বিএনপি
পক্ষপাতসহ তিন অভিযোগে নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ইসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা পুলিশের বাধার মুখে সেখানে বসে পড়েন।
পূর্বনির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে’ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরসহ কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান জানান।
তাদের অভিযোগগুলো হলো— পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। ছাত্রদলের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার। ছাত্রদল মনে করে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা দেখলাম ব্যালট পেপার নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর যারা এখানে (ইসি) বসে আছেন অবশ্যই তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তারপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন এবং হল নির্বাচন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনের মতো আবারও আমাদের এখানে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও তারা (ইসি) ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়টি হলো বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছার প্রতিফলন।
ইসিতে শুনানি চলছে
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল ও ফিরিয়ে দিতে নবম দিনের শুনানি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনারও আছেন।
গত আট দিনে ৪০০ জনের মতো প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১৩৭ দিন আগে
ইসির বিতর্কিত ভূমিকা সত্ত্বেও বিএনপি ধৈর্য দেখাচ্ছে: তারেক রহমান
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথরুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা অবস্থান দেখেছি। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। কিন্তু, ইসি কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতা-কর্মীও রাজপথ ছাড়েনি।
‘কোনো পরিবারের এক ভাই নির্যাতিত হলে আরেকজন রাজপথে নেমে এসেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত রূপ ধারণ করেনি বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাই ভবিষ্যতে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী প্রজন্মের উচিত শহিদ এবং যারা গুম হয়েছেন ও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের জন্য তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষা করছে—তাদের ত্যাগ থেকে প্রেরণা গ্রহণ করা।
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান দলের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জনগণের সমর্থনে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রাষ্ট্রীয় প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম শহিদদের নামে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গর্বের সঙ্গে স্মরণ করতে পারে। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।
তারেক রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর যথাযথ রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রকে সাধ্যমতো এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সামনে এখন একটি মানবিক ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
‘আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন; সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।’
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া, করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহিদ—সেই শহিদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।’
অশ্রুসিক্ত হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোর স্বজনরা জানান, বিগত দিনে বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তারা জানে না। অনেক সন্তান তার বাবার ছবি নিয়ে এসেছেন। তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তাকে জড়িয়ে ধরেন। তারেক রহমানও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্বজনরা বাদেও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ ও আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা রশিদুজ্জামান মিল্লাত, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
১৩৮ দিন আগে
দেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অনন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে, সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে।
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।
এ ছাড়াও শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
১৩৯ দিন আগে
সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া: নূরুল কবীর
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, খালেদা জিয়া কেবলমাত্র একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দল-মত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় নূরুল কবীর এ কথাগুলো বলেন। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ যোগ দেন।
নূরুল কবীর বলেন, ‘মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ্য করেছি—তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।’
তিনি বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদা—রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকতে পারেন, অনেক মত ও পথদর্শন থাকতে পারে; কিন্তু যিনি যেই রাজনীতির, যেই সংস্কৃতিরই অনুসারী হন না কেন, বিষয়টি আজকের বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি জানাজার বিশাল জনসমুদ্রে বিএনপি নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে দল পরিচালনার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা যেন রক্ষা করা হয়। এমন কিছু যেন করা না হয়, যাতে মানুষ বলতে বাধ্য হয়; তিনি বেঁচে নেই বলেই এসব দেখতে হচ্ছে।’
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।
এ ছাড়াও শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
১৩৯ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক হবে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য উপস্থিত থাকবেন। আলোচনায় নির্বাচনকালীন পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এটি হবে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এর আগে, গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম একান্ত বৈঠক হয়। তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষ যৌথ বিবৃতি দেয়।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হলেও দেশে ফেরার পর আজকের বৈঠকই হবে দুজনের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংস্কার বিষয়ে গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত গণভোট হওয়ার কথাও রয়েছে।
১৪০ দিন আগে
ছাত্রদলে যোগ দিলেন এনসিপির শতাধিক নেতা-কর্মী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।
এর আগে, আব্দুর রহমান বাবু ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে তার অনুসারীদের জড়ো করেন। এরপর সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাপ রসুল মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
সদ্য ছাত্রদলে যোগ দেওয়া আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। গত ১৬ মাস ধরে ফুলগাজী উপজেলায় ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে এনসিপি আমাকে ফেনী জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তারা আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছিল যে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কাজ করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তারা সেই কমিটমেন্ট রাখতে পারেনি। কিন্তু যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করি। বিএনপির রাজনীতি আমার কাছে ভালো লাগে। তাই আমি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু জানান, বাবু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। আমি তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানাই। বাবু মনে করেছেন, তিনি যাদের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই তিনি প্রথমে পদত্যাগ করেছেন, এরপর শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
১৪১ দিন আগে
খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মঈন খান
সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মতো সজ্জন ও ন্যায়পরায়ণ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আর আসবে না।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড কার্যালয়ে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এসএবিসিসিআই) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার স্মৃতির স্মরণে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী।
বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আব্দুল মঈন খান বলেন, তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া ছিল আমার জীবনের সেরা অর্জন। একবার সচিব নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমাকে ডেকে পাঠান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী। একজন কর্মকর্তার নাম বলে তিনি জানতে চান সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিলে আমার কোনো আপত্তি আছে কিনা? ঘটনাটি বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মঈন খান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা আমি যতটা পরিবর্তন করেছিলাম তার সব কৃতিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার। তার রেখে যাওয়া আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশনেত্রীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম এবং অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন।
অনুষ্ঠানে এসএবিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান সভায় উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আলোচনা শেষে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
১৪৩ দিন আগে
আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে: মোস্তাফিজ ইস্যুতে ফখরুল
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশকেই অপমান করা হয়েছে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেট কট্রোল বোর্ডের (বিসিবি) সদস্যও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না; রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।
‘সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বেটার।’
এ সময় সরকার গঠন করতে পারলে ভারতের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কটা প্রস্তুত করবেন—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।’
ভারতের সঙ্গে চলমান যে উত্তেজনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কুটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তাহলে এটা কমে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে তিস্তা, পদ্মা ও অভিন্ন নদী যেগুলো আছে, সেগুলোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে পানির হিস্যা আদায় করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় দুটি দল নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সবার বেলা প্রযোজ্য নয়। এই দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন! যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, প্রেসিডেনশিয়াল ফরম থেকে পার্লামেন্টারি ফরমে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।
‘এখন যে সংস্কার কমিটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তা সবই বিএনপির প্রস্তাবের মধ্যে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে সেলফ সাফিশিয়েন্ট (স্বয়ংসম্পূর্ণ) একটি রাজনৈতিক দল, যে অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সব ভালো কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।’
নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে তখন, তার আগে বোঝা যাবে না। প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন যখন প্রচার শুরু হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেই রকম উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদি যে নির্বাচন চলাকালীন উন্নতি করবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪৩ দিন আগে
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা আজ
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনভিত্তিক কূটনীতিক, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
স্মরণসভাটির আয়োজক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্মরণসভায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
১৪৩ দিন আগে
গণতন্ত্র ও জবাবদিহির চর্চা চালু রাখতে হবে: তারেক রহমান
যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ও জবাবদিহির চর্চা চালু রাখতে হবে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার বা ট্রেড বডি—সবখানেই নির্বাচন হতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে।… একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব।
সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সংস্কারের তিনটি অংশ রয়েছে—সাংবিধানিক, আইনগত এবং মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করেছি। কিন্তু মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সন্তানদের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কিছুটা কম হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম বা তর্কবিতর্ক করছি, যার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের প্রাত্যহিক চাওয়া-পাওয়া ও প্রয়োজনগুলো নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর আরও বেশি আলোচনা করা উচিত। এসব বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিম এর সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
১৪৫ দিন আগে