বিএনপি
ষড়যন্ত্রকারীরা গণতন্ত্র ফেরানোর পথে প্রধান অন্তরায়: ডা. এজেড এম জাহিদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. জাহিদ হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্রকারীরা ঘাপটি মেরে রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা গণতন্ত্র ফেরানোর পথে প্রধান অন্তরায়।
দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্টের পাঁয়তারা ও তারেক রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টার প্রতিবাদে ঢাকায় পেশাজীবীদের মৌন মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সদস্য সচিব সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে কদমফুল ফোয়ারা, তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হয়।
তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র করে চোরাই পথে কেউ কেউ আগামীতে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে, জনগণ তা মেনে নেবে না। তারেক রহমানকে নিয়ে কুৎসা করা হয়েছে। এটা রাজনীতির ভাষা নয়, এটা স্বৈরাচারের ভাষা।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ১৮ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফেরত পেতে লড়াই করছেন। এখনও সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তিনি বলেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে এখনও ফ্যাসিবাদের দালালরা বসে আছে। তাদের তাড়াতে হবে। মব জাস্টিস বন্ধ করতে হবে। তিনি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সকল কালা কানুন বাতিল, জাতীয় নেতাদের চরিত্র হননের নোংরা রাজনীতি ও গণতন্ত্র নস্যাতের চক্রান্ত বন্ধ এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
পড়ুন: চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তীব্র নিন্দা বিএনপির
মিছিলে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, সৈয়দ আলমগীর এমবিএ, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও জাকির হোসেন, সাবেক সচিব আবদুল বারি, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামিম, চিকিৎসক নেতা অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম লাবু, ডা. শফিকুল হায়দার পারভেজ, জাহানারা সিদ্দিকী, ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান চুন্নু, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হালিম, কৃষিবিদ ড. শফিকুর রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, মুরসালিন নোমানী, রাশেদুল হক, সাঈদ খান ডা. হারুন উর রশিদ রাকিব, ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার ফকরুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত হোসেন, ডা. লুৎফর রহমান লিটন, একে এম মূসা লিটন, বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, কামরুজ্জামান কল্লোল, এবিএম রুহুল আমিন আকন্দ, আমিরুল বারি কানন, তানভিরুল আলম, খাজা মাইনুদ্দিন মঞ্জু, দবিরউদ্দিন তুষার ও হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২৩১ দিন আগে
চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তীব্র নিন্দা বিএনপির
চট্টগ্রাম শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিবৃতি এই উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি।
এতে দলটি বলেছে, ‘চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে বিএনপি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সেখানে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
দলটি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপি স্থানীয় প্রশাসনকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি থেকে নিরীহ ব্যবসায়ীদের রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে যেন নির্বাচন না হয় তার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘রাজধানীর পরে, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর। বন্দর নগরী হিসেবে, চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বেশিরভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য এখান থেকেই পরিচালিত হয়। তাই, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য এই শহরে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি অপরিহার্য।’
দলটি বলেছে, এটি দুর্ভাগ্যজনক যে বর্তমানে মিথ্যা মামলা এবং ব্যাপক চাঁদাবাজি ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার করছে, যার ফলে চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এমন খারাপ পরিস্থিতি ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এটি অব্যাহত থাকে—তাহলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।’
২৩১ দিন আগে
ফেব্রুয়ারিতে যেন নির্বাচন না হয় তার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেছেন, গোলমাল তখনই শুরু হলো যখন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা ঠিক হলো। অর্থাৎ তাদের কথা হলো নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু এদেশের মানুষ বারবারই সংগ্রাম করেছে। তাদের যেটা দাবি, সে দাবি আদায় করে নিয়েছেন এবং এই নির্বাচনও অবশ্যই দেখবেন ঘোষিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদের স্মরণে স্মরণসভা’ শীর্ষক আয়োজনে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদরা ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছি, সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র থামেনি। পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের যেন উত্তরণ না ঘটে, তার জন্য কাজ শুরু হয়েছে।
‘সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে। নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। এমনকি আমার নেতা তারেক রহমান সম্পর্কে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। এটা কেন করা হচ্ছে? তারা ভয় পেয়েছে। তারেক রহমান তো জাতীয় নেতা হিসেবে অলরেডি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেন। সুতরাং তিনি যদি ফিরে আসেন, তাহলে তারা যাবে কোথায়,’ প্রশ্ন করেন তিনি।
‘আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের শত্রু চারদিকে। মনে রাখবেন, বিএনপি ডেমোক্রেসি, বিএনপি ফ্রিডম। বিএনপি হচ্ছে ডেভেলপমেন্ট। ভবিষ্যতে আমরাই বাংলাদেশকে একেবারে উন্নয়নের চরমে নিয়ে যাব।’
পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চ্যালেঞ্জে সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা বিএনপির
তিনি বলেন, কোনো পাতা ফাঁদে আমরা পা দেব না। এরা ফাঁদ পাতছে। আমাদেরকে প্রভোক করছে। যাতে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি, প্রতিবাদ করি, কনফ্রন্টেশন করি—এমন একটা অবস্থা তৈরি করি যেন গণতন্ত্রে উত্তরণটা ব্যাহত হয়।
ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে ক্ষমতায়নের জন্যে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা দীর্ঘকাল লড়াই করেছি। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ২০০৯ সালের পর থেকে এই সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিল হওয়ার পরে তিনি সেই সংগ্রাম আরো জোরদার করেছিলেন।’
‘এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছয় বছর জেল খাটেন। তারপর বিএনপির মূল নেতৃত্ব নেন আমাদের বর্তমান নেতা তারেক রহমান, যাকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছে। তার নেতৃত্বে আমরা সেই গণতন্ত্রের আন্দোলন করেছি এবং সফল হয়েছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। আমাদের প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং ও বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ছয় বছর কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে তাকে বিদেশে নির্বাসিত করা হয়েছে। অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হত্যা, খুন, জখম নিয়েও বিএনপি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছে এবং একবারের জন্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থামেনি।’
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
তিনি একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ছাত্রদলের অসংখ্য ছেলে আছে যারা এই নির্যাতন সহ্য করেছে। শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশে। ছাত্রদলের ছেলেরা দেশে থাকতে না পেরে, গ্রামে থাকতে না পেরে ঢাকায় চলে এসেছে। রিকশা চালিয়েছে, অটো চালিয়েছে, বাইক চালিয়ে, এমনকি গার্ডের চাকরি করেছে। এই ত্যাগ করেই কিন্তু আজকে এই একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই কৃতিত্বের দাবি অনেকেই করছেন। আসলে কৃতিত্ব জনগণের। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে বোরকা-হিজাব পরা নারীরা এবং সকল পেশার মানুষ এক হয়ে গিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল যে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। মুক্তিযুদ্ধেও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। সেটাই ছিল আমাদের ভিত্তি। সেই ভিত্তিটার ওপরেই এগিয়ে আজ পর্যন্ত এইখানে এসেছি।
তিনি বলেন, জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছেন। আমরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু করেছিলাম। কারণ বিএনপি হচ্ছে সেই দল, সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়।
তিনি বলেন, খুব দুঃখ হয় যখন দেখি যে আমাদের আহত ভাইয়েরা বলছে যে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। এই সরকার কেন এখন পর্যন্ত তাদের সেই ব্যবস্থা করেনি!
২৩২ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে অপপ্রচারের জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে হবে: মুরাদ
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র কখনোই টিকে থাকে না। যারাই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মাথায় নিয়েছে তারাই রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে।’
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে অপপ্রচারের জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সারা দেশে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকা জেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে সমাবেশ শেষ হয়।
ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, যারা বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদের ভেবে দেখা উচিত বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কার কতটুকু অবদান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করলে অনেকে আজ রাজনীতি করার সুযোগ পেতেন না।
‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৯ বছর আপসহীনভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন না করলে দেশ এরশাদের স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হতো না। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন না করলে দেশে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হতো না।’
মুরাদ বলেন, বিএনপির দিকে আঙুল তোলেন? বিএনপির দিকে আঙুল তোলবার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের ভূমিকা দেশবাসী এখনো ভুলে যায়নি।
তিনি বলেন, দেশ অপপ্রচারের জোয়ারে ভাসছে। আর সব অপপ্রচারের উৎপত্তিস্থল জামায়াত-শিবিরের আস্তানা। এদের কোনো জনসমর্থন নেই। তাই বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে পানি ঘোলা করে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায়। অতীতের মতো জামায়াতের এবারের ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
মুরাদ বলেন, সন্ত্রাসীরা কোনো দলের না। কিন্তু আমরা আশ্চর্য হয়ে গেলাম, যখন দেখলাম মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা অপপ্রচার চালালো। এখন পুলিশ বলছে, এটা চাঁদাবাজির ঘটনা নয়, ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব। এই অপপ্রচারের জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে হবে।
মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, জেলা নেতা হাজী দেলোয়ার হোসেন মাসুম, মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ, রকিব দেওয়ান রকি, ইবাদুল হক জাহিদ, খুররম চৌধুরী টুটুল, মো. সুরুজজামান, তপন মোল্লা, ফজলুল হক বেলায়েতী, ইয়ার মো. ইয়াছিন সরকার শাওন, ইশতিয়াক আহম্মেদ ফারুক, শহিদুল ইসলাম শহীদ, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
২৩২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চ্যালেঞ্জে সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা বিএনপির
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারকে সমন্বিত সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে বিএনপি পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বনানীর একটি হোটেলে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিষয়ে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানির সঙ্গে প্রায় ১৫–১৬ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত। ফলে শুল্ক ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ফলে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক আলোচনা থেকে বাংলাদেশ যেন বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যেই বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়।
আরও পড়ুন: শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আশাব্যঞ্জক: বাণিজ্য উপদেষ্টা
এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক পোশাক রপ্তানি বাজারে ভারতের সঙ্গে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিযোগী।
বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়, তাহলে এসব প্রতিযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় ধরনের সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শুল্ক সমস্যার সমাধান না হলে বাংলাদেশ কয়েক লাখ মানুষের কর্মহানি, শিল্প কারখানা বন্ধ এবং হাজার হাজার ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিতে পারবে না।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, অ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিআই)-এর চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ এবং প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী প্রমুখ।
২৩৪ দিন আগে
নির্বাচন বিলম্ব ঘটাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে: অভিযোগ ডা. জাহিদের
জাতীয় নির্বাচনে বিলম্ব ঘটাতে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘একটি সুস্পষ্ট চক্রান্ত চলছে, যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো যায়, তাহলে কয়েকটি পক্ষ এতে লাভবান হবে।’
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রাঙ্গণে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২১ জুলাইয়ের পেশাজীবীদের আলোচনাসভার ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তবে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. জাহিদ। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আমরা আশাবাদী যে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে।’
রাজধানীর পুরান ঢাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধকে সমর্থন করে না।
তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবারের (১৪ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘অপরাধ মানেই অপরাধ—এতে কোনো দলীয় পক্ষপাত নেই, বিএনপি কোনো অন্যায়কে সমর্থন করে না।’
আরও পড়ুন: একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক-বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার
ডা. জাহিদ বলেন, অপরাধকে রাজনীতিকরণ করা বা কোনো পক্ষকে দোষারোপ করতে গিয়ে তা বাড়িয়ে বা কমিয়ে তুলে ধরা সঠিক নয়। অন্যায়কে সব সময়ই অন্যায় হিসেবে দেখতে হবে। কোনো সচেতন রাজনৈতিক ব্যক্তি কখনো অন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমনটি বিশ্বাস করি।
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে করা অশালীন মন্তব্যগুলোর সমালোচনা করেন।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমরা শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। আমরা কোনো চক্রান্তের অংশ হতে চাই না।’
সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে ধৈর্য ধরার, সত্য বলার ও দ্বৈত আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ‘বিএনপি কখনো অন্যায়কে সমর্থন করে না, বরং ন্যায়বিচার চায়। বিএনপি গণপিটুনি বা বিচারবহির্ভূত সহিংসতাকে সমর্থন করে না,’ বলেন ডা. জাহিদ।
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতার ‘বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে’ মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সরাসরি তার বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না। আমার মনে হয়, যারা এমন মন্তব্য করেন, তারা হয়তো রাজনৈতিক বোধ ও অভিজ্ঞতার ঘাটতিতে ভোগেন। জনগণ ঠিক করে দেবে কে লাল কার্ড পাবে আর কে সবুজ।’
তিনি ঝালকাঠি থেকে নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ‘বিএনপি মুজিববাদের রক্ষক হয়ে উঠছে’ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘আমি ওই খবর দেখেছি। কারা আসলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে এবং কারা করছে না, তা জনগণের চোখে স্পষ্ট।’
২৩৪ দিন আগে
মিটফোর্ডে হত্যাকান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন বিএনপির
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিএনপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ব্যবহার করার সন্দেহ রয়েছে এবং কিছু মহলের উসকানিতে জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এই ধরনের ঘটনা দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
সোমবার (১৪ জুলাই) বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডকে দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি এবং দুষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
ফখরুল বলেন, ‘এই নির্মম হত্যার পেছনের সত্য উদঘাটন করতে আমরা একটি উপযুক্ত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন করেছি, যারা প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করবে এবং তা জনসমক্ষে নিয়ে আসবে।’
তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, বিশেষ করে একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ও তার শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে দল কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
ফখরুল বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এরইমধ্যে ঢাকা মিটফোর্ড এলাকার লাল চাঁদ সোহাগ নামে একজন ভাঙারি ব্যবসায়ীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকলেও পুলিশের অভিযোগে নাম উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদক্ষেপ—আজীবন বহিষ্কার—গ্রহণ করেছে দল।
বিএনপি নেতা জানান, নিহতের পরিবার ইতোমধ্যে মামলার বিবৃতিতে অসঙ্গতি থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, আসল দোষীদের জায়গায় রিপোর্টে তিন জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে, নির্মম হত্যায় সরাসরি যুক্ত প্রকৃত অপরাধীরা এখনও চিহ্নিত বা গ্রেফতার হয়নি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি।
২৩৫ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
পুরান ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন মির্জা ফখরুল। এ ধরনের ঘটনা জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই ব্যবহার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ হত্যার ঘটনা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং এর মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্য বিশেষ কোনো মহলের প্ররোচনায় এ ধরনের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।’
তিনি জানান, রাজধানীর মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি ‘তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
এ ঘটনায় কমিটির সদস্যরা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবেন এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানান দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছি, কারণ এ ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে এবং দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও তার শীর্ষ নেতার (তারেক রহমান) ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ডে হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না আনসারদের: ডিজি
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি বিবেকবান রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় সংঘটিত লালচাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডে বিএনপি তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দৃষ্টামূলক শাস্তি দাবি করেছে। এই হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা বা উপস্থিতির প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলার আলোকে আজীবন বহিষ্কারের মতো সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মামলার এজহারের অসংগতি প্রসঙ্গে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তাদের উল্লেখিত তিনজন অপরাধীর নামের স্থলে এমন তিনজনের নাম সংযুক্ত করা হয় যাদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোাগ নেই।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, নৃশংসতার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার তো দূরে থাক, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখনও তাদের নাম-পরিচয় পর্যন্ত উদঘাটনে সক্ষম হয়নি।
এর আগেও বর্তমান সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানানোর কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যায় দুই আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর
তিনি বলেন, দৃঢ় দলীয় অবস্থান থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদের দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের শালীনতা ও চরিত্রহননের দুঃসাহস প্রদর্শন করছে।’
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ভাঙারি ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
২৩৫ দিন আগে
তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ফখরুলের
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশীয় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরাতে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একদল দুষ্টচক্র অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে—টার্গেট করে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা এবং উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় নেতা তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরানো ও হেয় করা।’
রবিবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপিপন্থী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল সম্পাদিত ‘তারেক রহমান: বাংলাদেশ আশার নাম’ শীর্ষক গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় এ অনুষ্ঠানে।
ফখরুল বলেন, বিএনপি বর্তমানে একটি সুপরিকল্পিত, ভয়াবহ ও বিপজ্জনক সাইবার আক্রমণের মুখে পড়েছে, যা দলকে হেয় ও দুর্বল করার জন্য নানা দিক থেকে চালানো হচ্ছে।
‘সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো—প্রথমবারের মতো আমাদের নেতা তারেক রহমানকে নাম উল্লেখ করে সরাসরি টার্গেট করা হচ্ছে। তাকে নিয়ে অনেক কিছু ছড়ানো হচ্ছে, যাতে করে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ বলেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে তরুণ নেতাকর্মীদের সঠিকভাবে শিক্ষা ও রাজনৈতিক দীক্ষায় দীক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদেরকে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ গভীরভাবে জানতে হবে এবং তা ধারণ করতে হবে। তা না হলে, তারা রাজনীতিতে নিজেদের সঠিক অবস্থান খুঁজে পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় আমাদের অনেক নেতাকর্মী এই সময়ের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে পারেননি। না হলে আজ আমরা যেসব কথা শুনছি, সেগুলো শুনতে হতো না।’
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার যুবদলের বিক্ষোভ
সাইবার জগতে জাতীয়তাবাদী তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে এবং আরও বেশি তরুণকে সম্পৃক্ত করে মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—আমাদের লোকেরা পড়তে চায় না। এই অভ্যাস বদলাতে হবে। আমাদের পড়তে হবে। যত বেশি পড়ব, তত বেশি জ্ঞান অর্জন করব, ততই শক্তিশালী হয়ে লড়তে পারব। আমাদের সব কিছু নিয়েই পড়তে হবে। জানতে হবে তারা কী বলছে, এবং কীভাবে জবাব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, বুদ্ধিমত্তা ও মেধার ভিত্তিতে লড়াই ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ‘মেধার কোনো বিকল্প নেই। সেই মেধা দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তরুণ সাইবার যোদ্ধাদের মেধা দিয়ে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’
বিএনপি সমর্থিত সাইবার কর্মী ও ব্লগারদের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে অবদানের কথা স্মরণ করে ফখরুল বলেন, ‘আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’
তিনি বলেন, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমও তাদের জায়গায় শক্তিশালী। তবে বিএনপি এই সাইবার দুনিয়ায় দুর্বল, তা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনলাইন উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই দায়িত্ব তরুণদের নিতে হবে।’
‘তারেক রহমান: বাংলাদেশ আশার নাম’ বইটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা, দূরদর্শী নেতৃত্ব, ১/১১ সময়কার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্নচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি বিএনপিকে সঠিক পথে পরিচালনার প্রতীক, এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এক আশার নাম।’
২৩৬ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার যুবদলের বিক্ষোভ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
রবিবার (১৩ জুলাই) যুবদলের সহকারী দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির এই যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশের সব জেলা ও মহানগর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করবেন।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: এক আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, আরেকজনের দায় স্বীকার
ঢাকায় বেলা ২টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হবে। এটি ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হবে।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন সংগঠনের দেশব্যাপী সকল ইউনিটকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২৩৬ দিন আগে