বিএনপি
পুরান ঢাকায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত দাবি ফখরুলের
পুরান ঢাকার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমি সরকারকে স্পষ্টভাবে এই ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৪২ জন শহীদের পরিবারের সঙ্গে শনিবার (১২ জুলাই) এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতা সতর্ক করে বলেন, যদি তা না করা হয়—তাহলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিকে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জাতি সরকারকে ক্ষমা করবে না। এই সমস্যা সৃষ্টির জন্য সরকারকেই দায়ী করবে।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের তাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের প্রতি আমি ধৈর্য ধরে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ করছি। আমাদের মধ্যে কেউ যেন কোনো অন্যায় কাজ না করে—তা নিশ্চিত করুন। বিএনপি কখনও অন্যায়কে সমর্থন করেনি, করবেও না। বিএনপি সর্বদা আইনের শাসনের পক্ষে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী এবং ছাত্রদলের বীর শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজধানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যায় ভিডিও থাকার পরেও হামলাকারীদের ধরা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন তারেকের
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও কাঠামোর পরিবর্তন চাই। তারপরে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হতে চাই। গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই এবং এর প্রথম ধাপ হলো নির্বাচন।’
বিএনপি নেতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির জন্য নির্বাচনের অনুপস্থিতিকে দায়ী করে বলেন, অপরাধীরা নির্বাচিত সরকার না থাকার সুযোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত সরকার অবশ্যই আরও শক্তিশালী এবং জবাবদিহিতামূলক হবে। আমি আশা করি ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।’
ফখরুল ছাত্রদলকে তার শহীদ সদস্যদের আত্মত্যাগের লিপিবদ্ধ করে একটি বই তৈরি করার পরামর্শ দেন।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র শহীদদের যথাযথ সম্মান দেবে এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এমন আশ্বাসও দেনে বিএনপির এই নেতা।
ফখরুল জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহতদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারে প্রতি আহ্বান জানান।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: এক আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, আরেকজনের দায় স্বীকার
২৩৭ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যায় ভিডিও থাকার পরেও হামলাকারীদের ধরা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন তারেকের
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেলেও হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার না করায় ‘সরকারের নীরবতা’ এবং ‘অন্তর্বর্তী সরকারের পরোক্ষ প্রশ্রয়’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকায় ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ১৪২ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে’ ভার্চুয়াল মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক বলেন, ‘গতকালকের ঘটনাটি দেখে আমরা বিস্মিত। খুনিরা কারা তা পর্দায় স্পষ্ট দেখা গেছে, কিন্তু এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, যারা দেশব্যাপী মব ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা সরকারের নীরব প্রশ্রয় কিংবা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার মদদ পাচ্ছে?’
পড়ুন: মিটফোর্ডে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুতই হবে: আইন উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। অপরাধী মানেই অপরাধী। আইনের ভিত্তিতে বিচার হতেই হবে। কোনো অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক হতে পারে না।’
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, দেশে নানা স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, কিন্তু প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। ‘দেশের জনগণ প্রশ্ন করছে—সরকার এত চুপ কেন? যারা বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?’
ছাত্রদলের আয়োজনে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে পরিবারগুলো তাদের শোক ভাগাভাগি করেন। অনেকে বিচার দাবি করেন এবং হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তারেক শহিদ পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ায় দেরির বিরুদ্ধে জোরালোভাবে আওয়াজ তুলতে হবে।’ একই সঙ্গে যারা ‘মবের মাধ্যমে বিচারকে বিলম্বিত করতে চায়’, তাদের বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘যদি বিএনপি জনগণের সমর্থনে আগামী দিনে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে শহিদদের রক্তের যথার্থ মর্যাদা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। যারা গণআন্দোলনের সময় নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করাই হবে বিএনপির অগ্রাধিকার।’
২৩৭ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: তিন আসামিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন যুবদলের
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার না করা এবং তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজনকে মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না।
শনিবার (১২ জুলাই) বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মোনায়েম মুন্নাব লেন, ‘হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে যাদের স্পষ্ট দেখা গেছে— তাদের কাউকেই মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। এমনকি যে ঘাতক হামলা চালিয়েছে, তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা এর পেছনে কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’
মামলার বাদীর মেয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মুন্না বলেন, ‘তিনজন সরাসরি জড়িত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে তিনজন নিরীহ ব্যক্তিকে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে বাদীর মেয়ে অভিযোগ করেছেন। ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটি একটি বড় প্রশ্ন ও রহস্য।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনা ঘটেছে বুধবার, কিন্তু তা ভাইরাল হয়েছে শুক্রবার— এই দুই দিনের বিলম্ব কেন? এর পেছনে কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা সন্দেহ করি, কোনো মহল হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করেছে।’
পড়ুন: মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড খুবই দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
যুবদল সভাপতি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজে যারা হামলাকারী হিসেবে দেখা গেছে, তাদের কাউকে সংগঠনের পরিচিত মুখ হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে মামলায় যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংগঠনগত দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকে আমরা এরমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানাই, যেন দ্রুত তদন্ত করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
এর আগে, বুধবার (৯ জুলাই) দিনের আলোয় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে মো. সোহাগ নামের এক স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পাঁচজন নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি বলেন, ‘পুরো জাতি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড দেখে স্তব্ধ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সভ্যতার এই যুগে এমন পশুত্বপূর্ণ হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
২৩৭ দিন আগে
ঢাকায় ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় যুবদলের ২ নেতাকে আজীবন বহিষ্কার
রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী যুবদল তাদের দুই নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) তাদের বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- যুবদলের সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সহকারী সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি।
এক বিবৃতিতে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, তাদের দুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে (৩৯) হাসপাতালের গেটে প্রকাশ্য দিবালোকে পাথর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পরে সোহাগের পরিবার দুই যুবদল নেতাসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে।
যুবদল জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের দ্বারা সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।
তারা দলের সকল কর্মী ও সদস্যদের তাদের সঙ্গে সকল প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কোনো রকম নমনীয়তা না দেখিয়ে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
২৩৮ দিন আগে
‘জুলাই সনদকে’ সংবিধানের মূল নীতির স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপের নিন্দা রিজভীর
সংবিধানের মূল নীতি হিসেবে জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ইতোমধ্যে জুলাই সনদের অনেক বিষয় মেনে নিয়েছে। কিন্তু কেন এটিকে সংবিধানের মৌলিক নীতির অংশ করা হবে?’
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আব্দুল কুদ্দুসের সুস্থতা কামনা করে জিয়া পরিষদ আয়োজিত নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নামাজের জায়নামাজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এই মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সংস্কার সারা দেশে এবং সব সময় অব্যাহত থাকবে। ‘সংস্কার কোনো পর্বতমালার মতো স্থির কিছু নয়। এটি একটি গতিশীল প্রক্রিয়া।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র বা জনগণের স্বার্থে যখন প্রয়োজন হয়, তখন সংস্কার করা উচিত এবং উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা উচিত।
রিজভী বলেন, ‘এটাই একটি গণতান্ত্রিক সংবিধানের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সংস্কার আগে করতে হবে এবং এটি (জুলাই সনদ) সংবিধানের মৌলিক নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এই দাবি বিভ্রান্তিকর। এটি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কেন আপনারা এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন?’
বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পরিবর্তে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান রিজভী।
পড়ুন: শিল্পী ফরিদা পারভীনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান খালেদার
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের দরজা বন্ধ করে জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন। ‘আমাদের এখন সেই বন্ধ দরজাটি আবার খুলতে হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন করে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
বিএনপি নেতা বলেন, তাদের দল কখনও সংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলেনি এবং বাস্তবে সর্বদা এটিকে সমর্থন করেছে। ‘আপনি সংস্কারের নামে যে বিষয়গুলোর কথা বলছেন, তার অনেকগুলো ইতোমধ্যেই বিএনপির ৩১-দফা সংস্কার রূপরেখায় প্রতিফলিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে একটি বৃহত্তর আদর্শের জন্য লড়াই করে আসছে - ন্যায়বিচার, সাম্য, আইনের শাসন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র। ‘এই লড়াই রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য। যখন সেই মালিকানা অস্বীকার করা হয়, তখন এটি ফ্যাসিবাদের পথ খুলে দেয়।’
রিজভী উল্লেখ করেন, জনগণের সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ‘সেই জবাবদিহিতা এখন নেই। আমরা বিশ্বাস করি যে অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সমর্থন এবং সকল রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে গঠিত হয়েছে— আওয়ামী লীগ ও তার কয়েকটি মিত্র ছাড়া।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা সকলেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করে চলেছি। কিন্তু এটাও সত্য যে আমরা যদি দুর্ভিক্ষের লক্ষণ দেখতে এবং শুনতে শুরু করি—তাহলে জনগণ আমাদেরও ছাড় দেবে না।’
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে মানুষ বেকার হয়ে পড়ছেন। ‘মানুষ যদি খাবার কিনে খেতে না পারে, তাহলে এটি দুর্ভিক্ষের স্পষ্ট লক্ষণ। যদি এই ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়—তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না— তখন পতিত ফ্যাসিস্টরা আনন্দে হাততালি দেবে।
পড়ুন: জামায়াতের সঙ্গে জোটের সুযোগ নেই, তবে এনসিপির জন্য আলোচনার দরজা খোলা: সালাহউদ্দিন
বিএনপি নেতা বলেন, সরকার চাইলে, আওয়ামী লীগের যেসব সহযোগী দেশ ছেড়ে বিপুল অর্থ পাচার করে পালিয়ে গেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ধ করতে পারে।
‘অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থার কারণে কারখানা বন্ধ করা উচিত নয়। এটি কেবল একটি বক্তব্যই নয় - মানুষ এখন গুরুত্ব সহকারে ভাবছে যে, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে দেশ দুর্ভিক্ষে পতিত হয় কিনা,’ সতর্ক করেন রিজভী।
২৩৮ দিন আগে
শিল্পী ফরিদা পারভীনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান খালেদার
লোকসংগীতশিল্পী ও লালন সঙ্গীতের প্রতীক ফরিদা পারভীনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি রাজধানীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফরিদা পারভীনের স্বাস্থ্যের বিষয়েও খোঁজখবর নেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি বলেন, বিএনপি প্রধান বুধবার(৯ জুলাই) রাতে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে প্রবীণ শিল্পীর স্বাস্থ্যের খবর জানতে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন।
শায়রুল বলেন, ‘তিনি (খালেদা) সরকারের কাছে এই গুণী গায়িকার জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।’
তিনি বলেন, বিএনপি প্রধান অসুস্থ ও প্রখ্যাত গায়িকা ফরিদা পারভীনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
পড়ুন: শিল্পী ফরিদা পারভীনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে ড. ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা ফখরুলের
লালন সঙ্গীত এবং বাংলাদেশের লোকসংগীতের প্রতি তার আজীবন নিবেদিত থাকার জন্য ফরিদা পারভীন সর্বজনীনভাবে প্রশংসিত।
৭০ বছর বয়সী এই প্রখ্যাত গায়িকা ৫ জুলাই থেকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
২৩৮ দিন আগে
জামায়াতের সঙ্গে জোটের সুযোগ নেই, তবে এনসিপির জন্য আলোচনার দরজা খোলা: সালাহউদ্দিন
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন ঘিরে যে দাবিদাওয়া তুলছে, তা তাদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাকে দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন যে, অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে নির্বাচনি জোটের কোনো সম্ভাবনা আমি দেখছি না। অতীতে কৌশলগত কারণে আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছি, কিন্তু এবার তাদের সঙ্গে জোট গঠনের প্রয়োজন অনুভব করছি না।’
তিনি জানান, বিএনপি এখন মূলত সেই দলগুলোর সঙ্গে জোট ও জাতীয় সরকার গঠনে মনোযোগী, যারা একযোগে আন্দোলনে এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। তার কথায়, ‘এখন এর বাইরে কিছু ভাবা হচ্ছে না।’
এনসিপির সঙ্গে সম্ভাব্য জোট গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক জোট নিয়ে আলোচনা চলবে। কী হয় তা সময়ই বলে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব গণতান্ত্রিক দলই নির্বাচনের আগে নানা কৌশল গ্রহণ করবে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত কী কৌশল অবলম্বন করে এবং কার সঙ্গে জোট করে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই আলোচনা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই আলোচনা শেষ হওয়া উচিত ছিল।’
‘ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক পরিচালনায় কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে সময়সাপেক্ষ করে তুলছে। আশা করি, এই আলোচনা আর বেশি দিন চলবে না। এখন একটা সারসংক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দরকার।’
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যত পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন কেবল সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ রায়ের অপেক্ষা। আমরা আশা করি, আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদনে ইতিবাচক রায় দেবে।
বাংলাদেশের জনগণ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন চায় জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই কাঠামোর রূপ কিংবা সাবেক প্রধান বিচারপতিকেই প্রধান উপদেষ্টা রাখার বিষয়টি নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে বিকল্প নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। বিএনপিসহ অন্যান্য দল এবং সংস্কার কমিশন তাদের প্রস্তাব দেবে। যদি আরও ভালো কোনো বিকল্পে একমত না হওয়া যায়, তবে বর্তমান কাঠামোই বহাল থাকবে।’
আসন্ন নির্বাচনে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এই রাজনীতিক বলেন, বাংলাদেশে এই ব্যবস্থার জন্য উপযোগী রাজনৈতিক, সামাজিক ও নির্বাচন সংস্কৃতি নেই।
বিষয়টির তিনি ব্যাখ্যা করেন এভাবে, ‘পিআর ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, ভোটদানে নিরুৎসাহিত হন এবং সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
‘আমাদের ভোটাররা তাদের পরিচিত ও স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে পছন্দ করেন। কিন্তু পিআর ব্যবস্থায় এমনও হতে পারে যে, একটি এলাকায় কোনো দল বেশি ভোট পেলেও অন্য এলাকার কাউকে নির্বাচিত করা হয়। এটি জনগণের রায়কে প্রতিফলিত করে না, বরং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।’
‘যেসব দেশে পিআর ব্যবস্থা কার্যকর, সেখানে স্থানীয় সরকারগুলোও শক্তিশালী। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এখানে সংসদ সদস্যরা সরাসরি উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত থাকেন। তাই এখানে পিআর কার্যকর হবে না।’
তার মতে, বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো দরকার, যেখানে জনগণ সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। বাংলাদেশ পিআর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। এটি কখনো এখানে প্রয়োগ হয়নি; জনগণও এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়।
এই নির্বাচন পদ্ধতির আরেকটি সমস্যা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘পিআর ব্যবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনের সুযোগ হারাবেন। কেউ যদি খুব জনপ্রিয়ও হন, কিন্তু কোনো দলে না থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এটি অন্যায় এবং অগণতান্ত্রিক।’
তার মতে, ছোট দলগুলো পিআর চায়, কারণ এতে তারা কম ভোট পেয়েও বেশি আসন পেতে পারে। কিন্তু এর ফলে দুর্বল জোট সরকার গঠিত হয় এবং দেশে শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করা এই নেতা বলেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই বিএনপি মেনে নেবে না।’
‘কিছু দল বিভিন্ন দাবি করছে। কেউ সংস্কার চায়, কেউ বলছে বিচার ছাড়া নির্বাচন নয়, কেউ পিআর চায়। এসব বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী, সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হবে। কথা বলার অধিকার সবাই রাখে, তবে সেসব বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হতে পারে।’
আরও পড়ুন: অধস্তন আদালত বিকেন্দ্রীকরণে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মান করি এবং তাদের জন্য শুভকামনা রাখি। কিন্তু প্রকৃত রাজনৈতিক ওজন আসে জনসমর্থন থেকে। ছোট ছোট কিছু দল বড় বড় কথা বললেও তারা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। রাজনীতিতে জনমতের মূল্য সবচেয়ে বেশি।’
বিএনপির জোটসঙ্গী দলগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে দর কষাকষির কৌশলেরই অংশ হতে পারে, যেমন ধরুন আসন ভাগাভাগি।’
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মতে, আওয়ামী লীগ আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তারা বহু আগেই তাদের আদর্শ ও চরিত্র হারিয়েছে। তারা এখন একটি অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী শক্তিতে, এক ধরনের মাফিয়া সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের আগ থেকে আজ পর্যন্ত তাদের ইতিহাসে কখনো গণতন্ত্র চর্চা হয়নি। গণতন্ত্র তাদের রক্তে নেই।’
আরও পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন: সংবিধান কোনো ‘সাহিত্য’ নয়
২৩৮ দিন আগে
শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে অন্তর্বতী সরকারকে আহ্বান ফখরুলের
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বাংলাদেশি পণ্যের উপর সম্প্রতি ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক। যদি এই খাতটিতে এত বেশি শুল্কারোপ করা হয়, তাহলে এটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়তে পারে এবং ঘুরে নাও দাঁড়াতে পারে। এতে আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে।’
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ছাত্র ও জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
ফখরুল বলেন, মার্কিন শুল্কারোপের বিষয়টি দেশ ও আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ‘অন্তর্বর্তী সরকার এতে কতটা মনোযোগ দিয়েছে— তা আমি নিশ্চিত নই। তাদের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল এবং সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।’
পড়ুন: অধ্যাপক ইউনূসের নির্দেশে দ্রুত নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে ইসি, আশা ফখরুলের
তিনি মনে করেন, সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। শিল্প রক্ষা, বিশেষ করে নারীদের চাকরির সুরক্ষা এবং অর্থনীতির আরও ক্ষতি রোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
বিএনপি মহাসচিব সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইনের ঘটনাগুলোর বিষয়টিও তুলে ধরেন। সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকে এই বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইনের বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি না। সংবাদপত্রে ছোট ছোট অংশে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। আমি সকল সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম পেশাদারদের অনুরোধ করছি, তারা যেন এই বিষয়গুলোকে তাদের প্রাপ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। এগুলো কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিতই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।’
ফখরুল অন্তর্বর্তী সরকারকে ভারতের সঙ্গে এই বিষয়গুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করারও আহ্বান জানিয়েছেন। ‘ভারতের সঙ্গে যথাযথ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়গুলো আলোচনার একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত,’ বলেন তিনি।
ফেনীতে সাম্প্রতিক বন্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য পানি বণ্টনের অমীমাংসিত বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনের বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। ফেনীতে ইতোমধ্যেই বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বর্ষা অব্যাহত থাকায় আরও বন্যা হতে পারে। পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই জোরালোভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়ে বলেন, সহনশীলতা এবং অনুশীলন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। কিন্তু সেই ঐক্য কোথায় থাকা উচিত? আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এটি থাকা উচিত। আমি আপনার সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, তবে আপনার মতামত প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব—জাতীয় ঐক্যের অর্থ এটাই।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্র অর্জনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মতামতের প্রতি সহনশীলতা অপরিহার্য। ‘দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে আমরা কখনও সেই চেতনায় গণতন্ত্র অনুশীলন করিনি। গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি এবং এটি অনুশীলন না করে আমরা কীভাবে এটি অর্জনের আশা করতে পারি?’ সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
পড়ুন: বাংলাদেশে গণতন্ত্র খুব একটা চর্চা হয়নি: মির্জা ফখরুল
তিনি তরুণদের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। বলেন, ‘আমরা বারবার লড়াই করেছি। এখন, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফল হওয়ার জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
২৩৯ দিন আগে
অধ্যাপক ইউনূসের নির্দেশে দ্রুত নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে ইসি, আশা ফখরুলের
জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি এই অনুষ্ঠান থেকে অধ্যাপক ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়।’
ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন খুব দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে।’
তিনি বলেন, আমাদের দল চায় নির্বাচন কমিশন এমনভাবে কাজ করুক—যাতে এটি জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে। ‘আমরা আশা করি তারা সেভাবেই কাজ করবে।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত তা নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। তবে নির্বাচন নিয়ে কিছু মহল যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে—তা উড়িয়ে দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘কেন নির্বাচন হবে না? এ দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। তারা নির্বাচনের জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে। তারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংসদ চায়।’
ফখরুল বলেন, নির্দিষ্ট একটি মহল বিএনপিকে সংস্কারের বিরোধিতাকারী দল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করচে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিএনপিই বাংলাদেশে সকল বড় সংস্কার শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার আমাদের রক্ত ও ডিএনএতে আছে। আমরা সংস্কারের মাধ্যমেই জন্মগ্রহণ করেছি।’ তাই, এটা বলা অন্যায্য যে বিএনপি সংস্কারের বিরুদ্ধে। বিএনপি সংস্কারে বাধা দিচ্ছে দাবি করার চেয়ে সত্যের বিকৃতি আর কিছু হতে পারে না।’
তবে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে। ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমরা কেন সবকিছু আশা করব?’
জুলাই সনদ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ফখরুল বলেন, বিএনপি এর আগে সরকারের কাছ থেকে খসড়া পাওয়ার পর বুধবার রাতে তাদের মতামত জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। ‘তাহলে, সমস্যা কোথায়?’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকতে পারে, কিন্তু দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের বিরোধীদের কথা বলার সময় বা সমালোচনা করার সময় সতর্ক ও সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করার আহ্বান জানান—যাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য সম্পর্কে মানুষ ভুল বার্তা না পায়।
জামায়াত নেতা সকল গণতন্ত্রপন্থী দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের মধ্যে যেকোনো অনৈক্য ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানে সাহায্য করতে পারে।
সাংবাদিকদের সভ্যতার ব্যারোমিটার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি গণমাধ্যমকে ন্যায্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অনুশীলন করে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
পরওয়ার অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য জামায়াত, বিএনপি এবং অন্যান্য দল সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. এ জেড এম জাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতে ভূমিকা পালনকারী তরুণ নেতাদের মানসিকতা ও মনোভাবের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তরুণ নেতাদের আরও সংযম ও ধৈর্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। বলেন, তাদের কাজে ও কথায় অহংকার এড়াতে হবে। ‘আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আপনাদের কথা ও কাজে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারীদের মানসিকতার প্রতিফলন না হয়।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংস্কার প্রস্তাবনা সম্পর্কে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
তবে, নির্বাচনকে সামনের রেখে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসা করেন।
মান্না সতর্ক করে বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। যেকোনো বিলম্ব দেশকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ‘একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে গণঅভ্যুত্থান সফল হবে,’ বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: শিল্পী ফরিদা পারভীনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে ড. ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা ফখরুলের
২৩৯ দিন আগে
সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানোর কোনো বয়ান কাজে লাগবে না: রিজভী
সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানোর নানা বয়ান আমরা শুনতে পাচ্ছি, সেগুলো কোনো কাজে লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে উন্নয়নের যে ফিরিস্তি স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার দিয়েছে তা— এই পাহাড়ে না আসলে দেখতে পেতাম না।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ফুটবলার ঋতুপর্ণার অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার হেলাল, আমরা বিএনপির পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব মো. মিথুন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আমি নিজেই এখনো নির্বাচনের তারিখ জানি না: সিইসি
এ সময়, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী ঋতুপর্ণা চাকমার মা ভুজিপুতি চাকমাকে আশ্বস্ত করেন। বলেন, বিএনপি সব সময় ঋতুর মায়ের পাশে থাকবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পেয়ে ঋতুর মায়ের পাশে দাঁড়ানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই, এই প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুর্গম এই পথ পাড়ি দিয়ে আমরা তার বাড়িতে এসেছি। আমরা ঋতুর মায়ের সকল চিকিৎসার খরচ বহন করব।
এসময় রিজভী ঋতুপর্ণার মায়ের হাতে ২ লাখ টাকা হাতে তুলে দেন। এছাড়া প্রতি মাসে কেমোথেরাপির ৩০ হাজার টাকা করে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
পাহাড়ের গোল্ডেন গার্ল খ্যাত ঋতুপর্ণা চাকমার জোড়া গোলে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ঋতুপর্ণা চাকমার মা ভুজোপতি চাকমা ব্রেস্টক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। এরমধ্যে, তিনি তিনটি কেমোথেরাপি দিয়েছেন। প্রতি ২১ দিন পরপর তাকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে গিয়ে কেমোথেরাপি দিতে হয়।
২৪০ দিন আগে