বিএনপি
অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে: তারেক রহমান
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কিছু সহযোগীর কর্মকাণ্ড দেশের অনেক মানুষের অধিকার ও সুযোগ ক্ষুণ্ন করছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সতর্ক করেছেন যে, দেশ অস্থিতিশীল হলে অতীতে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরায় উত্থানের পথ সুগম হতে পারে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৫’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি জনগণের ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতি দায়বদ্ধ, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। অবশ্যই কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয়।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ফ্যাসিবাদের রোষানল থেকে বাঁচতে ফ্যাসিবাদবিরোধীদের কেউ কেউ ‘গুপ্ত কৌশল’ অবলম্বন করেছিল। একইভাবে পতিত–পরাজিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তিও বর্তমানে ‘গুপ্ত কৌশল’ অবলম্বন করে দেশের গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করে কিনা, সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের আন্দোলনের সঙ্গী কারও কারও ভূমিকা দেশে ‘আপনার, আমার, আমাদের’ বহু মানুষের অধিকার ও সুযোগকে বিনষ্ট করার হয়ত একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, গুপ্ত বাহিনীর সেই অপকৌশল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে, একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় ও বহাল রাখা। সেজন্য বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গীদের সহযোগিতা ও সমঝোতার দৃষ্টিভঙ্গি সমুন্নত রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি বরাবরই ‘একটি শান্তিকামী, সহনশীল, গণমুখী’ রাজনৈতিক দল বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভিন্ন দল, ভিন্ন মতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা, এটি বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। দেশের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই বিএনপির রাজনীতি বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। অবশ্যই কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয় এবং এই কারণেই বিএনপি এ সরকারের প্রতি কোনো রকম চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে বরং ভিন্নমতের জায়গাগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট, এটাকে বিএনপি ডিসেন্ট ওয়ে বলে মনে করে।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে স্বল্প আয়ের মানুষদের সহায়তার জন্য ৫০ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে ঘোষণা করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাষাশিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে এবং বিদেশে কাজের ব্যবস্থার পরিকল্পনা আমরা এর মধ্যে হাতে নিয়েছি।’
ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বনির্ভর করে তুলতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের বন্ধনই আমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সৌন্দর্য।’ এই বৈচিত্র্যময় সমাজে ঐক্যসূত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে এই বাংলাদেশে আপনার যতটুকু অধিকার, আমারও ঠিক ততটুকুই অধিকার। কারও বেশি, কারও কম, তা নয়।’ এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আহ্বায়ক সোমনাথ সেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবিগুলো বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সদস্যসচিব কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, হিন্দু ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ।
২০৮ দিন আগে
সংবিধানে গণভোট নেই: আমীর খসরু
বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কথায় কথায় রাস্তায় নামার প্রবণতা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিরত থাকতে হবে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এক ডায়লগে তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানের আলোকে গঠিত হয়েছে এবং তারা এই সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছেন। এই সংবিধানে গণভোটের কোনো ধারা নেই। ভবিষ্যতে সংসদের মাধ্যমে তা সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনি দাবি নিয়ে রাস্তায় যাবেন, সেটা হবে না। আপনাদের দাবি নিয়ে মাঠে যাবেন, এর বিপরীতে যদি দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দেয় তাহলে সংঘর্ষ বাঁধবে না?’
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেমন জানি একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কনসেনসাসের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের ৩১ দফার অনেক বিষয় এখনো ঐক্যমতের মধ্যে আসেনি, কিন্তু তাই বলে কি আমি রাস্তায় নামবো? আমি জনগণের কাছে যাব।’
‘ঐক্যমতের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই—এটাই বাস্তবতা। অধ্যায়টি আপাতত বন্ধ। নিজের চিন্তাভাবনা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি ক্ষমতায় এলে তারপর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিন।’
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে এই রাজনীতিক বলেন, ‘ঘটনাটি একটি দলের ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। তবে যারা নির্বাচন পেছাতে চায়, তারাই এ ঘটনার পেছনে আছে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’
অর্থনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির সময়ে কখনো শেয়ারবাজারে ধস নামেনি, অর্থনীতি ছিল শক্তিশালী। আমরা প্রাইভেট সেক্টরকে অগ্রাধিকার দিতাম, এবং ভবিষ্যতেও তা করব। আমরা এমন ব্যবস্থা করব যাতে জনগণ ঘরে বসেই লাইসেন্স পেতে পারে। যত বেশি জনগণকে ক্ষমতায়ন করা যাবে, তত বেশি দেশের উন্নয়ন হবে। দলের ক্ষমতায়ন নয়, জনগণের ক্ষমতায়নই আসল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন করেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আমরা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব। এটি হবে জনগণের অধিকার, দয়ার দান নয়।’
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।
২০৮ দিন আগে
আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার চক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর আজকে বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমভাবে একটা প্রচেষ্টা চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে।
‘এই মুহূর্তে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমাদেরকে সেই পথেই যেতে হবে, যে পথে সত্যিকার অর্থে আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারব, একটা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারব, জনগণের ভোটের অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারব, বিচারের অধকারকে নিশ্চিত করতে পারব, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’
৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে এই রাজনীতিক বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং দেশপ্রেমিক মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদের চক্রান্তকে বানচাল করে দেয় এবং এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মহানায়ক রাষ্ট্রনায়ক স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গৃহবন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এটা ছিল বাংলাদেশের অগ্রগতির একটা টার্নিং পয়েন্ট।’
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালুর মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদসহ মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ড্যাব, এ্যাব, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা আলাদা আলাদাভাবে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
২০৯ দিন আগে
‘আমজনতার দল’ নিবন্ধনে তারেকের অনশনে বিএনপির সংহতি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে অনশনরত তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারেক রহমান যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, সেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন অবশ্যই তার প্রাপ্য।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে অনশনরত তারেক রহমানের প্রতি সংহতি জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘তারেকের রাজনৈতিক দল “আমজনতার দল”, তাদের নিবন্ধনের জন্য কমিশনে ইতোমধ্যে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনটা গ্রাহ্য করা হয়নি। আমি দেখেছি, আরও গুরুত্বহীন কিছু সংগঠন আমার কাছে মনে হয়েছে, তারাও নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু তারেকেরটা দেওয়া হলো না কেন—আমি এটা বুঝতে পারলাম না। তারেক এই দেশের স্বার্থে কথা বলেছে। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কথা বলেছে।’
তিনি বলেন, ‘সে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং তার বৈধতার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। সে কোনো গোপন রাজনৈতিক দল করতে চায়নি। সে আইনসম্মত রাজনৈতিক দল করতে চেয়েছে। যদি তার উদ্দেশ্য খারাপ থাকতো তাহলে গোপন রাজনৈতিক দল করে রাষ্ট্রবিরোধী অনেক কার্যকলাপ করতো। কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপতো করেইনি বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে দেশের স্বার্থে স্বাধীনতার স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে সে কথা বলেছে। কিন্তু তার নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না...তাহলে আপনারা (ইসি) কাদের নিবন্ধন… আমি জানি না।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘কাউকে আমি ছোট করতে চাই না। কিন্তু তার যে চিন্তা এবং রাজনৈতিক যে সংগ্রাম এবং কর্মসূচি সেই অনুযায়ী সে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। সেই দলের নিবন্ধন অবশ্যই তার প্রাপ্য। ন্যায়সঙ্গত কারণে যে অনশন করছে... তার ৫০ ঘণ্টার অনশন, এই অনশন কর্মসূচির প্রতি আমি বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করছি।’
২০১৮ সালে নুরুল হক নূর নেতৃত্বাধীন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে তারেকের উত্থান ঘটে। পরে তিনি নূর গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেন। দলটি ভেঙে দুই ভাগ হলে তারেক যান ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশে।
পরবর্তীতে দুই অংশ আবারও একীভূত হয়, তবে সেই সময় তারেক নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কবাসী) ও ডেসটিনির রফিকুল আমীনের আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অধিকতর তদন্তে বাদ পড়ে ১১টি দল। এরপর থেকেই ইসির ভবনের সামনে অনশন করছেন তারেক।
নিবন্ধন না দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বলছে, ইসির শর্ত অনুযায়ী দু’টি জেলা ও ৬৭টি উপজেলায় কার্যক্রম ও সক্রিয়তা না পাওয়ায় আমজনতা দলকে নিবন্ধন দেওয়া যায়নি। তবে সব জায়গার কার্যক্রম সক্রিয় আছে জানিয়ে তারেক অভিযোগ করেছেন, ইসির তদন্ত কর্মকর্তারা সঠিক প্রতিবেদন দেননি।
সংস্থাটির নির্বাচন সহায়তা শাখার উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম এই কারণ উল্লেখ করে এরই মধ্যে দলটির সভাপতি কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামানকে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০ এপ্রিল আম জনতার দল আবেদন করলে দলের ব্যাংক হিসাব, তহবিলের উৎস, ৩৩ শতাংশ নারী অংশগ্রহণসহ প্রভৃতি তথ্য না থাকায় ১৫ জুলাই ঘাটতি পূরণের জন্য বলা হয়। দলটি সে অনুযায়ী সাড়া দেয়। তদন্তের পর অধিকতর যাচাই হয়। সে সময় নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক ২২টি জেলার মধ্যে দুটি জেলা কার্যালয় এবং ১০০টি উপজেলা কার্যালয়ের মধ্যে ৬৭টি কার্যালয় ও ২০০ ভোটার সমর্থক পাওয়া যায়নি।
এই অবস্থায় ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর বিধি ৭-এর উপবিধি (৬) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আম জনতার দল (এজেডি) নামীয় দলের আবেদন নামঞ্জুরপূর্বক নিষ্পত্তি করেছে।
২১০ দিন আগে
চট্টগ্রামে গণসংযোগ চলাকালে বিএনপির প্রার্থী গুলিবিদ্ধ, নিহত ১
চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ ২ জন। এ ছাড়া সরোয়ার বাবলা নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর বায়োজিদ থানার পূর্ব বায়েজিদের হামজারবাগ (চালিতাতী) এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
গুলিবিদ্ধ এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনের জন্য তাকে মনোনীত করেছে বিএনপি।
আহত অপর ব্যক্তি নাম শান্ত। তিনি যুবদল নেতা বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তাদের নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি বলছে, নিহত সরোয়ার তাদের দলের কেউ নন। জনসংযোগে শত শত লোক অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ একজন হতে পারেন তিনি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তার প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেনকে গুলি করা হয়েছে।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। গোলাগুলির ঘটনায় সেখানে ভয় ও উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
২১১ দিন আগে
মনোনয়নের জেরে সহিংসতা: সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪ নেতাকে বহিষ্কার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও সড়ক অবরোধে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বাবর, সীতাকুণ্ড পৌরসভার আহ্বায়ক মো. মামুন, যুবদলের সোনাইছড়ীর সাধারণ সম্পাদক মমিন উদ্দিন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার পরে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কদমরসুল, ভাটিয়ারী বাজার, জলিল গেট এলাকায় সহিংসতা, হানাহানি ও রাস্তা অবরোধসহ নানাবিধ জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় ওই চার নেতাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতারা বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম-৪ আসনে মনোনয়ন পাননি।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের চেয়ারপারসনের অফিসে ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২১২ দিন আগে
২৩৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী–০১, বগুড়া–০৭ ও দিনাজপুর–০৩ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষণা অনুসারে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করবেন বগুড়া-৬ আসনে। আর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে।
মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি সেগুলো পরে ঘোষণা করা হবে। এর বাইরে কিছু আসন শরিকদের ছাড়া হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পরে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। বিএনপির পক্ষ থেকে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সারা দেশে সব ইউনিটে কাজ শুরু করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের মধ্যে যেসব আসনে তাদের প্রার্থী দিতে চান, সেখানে আমরা প্রার্থী দিইনি। তারা এসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।
২১৩ দিন আগে
বিএনপির দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তে বৈঠক শুরু
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। বৈঠকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। বৈঠক শেষে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির জেলা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দল ও জোটের একক প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা।
এমন এক সময়ে এই বৈঠকের ঘোষণা এসেছে, যখন এর একদিন আগে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান ঘোষণা দেন যে শিগগিরই দলীয় প্রার্থীদের নাম পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দল যাকে যে আসনে মনোনীত করবে, তাকে বিজয়ী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওত পেতে রয়েছে। সুতরাং নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ, বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না যাতে প্রতিপক্ষ আপনাদের মধ্যকার বিরোধের সুযোগ নিতে পারে।’
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান গত দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিভাগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি সব মনোনীত প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র আরও জানায়, প্রথম ধাপের মনোনয়ন তালিকায় প্রায় ২০০টি আসনের প্রার্থী থাকতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় দুই শত আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি মনোনীত ও অমনোনীত সব প্রার্থীকে দলীয়ভাবে অনুমোদিত প্রার্থীর পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২১৩ দিন আগে
তৃণমূল ও মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারে বিএনপির ৭ কমিটি
মূলধারার মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতে সাতটি টিম গঠন করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে নতুনভাবে একজন তত্ত্বাবধায়ক ও সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দলটি, যা ইতোমধ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সাত টিম ও টিম প্রধানের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই সমন্বিত কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ ছাড়া মুখপাত্র (স্পোকসপারসন) করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনকে। আর প্রেস দেখাশোনা করবেন সাংবাদিক সালেহ শিবলী।
টেলিভিশন ও রেডিও সমন্বয় করবেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের যে নেটওয়ার্ক, তার নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক তত্ত্বাবধান করবেন দলটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপোলো। কনটেন্ট জেনারেশন তত্ত্বাবধান করবেন ড. সাইমুম পারভেজ এবং রিসার্চ ও মনিটরিংয়ের বিষয়টি দেখবেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা রেহান আসাদ।
২১৫ দিন আগে
জুলাই সনদে সই না করা অংশের দায় নেবে না বিএনপি: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদে তার দল যে অংশে সই করেছে, শুধু তারই দায়ই নেবেন তারা। পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া কোনো অংশের দায় নেবে না দলটি।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। জুলাই সনদে আমরা যে অংশে সই করেছি, তার দায়দায়িত্ব আমরা নেব। কিন্তু যেটা আমরা সই করিনি, সেটার দায় আমরা নেব না।’
শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বৃষ্টির মধ্যে সংসদ ভবনের সামনে আমরা সনদে সই করার সময় বলেছিলাম, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে, সেগুলো সই হবে। যেসব বিষয়ে একমত হবে না, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই নোট অব ডিসেন্টের কোনো উল্লেখই নেই। আমাদের বক্তব্যগুলো বেমালুম বাদ দেওয়া হয়েছে, বরং নতুন কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে—এটা জনগণের সঙ্গে নিঃসন্দেহে প্রতারণামূলক কাজ।”
তিনি বলেন, ‘একটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা একটা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছি…আমরা রাস্তায় নামিনি, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো প্রতিবাদ করিনি, আমরা প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি ঘেরাও করিনি বা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করিনি।’
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল, তারা একটা জোট বানিয়ে আবার সেটা করছে… বিভিন্নভাবে আপনার এই সরকারকে তারা বাধ্য করতে চায় যে, তাদের কথাটাই শুনতে হবে। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার—আমরা যেটা সই করেছি, সেটা অবশ্যই আমাদের আমরা সেটার দায় দায়িত্ব গ্রহণ করব। কিন্তু যেটা আমরা সই করিনি, সেটার দায় দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করব না। আমরা চাই, এই বিষয়গুলো একটু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হোক।
“অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি মহল একাত্তরকে ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু সেটি করার সুযোগ নেই। কারণ, একাত্তরেই আমাদের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা মুক্তিযুদ্ধকে ‘গোলমাল’ বলেছিলেন। জাতি সেটা ভোলেনি।”
অভ্যুত্থানের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হলে অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠারও সাহস পেত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফায় সব সংস্কার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরাই সংস্কারের পক্ষে। পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে কি না। পিআর না হলে নির্বাচন হবে না— এ কথা বলে মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।’
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যেটা প্রস্তাব করেছেন (প্রধান উপদেষ্টা) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, তখনই নির্বাচন হতে হবে।’
গণভোটের বিষয়ে এই রাজনীতিক বলেন, ‘গণভোটের কথা বলেছে, আমরা রাজি হয়েছি। গণভোটের প্রয়োজন ছিল না, তারপরও রাজি হয়েছি। আমরা বলেছি যে, নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে। কারণ, আলাদাভাবে গণভোট করতে হলে থেকে আরও খরচ বেড়ে যাবে; প্রায় হাজার কোটি টাকার উপরে সেই খরচ হবে।
‘নির্বাচনে দুটো ব্যালট থাকবে, একটি ব্যালট গণভোটের, আরেকটি ব্যালট নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচনের। এখন তারা বলছেন, গণভোট আগে হবে, তারপরে নির্বাচন। এই নির্বাচন পেছানোর কথা আপনারাই বলছেন।’
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভারতে বসে শেখ হাসিনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। একবারের জন্যও তিনি তার কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। আজ তিনি অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দিন। বাংলাদেশের আইনে যে বিচারের মুখোমুখি তাকে হতে হবে, সেই বিচারের মুখোমুখি করার ব্যবস্থা করুন। সবসময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করবেন না, বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নজমুল হক নান্নু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির মিজানুর রহমান প্রমুখ।
২১৫ দিন আগে