বিএনপি
অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের
অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে, এগুলো প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের একযোগে অবস্থান নিতে হবে এবং জনমানুষের বিশ্বাস অটুট রাখতে হবে।’
সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নওগাঁ শহরের কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হচ্ছে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করা। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে, সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও সরকারের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করে রেখে গেছে। দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির। তাই এই অবস্থা উত্তরণ করতে দলটি সক্ষম হবে।’
পড়ুন: প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে ভোট দিত মানুষ: হাফিজউদ্দিন
তারেক বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন বলেছিলাম, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন হবে। এক বছর আগে আমি বলেছিলাম অদৃশ্য শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করছে, আজ কি আমার কথার মানে বুঝতে পারছেন?’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, বিএনপি পরিবারের সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সফল হবো। বিএনপিতে মানুষ আস্থা রাখে কারণ আমরা দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করছি।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তারা নিজেদের স্বার্থে দেশ লুটপাট করেছে। বিএনপি ইতোমধ্যে ৩১ দফা দাবি জানিয়েছিল, যারা এখন সংস্কারের কথা বলছেন তারা আড়াই বছর আগে থেকেই এই দাবি তুলেছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতা নির্বাচন করার।’
এর আগে দুপুরে নওগাঁ কনভেনশন সেন্টারে জেলা সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
২৯৭ দিন আগে
নাটোরে ক্রীড়া উপদেষ্টার অনুষ্ঠান বয়কট করল বিএনপি
নাটোরে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অনুষ্ঠান বয়কট করেছে দলটি।
শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে শহরের কানাইখালি মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন জেলা বিএনপির নেতারা। ঘটনার পরপরই তারা অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যান।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ অভিযোগ করে বলেন, ডিবি পুলিশের ওসি হাসিবুল্লাহ হাসিব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলীয় শীর্ষ নেতাদের প্রতি অসৌজন্যমূলক ও রূঢ় আচরণ করেছেন।
তিনি বলেন, `ফ্যাসিবাদের রাহু থেকে পুলিশের অনেক কর্মকর্তা এখনও বের হতে পারেননি।‘
আসাদ ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের নেতৃত্বে সদস্য সচিবসহ পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কানাইখালি মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান।
কিন্তু উদ্বোধনের সময় বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও ডিবি পুলিশের ওসি তাদের প্রবেশে বাধা দেন এবং সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ইফতেখায়ের আলম বলেন, “উপদেষ্টার নিরাপত্তার দায়িত্ব ডিবি পুলিশের ওপর ছিলো। তবে কাউকে অসম্মান করা সমীচীন নয়।” তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
২৯৯ দিন আগে
গত ৫ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক পরিসরে পরিবর্তন দেখছেন মঈন খান
এক বছর আগের ৫ আগস্ট ও এবার ৫ আগস্টের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান।
শনিবার (৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানব গবেষণা ও বিশ্লেষণ ফাউন্ডেশন (এইচইউআরএফ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব: গণতন্ত্রের অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ড. মঈন খান বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ১৯৭৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে রয়েছে।
মুঘল সাম্রাজ্যের উদাহরণ ও পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের প্রতি বৈষম্যের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদিও পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে, দেশে এখনও সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি, পাকিস্তানেও না।
শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে সতর্ক করে মঈন খান বলেন, আজকের শাসকরা আগামীকালের নিপীড়ক হয়ে উঠবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দায়বদ্ধতা থাকতে হয় এবং জাতির সামাজিক ও রাজনৈতিক সত্য আবিষ্কারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পড়ুন: নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি: সিইসি নাসির
গত এক বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এবং শাসন কাঠামো আবারও গভীর রাজনৈতিক বৈষম্যের ছাপ দেখিয়েছে— যা মুঘল ও পাকিস্তানের শাসনের মতোই ছিল এবং ২০২৪ সালে আবারও পুনরুত্থিত হয়েছে।
বিএনপির নেতা একদলীয় রাজনীতির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, যখন একটি দল সংসদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আসন দখল করে তখন শাসন ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টি হয়, যা অতীতে দেখা গেছে।
তিনি হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা আজ তাদের আত্মত্যাগের কারণে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি।’
মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের ডাক দিয়ে ডা. মঈন খান বলেন, সব প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ ছাড়া সংসদে গণতন্ত্র কার্যকর করা সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি বিএনপি নেতা, কর্মী ও গ্রামীণ ছাত্র রাজনৈতিক মামলার মোকাবিলা করেছে।
ঢাকা কলেজের অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ মূল বক্তৃতা দেন। এইচইউআরএফের আহ্বায়ক আহমেদ হুসাইন আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং আহত জুলাই যোদ্ধা ফাহিম হোসেন জুলাই বিপ্লবের অভিজ্ঞতা জানান।
২৯৯ দিন আগে
জাবিতে আহ্বায়ক কমিটি বর্ধিতসহ অনুষদ ও হল কমিটি দিল ছাত্রদল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটির বর্ধিত করাসহ মোট ১৭টি হল এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নতুন কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।শুক্রবার (৮ আগষ্ট) বিকালে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩৭০ সদস্যবিশিষ্ট বর্ধিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সংগঠনটির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষদ ও হল কমিটিগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।জাবি শাখা ছাত্রদলের বরাতে জানা যায়, নতুন বর্ধিত আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে ৭৫ জন এবং সদস্য হিসাবে ২৯৫ জন জায়গা পেয়েছেন। এছাড়াও নতুন বর্ধিত কমিটি মোতাবেক ৬টি ছাত্রী হল হলো– নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল, প্রীতিলতা হল, ১৩ নম্বর ছাত্রী হল, ফজিলতুন্নেসা হল, রোকেয়া হল ও বীর প্রতীক তারামন বিবি হল। ১১টি ছাত্র হল হলো– আল-বেরুনী হল, শহীদ সালাম বরকত হল, আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল, মাওলানা ভাসানী হল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, ১০ নম্বর ছাত্র হল, ২১ নম্বর ছাত্র হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ হল, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও মীর মোশাররফ হোসেন হল। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের জন্যও দুই সদস্যবিশিষ্ট আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পড়ুন: সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে জাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক নবগঠিত কমিটির নেতাদের দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতারা আশা প্রকাশ করেন।উল্লেখ্য, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
৩০০ দিন আগে
প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে ভোট দিত মানুষ: হাফিজউদ্দিন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে ভোট দিতে অভ্যস্ত।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হাফিজউদ্দিন বলেন, ‘ভোটাররা এমন একজনকে নির্বাচিত করতে চায় যার উপর তারা বিশ্বাস করতে পারে... এমন একজন যিনি তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবেন। এমনি প্রেক্ষাপটে প্রতীক-কেন্দ্রিক পিআর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক।’
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের দল বর্তমান সরকার এবং কমিশনের অধীনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।
তিনি আশা করেন আসন্ন নির্বাচন হাসিনা আমলের ‘দুঃশাসন’র অবসান ঘটাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি উদাহরণ স্থাপন করা উচিত।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে হাফিজউদ্দিন নির্বাচন বিলম্বিত করতে দলটির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তারা বিএনপির মিত্র ছিল। এখন নির্বাচনের আগে, তারা যে বিষয়গুলো উত্থাপন করছে— তা আশ্চর্যজনক।’
পড়ুন: সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বিত করা যাবে না: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত দাবি করেছে যে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্রে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেওয়া হয়নি। যারা ইতিহাস মনে রাখে—তারা জানে যে এই একই জামায়াত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল। পরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।’
হাফিজউদ্দিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকটি দল ইতোমধ্যেই ধরে নিয়েছে যে, তারা জাতীয় নির্বাচনে তাদের জামানত হারাবে, যে কারণে তারা পিআর ব্যবস্থাকে সমর্থন করছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আগের সরকারের পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের সংস্কার করা উচিত ছিল। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে পুলিশ একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। এই ধরনের পুলিশ বাহিনী দিয়ে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা কতটা বজায় রাখা যাবে—তা সন্দেহজনক।’
সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কে হাফিজউদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধন করার কোনো ম্যান্ডেট নেই, যদিও তারা একটি রূপরেখা দিতে পারে।
‘সংস্কারগুলো একটি নির্বাচিত সরকারকে করতে হবে,’ বলেন তিনি।
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি যেকোনো নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে উল্লেখ করে হাফিজউদ্দিন বলেন, ‘যদি কেউ বিশ্বাসযোগ্য ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে, আমরা তা মেনে নেব। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’
তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল এখনও নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে।
দেশের কল্যাণে কাজ করার প্রচেষ্টার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, উপদেষ্টার অনেক সহযোগী ক্ষমতার লোভে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন।
‘তারা নির্বাচনের পথে হাঁটার পরিবর্তে একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়,’ দাবি করেন হাফিজউদ্দিন।
৩০০ দিন আগে
সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বিত করা যাবে না: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশের প্রচলিত আইনে গণহত্যার দায়ে স্বৈরাচার হাসিনার বিচার সম্ভব। তাই সংস্কারের নামে নির্বাচনকে বিলম্বিত করা যাবে না। দেশের জনগণ ১৫ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন ভোট দেওয়ার জন্য। তাই জনগণের ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকালে রংপুরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ের প্রথম ধাপ পূরণ হলেও নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে। তাই নির্বাচন বিলম্ব না করে সঠিক সময়ে নির্বাচন দিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে যে আশ্বাস দিয়েছেন, সেই আশ্বাসে আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই। তবে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস বানচালের চেষ্টা করতে পারে। এজন্য আমাদের সবাইকে প্রধান উপদেষ্টাকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা নতুন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। শহীদদের নতুন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি। সেই দায়িত্ব আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে দেবে সেই বিশ্বাস রয়েছে।
এসময় তিনি শহীদ আবু সাঈদের সম-অধিকারের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক. জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুসহ অন্যান্য নেতারা।
পরে আলোচনা শেষে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় থেকে একটি বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। বিজয় শোভাযাত্রা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ইউনিয়ন ও রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কয়েক হাজার নেতা কর্মী এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
৩০২ দিন আগে
বিএনপির সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন চাইলেন তারেক
আগামী সাধারণ নির্বাচনের অনুষ্ঠানে রোডম্যাপ ঘোষণা করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার(৬ আগস্ট) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে ভার্চুয়াল ভাষণে তারেক বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই জনগণের সামনে দলের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে তারা কীভাবে শাসন করবে, রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং রাজনীতি করবে—তা তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে সংস্কার প্রস্তাব করেছে। বিএনপি দেশ ও জনগণের কল্যাণে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনসমর্থন কামনা করে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গতকাল (জাতীয়) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিতাপূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সরকার জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে। আমরা বাস্তবায়নের এই উদ্যোগগুলো স্বাগত জানাই।’
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে ভার্চুয়াল ভাষণে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন।
পড়ুন: নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণায় বিএনপির বিজয় হয়েছে: মঈন খান
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ, তারা বর্তমানে জনগণের জন্য গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।
ফ্যাসিবাদী শাসনের দমনমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তারেক বলেন, শুধুমাত্র ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই মুহূর্তটিকে গণতন্ত্রপ্রেমী নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি দুর্দান্ত সুযোগ উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, যদি রাজনৈতিক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই সুযোগ কাজে লাগানো যায়—তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাই, বোন, সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনের জীবনের বিনিময়ে কাউকে আর কখনও রক্তাক্ত ২০২৪ সালের মতো ঘটনা দেখতে হবে না। আমি ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, বলতে চাই যে, একজন নাগরিক হিসেবে আপনার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার, আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার, বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মী, সাধারণ জনগণ নির্বিশেষে কেউ নিরাপদ ছিল না এবং তাদের সমস্ত গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল—এটি সবাইকে মনে রাখার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বলেন, ‘গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের জন্য পুরো দেশকে একটি বর্বর কারাগারে পরিণত করা হয়েছিল—আয়নাঘর (একটি গোপন কারাগার)।’
পড়ুন: নির্বাচনের ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে: বিএনপি মহাসচিব
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন ছাড়া, পুরুষ হোক বা নারী, সংখ্যালঘু হোক বা সংখ্যাগরিষ্ঠ—কেউই নিরাপদ থাকতে পারে না।
তারেক আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আমাদের কাজ হলো—রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও অনুশীলন করা।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। তবে আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়গুলো সমাধান করা উচিত। ‘আমরা, গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় সংসদে একে অপরের দিকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। বরং, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশে বক্তব্য দেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে দলের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশটি আয়োজন করে বিএনপি। পরে পাশের সড়কে একটি মিছিল বের করা হয়।
৩০২ দিন আগে
নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণায় বিএনপির বিজয় হয়েছে: মঈন খান
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ভাষণে নির্দিষ্ট করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণাকে ‘বিএনপির বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আমাদের বিজয় হয়েছে। তবে শুধু সময় নয়, আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে এবং বিজয়ী হবে। সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
সমাবেশ শেষে রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে শুরু হয় বিজয় র্যালি। এতে অংশ নেন সংগঠনটির জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা। বৃষ্টির কারণে র্যালিটি সংক্ষিপ্ত করে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে শেষ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৬ বছর জুলুমের পুঞ্জীভুত ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ৫ আগস্ট: মঈন খান
সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে একে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় এই প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে, এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেটে যাবে, গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে।
৩০২ দিন আগে
নির্বাচনের ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে: বিএনপি মহাসচিব
আগামী বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা বাংলাদেশের গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায় বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনের ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পর নির্বাচনের সময় ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারণের ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছে বিএনপি। এই ঐতিহাসিক ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে। এই ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা পালনের মধ্যদিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে।’
সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিএনপি
একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে সবাইকে এই নির্বাচন সফল করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, বিগত এক বছরে অনেক প্রতিকূলতা সত্তেও গণতন্ত্রের পথকে সুগম করার উদ্যোগের ও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ড. ইউনূস, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সব সদস্য যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের আন্তকিরক ধন্যবাদ জানাচ্ছে বিএনপি এবং প্রত্যাশা করছে অতি দ্রুত রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন হবে।
অধ্যাপক ইউনূস মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ঘোষণা দিয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায়। বিএনপি বিশ্বাস করে ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা পালনের মধ্য দিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে একটি সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে সত্যিকারের প্রগতিশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
এ সময় নিহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকাররে প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি দীর্ঘ আট বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এই সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সব স্তরের মানুষ এই সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। তাদের অনেকে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছেন। বিএনপি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
৩০২ দিন আগে
সাংবাদিকদের দলীয় কর্মী নয়, মানুষের কণ্ঠস্বর হতে হবে: আমীর খসরু
সাংবাদিকদের দলীয় কর্মী না হয়ে মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে নগরীর জামাল খানের প্রেস ক্লাব চত্বরে এক সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে ‘সাংবাদিক ছাত্র জনতার সমাবেশে’প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনারা বিএনপির সাংবাদিক হওয়ারও দরকার নেই। আপনারা দেশের সাংবাদিক হন, বাংলাদেশের জনগণের সাংবাদিক হন, মানুষের সাংবাদিক হন। এটাই হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের প্রতিজ্ঞা।’
পড়ুন: মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিএনপি
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার নামে যারা স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ায়, তারা আসলে সাংবাদিক না। তারা প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ব্যক্তির পক্ষে, একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেয়—তারা সাংবাদিকতার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। তারা হয়ে গেছে দলীয় কর্মী। এই জিনিসগুলো আপনাদের অনুধাবন করতে হবে। আমাদের যেন তাদের মতো চলতে না হয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
এর আগে তিনি প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত ‘ক্যামেরায় জুলাই বিপ্লব শীর্ষক প্রদর্শনী’ ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের উপর বিভিন্ন শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও বৈশাখী টিভির ব্যুরো চিফ গোলাম মওলা মুরাদ এবং মিয়া মোহাম্মদ আরিফের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ান।
আমীর খসরু বলেন, আমরা ১৫ বছর ধরে সাংবাদিকতার চিত্র সম্মুখভাবে দেখেছি। কারণ আমরা সম্মুখভাগে ছিলাম। আমি সার্বিকভাবে যেভাবে ছিলাম, সাংবাদিকতার চিত্র পরিষ্কারভাবে দেখেছি। কারা নিজের দেশকে বিক্রি করে সাংবাদিকতা করেছে, কারা ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের সঙ্গে থেকে সুবিধা ভোগ করেছে, সাংবাদিকতার দায়িত্বকে ধ্বংস করেছে, সব দেখেছি।
শেখ হাসিনার সময়ে সাংবাদিকতার ভূমিকা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স শেষে যে সাংবাদিকরা জনগণের কথা না তুলে ধরে স্বৈরাচারের কথা তুলে ধরেছে, তারা কি কোনো সাংবাদিক? তারা তো সাংবাদিকতার মান সম্মান নষ্ট করেছে।
পড়ুন: কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে একসঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান ফখরুলের
তিনি আরও বলেন, আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে তারেক রহমান সাহেবকে বিদ্রুপ করে একটা কার্টুন ছাপানো হয়েছিল। সবাই ভেবেছিল এই সাংবাদিক বিপদে পড়বে। কিন্তু হলো উল্টো—তারেক রহমান সাহেব স্ট্যাটাস দিলেন, ‘আমরা দেড় দশক ধরে যুদ্ধ করছি—এই সাংবাদিকরা যাতে তাদের এ কাজগুলো করতে পারে। এই কথার মধ্যেই সব মেসেজ চলে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা সত্যিকারের সাংবাদিকতা চাই, নিরপেক্ষতা চাই। সাংবাদিকদের পেশাগত মানদণ্ড অক্ষত রাখতে হবে। এটাই হবে নতুন বাংলাদেশের শপথ। আগামীতে সাংবাদিকরা যদি জনগণের কথা তুলে ধরতে পারে, স্বাধীনতার কথা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অধিকার তুলে ধরতে পারে—তাহলেই হবে সফল সাংবাদিকতা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ৩১ দফার মধ্যে আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, কী ধরনের সাংবাদিকতা চাই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহকারী মহাসচিব মুস্তাফা নঈম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সিএমইউজে'র সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিল্পী, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি প্রমুখ।
৩০৩ দিন আগে