বিএনপি
জামায়াতে ইসলামীকে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে বললেন বিএনপি নেতা
জামায়াতে ইসলামীকে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জ্বল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফারুক বলেন, আজকে দেখলাম একটা পত্রিকায় যে, জনগণ যদি না চায় পিআর (সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি) দরকার নাই। আল্লাহ মাবুদ, আজকে পবিত্র জুম্মার দিন, আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন।
তিনি বলেন, আমি তাদের (জামায়াতে ইসলামী) বলব, দয়া করে আস্তে আস্তে রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করেন। জনগণের কাছে ক্ষমা চান। অতীতের ইতিহাসে দোষত্রুটি থাকলে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে আসেন।
বিএনপি নেতা আরও বলেন, জামায়ত নির্বাচনের সময়সীমা বাড়ানোর বিভিন্ন দাবি করছে, কিন্তু একদিকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াত একদিকে বলছে পিআর না হলে নির্বাচনে যাব না, অন্যদিকে গণভোট ছাড়া নির্বাচনে যাব না। আবার তিনশত প্রার্থী ইতোমধ্যে ঘোষণা করে মসজিদে মসজিদে প্রচার শুরু করে দিছে। ঘরে ঘরে শুরু করে দিছে, বেহেস্তে নিয়া যাব যদি দাঁড়ি পাল্লাকে ভোট দাও।
ফারুক বলেন, জামায়তের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন নয়। ‘আমি আমার এলাকার মানুষকে বলেছি, কোনো কিছু করার দরকার নাই। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। জনগণ জানে, শহীদ জিয়ার দল, বেগম খালেদা জিয়ার দল, তারেক রহমানের দল যতবারই ক্ষমতায় ছিল, বিশ্বাস ঘাতকতা করেনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে, বাংলাদেশে আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নাই জনগণকে হারাতে পারে। কারণ বিএনপিই হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের দল।
পড়ুন: মৌচাকে লড়ির ধাক্কায় শিশুসহ ৫ জন আহত
ফারুক বলেন, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারিক রহমান জুলাই-অগাস্টের ছাত্র আন্দোলনকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সর্বাত্মক সমর্থনে সফল করেছেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষক পরিষদ এর সভাপতি শেখ শামীম হাসান অনিক।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানা পদ্ধতি, নানা কায়দা, পিআর, মব সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব নির্বাচনের পথে বাধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা একটি পরিকল্পনা।
ফারুক অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আবারো দিল্লির প্ররোচণায় বাংলাদেশের কিছু লোক যদি আবার আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেন, জনগণ প্রতিহত করবে।
ফারুক আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার জন্য ১৬ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছতে পারেনি। পাথর মেরে ছবি ভেঙে ফেলা যায়, কিন্তু হৃদয় থেকে নাম মুছে ফেলা যায় না।
২৭২ দিন আগে
খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদায়ী ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: জন্মদিনে খালেদা জিয়াকে প্রধান উপদেষ্টার ফুলেল শুভেচ্ছা
তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত মেরিকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
২৭৪ দিন আগে
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ডাকসুতে ছাত্রদল বিজয়ী হবে: রিজভী
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলই বিজয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও র্যালির আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদল হলো আন্দোলন, সংগ্রাম ও নীতি-আদর্শের দল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা যদি অবাধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে ছাত্রদলের প্যানেলই জয়ী হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে দাবি রিজভীর।
তিনি বলেন, এখন হঠাৎ করে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অনেক কথা বলছে। পিআর পদ্ধতি কী? কোনো জনগণ বলতে পারবে? গ্রামের মানুষ, এ দেশের সাধারণ মানুষ বলতে পারবে? এটা কখনও ব্যবহার করা হয়নি। এটি তো জনগণ চায় না।সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, আপনারা কি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চান? সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা না না বলে স্লোগান দেন।
জনগণ সরাসরি পদ্ধতিতেই নির্বাচন চায় বলে দাবি করেন রিজভী।
তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খোন্দকার আবু আশফাক এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়।
পরবর্তীতে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোহার উপজেলা বিএনপির আয়োজনে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
২৭৪ দিন আগে
গণতান্ত্রিক অগ্রগতি না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ: খসরু
গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরেও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরতে না পারায় ধীরে ধীরে অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এক বছর আসলে অনেক দীর্ঘ সময়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক আগেই দেশকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরানো উচিত ছিল। এই বিলম্বের কারণে, বাংলাদেশ দিন দিন অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে।’
বুধবার(৩ সেপ্টেম্বর) এক সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খসরু বলেন, ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, তারা আরও ভালোভাবে এগিয়ে যায়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তারা প্রায়শই অর্থনৈতিক পতন, সামাজিক অস্থিরতা এবং কিছু ক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হয়।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যেসব দেশ তাদের অভ্যুত্থানের পরে সমস্যা তৈরি করে, বিভিন্ন দাবি ও অজুহাত তৈরি করে, তারা তাদের গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলে এবং তাদের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। এই দেশগুলোও গৃহযুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে এবং সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আর বিলম্ব না করে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খসরু বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকার এবং জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তুলে ধরে বলেন, উভয়ের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই দূরত্বের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারি কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিরাপত্তার অভাব এবং এমন একটি ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রত্যক্ষ করছি, যা আসলে কার্যকর নয়। কারখানাগুলো নতুন বিনিয়োগ পাচ্ছে না, কারণ এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কেউ তাদের সময়, অর্থ বা সম্পদ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়।’
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা: বাংলাদেশ কোন দিকে হাঁটছে?’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে স্কুল অব লিডারশিপ ইউএসএ (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার)।
খসরু সতর্ক করে দিয়েছিলেন, সঠিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দেশ ইতোমধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় হারিয়েছে, যা বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে আরও গভীরে ঠেলে দিচ্ছে।
পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন এবং আলোচনা আয়োজন করার পরেও তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশ প্রকৃত বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএনপির নেতা বলেন, ‘সাম্প্রতিক এক শীর্ষ সম্মেলনে, নতুন কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি, যদিও বর্তমান অনেক বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন। তবে, এখন, নির্বাচনের সময় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আশার কিছু লক্ষণ দেখতে শুরু করেছি। এটা স্পষ্ট যে বিনিয়োগকারীরা তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নির্বাচনের পরে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
খসরু গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের মানসিকতার পরিবর্তনকে মূল্যায়ন করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর, বাংলাদেশের জনগণের মানসিকতায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাদের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা আকাশছোঁয়া, কিন্তু আমরা যদি এই পরিবর্তনগুলো বুঝতে এবং স্বীকার করতে ব্যর্থ হই- তাহলে রাজনৈতিক নেতা এবং দলগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। আমরা যদি এটি স্বীকার না করি-তাহলে দল, আমার এবং দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কারো ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে না।
বিএনপির এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ভবিষ্যত রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা আন্দোলনের কৃতিত্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যাই—তাহলে বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কৃতিত্ব জনগণের, দেশের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের, ব্যক্তিদের নয়।’
খসরু উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন ও কাজে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, ‘যারা সম্মুখ সারিতে লড়াই করেছিলেন তারা তাদের ভূমিকায় ফিরে আসেন। শিক্ষকরা তাদের স্কুলে ফিরে যান এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজে ফিরে যান। স্বাধীনতা সংগ্রামকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করার ধারণার বাইরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করার সময় এসেছে।’
২৭৪ দিন আগে
হত্যার উদ্দেশ্যেই নুরকে আঘাত করা হয়: মির্জা ফখরুল
আঘাত যারাই করুক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নুরকে দেখতে গিয়ে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে তা হলো, যারাই আঘাত করুক, নুরুল হক নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই যে আঘাত করা হয়েছিল, তা পরিষ্কার।’
নুরের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো, কিন্তু এখনো আশঙ্কা কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার (নুর) যে জায়গাগুলোতে ইনজুরি হয়েছে, সেই জায়গাগুলো খুব ফ্যাটাল (মারাত্মক)। তার ব্রেনেও (মস্তিষ্কে) ইনজুরি হয়েছে, ব্লিডিং (রক্তপাত) হয়েছে।’
‘চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পেরেছি, এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হয়নি; সব ঠিকঠাক আছে। এখানে কিছুদিন রেস্ট (বিশ্রাম) নেওয়ার পরে বাইরে ইভ্যালুয়েশনের (মূল্যায়নের) দরকার। সে এখনো খেতে পারছে না, পাইপ দিয়ে লিকুইড খেতে হচ্ছে। তার রিকভারি হতে সময় লাগছে।’
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
নুরের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে তাকে দেশের বাইরে পাঠানো দরকার বলেও মনে করেন এই রাজনীতিক।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পরও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যদি আমাদের নেতাদের ওপর এভাবে আক্রমণ করে, তাহলে সাধারণ মানুষকে কী করছে চিন্তা করুন। এটা আমি কোনোমতেই মেনে নিতে পারি না। প্রধান উপদেষ্টা যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দিয়েছেন, সেটা দ্রুত শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি সরকারের কাছে বলি, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো উচিত।
২৭৬ দিন আগে
ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে, সেইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও হবে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের সমর্থনের মধ্য দিয়ে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়—তাহলে নিঃসন্দেহে একদিকে যেমন রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে এবং বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) মাজারে দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, কাজী আবুল বাশার, সাইফুল আলম নীরব, মহানগর বিএনপির উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুস্পস্তবক অর্পনের পরে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন নেতারা।
আরও পড়ুন: ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংস্কার কমিশনে যে প্রস্তাবগুলো নিয়ে এসেছিল, বিএনপি তা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এছাড়া, ৩১ দফা কর্মসূচি প্রবর্তন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করেছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, এখন যে চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে রয়েছে সেটি হচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে কথা আছে— তা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য বারবার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে বারবার। বিএনপিকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো প্রতিবারই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ নিয়ে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে এবং খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে ফিরে এসেছে।’
তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য দলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। বিএনপিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে দেশে একটি নির্মম ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সেই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট থেকে মুক্তি পেয়েছি।
২৭৭ দিন আগে
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
আজ ১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপি গঠন করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো।
সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফাতিহা পাঠ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এর আগে ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছয় দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র্যালি হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও র্যালি হবে। ৪ সেপ্টেম্বর চারা রোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনাসহ বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর সমসাময়িক প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিএনপির উদ্যোগে গোলটেবিল বৈঠক করা হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র ও পোস্টার প্রকাশ করা হবে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির সহযোগী সংগঠন ও তাদের সকল ইউনিটও যথাযথভাবে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে।
৪৬ বছরের পথচলায় বিএনপি চারবার ক্ষমতায় ছিল এবং দুইবার বিরোধী পদের দায়িত্বে ছিল। ১/১১ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে প্রায় ১৯ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে।
দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পৃথক এক বাণীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বার্তায় জনগণ, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৬ সদস্যের ‘জাতীয় উদ্যাপন’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২৭৭ দিন আগে
নির্বাচন বানচালের ‘অশুভ শক্তি’র চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচন বানচালের ‘অশুভ শক্তির নোংরা প্রচেষ্টা’ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমি বলেছিলাম, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। এখন মানুষ লক্ষ্য করতে শুরু করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ নষ্ট করার জন্য অশুভ শক্তির অপচেষ্টা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।’
পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিজভী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইইবি) ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতাচ্যুত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের অধিকার সমুন্নত রাখার পথে হাঁটছে, তখন কিছু রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচনের নামে শর্ত আরোপ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি করে তারা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।’
২৭৭ দিন আগে
সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিজভী
পতিত সরকারের ‘মিত্ররা’ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন— এমন অভিযোগ তুলে দেশে সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘এখনো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আসলে কতটা (একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন) করা সম্ভব। কতটা করা সম্ভব? আমরা তাদের (নির্বাচন কমিশন) জিজ্ঞাসা করেছি যে তাদের সেই ক্ষমতা আছে কিনা।’
রবিবার (৩১ আগস্ট) নগরীর নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি প্রতিনিধিদলটি বিশেষভাবে নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
রিজভী বলেন, তাদের প্রশ্নের জবাবে, ইসি তাদের (একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য) ইসির পূর্ণ প্রস্তুতির আশ্বাস দিয়েছে।
ইসিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী’ হিসেবে পরিচিতদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘এই সহযোগীরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত করতে এমনকি এটি অনুষ্ঠিত হতে বাধা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল এবং সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’ যদিও ইসি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা এবং একটি প্রশাসনও।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে 'আওয়ামী লীগের সহযোগীরা' এখানে কী ধরণের ভূমিকা পালন করছে এবং তারা কোনো ধরণের বাধা তৈরি করছে কিনা।’
রিজভী বলেন, জবাবে ইসি তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সঠিকভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে এটি তদারকি করছে— যাতে নির্বাচন কোনোভাবেই ব্যাহত ও কলঙ্কিত না হয়। নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে বিএনপির এই নেতা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বর্তমান ইসির আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি এই কমিশন সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। এখন পর্যন্ত, আমি তাদের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতার অভাব দেখিনি।’
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বিষয়ে রিজভী বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে, এটি এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। ‘আমাদের নেতারা ইসির কাছে এটি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে,’ বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিএনপি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। ইসি আমাদের জানিয়েছে যে তারা তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।’
আরও পড়ুন: রমজানের আগেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা রিজভীর
শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নূর একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছিলেন।এ কজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার উপর এ ধরনের আক্রমণ একটি গণতান্ত্রিক দেশে নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।
২৭৮ দিন আগে
আগামী নির্বাচনে সমতল জনগোষ্ঠীর সমর্থন চায় বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কিভাবে সহজ করা যায়—সেগুলো করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে সমতল জনগোষ্ঠীর সমর্থন চায়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে ময়মনসিংহ টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি আমাদের আস্থা ও সম্মান রয়েছে। ভাষার বহুত্ব, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য বোধ, ভিন্নজাতের সংরক্ষণ এবং এসবের উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।
পড়ুন: ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা গ্রহণ করা হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি এটিই আমাদের অঙ্গীকার। বিএনপি ক্ষতায় গেলে প্রতিটি অধিকার বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ একটা ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ নির্যাতনের শাসনের পরে একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সুযোগ পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এবং সেই বাংলাদেশে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, একটা চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটা গোষ্ঠী চেষ্টা করছে। একটা উগ্রবাদী গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রকার উগ্রবাদের কথা বলে মানুষকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, আজ আমাদের সকলের দায়িত্ব হবে, একসঙ্গে ঠিক একাত্তর সালে যেমন আমরা লড়াই করেছিলাম আমাদের ভূখন্ডের জন্যে, স্বাধীনতার জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য, আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সেইভাবে আমরা আজ আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করব, লড়াই করে যাব।
তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস আছে যে, আমাদের নেতা তারেক রহমান এখন পর্যন্ত যে কাজ করেছেন—তাতে সকল জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারব।
পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার সালাহউদ্দিনের
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদগের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ও অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন প্রমুখ।
এর আগে দুপুরে নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১৫ জন আদিবাসী তরুণীর একটি দল তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মনোমুগ্ধকর দলগত নৃত্য পরিবেশন করে।
সমাবেশে দেশের সমতল অঞ্চলের ১২টি জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
২৭৮ দিন আগে