বিএনপি
বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচার হাসিনা: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক দেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেল খাটিয়েছেন। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করায় ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান রিজভী।
তিনি বলেন, বিএনপির কোটি কোটি সমর্থক রয়েছেন। এ বছর আমরা এক কোটি সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন করব।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পড়ুন: উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সমবেদনা জানালেন ফখরুল
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বিগত দিনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস জুলুম, নির্যাতন ও অত্যাচার করেছেন। সেই মামলায় আমি ও আমাদের নেতা কর্মীরা জেল খেটেছি।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ সাবেক এমপি রশিদুজ্জান মিল্লাত। এছাড়াও বক্তব্য দেন বিএনপি সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, সিলেট বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম টিম লিডার সৈয়দ আশরাফুল মজিদ খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম নাসের রহমান প্রমুখ।
পড়ুন: খায়রুলের গ্রেপ্তারে মির্জা ফখরুলের শুকরিয়া, চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, বকশী মিছবাহ উর রহমান, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল ইসলাম সেলুনসহ জেলার ৭ উপজেলা এবং ৫টি পৌরসভার সিনিয়র নেতারা।
৩১৫ দিন আগে
উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সমবেদনা জানালেন ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক যুদ্ধ বিমান দুর্ঘটনায় যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের হারিয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ফখরুল কিছু বিএনপি নেতার সঙ্গে প্রথমে উত্তরার দিয়াবাড়ির তারারটেক এলাকায় যান এবং বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তিন শিক্ষার্থী উমায়ের নূর আশিক, বোরহান উদ্দিন ব্যাপ্পি এবং মাহিত হাসান আরিয়ানের পারিবারিক কবরস্থানে বেলা ১১টার দিকে ফাতেহা পাঠ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
পরে তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়ে সান্ত্বনা ও সহানুভূতির কথা বলেন। আশিক, ব্যাপ্পি এবং আরিয়ান একই পরিবারের সদস্য এবং চাচাতো ভাই ছিলেন।
তারা তিনজনই উত্তরার দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকায় একসঙ্গে বড় হয়েছেন। এরপর ফখরুল কাছাকাছি নয়ারনগর এলাকায় যান এবং আরও দুই শিক্ষার্থী জুনায়েদ ও শরিয়ারের কবরেও ফাতেহা পাঠ করেন।
তিনি ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা জানিয়ে বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, শুধু আপনাদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য। আমরা এই দুঃখের সময়ে আপনাদের পাশে আছি।’
তিনি বলেন, পুরো জাতির মতো বিএনপিও এই গভীর শোকে শোকাহত।
আরও পড়ুন: খায়রুলের গ্রেপ্তারে মির্জা ফখরুলের শুকরিয়া, চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
ফখরুল জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করে দলীয়ভাবে গভীর সমবেদনা জানাতে এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকার বার্তা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছেন।
দুঃখ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, ‘যখনই আমরা কোনো দুর্ঘটনায় শিশুদের মৃত্যুর কথা শুনি, সেটা আমাদের গভীরভাবে আহত করে। শিশুদের ভবিষ্যৎ— পরিবার ও জাতির ভবিষ্যৎ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি শিশুকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সান্ত্বনার ভাষা আমাদের নেই। তবে এই শোকের সময় আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
বিএনপির ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সৈয়দুল কবির খানসহ আরও অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৩১৫ দিন আগে
খায়রুলের গ্রেপ্তারে মির্জা ফখরুলের শুকরিয়া, চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দায়িত্বে থাকাকালীন এই বিচারপতি জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে উচ্চপদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার না করে, সে জন্য খায়রুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘খায়রুল হক বাংলাদেশের বড় শত্রুদের একজন। তিনি দায়িত্বে থেকে দেশের বড় ক্ষতি করেছেন। আজ তিনি গ্রেপ্তার হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতির পদে থেকে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তিনি সেখানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে রায় দিয়েছেন, সেটির মাধ্যমে তিনি একইসঙ্গে জনগণ ও রাষ্ট্রকে প্রতারিত করেছেন বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনেক পার্থক্য ছিল। আমরা মনে করি, তার দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায়টি রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিরোধী। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ যে, তারা দেরিতে হলেও খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রায় পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের জন্য খায়রুল শতভাগ দায়ী।’’
পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে: ফখরুল
তাকে কী ধরনের শাস্তি দেয়া উচিত—এই প্রশ্নে ফখরুল বলেন, সেটি নির্ধারণের তিনি কেউ নন।
‘আমরা চাই, এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হোক এবং আইনি বিধান অনুযায়ী বিচার হোক। তবে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ওই পদে থেকে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার সাহস না পায়,’ বলেন ফখরুল।
তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা জনগণের সবচেয়ে আস্থা জায়গা। কিন্তু খায়রুল হক তার রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে সেই আস্থা ধ্বংস করেছেন, যা দেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।এ দিন সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালে খায়রুল হক শপথ নেন। পরের বছর ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
২০১৩ সালে তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা একই পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
৩১৫ দিন আগে
জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মধ্যরাতে হাসপাতালে খালেদা জিয়া
জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানান, চিকিৎসা বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী গতকাল রাত রাত ১টা ৪৮ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রায় ৩৫ মিনিট অবস্থানকালে তার কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।
শায়রুল কবির খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন হাসপাতালে প্রায় ৩৫ মিনিট অবস্থান করেন এবং সেখানে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে রাত ২টা ৫২ মিনিটে তাকে নিজ বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তার জন্য অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত চিকিৎসা বোর্ডের দেওয়া পরামর্শে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ঐক্য ধরে রেখে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা বোর্ডের জরুরি ভিত্তিতে শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের প্রয়োজন হওয়ায় তাকে কিছু পরীক্ষা করাতে নেওয়া হয়েছিল।’
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
লন্ডনে চার মাসের উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও রয়েছেন।
লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধায়নে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেন।
৩১৬ দিন আগে
নির্বাচন নিয়ে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে: ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে বিএনপিসহ চারটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা হঠাৎ করেই আমাদের ডেকেছিলেন। ডাকেন মাঝে মাঝে যখন সরকারের ক্রাইসিস তৈরি হয়। আমরা যাই কারণ আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এই সরকারকে সহযোগিতা করব; গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য যা কিছু করা দরকার করব। তবে আমরা মনে করি, এই মতবিনিময়টা আরও ঘনঘন হলে ভালো হতো।’
মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কালকে (সোমবার) যেটা হয়েছে, একটি বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক কচি প্রাণ গেছে। আমি নিজেও দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা দুঃখপ্রকাশ করেছি, শোক জানিয়েছি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল মাইলস্টোন স্কুলে দুই উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল।’
‘আবার পরীক্ষা-সংক্রান্ত জটিলতায় সচিবালয়ে ছাত্ররা ঢুকে পড়ে, যেটা সবার কাছে মনে হয়েছে এটা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন আগে গোপালগঞ্জে ফ্যাসিস্ট শক্তির লোকজন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, তাদের উত্থানের নমুনা মনে হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: রাজনীতিতে সমস্যা থাকবে, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই: ফখরুল
তিনি বলেন, ‘এটার জন্য উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল; তাদের সবার সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি ডেকেছেন। আমরা সেখানে আলোচনা করেছি। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ত্বরান্বিত করা, উনার যে প্রতিশ্রুতি—ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাঝামাঝি সময়ে যে নির্বাচন হবে, আমরা মনে করি সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেছেন সে ব্যবস্থা নেবেন।’
সরকার কি নির্বাচন নিয়ে সঠিক পথে এগোচ্ছে?— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো দেখছি এগোচ্ছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, এই সরকারের ত্রুটি থাকবে স্বাভাবিক। তবে এই দুর্বলতাকে বড় করে না দেখে তাদের সদিচ্ছাকে বড় করে দেখা উচিত। নির্বাচন নিয়ে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখছি না।
দলীয় প্রধান একইসঙ্গে সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না—এমন একটি প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দিয়েছে। এ প্রস্তাবের ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান কী?— এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো তাদের প্রস্তাব। এ প্রস্তাবের পক্ষে, বিপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো মত দিচ্ছে। সবার মতামতই শুনতে হবে। এটাই তো গণতন্ত্রের মূল কথা। সব ফুল ফুটতে দাও— এটাই তো গণতন্ত্র।’
মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা?— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনো ষড়যন্ত্র দেখছি না। এটা স্রেফ দুর্ঘটনা। আমি এ বিষয়ে এক্সপার্ট নই, তবে এটা নিছক দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না। নিকট অতীতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে।’
দুর্ঘটনার পর সরকারের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারের কোনো গাফিলতি ছিল না। তবে, অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। তারা তো কখনো রাষ্ট্র পরিচালনা করেনি; সবাই অনভিজ্ঞ। এই আমরা যেমন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছি, আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, সেই অভিজ্ঞতা তাদের নাই।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন সামনে রেখে গুজব মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে: সালাহউদ্দিন আহমদ
‘আরেকটা সমস্য হলো ইগো। তারা কোনো বিষয় আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন না। আমাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেন না। এটা ইগোর কারণে হয়ে থাকতে পারে।’
সাম্প্রতিক সময়ের বিশৃঙ্খলা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু বিশৃঙ্খলা ঘটছে। এখানে নিশ্চয়ই ফ্যাসিস্টরা সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে।’
৩১৬ দিন আগে
রাজনৈতিক স্বার্থে শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করার আহ্বান তারেকের
জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করার লক্ষ্যে ধূর্ত কৌশলের মাধ্যমে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে পেশাজীবী পরিষদের এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নির্যাতনের শিকার শহীদ এবং পেশাজীবী পরিবারগুলোর সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার জায়গা থেকে বলছি, যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষার কাজ করার পরিবর্তে রাষ্ট্র ও সরকারের উপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করছেন—তাদের প্রতি আমি বিনীত আবেদন জানাতে চাই, দয়া করে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।’
তারেক অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নির্দিষ্ট মহল ক্ষমতায় তাদের প্রভাব ধরে রাখতে, সরকারকে প্রভাবিত করতে এবং বিভিন্ন উপায়ে তাদের নিজস্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। ‘তারা কৌশলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এটি এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষ এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছে।’
পড়ুন: উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় তারেকের শোক
বিএনপি নেতা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নয়, কারণ সর্বস্তরের মানুষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তারা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন। চলমান রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা যেন ভুলে না যাই।’
তারেক আরও বলেন, নতুন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে প্রতিদিন নতুন নতুন দাবি উঠলেও জাতিকে শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘শাসকরা হয়তো বদলে গেছেন, কিন্তু শাসনের প্রকৃতি একই রয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। জনগণের মধ্যে যদি এই ধরনের ধারণা তৈরি হয়—তাহলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রক্রিয়ায় এটি একটি গুরুতর সংকট তৈরি করবে।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘এজন্যই আমি বারবার বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, জাতির বীর সন্তানদের প্রতি আমাদের ঋণ শোধ করার এখন সময় এসেছে।’
পড়ুন: রাজনীতিতে সমস্যা থাকবে, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই: ফখরুল
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) একটি প্রশিক্ষণ বিমানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বিএনপি নেতা বলেন, তিনি ইতোমধ্যেই দলীয় নেতা-কর্মীদের হতাহতদের পাশে দাঁড়ানোর এবং আহতদের সকল প্রকার সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য না দিয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
৩১৮ দিন আগে
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় তারেকের শোক
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২১ জুলাই) এক শোক বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীদের হতাহতের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও বেদনার্ত হয়েছি। এই ঘটনায় সারা জাতি শোকে মুহ্যমান। মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এই বিমান দুর্ঘটনায় শোক জানানোর ভাষা আমি হারিয়ে ফেলেছি।’
পড়ুন: মব জাস্টিস এখন মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তারেক রহমান
তিনি আরও বলেন, আমি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন সেইসব শোকার্ত পরিবারগুলোকে সন্তান হারানো কিংবা আহত হওয়ার ঘটনায় ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।
আজকের বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারেক রহমান। বলেন, ‘আমি বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ আগুনে দগ্ধ শিক্ষার্থী যারা গুরুতর হয়ে হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে—তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।’
৩১৮ দিন আগে
উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তে মির্জা ফখরুলের শোক
রাজধানীর উত্তরায় মাইলষ্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে অসংখ্য অনেক শিক্ষার্থীর হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২১ জুলাই) এক শোক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলষ্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীদের হতাহতের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় শোক জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আমি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি, আল্লাহ যেন তাদেরকে এই বিশাল শোক সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। আমি বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
৩১৮ দিন আগে
রাজনীতিতে সমস্যা থাকবে, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই: ফখরুল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে হতাশ হওয়ার কোনো যুক্তি নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের দল বহুত্ববাদকে ধারণ করে একটি রেইনবো স্টেট গঠনের স্বপ্ন দেখে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, এখানে একজন শহীদের পিতা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন যে, আমরা আশা করেছিলাম গণঅভ্যুত্থানের পরে অতিদ্রুত রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হবে, রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হবে, আমরা একটা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারব।
‘বিষয়টা হচ্ছে যে, রাজনীতিটা অত সহজ পথ নয়, গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো থাকে না, এখানেও সমস্যা থাকবে, সেটাই রাজনীতি। কিন্তু এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’
রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ভিন্নমত থাকবে, বহুমাত্রিক পথ থাকবে, কেউ গণতন্ত্রের বিশ্বাস করবে, কেউ সমাজতন্ত্রের বিশ্বাস করবে, কেউ আপনার ওয়েলফেয়ার স্টেটে বিশ্বাস করবে। সবগুলোকে মিলিয়ে সেই রকম একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করা হবে, অনেক আগেই আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই স্বপ্ন দেখেছিলেন ‘
রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিএনপির দেওয়া অতীতের ৩১ দফা সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১দফা দিয়েছেন, সেই দফার মধ্যে আজকে যে সংস্কারের প্রশ্নটা উঠেছে, সংস্কারের যে প্রস্তাবগুলো আসছে তার প্রত্যেকটি প্রস্তাব আমরা ২০২২ সালে দিয়েছি।’
জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতি নিয়ে যে সংকট প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান বিএনপির এই নেতা। উদ্ভূত সমস্ত সংকট এড়াতে অন্তর্বতীকালীন সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ দেবে বলেও প্রত্যাশা রেখেছেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে শহিদের সংখ্যা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি সেই বিষয়গুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে চাই না। আমার কতজন শহীদ হয়েছেন, আমার কতজন নিহত হয়েছেন, আমরা কত ত্যাগ স্বীকার করেছি, কারা কী কাজ করেছি এই বিতর্কে আমি যেতে চাই না।
‘কারণ ওটা আমার কাছে মনে হয় স্বার্থপরতার একটা ব্যাপার আছে। আমার দায়িত্ব হচ্ছে এই জাতিকে আমাকে উপরে তুলতে হবে।যে প্রাণগুলো গেছে, যারা জীবন দিয়েছে তারা কিন্তু জীবন দিয়েছে ঘোষণা করেই দিয়েছে যে, আমরা ফ্যাসিস্টকে সরাবো, জাতিকে একটা স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই।’
সত্যিকার অর্থে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষ যেন সুস্থভাবে স্বাধীনভাবে কমফোর্টেবল ওয়েতে স্বস্তির সঙ্গে যেন চলাফেরা করতে পারে সেই ধরণের একটা রাষ্ট্র চাই।
মির্জা ফখরুল আশা করেন, সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তারা রক্ষা করবে।
‘সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে পারব। যে সরকার আমার এই শহিদদের মূল্যায়ন করবেন, তাদের মর্যাদা দেবেন, একই সঙ্গে যেজন্য সংগ্রাম করেছেন বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবার সবরকম ব্যবস্থা গ্রহন করবে।’
এ সময়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ চার শহিদের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম শামস, বাদলুর রহমান বাদল, সাইফ আলী খান, মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাহিদুল ইসলাম রনি, শফিকুল হক সাজু ও হাসনাইন নাহিয়ান সজীবসহ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: হাসিনা কখনোই ক্ষমা পাবে না: মির্জা ফখরুল
৩১৯ দিন আগে
হাসিনা কখনোই ক্ষমা পাবে না: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও বর্বরতার জন্য ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা কখনো ক্ষমা পাবেন না।
তাকে ‘মানবতার এবং সব মায়েদের প্রতি লজ্জা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক যাত্রা, চিরসবুজ স্মৃতিচারণ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ফখরুল এসব কথা বলেন।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে শের-ই-বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে এই কর্মসূচি আয়োজন করে, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নিম গাছের চারা রোপণ করা হয়।
একজন শোকাহত মায়ের কান্নার কথা স্মরণ করে আন্দোলনে তার ছেলেকে হারানোর কথা উল্লেখ করে আবেগঘন ভাষণে বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, ‘ওই মা তার ছেলের মাধ্যমে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তার ছেলেকে প্রথমে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে গুলি করে অন্যদের সঙ্গে তাকে ভ্যানে করে ফেলে দেওয়া হয়—সে জীবিত নাকি মৃত, তাও পরীক্ষা করা হয়নি। পরবর্তীতে আগুন দিয়ে এসব মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাবুন তো—আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।’
আরও পড়ুন: হাসপাতালে জামায়াত আমিরকে দেখতে গেলেন ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদল
বিএনপি নেতা বলেন, তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।
‘এই দেশের পুলিশ ও প্রশাসন, যারা জনগণকে রক্ষা করার কথা ছিল, যাদের বেতন করদাতাদের টাকায় দেওয়া হয়, তারা আমাদের সন্তানদের পুড়িয়ে ও হত্যা করেছে। এর চেয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুর কিছু হতে পারে?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো তাদের বিচারের মুখোমুখি আনা। দ্বিতীয়ত, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন করা। যারা আহত হয়েছেন এবং চোখ হারিয়েছেন, তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তা দিতে হবে। যদি আমরা ব্যর্থ হই, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।’
ফখরুল আরও জানান, বিএনপি আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোর জন্য একটি তহবিল গঠন করবে।
তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল (শনিবার) বলেছি, আজও বলছি—নির্বাচন হবে। ক্ষমতা পাওয়া যাবে কি না তা আলাদা বিষয়। আমরা আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে একটি তহবিল গড়ে তুলব, এবং এই তহবিল থেকে আমরা যতটা সম্ভব এই পরিবারগুলোকে সহায়তা করব।’
ফখরুল বলেন, তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তহবিল গঠনের বিষয়ে কথা বলবেন। যদিও ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ মাধ্যমে ইতিমধ্যে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা করে আসছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, তাদের দল শহীদদের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি সত্যিকারের লিবারেল গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।
আরও পড়ুন: দিন যত যাচ্ছে, পরিস্থিতি তত জটিল হচ্ছে: ফখরুল
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি সত্যিকারের লিবারেল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা। আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই। আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা দুর্নীতি চাই না। আমরা ঘুষ চাই না। আমরা হত্যা চাই না। আমরা নির্যাতন চাই না। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে মানুষ নিরাপদে, স্বাধীনভাবে ও শান্তিতে থাকতে পারে।’
৩১৯ দিন আগে