বিএনপি
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চ্যালেঞ্জে সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা বিএনপির
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারকে সমন্বিত সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে বিএনপি পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বনানীর একটি হোটেলে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিষয়ে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানির সঙ্গে প্রায় ১৫–১৬ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত। ফলে শুল্ক ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ফলে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক আলোচনা থেকে বাংলাদেশ যেন বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যেই বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়।
আরও পড়ুন: শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আশাব্যঞ্জক: বাণিজ্য উপদেষ্টা
এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক পোশাক রপ্তানি বাজারে ভারতের সঙ্গে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিযোগী।
বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়, তাহলে এসব প্রতিযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় ধরনের সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শুল্ক সমস্যার সমাধান না হলে বাংলাদেশ কয়েক লাখ মানুষের কর্মহানি, শিল্প কারখানা বন্ধ এবং হাজার হাজার ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিতে পারবে না।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, অ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিআই)-এর চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ এবং প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী প্রমুখ।
৩২৪ দিন আগে
নির্বাচন বিলম্ব ঘটাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে: অভিযোগ ডা. জাহিদের
জাতীয় নির্বাচনে বিলম্ব ঘটাতে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘একটি সুস্পষ্ট চক্রান্ত চলছে, যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো যায়, তাহলে কয়েকটি পক্ষ এতে লাভবান হবে।’
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রাঙ্গণে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২১ জুলাইয়ের পেশাজীবীদের আলোচনাসভার ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তবে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. জাহিদ। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আমরা আশাবাদী যে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে।’
রাজধানীর পুরান ঢাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধকে সমর্থন করে না।
তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবারের (১৪ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘অপরাধ মানেই অপরাধ—এতে কোনো দলীয় পক্ষপাত নেই, বিএনপি কোনো অন্যায়কে সমর্থন করে না।’
আরও পড়ুন: একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক-বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার
ডা. জাহিদ বলেন, অপরাধকে রাজনীতিকরণ করা বা কোনো পক্ষকে দোষারোপ করতে গিয়ে তা বাড়িয়ে বা কমিয়ে তুলে ধরা সঠিক নয়। অন্যায়কে সব সময়ই অন্যায় হিসেবে দেখতে হবে। কোনো সচেতন রাজনৈতিক ব্যক্তি কখনো অন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমনটি বিশ্বাস করি।
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে করা অশালীন মন্তব্যগুলোর সমালোচনা করেন।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমরা শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। আমরা কোনো চক্রান্তের অংশ হতে চাই না।’
সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে ধৈর্য ধরার, সত্য বলার ও দ্বৈত আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ‘বিএনপি কখনো অন্যায়কে সমর্থন করে না, বরং ন্যায়বিচার চায়। বিএনপি গণপিটুনি বা বিচারবহির্ভূত সহিংসতাকে সমর্থন করে না,’ বলেন ডা. জাহিদ।
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতার ‘বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে’ মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সরাসরি তার বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না। আমার মনে হয়, যারা এমন মন্তব্য করেন, তারা হয়তো রাজনৈতিক বোধ ও অভিজ্ঞতার ঘাটতিতে ভোগেন। জনগণ ঠিক করে দেবে কে লাল কার্ড পাবে আর কে সবুজ।’
তিনি ঝালকাঠি থেকে নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ‘বিএনপি মুজিববাদের রক্ষক হয়ে উঠছে’ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘আমি ওই খবর দেখেছি। কারা আসলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে এবং কারা করছে না, তা জনগণের চোখে স্পষ্ট।’
৩২৪ দিন আগে
মিটফোর্ডে হত্যাকান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন বিএনপির
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিএনপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ব্যবহার করার সন্দেহ রয়েছে এবং কিছু মহলের উসকানিতে জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এই ধরনের ঘটনা দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
সোমবার (১৪ জুলাই) বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডকে দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি এবং দুষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
ফখরুল বলেন, ‘এই নির্মম হত্যার পেছনের সত্য উদঘাটন করতে আমরা একটি উপযুক্ত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন করেছি, যারা প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করবে এবং তা জনসমক্ষে নিয়ে আসবে।’
তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, বিশেষ করে একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ও তার শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে দল কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
ফখরুল বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এরইমধ্যে ঢাকা মিটফোর্ড এলাকার লাল চাঁদ সোহাগ নামে একজন ভাঙারি ব্যবসায়ীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকলেও পুলিশের অভিযোগে নাম উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদক্ষেপ—আজীবন বহিষ্কার—গ্রহণ করেছে দল।
বিএনপি নেতা জানান, নিহতের পরিবার ইতোমধ্যে মামলার বিবৃতিতে অসঙ্গতি থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, আসল দোষীদের জায়গায় রিপোর্টে তিন জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। দুঃখজনকভাবে, নির্মম হত্যায় সরাসরি যুক্ত প্রকৃত অপরাধীরা এখনও চিহ্নিত বা গ্রেফতার হয়নি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি।
৩২৫ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
পুরান ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন মির্জা ফখরুল। এ ধরনের ঘটনা জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই ব্যবহার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ হত্যার ঘটনা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং এর মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্য বিশেষ কোনো মহলের প্ররোচনায় এ ধরনের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।’
তিনি জানান, রাজধানীর মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি ‘তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
এ ঘটনায় কমিটির সদস্যরা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবেন এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানান দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছি, কারণ এ ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে এবং দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও তার শীর্ষ নেতার (তারেক রহমান) ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ডে হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না আনসারদের: ডিজি
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি বিবেকবান রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় সংঘটিত লালচাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডে বিএনপি তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দৃষ্টামূলক শাস্তি দাবি করেছে। এই হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা বা উপস্থিতির প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলার আলোকে আজীবন বহিষ্কারের মতো সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মামলার এজহারের অসংগতি প্রসঙ্গে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তাদের উল্লেখিত তিনজন অপরাধীর নামের স্থলে এমন তিনজনের নাম সংযুক্ত করা হয় যাদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোাগ নেই।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, নৃশংসতার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার তো দূরে থাক, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখনও তাদের নাম-পরিচয় পর্যন্ত উদঘাটনে সক্ষম হয়নি।
এর আগেও বর্তমান সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানানোর কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যায় দুই আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর
তিনি বলেন, দৃঢ় দলীয় অবস্থান থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদের দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের শালীনতা ও চরিত্রহননের দুঃসাহস প্রদর্শন করছে।’
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ভাঙারি ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
৩২৫ দিন আগে
তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ফখরুলের
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশীয় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরাতে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একদল দুষ্টচক্র অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে—টার্গেট করে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা এবং উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় নেতা তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরানো ও হেয় করা।’
রবিবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপিপন্থী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল সম্পাদিত ‘তারেক রহমান: বাংলাদেশ আশার নাম’ শীর্ষক গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় এ অনুষ্ঠানে।
ফখরুল বলেন, বিএনপি বর্তমানে একটি সুপরিকল্পিত, ভয়াবহ ও বিপজ্জনক সাইবার আক্রমণের মুখে পড়েছে, যা দলকে হেয় ও দুর্বল করার জন্য নানা দিক থেকে চালানো হচ্ছে।
‘সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো—প্রথমবারের মতো আমাদের নেতা তারেক রহমানকে নাম উল্লেখ করে সরাসরি টার্গেট করা হচ্ছে। তাকে নিয়ে অনেক কিছু ছড়ানো হচ্ছে, যাতে করে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক,’ বলেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে তরুণ নেতাকর্মীদের সঠিকভাবে শিক্ষা ও রাজনৈতিক দীক্ষায় দীক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদেরকে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ গভীরভাবে জানতে হবে এবং তা ধারণ করতে হবে। তা না হলে, তারা রাজনীতিতে নিজেদের সঠিক অবস্থান খুঁজে পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় আমাদের অনেক নেতাকর্মী এই সময়ের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে পারেননি। না হলে আজ আমরা যেসব কথা শুনছি, সেগুলো শুনতে হতো না।’
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার যুবদলের বিক্ষোভ
সাইবার জগতে জাতীয়তাবাদী তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে এবং আরও বেশি তরুণকে সম্পৃক্ত করে মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—আমাদের লোকেরা পড়তে চায় না। এই অভ্যাস বদলাতে হবে। আমাদের পড়তে হবে। যত বেশি পড়ব, তত বেশি জ্ঞান অর্জন করব, ততই শক্তিশালী হয়ে লড়তে পারব। আমাদের সব কিছু নিয়েই পড়তে হবে। জানতে হবে তারা কী বলছে, এবং কীভাবে জবাব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, বুদ্ধিমত্তা ও মেধার ভিত্তিতে লড়াই ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ‘মেধার কোনো বিকল্প নেই। সেই মেধা দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তরুণ সাইবার যোদ্ধাদের মেধা দিয়ে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’
বিএনপি সমর্থিত সাইবার কর্মী ও ব্লগারদের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে অবদানের কথা স্মরণ করে ফখরুল বলেন, ‘আমি সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’
তিনি বলেন, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমও তাদের জায়গায় শক্তিশালী। তবে বিএনপি এই সাইবার দুনিয়ায় দুর্বল, তা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনলাইন উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই দায়িত্ব তরুণদের নিতে হবে।’
‘তারেক রহমান: বাংলাদেশ আশার নাম’ বইটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা, দূরদর্শী নেতৃত্ব, ১/১১ সময়কার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্নচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি বিএনপিকে সঠিক পথে পরিচালনার প্রতীক, এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এক আশার নাম।’
৩২৬ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার যুবদলের বিক্ষোভ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
রবিবার (১৩ জুলাই) যুবদলের সহকারী দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির এই যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশের সব জেলা ও মহানগর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করবেন।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: এক আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, আরেকজনের দায় স্বীকার
ঢাকায় বেলা ২টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হবে। এটি ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হবে।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন সংগঠনের দেশব্যাপী সকল ইউনিটকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩২৬ দিন আগে
পুরান ঢাকায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত দাবি ফখরুলের
পুরান ঢাকার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমি সরকারকে স্পষ্টভাবে এই ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৪২ জন শহীদের পরিবারের সঙ্গে শনিবার (১২ জুলাই) এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতা সতর্ক করে বলেন, যদি তা না করা হয়—তাহলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিকে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জাতি সরকারকে ক্ষমা করবে না। এই সমস্যা সৃষ্টির জন্য সরকারকেই দায়ী করবে।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের তাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের প্রতি আমি ধৈর্য ধরে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ করছি। আমাদের মধ্যে কেউ যেন কোনো অন্যায় কাজ না করে—তা নিশ্চিত করুন। বিএনপি কখনও অন্যায়কে সমর্থন করেনি, করবেও না। বিএনপি সর্বদা আইনের শাসনের পক্ষে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী এবং ছাত্রদলের বীর শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজধানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যায় ভিডিও থাকার পরেও হামলাকারীদের ধরা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন তারেকের
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও কাঠামোর পরিবর্তন চাই। তারপরে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হতে চাই। গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই এবং এর প্রথম ধাপ হলো নির্বাচন।’
বিএনপি নেতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির জন্য নির্বাচনের অনুপস্থিতিকে দায়ী করে বলেন, অপরাধীরা নির্বাচিত সরকার না থাকার সুযোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত সরকার অবশ্যই আরও শক্তিশালী এবং জবাবদিহিতামূলক হবে। আমি আশা করি ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।’
ফখরুল ছাত্রদলকে তার শহীদ সদস্যদের আত্মত্যাগের লিপিবদ্ধ করে একটি বই তৈরি করার পরামর্শ দেন।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র শহীদদের যথাযথ সম্মান দেবে এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এমন আশ্বাসও দেনে বিএনপির এই নেতা।
ফখরুল জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহতদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারে প্রতি আহ্বান জানান।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: এক আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, আরেকজনের দায় স্বীকার
৩২৭ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যায় ভিডিও থাকার পরেও হামলাকারীদের ধরা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন তারেকের
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেলেও হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার না করায় ‘সরকারের নীরবতা’ এবং ‘অন্তর্বর্তী সরকারের পরোক্ষ প্রশ্রয়’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১২ জুলাই) ঢাকায় ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ১৪২ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে’ ভার্চুয়াল মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক বলেন, ‘গতকালকের ঘটনাটি দেখে আমরা বিস্মিত। খুনিরা কারা তা পর্দায় স্পষ্ট দেখা গেছে, কিন্তু এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, যারা দেশব্যাপী মব ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা সরকারের নীরব প্রশ্রয় কিংবা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার মদদ পাচ্ছে?’
পড়ুন: মিটফোর্ডে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুতই হবে: আইন উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। অপরাধী মানেই অপরাধী। আইনের ভিত্তিতে বিচার হতেই হবে। কোনো অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক হতে পারে না।’
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, দেশে নানা স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, কিন্তু প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। ‘দেশের জনগণ প্রশ্ন করছে—সরকার এত চুপ কেন? যারা বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?’
ছাত্রদলের আয়োজনে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে পরিবারগুলো তাদের শোক ভাগাভাগি করেন। অনেকে বিচার দাবি করেন এবং হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তারেক শহিদ পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ায় দেরির বিরুদ্ধে জোরালোভাবে আওয়াজ তুলতে হবে।’ একই সঙ্গে যারা ‘মবের মাধ্যমে বিচারকে বিলম্বিত করতে চায়’, তাদের বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘যদি বিএনপি জনগণের সমর্থনে আগামী দিনে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে শহিদদের রক্তের যথার্থ মর্যাদা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। যারা গণআন্দোলনের সময় নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করাই হবে বিএনপির অগ্রাধিকার।’
৩২৭ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: তিন আসামিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন যুবদলের
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার না করা এবং তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজনকে মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না।
শনিবার (১২ জুলাই) বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মোনায়েম মুন্নাব লেন, ‘হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে যাদের স্পষ্ট দেখা গেছে— তাদের কাউকেই মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। এমনকি যে ঘাতক হামলা চালিয়েছে, তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা এর পেছনে কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’
মামলার বাদীর মেয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মুন্না বলেন, ‘তিনজন সরাসরি জড়িত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে তিনজন নিরীহ ব্যক্তিকে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে বাদীর মেয়ে অভিযোগ করেছেন। ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটি একটি বড় প্রশ্ন ও রহস্য।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনা ঘটেছে বুধবার, কিন্তু তা ভাইরাল হয়েছে শুক্রবার— এই দুই দিনের বিলম্ব কেন? এর পেছনে কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা সন্দেহ করি, কোনো মহল হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করেছে।’
পড়ুন: মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড খুবই দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
যুবদল সভাপতি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজে যারা হামলাকারী হিসেবে দেখা গেছে, তাদের কাউকে সংগঠনের পরিচিত মুখ হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে মামলায় যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংগঠনগত দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকে আমরা এরমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানাই, যেন দ্রুত তদন্ত করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
এর আগে, বুধবার (৯ জুলাই) দিনের আলোয় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে মো. সোহাগ নামের এক স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পাঁচজন নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি বলেন, ‘পুরো জাতি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড দেখে স্তব্ধ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সভ্যতার এই যুগে এমন পশুত্বপূর্ণ হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
৩২৭ দিন আগে
ঢাকায় ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় যুবদলের ২ নেতাকে আজীবন বহিষ্কার
রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী যুবদল তাদের দুই নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) তাদের বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- যুবদলের সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সহকারী সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি।
এক বিবৃতিতে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, তাদের দুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে (৩৯) হাসপাতালের গেটে প্রকাশ্য দিবালোকে পাথর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পরে সোহাগের পরিবার দুই যুবদল নেতাসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে।
যুবদল জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের দ্বারা সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।
তারা দলের সকল কর্মী ও সদস্যদের তাদের সঙ্গে সকল প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কোনো রকম নমনীয়তা না দেখিয়ে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
৩২৮ দিন আগে