অন্যান্য
‘সেফ এক্সিট’ খুঁজছি না, বাকি জীবন দেশেই কাটাব: রিজওয়ানা
‘উপদেষ্টাদের অনেকে সেইফ এক্সিট খুঁজছেন’ বলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিনি কোনো ‘এক্সিট’ খুঁজছেন না। বরং জীবনের বাকিটা দেশেই কাটাতে চান তিনি।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন। তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের (নিরাপদ প্রস্থান) কথা ভাবছেন।
আজ (বুধবার) এক সাংবাদিক এ বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম কারা কারা এক্সিট খুঁজছেন, তা বলেননি। আলোচনার প্রসঙ্গও খোলাসা করেননি। তাহলে আমি কীভাবে মন্তব্য করব?’
তিনি বলেন, ‘আমার চোখে যা দেখা যাচ্ছে তা হলো, নবগঠিত রাজনৈতিক দলটির (এনসিপি) সঙ্গে সরকারের একটি ভালো ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ রয়েছে। এখন উনি (নাহিদ ইসলাম) এই মন্তব্য করেছেন অভিমানে নাকি কোনো অসন্তোষ থেকে, সেটা পরিষ্কার করতে হবে। সেটা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সরকারের অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই।’
নাহিদ ইসলামের মন্তব্য নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতন্ত্রে সবার মতপ্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু প্রতিটি অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গেলে আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো চালানো কঠিন হয়ে যাবে। সরকার তখন প্রতিক্রিয়া নয়, কাজের জায়গায় পিছিয়ে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে অভিযোগটি (সেফ এক্সিট খোঁজা) তোলা হয়েছে, সেটি প্রমাণসহ স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার দায়িত্ব নাহিদ ইসলামের। আমি কেন সেটি খণ্ডন করব? সরকারকেও সুনির্দিষ্ট তথ্য না দেওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব নয়।’
এ সময় নিজ অবস্থান স্পষ্ট করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমি একদম কোনো এক্সিট খুঁজছি না। এর আগেও বহু ঝড়-ঝঞ্ঝা এসেছে। প্রতিটি সঙ্কটের মধ্যে থেকেও আমি দেশে ছিলাম, কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ বাকিটা জীবনও বাংলাদেশেই কাটিয়ে দেব, আপনাদের সঙ্গেই।’
২৩৯ দিন আগে
আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক মতবিরোধে সমাধানে আশাবাদী প্রেস সচিব
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান আলোচনা শান্তিপূর্ণ ও সামগ্রিক সমাধান এনে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ফেব্রুয়ারিতে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ কয়েক দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের বিক্ষোভ কর্মসূচি-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রেস সচিব ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
ব্রিফিংয়ের সময় উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদও উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমেই সবকিছুর সমাধান হবে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম জানান, চলতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সফর বাংলাদেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো মধ্যস্থতা বা আলোচনার জন্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে।
তিনি আারও বলেন, ‘তারা সরকারের অংশীদার হিসেবে এ ধরনের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিচ্ছেন।’
ইতোমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত কমিশনটি এখন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এ কমিশনের দায়িত্ব হলো সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ পর্যালোচনা ও গ্রহণ করা। এর অংশ হিসেবে তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তারা।
২৫৯ দিন আগে
হামলায় নূরের শর্ট টাইম মেমোরি লস হয়েছে: রাশেদ খান
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস (শর্ট টাইম মেমরি লস) হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে নুরের শারীরিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
রাশেদ খান বলেন, ছোটখাটো অনেক বিষয় ভুলে যাচ্ছেন নুর। তার নাক দিয়ে এখনও রক্ত ঝরছে। সরকার থেকে বিদেশে নিয়ে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হলেও সরকারের একটি মহল চায় না নুরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হোক।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের অবহেলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নুরের শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হতে পারে।
অন্য দিকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীদের নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২৭১ দিন আগে
আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে নূরকে
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার(১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, নুরের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে এবং চিকিৎসকেরা আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড় পেতে পারেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভিভিআইপি এক নাম্বার কেবিনে শিফট করা হয়েছে।
পড়ুন: চীন থেকে ফিরেই নুরের খোঁজ নিতে ঢামেকে নাহিদ-সার্জিস
তিনি আরও বলেন, ‘শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত স্বাভাবিক হতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগবে। নাকের ভাঙা অংশ নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকায় নাক স্বাভাবিক আকারে ফিরে আসবে। চিকিৎসকদের পরামর্শে নুর স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতে পারছেন।’
এদিনে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ঢাকা মেডিকেলে যান নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।
২৭৬ দিন আগে
এনসিপিসহ তিন দলের নেতাদের সঙ্গে আজ প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রবিবার বিকেলে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বিএনপির সঙ্গে বৈঠক হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। তার আগে জামায়াতের সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৪টায় এবং এনসিপির সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরু
শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর আহত হওয়ার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় সব রাজনৈতিক দল এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
২৭৭ দিন আগে
খুলনায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ
খুলনায় জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশি তৎপরতায় তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। বিক্ষোভকারীরা প্রধান ফটকের সাইন বোর্ড ভেঙ্গে দেয়। তখন পুলিশ লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল ৫টায় নগরীর ডাকবাংলো মোড়স্থ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
গণঅধিকার পরিষদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও লাঠিচার্জে তাদের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জাতীয় পার্টির খুলনা জেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী সাজু বলেন, শনিবার সারাদিন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অফিসেই অবস্থান করছিলেন। আসরের আজান হওয়ার কিছু সময় পর অধিকাংশ নেতাকর্মী পাশের মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এই সুযোগে ৫০ থেকে ৬০ জন গণঅধিকার পরিষদের একটি বিক্ষোভ মিছিল কার্যালয়ের সামনে এসে মারমুখি অবস্থান নেয়। তখন আমরা অফিস থেকে বেরিয়ে সামনের দুটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেই।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা গেট ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরমধ্যে একটি গেট ভেঙ্গে ফেলতে পারলেও অপরটি ভেঙ্গে প্রবেশ করতে পারেনি। সাইন বোর্ডটি ভেঙ্গে দেয়। তখন পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পড়ুন: গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরের উপর হামলা প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ
প্রতক্ষ্যদশীরা জানায়, জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা যাওয়ার সময় সম্মুখ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
এদিকে জাতীয় পার্টি অফিসে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়টি স্বীকার করে পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক এসকে রাশেদ বলেন, মিছিল নিয়ে আমাদের ছেলেরা ডাকবাংলোর জাতীয় পার্টি অফিসের সামনে গেলে সেখানে অবস্থানরত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী এবং পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গণঅধিকার পরিষদের অন্তত ১৫ থেকে ২০জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করেছিলেন বলে তিনি জানান।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল সহকারে ডাকবাংলাস্থ জাতীয় পার্টি অফিসের সামনে আসে। তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির অফিসের সাইন বোর্ডটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
২৭৮ দিন আগে
যৌথবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জোনায়েদ সাকির
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনার যথার্থ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
শনিবার (৩০ আগষ্ট) দুপুরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নূরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকি বলেন, ‘আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। গণঅধিকারের একটি কর্মসূচি শেষে নূর ও রাশেদ খান প্রেস ব্রিফিংয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সময় পুলিশ ও যৌথবাহিনী কিভাবে হামলা করল এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তা অবিলম্বে ও যথার্থভাবে তদন্ত করতে হবে।’
পড়ুন: নুরের জ্ঞান ফিরেছে, উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ দলগুলোকে গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াতেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিচার ও সংস্কারের প্রক্রিয়া কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
ব্রিফিংয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৭৮ দিন আগে
গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরের উপর হামলা প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ
ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা।
শনিবার(৩০ আগস্ট) দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বরিশাল জেলা ও মহানগর গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপির উদ্যোগে এই কর্মসূচি হয়। এরপর নেতাকর্মীরা নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এর আগে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা জাতীয় পার্টি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন। এছাড়াও অন্তবর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে তারা।
বক্তব্য দেন বরিশাল জেলা গণঅধিকার পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক আবু সাইদ মুসা, যুগ্ম সমন্বয়কারী আবেদ আহমেদ রনি ও সাইফুল ইসলাম মুন্সি, সদস্য নাজমুল হাসান ও আসিফ প্রমুখ।
পড়ুন: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ
বক্তারা বলেন, প্রথমে পুলিশ ও সেনা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়, তারপর জাতীয় পার্টি। ঘটনার সময় নুরুল হক নুর মাটিতে পড়ার পর লাল টি-শার্ট পরা এক যুবক বেধড়ক মারধর করে। এরপর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হলেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এই ঘটনার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পালটাপালটি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে গণধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতির সময় নুরসহ নেতাকর্মীদের মারধর করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে গুরুতর আহত হন নুর। রক্তাক্ত অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। তিনি এখনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
২৭৮ দিন আগে
নুরের জ্ঞান ফিরেছে, উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন
যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে। তবে তার চিকিৎসায় ছয় উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে। যে কারণে গতকাল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। আগেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে ও জ্ঞান ফিরেছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে নুরুল হক আশঙ্কামুক্ত, সেটি বলা সম্ভব নয়।
নুরুল হকের চিকিৎসায় গতকাল শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সকাল ৭টায় নুরের ফেসবুক পেজে বলা হয়, ‘নুরুল হক নূরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে।’
ঢাকা মেডিকেলে নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরে আহত নুরুল হক নুর
শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে নুরসহ তার দলের নেতাকর্মীরা যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন। গণঅধিকার পরিষদের দাবি, তাদের মিছিলের পেছন থেকে হামলা করেছে জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির পাল্টা অভিযোগ, তাদের প্রধান কার্যালয়ে হামলা হয়েছে ওই মিছিল থেকে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের ভাষ্য, তাদের মিছিলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে মশাল মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে। এতে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নুরসহ আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
এদিকে রাতে নুরকে দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান আর তেড়ে আসা নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে আসিফ নজরুল অনেকটা লুকিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘উপদেষ্টা স্যার হাসপাতালে আসার পর কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর তিনি বাগান গেট দিয়ে বের হয়ে যান।’
নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।
এদিকে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাত ৮টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।
‘ঘটনার শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য ও দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার অনুরোধ জানায়। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কতিপয় নেতাকর্মীরা তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তারা সংগঠিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়। এছাড়াও বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য, আজকের উদ্ভূত ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয়।
‘সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর,’ বলছে সেনাবাহিনী।
২৭৮ দিন আগে
কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরে আহত নুরুল হক নুর
কাকরাইলের আল রাজী কমপ্লেক্সের নিচে হামলার শিকার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নুরুল হক নুরের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা লাইভে দেখা যায়, তাকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
এ সময় লাইভে বলতে শোনা যায়, সেখানে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নুরসহ অন্য নেতারা। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নুরসহ নেতাকর্মীদের মারধর করছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল কাকরাইলে জাপা কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় জাপা কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আধঘণ্টা ধরে এ অবস্থা চলার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রমনা থানার পুলিশ জানায়, সংঘর্ষকালে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
২৭৯ দিন আগে