই।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী এবং প্রিন্ট ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
এক যুগ পর তারিক চয়নের বই ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ প্রকাশিত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে গুণীজনদের লেখা প্রবন্ধ নিয়ে ১৩ বছর আগে একটি বই সম্পাদনা করেছিলেন তখনকার সাংবাদিক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন। নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘদিন বইটি অপ্রকাশিত থাকলেও অবশেষে সেটি আলোর মুখ দেখেছে। ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ নামের বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে তারিক চয়ন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ফেরিফাইড আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘মোড়ক উন্মোচনের ইচ্ছে ছিল প্রিয় সুধীজনদের সম্মিলনে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। কিন্তু, ঘটনাপ্রবাহ সব সময় পরিকল্পনামতো যায় না।
‘এক যুগেরও আগে (২০১৩ সাল) তারেক রহমানের ওপর বেশ কয়জন লেখক-চিন্তক-রাজনীতিবিদদের লেখা প্রবন্ধ সংগ্রহ করেছিলাম। সেই সময়ের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মাঝেই প্রকাশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল অবদমন, নিগ্রহ, নিষ্পেষণ ও মিথ্যাচারের সংস্কৃতি ছাপিয়ে তারেক রহমান যে সার্বিক উন্নয়নমুখী রাজনীতি অব্যাহত রেখেছেন, তা জনপরিসরে তুলে ধরা। বছরের পর বছর ধরে চলা দুঃশাসনের মাঝে তার অহিংস ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চর্চার বিশ্লেষণ বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা।
‘বহু বাধার সম্মুখীন প্রবন্ধ সংকলনটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপ্রকাশিত ছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই বেলা নির্বাচনের আয়োজন করছেন। তারেক রহমানও ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন। লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন।’
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বইটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেন সেটি তাৎক্ষণিকভাবে পারেননি তার কারণ ব্যাখ্যা করে তারিক চয়ন লিখেছেন, ‘তিনি এসেই মাকে হারালেন। শোকের সাগরে নিমজ্জিত জাতি। এমন সময়ে বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ করে এগিয়ে নেওয়া বইটি আত্মপ্রকাশ করার মন-মানস রইল না।
‘দুইদিন বাদে নির্বাচন। ব্যস্ত সময়ের মাঝেই প্রকাশনাযজ্ঞ শেষ করে বইটি হাতে এসেছে এমন এক সময়ে যখন সমগ্র জাতি উন্মুখ হয়ে আছে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু, তারেক রহমান আবেগের স্রোতে ভেসে যাননি। তিনি জানাচ্ছেন দেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। বইটির লেখা ১৩ বছর আগের হলেও তার পরিকল্পনা এবং সদিচ্ছাগুলো যে এতদিন ধরে লালিত, সেটির প্রামাণ্য দলিল এই বইটির বিভিন্ন প্রবন্ধ।
‘এই প্রাসঙ্গিক সময়ে তাই জনপরিসরে উন্মুক্ত করার চিন্তায় হাজির হলাম অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও রিজভী ভাই বইটির মুখবন্ধ লিখে দিয়েছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
খুব শিগগিরই একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বইটির লেখক-চিন্তক-রাজনীতিকদের সঙ্গে সংযোগ ও মতবিনিময়ের আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের প্রেস সচিব।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে লেখা বই ‘লুণ্ঠিত ভবিষ্যৎ’-এর সাড়া জাগানো অনুসন্ধানী নিবন্ধ ‘অর্থ পাচার’-এর লেখকও তারিক চয়ন। সেখানে তিনি ওই আমলে দেশ থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের চিত্র তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তিসহ তুলে ধরেছিলেন।
২৪ দিন আগে
বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে: তারেক রহমান
দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও বাস্তব পরিকল্পনা আছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে। নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকে বেশি। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর দেশের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেখানে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। যে দেশ একসময় দুর্ভিক্ষে জর্জরিত ছিল, সেই দেশ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, এমনকি খাদ্য রপ্তানিও করে।
নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তারেক বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর জনগণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেন। বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তখন একটি উদীয়মান টাইগারে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা যদি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে বিএনপি অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। আমরা স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় করেছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেশ গড়া।
তিনি বলেন, ‘আর দুই দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে…।’
ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।
‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছে, তরুণ আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে…এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।’
২৫ দিন আগে
যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ তৃপ্তি-হাসান
যশোর-১ (শার্শা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনকে বিজয়ী করতে শেষ সময়ের নির্বাচনি প্রচারণায় ‘ধানের শীষের’ পক্ষে ভোট চাইলেন দলটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুর হাসান তৃপ্তি ও শার্শা উপজেলা সভাপতি হাসান জহির।
রবিবার (৮ ফেবরুয়ারি) সকালে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এএইচএম আসানুজ্জামান মিঠুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন।
জনসভায় নুরুজ্জামান লিটন বলেন, দেশের মানুষ আজ দুঃশাসন, দুর্নীতি ও ভোটাধিকার হরণের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। বিএনপি জনগণের সেই মুক্তির সংগ্রামের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়া।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর-সম্পাদক মফিকুল হাসান বৃদ্ধি, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মহসিন কবীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, যুগ্ম-সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু, মো. সালাহউদ্দিন, মো. মেহেরুল্লাহ, একরামুল কদর বাবলু, উপজেলা সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, বেনাপোল বিএনপির সহ-সভাপতি ইদ্রিস মালেক, শার্শা উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সেলিম হোসেন আশা, বেনাপোল পৌর যুবদলের সভাপতি মফিজুর রহমান বাবু, ছাত্রদলের সভাপতি মোহামেনুর সাগর, ও সাধারন সম্পাদক সবুজ হোসেন।
২৬ দিন আগে
এটা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন হবে দেশকে পুনর্গঠিত করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যেমন রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে নাই, কথা বলার স্বাধীনতা পায় নাই, একইভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ বহু বছর পর আমি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে আসতে পেরেছি। আগে প্রতি বছর শীতের সময় ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকায় আসতাম, গ্রামে যেতাম। শীতের সময় আসতাম গরম কাপড় ও কম্বল নিয়ে। আজ আপনাদের কাছে এসেছি ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। ১২ তারিখ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবে।
মঞ্চের পাশে বসা কিছু মানুষের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর স্বজনেরা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। গত এক যুগ থেকে তাদের স্বজনেরা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। নিজেরাও বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েছেন। আজ মানুষের সেই হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগ করার সময় এসেছে।
যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যুবক ও তরুণদের যেভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, তা হয়নি। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা উচিত ছিল, সেই কাজটিও হয় নাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, মা-বোনদের, নারীদের মূল্যায়ন করার জন্য স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কথা ছিল সেটিও হয় নাই। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। এই নারীদের যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের লাখ লাখ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছেন।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে যে সহযোগিতা করা উচিত ছিল, সেই কাজটিও করে নাই বিগত স্বৈরাচারী সরকার। আজ সময় এসেছে, ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করব, একই সঙ্গে আমরা দেশ পুণর্গঠনেও হাত দেব।
এই রাজনীতিক বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি সেক্টর হাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।
সমাবেশে ঠাকুরগাঁও-১, ২, ৩, পঞ্চগড়-২ এবং দিনাজপুর- ১ আসনের বিএনপির প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন।
২৭ দিন আগে
বিএনপিতে যোগ দিলেন জাকসু ভিপি জিতু
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের একাধিক নেতা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাকসু ভিপি জিতুর বিএনপিতে যোগদানের পাশাপাশি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েকজন নেতা।
ছাত্রদলে যোগ দেওয়া হল সংসদের নেতারা হলেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, এ এফ এম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জি এম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বণিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা রহমান বিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়া নাজিম রিয়াদ এবং শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলামও ছাত্রদলে যোগ দেন।
এর আগে, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আবদুর রশিদ জিতু ভিপি পদে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হলেও শীর্ষ পদ ভিপিতে জিতুর বিজয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জিতু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
২৮ দিন আগে
১৫ বছর পর সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ, জালিয়াতির আশঙ্কা নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার জনগণ প্রকৃত অর্থেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই নির্বাচনে জালিয়াতির কোনো আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেছেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে আছে, তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকার চায়, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। ভোটের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবেন, তারাই সরকার গঠন করবেন—এটাই তাদের উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে এবং সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করলে এবারের নির্বাচন হবে একটি ঐতিহাসিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, টেলিভিশন, অনলাইন ও পত্রিকায় জামায়াতের নেতারা এখন অনেক কথা বলছেন। কিন্তু তাদের আগে জিজ্ঞাসা করা উচিত—দেশের স্বাধীনতার সময় তাদের ভূমিকা কী ছিল?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১৯৭১ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন? কাদের পক্ষে কাজ করেছিলেন? একাত্তরে জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল। তারা পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষ নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা রোধ করার চেষ্টা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন ২৪-কে ভুলব না, কারণ সেই সময় আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে পেয়েছি, ঠিক তেমনি ১৯৭১ সালকেও ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’
এর আগে রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনি সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ বছর কোনো সুযোগ পাইনি আপনাদের উন্নয়ন, ভাগ্যের পরিবর্তন করার। কারণ আমরা সেই সময়টাতে অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নের মধ্যে ছিলাম। আমার ঠাকুরগাঁওয়ের ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ মূল দলের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সবাই অনেক কষ্ট করেছেন। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া, এই মামলাগুলো থেকে আমরা সবাই খালাস পেয়েছি।
তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করব। আমাদের মায়েদের তারেক রহমান প্রশিক্ষণ দেবেন যেন ঘরে বসেই তারা আয় করতে পারেন। ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের মা-বোন ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
নির্বাচনি সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
২৯ দিন আগে