বিএনপি
কিছু দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: সালাহউদ্দিন
কিছু দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার জানা মতে, এনসিপি এবং চারটি বাম রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যেতে পারেনি। বলব না, স্বাক্ষর করেনি; স্বাক্ষর করার সুযোগ উন্মুক্ত আছে। আশা করি, তারা ভবিষ্যতে সনদে স্বাক্ষর করবেন। আগামী নির্বাচনের জন্য এটা বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সহনশীলতা সবার মধ্যে আসবে। হয়তো তাদের কিছু দাবি দাওয়া আছে। সেটা সরকারের সঙ্গে আলাপ করবে। এক পর্যায়ে তারাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর গণতন্ত্রের মধ্যে তো সবাই একমত হবে এমন তো নয়। সেটা উন্মুক্ত আছে। ভিন্ন মত থাকতেই পারে।’
এ সময় ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তি’ এখনো নানা উপায়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা নামে একটি সংগঠন আমাদের ও ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের একটা যৌক্তিক দাবি ছিল। সেই যৌক্তিক দাবিটা পূরণের জন্য আমি নিজেও স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম। এবং সেটা ঐক্যমত কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ সঠিকভাবে এড্রেস করেছেন, সেটা প্রেসে বলেছেন এবং সংশোধন করেছেন। এরপরও তাদের অসন্তোষ থাকার কথা নয়।
‘যে সমস্ত বিশৃঙ্খলা হয়েছে আমরা খোঁজ নিয়েছি। এটা তদন্তনাধীন আছে। দেখা গেছে, এখানে জুলাই যোদ্ধাদের নামে কিছু সংখ্যক ছাত্র নামধারী, কিছু সংখ্যক উশৃঙ্খল লোক ঢুকেছে। সেটা ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট বাহিনী বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী যে এখনো সমস্ত জায়গায় এই বিভিন্ন ফাঁক-ফোকরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তা দৃশ্যমান হয়েছে। আমার মনে হয়, এখানে এটির সঙ্গে কোনো সঠিক কোনো জুলাই যোদ্ধা বা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে না।’
এর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
২২৯ দিন আগে
শিক্ষকদের আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে তাদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে সহমত পোষণ করেছে বিএনপি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপুর সই করা এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সাথে নীতিগতভাবে একমত।
তিনি বলেন, সর্বস্তরের শিক্ষকদের জন্য আমাদের অগ্রাধিকার হলো— যুক্তিসঙ্গত আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তাসহ চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও রাজনীতির সংস্কার কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমরা যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের আর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, তবে শিক্ষকদের যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনকে পুঁজি করে পতিত স্বৈরাচারের সহযোগীরা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কোনো নমনীয়তা প্রদর্শন করবে না।
২২৯ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় ৪ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন থেকে একযোগে চার শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন।
ফুলের মালা পরিয়ে নবাগতদের দলে বরণ করে নেন জামায়াত নেতারা। এ সময় বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সলকসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিনের হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদ, সহকারী সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাসুদ অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আমান উদ্দিন।
২৩২ দিন আগে
বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, দেশটাকে বাঁচান: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর আমি নিজেই বুঝি না। জনগণ বুঝবে কী! গণভোট হতে হবে বা পিআর হতে হবে, না হলে ভোট হবে না— এইগুলো বাদ দেন। দেশের মানুষ একটি নির্বাচন চায়। পিআর দেশের মানুষ বোঝে না। পিআরটা আবার কি? আগে ভোট হোক, তারপর কার কী দাবি আছে সেটা সংসদে গিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আপনারা দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না।’
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যে সব মতে দলগুলো একমত সেগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, বাকি মতের জন্য গণভোট হবে। দয়া করে নির্বাচনটা দিয়ে এসব অস্থিরতা কাটান। আর হিংসার রাজনীতি চাই না, হিন্দু-মুসলিমের বিভেদ চাই না; সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অতীতে সরকারে ছিলাম, কীভাবে পরিচালনা করতে হয় জানি। বিএনপি নির্বাচিত হলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যকটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনি নির্বাচিত হবেন। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশটার ক্ষতি করবেন না। একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠান দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো মনে হয় না। আপনাদের দাবিদাওয়াগুলো আপাতত বন্ধ রাখুন। আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। পিআর নিয়ে মিছিল-মিটিং বন্ধ করুন। দয়া করে নির্বাচনটা হতে দিন। বাংলাদেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের অস্থিরতা কাটুক। আপনাদের কাছে অনুরোধ, সঠিক সিন্ধান্ত নিন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবর সংস্কার সনদে সই হবে। কিসের সংস্কার? সংস্কার কাকে বলে? কী কঠিন কঠিন শব্দ! তারপরও আমরা করছি। কারণ সংস্কার হলো ঘরের টিন বদলানোর মতো। ঘরের দরজা বা টিন যেমন কয়েক বছর পরপর বদলাতে হয়, তেমনি রাজনীতিতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও ছাত্ররা মনে করেছে দেশটাকে ঠিক করতে হলে সংস্কার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি চাই না। আমরা চাই একটি শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার সবাই মিলে সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি ১১ বার কারাগারে গেছি। শেখ হাসিনা আমাকে ভয় করত, যে কারণে কারাগারে পাঠাত। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের অনেক ছেলে প্রাণ দিয়েছে। তাই আসুন সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করি।’
এ সময় গড়েয়া ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমতভক্তিবিনয় স্বামী মহারাজ, লসকরা গৌড়ীয় মঠ এর ধর্মীয় গুরু স্বামী ভক্তিকেতন মহারাজ, বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গড়েয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম রেদো।
২৩২ দিন আগে
দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন তারেক রহমান: আমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় আমান উল্লাহ আমান এ কথা বলেন। ডেমোক্রেটিক লীগের প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন ইনশাল্লাহ হবেই। আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে এসে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি থাকবেন, তিনিই নেতৃত্ব দেবেন।’
ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলন নিয়ে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎবাণী সত্য হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, তারেক রহমান যে কথাগুলো বলেছিলেন সেই কথাগুলো সত্য হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, দেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে। ফয়সালা কিন্তু রাজপথেই হয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্ত করছে। স্বাধীনতার সময় যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তারা আজকে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির নামে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচন বানচাল করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন দেখেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী, এরশাদবিরোধী আন্দোলন দেখেছেন, এতে সবচেয়ে বেশি দুর্যোগে, দুর্বিপাকে, দুঃসময়ে জনগণের পাশে ছিল জিয়া পরিবার, পাশে ছিল বিএনপি।’
সভায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিশেষ করে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ডেমোক্রেটিক লীগের প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ভূমিকার কথা স্মরণ করেন আমানউল্লাহ আমান।
২৩৪ দিন আগে
পিআর পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করলেন মঈন খান
‘পিআর পদ্ধতি দলীয় কিছু আসন বৃদ্ধি ছাড়া, জনগণের জন্য কোনো সুবিধা নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৌচাকে কসমস সেন্টারে আয়োজিত ‘ইলেকশন ২০২৬: অ্যা ক্রিটিক্যাল লুক অ্যাট প্রোপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই প্রশ্ন তুলেন। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)।
তিনি বলেন, ‘আমি কেন পিআর চাচ্ছি? একটু যদি আমরা খোলাখুলি যদি বলি, পিআরটা চাচ্ছি এই কারণে যে, আমি পার্লামেন্টে কিছু বেশি সিট (আসন) পাবো, এর বাইরে কিছু নাই। এখন আমি পার্লামেন্টে অধিকতর ক্ষমতাবান হবো, অধিক সিট পাবো সেই কারণে মানুষের মৌলিক যে দাবি সেটাকে আমি অগ্রাহ্য করব, এটা তো গণতন্ত্রের ভাষা নয়। কাজেই সেই দিক থেকে এটা সেলফ কনট্রাডিক্টরি।’
মঈন খান আহ্বান করেন, ‘আসুন, আমরা মানুষের কল্যাণ আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করি, এখানে খোলা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
আবদুল মঈন খান বলেন, ‘দেখুন, পিআর করার অর্থটা কি? পিআর হচ্ছে আপনি ব্যক্তির যে অবস্থান সেটাকে দুর্বল করে দলের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে অর্থাৎ মানুষ ভোট দিবে দলকে এবং দল নির্ধারণ করে দেবে কে প্রার্থী হবেন।’
তিনি বলেন, ‘তাহলে কি হচ্ছে? আমাদের যে মৌলিক চিন্তাধারা যে, জনগণ তাদের প্রতিনিধি থাকবে এবং জনগণের প্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে সেইটা তো তাহলে আর থাকছে না।
মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক ইতিহাস আমরা বিগত ৫৪ বছরে দেখেছি, যখনই দল বেশি শক্তিশালী হয়ে গেছে তখনই কিন্তু জনগণের জন্য দুর্যোগ নেমে এসেছে।’
কসমস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউএনবির সম্পাদক-ইন-চিফ এনায়েতউল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, গণঅধিকারের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া প্রমুখ।
২৩৬ দিন আগে
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়ে গণভোটের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকে কে দিয়েছে, প্রশ্ন খসরুর
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়ে গণভোট করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকে কে দিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৌচাকে কসমস সেন্টারে আয়োজিত ‘ইলেকশন ২০২৬: অ্যা ক্রিটিক্যাল লুক অ্যাট প্রোপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘পিআরের জন্য আমাকে গণভোটে যেতে হবে কেন? আমাদের তো প্রত্যেকটি দলের অনেকগুলো ইস্যু আছে যেগুলোতে ঐক্যমত হয়নি।’
আমির খসরু বলেন, ‘প্রথমত, এই দায়িত্ব আমাদেরকে কে দিয়েছে? আমাদেরকে জনগণ গণভোট করার দায়িত্ব দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ প্রায় ১৪ মাস ধরে নির্বাচনহীন একটি সরকারের হাতে আছে। বর্তমান সংবিধানের আওতায় নির্বাচন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে এবং জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে হবে—তারা পিআর চায় নাকি প্রচলিত ব্যবস্থায় নির্বাচন চায়। তাই আগে আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার, নির্বাচিত সংসদ গঠন করতে হবে, তারপর প্রত্যেকটি দল তাদের বিষয়গুলো নিয়ে জনমত তৈরি করতে পারবে এবং জনগণের কাছে যেতে পারবে।’
পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকা দলগুলোর উদ্দেশে খসরু বলেন, ‘যারা পিআর চান, তাদের উচিত জনগণের ম্যান্ডেট আনা। ৩০টি রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা করে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি। জনগণ কী চায়, সেটি নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারণ করবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ পিআর চায়, এমন কোনো জনসমর্থন তারা দেখাতে পারবে না। কমিশনের আলোচনায়ও এ নিয়ে স্পষ্ট কিছু নেই। তাহলে এই গণভোটের দাবি কেন?’
২৩৬ দিন আগে
বিএনপি কোনো অবস্থাতেই পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে বিশ্বাসী নয়: এ জেড এম জাহিদ হোসেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি কোনো অবস্থাতেই পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে বিশ্বাসী নয়। যারা আজ পিআরের কথা বলছেন, তারা জনগণের কাছে গিয়ে দেখতে পারেন জনগণ কি চায়। কোনো অবস্থাতেই দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য একটি পদ্ধতিকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুর স্মরণ সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, যারা নতুন নতুন কথা বলে নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে প্রলম্বিত করার বাহানা খুঁজছেন, তারা খুঁজতেই পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বিগত ৫৪ বছর ধরে সরাসরি ভোট দেওয়ার অভ্যস্ত। বাংলাদেশের সংবিধানে রয়েছে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করার বিধান। এতেই জনগণ বিশ্বাস করে।
তিনি আরও বলেন, পিআরের কথা যারা বলছেন, তারা চাইলে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে তা উল্লেখ করতে পারেন। দেশের জনগণ যদি তাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন তারা পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে পারেন। তবে বিগত ৬০ বছরের ইতিহাসে তাদের কতজন প্রতিনিধি সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল ছিলেন, তা জনগণ ভালোভাবে জানে। বিএনপি মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চলমান পদ্ধতিতে নির্বাচন করা উচিত।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাই নির্বাচনের আগে জননেতা তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।
নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে ডা. জাহিদ বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। জনগণের আস্থাভাজন হাজার হাজার প্রার্থী রয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ড যথাসময়ে দলীয় মনোনয়ন দেবেন। নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণা করবে, তার আগে বা পরে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মহল প্রার্থী ঘোষণা করবে। জনগণের আগামী বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যাদের প্রয়োজন মনে হবে, তাদের নাম যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে তার ঘোষণা দিয়েছেন। পরে নির্বাচন কমিশনও রোড ম্যাপ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি বিশ্বাস করে, মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
এনসিপির প্রতীক নিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল বলেন, অন্যরা প্রতীকের জন্য দাবি জানাতে পারে। তবে জনগণ ইতিমধ্যে প্রথাগত প্রতীক নিয়ে ভোট দিয়েছে, তাই নতুন প্রতীকের প্রতি আপত্তি শোভনীয় নয়।
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। একটি আসনে এমপি হওয়ার যোগ্যতা রাখে এমন ১০–১২ জনও প্রার্থী থাকতে পারে। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামুসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
২৩৭ দিন আগে
একটি বিশ্ব মোড়ল ও দুটি আঞ্চলিক শক্তি দেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে: সালাহউদ্দিন
একটি বিশ্ব মোড়ল ও দুটি আঞ্চলিক শক্তি দেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে যে বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত তা হচ্ছে, পৃথিবীতে তিনটি শক্তি আমাদের এখানে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। দুটি আঞ্চলিক শক্তি, পরাশক্তিও বটে তারা এবং একটি বিশ্ব মোড়ল। সবাই এখানে একটা হেজিমনি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। প্রত্যেকের ইন্টারেস্ট আলাদা আলাদা। কিন্তু আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তিনটির দ্বারা একইভাবে।’
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ‘মত প্রকাশ থেকে মৃত্যু: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও প্রতিরোধ' শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।’
আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাসিত জীবনে এই একটি ঘটনায় এত বেশি ব্যতীত হয়েছিলাম, চিন্তা করেছিলাম বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্ররা, যারা বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে, জনগণের পক্ষে, দেশের পক্ষে কথা বলে, তাদের সংখ্যা তো নেহায়েত কম নয়!’
‘সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম, এভাবে বাংলাদেশে হয়তো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলা যেত কোনো না কোনোভাবে। হয়তো তাকে জেলে যেতে হতো, নির্যাতিত হতে হতো, গুম হতে হতো। কিন্তু ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে জীবন দিতে হতো, এটা আমরা তখন বুঝেছি। সেই কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে, যাতে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা না বলতে পারে। উচ্চকণ্ঠ না হতে পারে।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংগ্রাম একইসূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের সিঁড়ি নির্মাণ করেছি আবরারের মতো শহীদদের রক্ত দিয়ে। ৪২২ জনের বেশি ছাত্র, যুব, বিএনপি নেতাকর্মীর রক্ত এই সিঁড়ির ভিত্তি। এই সংগ্রাম শুধু কোনো দলীয় নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন।’
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে এক থাকার আহ্বান জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ— এই নীতি আমরা এ জন্যই ঘোষণা করেছি যে এই তিনটা শব্দের মধ্যে সারা বাংলাদেশ জীবিত থাকবে। সারা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ নিহিত থাকবে। এই তিনটা শব্দের মধ্যেই আমরা উজ্জীবিত হবো স্বাধীনতার মূল মন্ত্রে। যদি আমরা এ নীতিতে একমত হই, তাহলে জাতি আর পথভ্রষ্ট হবে না।’
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে ছাত্রসমাজকে মেধা, তাত্ত্বিক জ্ঞান ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, ছাত্র সংগঠনগুলো মেধাবীদের নেতৃত্বে আসুক। যারা কলম দিয়ে, চিন্তা দিয়ে, প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। যদি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেয়া যায়, তাহলে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ়ভিত্তি গড়ে তুলবে।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত স্বাধীনতার স্বার্থে অসংখ্য মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আর রক্ত দিতে না হয়, সে লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
‘আমরা চাই না মুক্তির মন্দিরে নতুন প্রাণ বলিদান হোক। কিন্তু যদি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিপন্ন হয়, তাহলে আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত। তবে সেই পরিস্থিতি যেন আর না আসে, সেজন্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
২৪০ দিন আগে
ভারত স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বিরাগভাজন হলে বিএনপির কিছু করার নেই: তারেক রহমান
ভারত যদি স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে দেশের মানুষের বিরাগভাজন হয় তাহলে বিএনপির কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। দুই পর্বের এই সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্বটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।
বিবিসি বাংলার তরফে প্রশ্ন ছিল, পাঁচই আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এবং আপনিও জানেন যে, শেখ হাসিনা দিল্লিতে গেছেন এবং সেখানে আছেন। ভারতের সঙ্গে একটা সম্পর্কের শীতলতা দেখা গেছে, গত এক বছর ধরে। যেমন ধরুন সেটি যাওয়া আসার ক্ষেত্রে ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা রকম, সেই ক্ষেত্রে কি কোনো পরিবর্তন আপনার সরকারে আসলে হবে বা পরিবর্তনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন, এমন কোন চিন্তা কি আপনাদের আছে?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘এখন তারা যদি স্বৈরাচারকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সঙ্গে শীতল থাকবে। সো, আমাকে আমার দেশের মানুষের সঙ্গেই থাকতে হবে।’
বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক ছিল, সেটা নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। তো ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আপনাদের নীতি কী হবে?— এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।
তার ভাষ্যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। এখানে তো আপনি পার্টিকুলার (সুনির্দিষ্ট) একটি দেশের কথা বলেছেন। এখানে ওই দেশ বা অন্য দেশ তো বিষয় না। বিষয় তো হচ্ছে, ভাই, বাংলাদেশ আমার কাছে আমার স্বার্থ; আমি আগে আমার দেশের মানুষের স্বার্থ দেখব, আমার দেশের স্বার্থ দেখব। ওটাকে আমি রেখে, আপহোল্ড করে, যা যা করতে পারব, আমি তা-ই করব।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘অবশ্যই আমি আমার পানির হিস্যা চাই। অবশ্যই আমি দেখতে চাইনা না যে, আরেক ফেলানী ঝুলে আছে। অবশ্যই আমরা এটা মেনে নেব না।’
বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে তার কাছে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রসঙ্গে আপনি বলছেন যে, পানির হিস্যা চাওয়া এবং সীমান্ত হত্যার বিষয়টি নিয়ে আপনারা সোচ্চার থাকবেন?
এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘না না, আমি উদাহরণ দিয়ে বললাম। দুটো উদাহরণ দিয়ে বুঝালাম আপনাকে যে, আমাদের স্ট্যান্ডটা কী হবে। আমরা আমাদের পানির হিস্যা চাই। অর্থাৎ আমার দেশের হিস্যা, মানুষের হিস্যা আমি চাই, হিসাব আমি চাই। আমার যেটা ন্যায্য সেটা আমি চাই। অবশ্যই ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমি বুঝাতে চেয়েছি যে, আমার মানুষের ওপরে আঘাত আসলে অবশ্যই সেই আঘাতকে এভাবে আমি মেনে নেব না।’
২৪০ দিন আগে