বিএনপি
ট্রাইব্যুনালের রায় মাইলফলক, ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা: সালাহউদ্দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশকে ‘ইতিহাসের এক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনার শেষে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এ রায় মাইলফলক। অপরাধ বিবেচনায় সাজা যথেষ্ট না হলেও, আগামীতে কোনো সরকার বা কোনো ব্যক্তি ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার ও একনায়ক হয়ে উঠতে না পারে, তার জন্য উদাহরণ হবে এ রায়।
তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদ যত শক্তিশালী হোক, যতই ক্ষমতা দখলে রাখুক, তাদের একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মামলা আরও রয়েছে, সেগুলোতেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। বাংলাদেশে গুম, খুন ও অপশাসন এবং বৈষম্যের রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেছিল শেখ হাসিনা। এই বিচার অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, তবে সামনের দিনের জন্য উদাহরণ। যাতে ভবিষ্যতে কেউ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করতে না পারে, নিজে ফ্যাসিস্ট না হয় এবং কেউ যেন একনায়কতন্ত্র না হয়—তার একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতের জন্য এই বিচার একটি শিক্ষা।
এদিন দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আদালত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৯ দিন আগে
শেখ হাসিনার রায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি ফখরুলের
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আগামীকাল সোমবার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামীকাল (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যেখানে গত বছরের ঢাকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছতা দাবি জানাই।’
এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
অভিযোগগুলো হলো— গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।
গত ১২ মে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে, তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে।
এর ভিত্তিতে ১ জুন ট্রাইব্যুনালে হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিনই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন। এরপর ১০ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এক পর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের করা আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন তিনি।
গত ২৩ অক্টোবর মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনিও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ওই তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) হবে বলে ঘোষণা করেন।
২০০ দিন আগে
ভারতের দাদাগিরি আর দেখতে চাই না, পানির হিস্যা আমাদের ন্যায্য অধিকার: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাশের দেশ ভারত পানি বন্ধ করে দিবে, সীমান্তে মানুষ হত্যা করবে, যখনতখন চাল, পেয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেবে—এই দাদাগিরি আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই যে ভারত আমাদের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সহযোগিতা করবে, অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষকে তারা বন্ধু হিসেবে পাবে না।
শনিবার (নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক ঐতিহাসিক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ— ‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
মওলানা ভাসানীর পর খালেদা জিয়া ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করেছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পানির হিস্যার আন্দোলন আরও জোরদার রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে হবে, পানির হিস্যা আমাদের ন্যায্য অধিকার, কারো দয়া নয়। আগামী সরকার শক্তিশালী না হলে পদ্মা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যতক্ষণ না পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিল্লিতে বসে হাসিনা জ্বালাও-পোড়াওয়ের হুকুম দিচ্ছে। হাসিনাকে কী এদেশে আমরা আর আসতে দেব? তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে, যার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর।
এই রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চলছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, এই ফ্যাসিস্ট শক্তি যেন আগামীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে; দেশের মানুষকে হত্যা করতে না পারে; দেশের সম্পদ নষ্ট করতে না পারে; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে যেন ধ্বংস করতে না পারে। এসব দিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্যে করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতকে ভোট দেবে না, কারণ জামায়াতকে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। এই নির্বাচন যদি না হয়, দেশের মানুষকে যদি আবার বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তারকে রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে তিনি এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। কৃষকদের ফার্মাস কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেবেন। তিনি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে চান। জনগণের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন তিনি তৈরি করবেন।
এর আগে, এদিন দুপরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমতার সম্পর্ক থাকবে, দাদাগিরির সুযোগ নেই। প্রত্যেক দেশ তার নিজের স্বার্থ দেখবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে নির্বাচিত সরকার না থাকলে দাবি আদায় সম্ভব হয় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা-তিস্তার পানি বণ্টনকে গুরুত্ব দেবে। আমরা বিগত দিনে দেখেছি, তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিরা ভারতে গিয়ে দেন দরবার করেছে, কিন্তু দেশের জন্য কেউ ভাবেনি। যে সরকারই আসুক, দেশের জন্য কাজ করতে হবে; দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে।
পদ্মা বাঁচাও আন্দোলেনের সমন্বয়ক চাঁপাইবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে গণসাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, পদ্মা নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন ও ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে জাতীয় জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালে বন্যা, ভয়াবহ নদীভাঙন, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ফসল উৎপাদনে বাধা—এই তিন দুর্যোগই এখন পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি জানিয়ে আসছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। এ দাবিতে শনিবার ঐতিহাসিক সমাবেশের আয়োজন করে দলটি।
২০১ দিন আগে
নভেম্বরের শেষে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান: সালাহউদ্দিন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার রাতে (১১ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই মাসের শেষ নাগাদ তিনি দেশে ফিরতে পারেন। নাহলে কমপক্ষে দুয়েকদিন এদিক-ওদিক হতে পারে হয়ত, আশা করছি।’
২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়ার পর গত ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেকের মামলা জটিলতার অবসান হলেও তিনি এখনো ফেরেননি।
গত কয়েক মাস ধরেই বিএনপির নেতারা বলে আসছেন যে, শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। নভেম্বরের শেষ নাগাদ তিনি আসতে পারেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তারিখ বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ খুব দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।’
নির্বাচনের আগে দেশে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি, নির্বাচনের সঙ্গে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যখন জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তখন জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা, ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকবে সেই প্রত্যাশিত নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে থাকার।’
প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন পরিচালনায় নিবিড়ভাবে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো সরাসরি ভোটের মাঠে প্রার্থী হননি। তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন তারেক রহমান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাহজাহানপুর) এবং ১৯৯৬ (জুন) সাল থেকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নির্বাচন করছেন। এ দুটি আসনে তিনি কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি। মায়ের সেই পুরনো আসনেই আগামী সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন তারেক রহমান।
২০৪ দিন আগে
নির্বাচন পেছালে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: মির্জা ফখরুল
এবারের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুরবাড়ি লক্ষ্মীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “সংস্কারের ক্ষেত্রে যে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, এর বাইরে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর সমস্ত দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। যারা মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।
মির্জা ফখরুল আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষক বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এটি শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের অসম্পূর্ণতা তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি উজ্জ্বল নাম। রাজনীতিতে নতুন দর্শনের সূচনা করেছিলেন শহীদ জিয়া, তার দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।
সভায় বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আহম্মদ আলীর সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২০৫ দিন আগে
জুলাই সনদের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিলে স্বাক্ষরকারী দলগুলো মানতে বাধ্য নয়: খন্দকার মোশাররফ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে যে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে, সেই স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে কোনো ব্যাপারে সরকার ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিলে তা রাজনৈতিক দলগুলো মানতে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, এমন কিছু ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দলের জন্য তা মান্য করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।'
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, 'এমন কিছু ঘটলে এর দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে। এ ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'
মোশাররফ হোসেন জানান, ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রায় এক বছরের আলোচনার পর ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তার ভাষ্য, সম্প্রতি নির্ধারিত সনদের বাইরে সরকারি কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন। এই ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং সবার সম্মতিতে নেওয়া আগের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার সমতুল্য বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
২০৫ দিন আগে
মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে মুক্তিযুদ্ধটাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭১ হয়নি, আমরা কিছুই করি নাই। দেশটার জন্য কোনো অবদানই রাখি নাই। চব্বিশ যারা করেছে, তারাই সব করেছে, এমন ধারণা এখন মিলছে। ঠিক না?’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল, যারা ওই একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল, তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল, তাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছিল খান বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে দেশের মানুষ কি আপস করতে পারে? এই কথাগুলো জোর গলায় বলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এরা আজকে দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে, গ্রাস করার চেষ্টা করছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে তারা ওই কাজগুলো করতে চাচ্ছে। আমরা সেটা হতে দিতে পারি না। আজকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে আনতে হবে।’
হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবেন না। হিন্দু-মুসলমান ভাগ করতে দিবেন না। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। একসঙ্গে আছি, যুদ্ধও করেছি একসঙ্গে। তাদের যেন কেউ ভাগ করতে না পারে।’
নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা চলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আজকে নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ, এ দেশের সর্বনাশ হওয়া। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার কালবিলম্ব না করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবে, একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহম্মদ খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনসুর আলী সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন এবং সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।
২০৬ দিন আগে
এটাই আমার শেষ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নিজের শেষ জাতীয় নির্বাচন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এবার আপনারা আমাকে সুযোগ দিন, আমি যেন আপনাদের জন্য কিছু উন্নয়নকাজ করতে পারি।
নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে মির্জা ফখরুলের নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিজের বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাই আমার শেষ নির্বাচন। পরের নির্বাচন করার সময় আর শক্তি থাকবে না। আমার শেষ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করবেন আপনারা। এবার আপনারা আমাকে সুযোগ দিন, আমি যেন আপনাদের জন্য কিছু উন্নয়নকাজ করতে পারি।’
এ সময় জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা আপনারা চেনেন। দাঁড়িপাল্লাও এখানে নির্বাচন করছে। বিগত সময়ে আমরা কী করেছি আর তারা কী করেছে—এটা বিবেচনা করে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, এ সরকারের পেছনে জনগণ নেই, তাই তারা জনগণের দুঃখ-কষ্ট বোঝে না। সরকার জনগণের কথা বোঝে না বলেই কৃষক আজ তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ন্যায্য দামের ব্যবস্থা করা হবে, ফ্যামিলি কার্ড করা হবে।
গণভোটের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যত সংকট দেখছেন সব তৈরি করা, সাজানো নাটক। জনগণ এসব বোঝে না; তারা শুধু ভোট দিতে চায়। আমরা চাই নির্বাচনের দিনে গণভোট হোক। আপনারা সত্যি বলুন, সাধারণ মানুষ কি গণভোট-সনদ বোঝেন?
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সব সংস্কারে আমরা রাজি আছি, যাতে রাজি হবো না, তা সংসদে গিয়ে পাস হবে।
গণহত্যা ও গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালেও গণহত্যা হয়েছে, ২০২৪ সালেও হয়েছে। পার্থক্য হলো, সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে, আর এবার আমার দেশের ফ্যাসিস্ট নেতারাই আমাদের ওপর, আমাদের সন্তানদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি দুর্বলতা অনুভব করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তার কণ্ঠ আটকে যায়, তিনি কাঁপতে থাকেন। এ সময় তিনি পাশে থাকা নেতা-কর্মীদের তাকে ধরতে বলেন। পরে উপস্থিত সবার অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে বক্তব্য শেষ করেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, জেলা সদর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২০৭ দিন আগে
সালাউদ্দিন আহমদের অনুরোধে অনশন ভাঙলেন আমজনতার তারেক রহমান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান।
রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাচন ভবনের মূল ফটকে এসে তিনি তারেকের অনশন ভাঙান।
এ সময় তিনি তারেককে বলেন, আগামীকাল আপিল আবেদন করবে। আর এর মধ্যে কয়েকটি অফিস সংস্কার করবে। এখন তোমার অনশন ভাঙা উচিত।
এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নির্বাচন ভবনের সামনে থেকে নিয়ে যান তার সমর্থকরা।
গত ৪ নভেম্বর ইসি তিনটি নতুন রাজনৈতিক দলকে—বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিবন্ধন না পাওয়ায় ওই দিন বিকেল ৪টা থেকেই ইসির ফটকের সামনে অনশন শুরু করেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান।
আজ (রবিবার) সকাল থেকেই তারেক রহমানের স্যালাইন চলছিল। তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় শুয়েই কাটিয়েছেন। মাঝে মাঝে উপস্থিত লোকজনকে ডেকে তিনি নিজ দলের কাগজপত্র দেখিয়ে অভিযোগ করেন, নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও ইসি তাদের নিবন্ধন দিচ্ছে না।
দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইসির পক্ষ থেকে একজন যুগ্ম সচিব এসেছিলেন আমার অনশন ভাঙাতে। কিন্তু নিবন্ধন না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।’
গত ৫ নভেম্বর আমজনতা দল কেন নিবন্ধন পায়নি, তা জানিয়ে দলটিকে চিঠি দেয় ইসি। ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য সঠিক আছে। তবে ২২টি জেলার মধ্যে ২টি জেলা এবং ১০০টি উপজেলার মধ্যে ৬৭টি উপজেলায় সঠিক ও কার্যকর অফিস থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব উপজেলা অফিসে ২০০ জন ভোটার সদস্য থাকার তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, আমজনতা দলের নিবন্ধন নিয়ে ইসি নতুন করে ভাবছে কি না—জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ ইসি সচিব আখতার আহমেদ আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কী হবে সেটা আপনারাই ভালো জানেন, আমরা কী বলব?’
তারেকের অনশনের ১২৫ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আনা হলে ইসি সচিব বলেন, ‘৫২২ ঘণ্টা হলেও কিছু করার নেই। নির্বাচন কমিশন কি বিধিমালার বাইরে যেতে পারে? আপনি উত্তর পেয়ে গেছেন।’
পরে বিকেল ৩টার দিকে আখতার আহমেদ বলেন, আইনগতভাবে আমরা যেটুকু আমাদের দিক থেকে বলার, আমরা সেটা বলেছি চিঠির মাধ্যমে। এখন ওনারা আপিল করলে করতে পারেন এবং ঘাটতি যেগুলো আছে, সেগুলো পূরণ করে দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আপিল বা সংশোধনী বা পরিমার্জন, পরিবর্ধন, সময় বর্ধন—এগুলো তো একটা প্রচলিত প্রথা। সেটা নিশ্চয়ই ওনারা বিবেচনায় নেবেন এবং আমি আন্তরিকভাবে আবেদন করব যেন এই অনশন ভঙ্গ করে আমাদের আইনগতভাবে জিনিসটা সুরাহার দিকে নিয়ে যান।
২০৭ দিন আগে
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চীনে বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি’র বৃহত্তর চীন শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ নভেম্বর) চীনের গুয়াংজু শহরে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চায়না বিএনপির নেতা আসিফ হক রুপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চায়না বিএনপির নেতা মো. সাখাওয়াত হোসেন কানন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চায়না বিএনপির নেতা শেখ মাহবুবুর রশীদ, ওয়ালী উল্লাহ ওয়ালী, হাসমত আলী মৃধা জেমস, এস এম আল-আমিন, সালাউদ্দিন রিক্তা ও এস এ শাহীন মল্লিকসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে চীনে বসবাসরত শতাধিক বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন কানন তার বক্তব্যে বলেন, ‘৭ নভেম্বর না হলে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে পেতাম না, হয়তো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জন্মও হতো না। ৭ নভেম্বরের চেতনা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
২০৭ দিন আগে