বিএনপি
আজ সিলেট থেকে ভোটের প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
মর্যাদার সিলেট-১ আসন থেকে বরাবরের ন্যায় এবারও নির্বাচনি জনসভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেটবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে জনসভাকে কেন্দ্র করে আলিয়ার মাঠে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা। অনেকেই সিলেটের দূর-দূরান্ত থেকে এসে বুধবার রাতেই মাঠে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তারেক রহমানের আগমনে সিলেট বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
আজ সিলেট থেকে জনসভার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান।
এর আগে, বুধবার রাত ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে দিবাগত রাত ১টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান।
বিরামপুরে তারেক রহমান হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘ড. জুবাইদা যেমন আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদের সন্তান। আমার দাবি রয়ে গেল যাতে ১২ তারিখে এই এলাকা থেকে ধানের শীষ বিজয়ী হয়। আপনাদের কাছ থেকে এই জবান নিয়ে গেলাম।’
জানা যায়, মঠের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন মঞ্চের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মঞ্চের সামনে প্রায় ৩০ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরের উত্তর অংশে জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থল থেকে সিলেট বিভাগে ১৯টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। ওই সমাবেশে সিলেট জেলার ছয়টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে দল ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
১৩৩ দিন আগে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিএনপি: মাহদী আমীন
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ নেবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আমরা বলেছি, নির্বাচনি প্রচারণায় গণভোটে আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নেব।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথ থাকবে এটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে মাহদী আমীন বলেন, ‘যেসব নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে আলোচনা করব।’
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি মূল রাষ্ট্র কাঠামোর একটা পরিবর্তন করা। সরকারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ থাকবে, জবাবদিহিমূলক থাকবে সবার আগে কাজগুলো বিএনপি করেছে। আমাদের যে ৩১ দফা রয়েছে সেখানে সংস্কারের সবচাইতে মৌলিক ভিত্তিগুলো ধারণ করে। সুতরাং আমরা বলছি, গণভোটে হ্যাঁ ভোটে অবস্থান নেব।’
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার, কঠোর বার্তা আর বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতা ও আলোচনার পরও ৭৯টি আসনে বিএনপি অন্তত ৯০ জন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তার আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা আন্দোলন ছিল। দীর্ঘ সময় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ভোট দিতে পারেন নাই, একইসঙ্গে এটা সত্য, অনেক ত্যাগী সংগ্রামী রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে এতে দীর্ঘ সময় পরে যখন নির্বাচন হচ্ছে, বিএনপির মতো একটা বড় রাজনৈতিক দল, এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে; কিন্তু প্রতিটি আসনে তো একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না!’
তিনি বলেন, ‘অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, অনেক ত্যাগী অনেক সংগ্রামী তারা। দলের জন্য অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারো কারো ভেতরে অনুভূতি রয়েছে, উনি আসনটিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন। (মনোনয়নপত্র) প্রত্যাহারের সময় চলে গেছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আলাপ-আলোচনা করা হবে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা করা হবে। তারপরে যদি কেউ প্রার্থী থাকেন, অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় নির্বাচন আচরণবিধি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে জানান তিনি। একইসঙ্গে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কিছু জায়গায় পোস্টাল ব্যালটের নামে সংগঠিতভাবে আইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাদের ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলা হবে বলেও জানান মাহদী।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রকৃত অর্থে মূল্যায়িত হলে বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করবে।’
১৩৪ দিন আগে
সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান
আগামীকাল ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে এই প্রচারণার সূচনা হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে ৯০ নম্বর রোডের নির্বাচনি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ঘোষিত তফসিল মোতাবেক, তিনি (তারেক রহমান) আজ (বুধবার) রাত সোয়া ৮টায় বিমানযোগে সিলেট জেলায় পৌঁছাবেন। এরপর গভীর রাতে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং আগামীকাল সকালে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন।
মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনি প্রচারণা উপলক্ষে আজ দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার লেকশোর হোটেলে দলের নির্বাচনি ‘থিম সং’ উন্মোচন করা হবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। যাত্রাপথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বা রূপগঞ্জে নির্বাচনি পথসভা ও সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর রাতেই ঢাকায় গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তার।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে চিঠির মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিবাচকভাবে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়ে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা আহ্বান জানাই, নির্বাচনি আচরণবিধি পূর্ণাঙ্গ প্রতিপালনের মাধ্যমে বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনে যেন জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এই নির্বাচন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
১৩৪ দিন আগে
নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থিদের হাতে যাবে: ফখরুল
আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, সামনের নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের হাতে যাবে। আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতান্ত্রিক রাস্তা বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে বলছেন নির্বাচন হবে কিনা, বলছেন বাধা দেবে, নির্বাচন করতে দেবে না...কিন্তু তাদের তিনটা ভোটও নেই। তারাই আবার বড় গলায় কথা বলে। জনগণ যদি আমাদের চায় আমরা থাকব, বাদ দিলে বিরোধী দলে থাকব। তবে আগে থেকেই গলাবাজি কেন?’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে, এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে? নাকি আপনার সমস্ত উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে?
‘আমাদের অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে, মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে, সেজন্য নানা কিছু শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে তারা, যারা অতীতে বাংলাদেশকেই স্বীকার করেনি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, যারা আমাদের মা-বোনদের নির্যাতন করেছে-তুলে নিয়ে গিয়েছিল। সেই হিসাব আমরা ভুলিনি।’
ধর্মের নামে ভোট চাওয়াকে ভণ্ডামি আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন, সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়।
‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে! চিন্তা করেন। তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার (সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ) করা, ঈমান আনা—এগুলো দরকার নাই, নাকি? আমাদের এখানে অনেক উলামা আছেন, তারা বলতে পারবেন।’
সাতচল্লিশ ও একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বোঝায়,… তারা এই সমস্ত করে, বরাবর। আজকে না, পাকিস্তান যখন হয় ভারতবর্ষে, যখন স্বাধীন হচ্ছে, যখন যে যার লড়াই করছেন… মুসলমানদের আবাসস্থল পাকিস্তানের জন্য তখন তাদের নেতা মাওলানা মওদুদী আন্দোলন করেননি, বিরোধিতা করেছেন। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি এসব কথা, কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রচার করেন।
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন প্রতিটি মানুষ। তারা (জামায়াত) বিরোধিতা করেছে, ঠিক না? আজকে প্রতিটি মানুষ যখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে, তা গ্রহণ করবার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে, তখন তারা আবার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে ধর্মের নামে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব, তিনি প্রথম কোরআন শরিফের কথা বলেছেন সংবিধানে। তিনি প্রথম সংবিধানের মধ্যে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দিয়েছেন। তিনি প্রথম আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাসের কথা বলেছেন।’
সংস্কার বিষয়ে গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগও করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাদের প্রশ্ন করে— আপনারা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা (সংস্কার) তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। এই যে জিনিসগুলো (প্রশ্ন তোলা) সবসময় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার প্রস্তাবে সবাই যেখানে একমত হয়েছে, সেখানে অবশ্যই “হ্যাঁ” আছে, সেখানে কোনো না নেই। কিন্তু তারা কারসাজি, বেইমানি করেছে। আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই, যেগুলোতে একমত হইনি সেগুলোও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে (জুলাই সনদে)। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছি। আমাদের কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য নয় সেটাও মেনে নিয়েছি, পরে সংসদে গিয়ে দেখা যাবে।’
জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘একজন অনন্য নেতা ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে আলাদা একটা ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে এবং স্বাধীন একটা ভূখণ্ড তিনি এই জাতিকে উপহার দিয়েছেন।
‘গত কয়েকদিন আগে আমাদের আরেকজন নেত্রী তার সমস্ত জীবন দিয়ে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন, আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন, আমাদের পথ দেখিয়েছেন, সেই নেত্রীকে আমরা হারিয়েছি। এই দেশের কোটি মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিল ওই পার্লামেন্ট চত্বরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেত্রী যিনি গৃহবধূ ছিলেন, তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমানের সেই পতাকা আবার উপরে তুলে ধরেছেন। এরপর তাদেরই উত্তরসূরী তারেক রহমান, তিনি সেই পতাকা তুলে ধরেছেন।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
১৩৫ দিন আগে
নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে দুটি দল: মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা আব্বাস দাবি করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে (কারসাজি) ক্ষমতায় যেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ বিষয়ে তিনি নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দেশ এখন ক্রান্তিলগ্নে। আশঙ্কা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু আসনে জয়লাভ করবে তারা। দুটি রাজনৈতিক দল—একটি বড়, আরেকটি তাদের বাচ্চা। বিএনপিকে হারিয়ে এই দুটি দল যেন ক্ষমতায় আসতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে তারা।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু ছেলে-পেলে খুব আজেবাজে কথা বলছে। তারা নিজেরা চাঁদাবাজি করে বিএনপির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে, অথচ সরকার তাদের। তাই এখন পর্যন্ত একজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেনি। আরেকটি দল বলছে, আমাদের একবার দেখেন। আমরা বলব, একাত্তরে তোমাদের দেখেছি কত মানুষকে কচুকাটা করেছ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বাচ্চা দল নিজেদের জুলাই যোদ্ধা দাবি করেছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলছে। তোরা যা কিছু কর, আমি কিছু কমু না। আমার গলায় সাইনবোর্ড নিয়ে চলতে হবে না যে আমার বাড়ি শাহজাহানপুর, কিন্তু তাদের সারাক্ষণ নিজেদের পরিচয় জাহির করতে হয়। আমরা কোনো ধান্দাবাজ ও কসাইয়ের কাছে দেশ তুলে দেব না।’
‘জিয়ার জন্ম না হলে আধুনিক বাংলাদেশ হতো না ও দেশ স্বাধীনতা পেত না’ উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘যে যাই বলুক, আমরা আমাদের কথা বলেই যাব। অনেক সেক্টর কমান্ডার ভারত থেকে যুদ্ধ করেছেন। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সিলেটে থেকে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে জিয়া ও খালেদা জিয়ার আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানেও ক্রান্তিলগ্ন চলছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা অতিক্রম করব।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
১৩৫ দিন আগে
নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয়, তখন কিছু সমস্যা থাকে; এটা নতুন কোনো ব্যাপার না। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি যে, মোটামুটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টাv দিকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের যে সমস্যাগুলো দুই-একটা আমরা মনে করেছি, সেটা আমরা গতকাল তার (সিইসি) সামনে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।’
ভোটে সমান সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের নেই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ আমরা কবর জিয়ারত করতে এসেছি, শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। একইসঙ্গে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
‘তার পাশেই শুয়ে আছেন আরেকজন ক্ষণজন্মা অপরাজেয় মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি তার সারাটা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অমর নাম। যে নাম প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করতে হয়। যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনর্প্রবর্তন করেছিলেন; সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছিলেন।
‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটা বটোমলেস বাস্কেট (তলাবিহীন ঝুড়ি) থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর স্মরণ করি, তার অনুসৃত যে পথ, সেই পথে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে শপথ গ্রহণ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যখন ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে, একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে; তখন আবার নতুন করে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমরা আজকে এখানে শপথ নিয়েছি।
‘এই শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি এবং এর সমস্ত অঙ্গসংগঠন শহিদ জিয়ার সেই আদর্শকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করব, এই শপথ আমরা এখানে নিয়েছি।’
বেলা ১১টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে তারা জিয়াউর রহমান এবং পাশে শায়িত সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী, হেলেন জেরিন খান, শাহ নেছারুল হক, এসএম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
১৩৬ দিন আগে
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদল নেতার মামলা
কুষ্টিয়ার আদালতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া আদালতে এই মামলাটি করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী শিহাব।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। একইসঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে বিদ্রূপাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
গত ১৬ জানুয়ারি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আমির হামজার এমন বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান, খালেদা জিয়া এবং তাদের পরিবারের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে, যা দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবেদনে হামজার বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রার্থনা জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা নয়। একজন মরহুম ব্যক্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে, মামলার বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু বকর জানান, তারা এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো নোটিশ হাতে পাননি। নোটিশ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পাবেন তারা।
১৩৬ দিন আগে
দ্বিতীয় দিনের মতো ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতদুষ্টতা বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়েছেন। ইসির নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রাস্তায় বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ সময় তাদের ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসি কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য আমরা সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী জেতার জন্য এক এলাকার ভোটারকে অন্য এলাকায় পাঠিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ গোষ্ঠীর নাম বলব না। তাদের নাম বলে হাইপ তুলে দিতে চাই না। তারা ইসির কিছু লোককে ব্যবহার করে অনিয়ম করার চেষ্টা করছে।’
ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ‘ডাকসু, রাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ভোটে কারসাজি) মাধ্যমে কুক্ষিগত গত করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা একই কায়দায় ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে, একই দাবিতে গতকাল রোববারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে বিকেলে সংগঠনটির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসি কার্যালয় প্রবেশ করে।
ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি ইস্যু নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সেই বক্তব্য শুনেছে। বিষয়গুলো তারা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।’
১৩৬ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন তারেক রহমান, গণজোয়ারের প্রস্তুতি জেলা বিএনপির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফর শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জনসভা ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত জনসমাগম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সরাইলে তারেক রহমানের এই জনসভা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
খালেদ হোসেন বলেন, জনসভা সফল করতে জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মঞ্চ নির্মাণ, আধুনিক শব্দব্যবস্থা স্থাপন, শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সহ-সভাপতি এ বি এম মমিনুল হক, জেষ্ঠ্য যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম চপলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
জেলা বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে।
১৩৬ দিন আগে
সরকারে গেলে গণভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে বিএনপি
বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদের পরিবারগুলোর দেখভাল করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি বিভাগ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এর আগে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নামে একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করে, যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, এক কথায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দেখভাল করে থাকে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে জুলাই আন্দোলনের যারা শহিদ পরিবার বা যোদ্ধা আছেন, তাদের কষ্টগুলো যাতে আমরা কিছুটা হলেও কমাতে পারি, সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি বিভাগ তৈরি করব।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, তাকে রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। তাই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা একটি বিভাগ তৈরি করব, যাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা।
১৩৭ দিন আগে