আইনশৃঙ্খলা
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে ৯ এপ্রিল।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ সিদ্ধান্ত জানায়।
এর আগে ২৭ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল।
রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে মামলার গ্রেপ্তার ৬ আসামি হলেন— বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।
মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের। তাই সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে তারা।
১ দিন আগে
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় দুটি বিষয়ে অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে ঢাকা থেকে অভিযান শুরু করব। সেজন্য চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে সেই হিসেবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার মধ্যে ছিল, সে সময় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন পুলিশকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু মনে করে, আমরা পুলিশ বাহিনীকে সে লক্ষ্যে পরিচালিত করছি। আজকের মতবিনিময় সভায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ রাজনীতিক বলেন, ‘পুলিশ কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে চলবে না বা কোনো পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেম এখানে চলবে না; পুলিশ চলবে আইনানুগভাবে।’
মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে তারা আজ সংকল্প ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আছে, তা স্মরণ করে দিয়েছি। আমি আশা করছি, তারা জনগণের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে মন্ত্রী যদি চান, যেকোনো স্তরের কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু ‘চেইন অব কমান্ড’ ভঙ্গ করে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
ঢাকার যানজটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে আমরা একটা সেল বা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে যানজট নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেবেন।
এ সময় ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ঢাকার প্রধান ও ভিআইপি সড়কে, যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকার কথা নয়, সেখানেও তারা চলাচল করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রধান ও ভিআইপি সড়কে এটি করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
আনসার-ভিডিপির ভূমিকার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর; উন্নয়নে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের দেশপ্রেম এবং পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছেন। এ বাহিনীর উন্নয়নের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাহিনীর চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আনসার ও ভিপিডির সদস্যদের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থে অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন, জাতীয় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে জনগণের সেবা যেন তারা অব্যাহত রাখেন।
এ সময় আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
রুমন জানান, আনসার ও ভিপিডির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেন সর্বদা প্রস্তুত থাকেন সে ব্যাপারে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান তিনি।
২ দিন আগে
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পেলেন খান আকরাম
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরামকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ।
এর আগে গতকাল একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
২০১৫ সালের ১১ আগস্ট এ মামলায় বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ও খান আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রায়ে বলা হয়, এই মামলার আসামি তিনজন। এর মধ্যে সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি এবং আকরামের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়েছে।
প্রমাণিত হওয়া পাঁচ অভিযোগেই সিরাজকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ফায়ারিং স্কোয়াডে বা ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
আর প্রমাণিত হওয়া এক অভিযোগে আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খান আকরাম হোসেন।
এ মামলার আরেক আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এরপর শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও আকরাম হোসেন আপিল বিভাগে আপিল করেন।
প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জানান, আপিল বিচারাধীন অবস্থায় শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মারা গেছেন। আর খান আকরামের আপিল মঞ্জুর করলে আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছেন।
৮ দিন আগে
ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর পদত্যাগ
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
আগামী ২১ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অব্যাহতিপত্রে সই করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।’
সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তার মধ্যেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মো. সাজ্জাত আলী।
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিতে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১২০২টি মামলা প্রত্যাহারে অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ১ হাজার ৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন এর আগে দেওয়া হয়েছিল। মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আমরা আরও বেশকিছু রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছি। মামলাগুলো সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক মামলা কিনা তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাচাই করে দেখা হবে। এর যাতে অপব্যবহার না হয়, সেজন্য যাচাই-বাছাই কমিটি করে দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বেশকিছু মামলায় ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করার জন্য কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি এই মামলাগুলো করেছে যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা সঠিক তথ্য খুঁজে বের করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। কেউ যেন অহেতুক হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
১০ দিন আগে
দেশজুড়ে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ ভরাটের নির্দেশ হাইকোর্টের
দুর্ঘটনা রোধে সারাদেশের সকল পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ তিন মাসের মধ্যে ভরাটের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন।
এর আগে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এ রিট করেন।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন বলেন, ২০১৪ সালে শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনা দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। সবশেষ চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু মিসবাহর মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত তিন মাসের মধ্যে সব পরিত্যক্ত নলকূপ ভরাট করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
১১ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আজ (রবিবার) সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত আলী।
পলাতকরা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
এদিন আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর মধ্যে আবুল হাসানসহ প্রথম আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, কমান্ড রেসপনসেবলিটিসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়। ৮-১০ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আনা হয় দুটি অভিযোগ। আর শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়। অর্থাৎ তিনি মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে জুলাই আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়।
অভিযোগ পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা আবুল হাসান ও শাহাদাত আলীকে দোষ স্বীকার করবেন কিনা জিজ্ঞেস করেন বিচারক শাহরিয়ার কবির। এ সময় আসামিরা দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান। এছাড়া পলাতক ৯ জনের পক্ষে ছিলেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার।
এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় হাবিব-সুদীপসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতের ওপরও গুলি চালায় পুলিশ। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উস্কানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
১২ দিন আগে
আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সহ্য করা হবে না: র্যাব ডিজি
দাবি আদায় বা আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শাহিদুর রহমান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেশব্যাপী র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শাহিদুর রহমান বলেন, কোনোভাবেই যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন না হয় সেদিকে সবসময় সতর্ক আছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, দাবি আদায়ের নামে বা আন্দোলনের নামে সাধারণ জনগণের ওপর জুলুম করা বা তাদের জিম্মি করে কোনও ধরনের কার্যক্রম আমরা হতে দেব না।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের পরবর্তী সময়ে দেশে একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সেই কঠিন সময়েই র্যাব দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
তিনি আরও জানান, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে আমরা সক্ষম হয়েছি এবং দেশবাসীকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং সামনে তা আরও সুসংহত হবে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি আপনাদের সহায়তা নিয়ে, দেশবাসীর সহায়তা নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারাব। সবাইকে সুন্দর একটি দেশ উপহার দিতে পারব।
১৪ দিন আগে
একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তাশঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার
মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে কোনও নিরাপত্তাশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার জানান, মহান শহিদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ব্যাপক লোকসমাগম হবে। এ উপলক্ষে ডিএমপি নিয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মোতায়ন থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে।
সাজ্জাত আলী জানান, ‘কোনও নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকলেও আমাদের নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারীসহ সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং, শহীদ মিনার রোড ব্যবহারের অনুরোধ, অন্যকোনও রোড দিয়ে আসা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়েল চত্বর কিংবা চানখাঁরপুল দিয়ে বের হতে হবে।’
শহিদ মিনারে কোনও ধরনের ধারালো বস্তু কিংবা দাহ্য পদার্থ বহন না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে কিছু ডাইভার্সন চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাত আলী বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল শহিদ মিনার এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো রাজধানীজুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটাররা কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিগুলোও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হবে।
১৪ দিন আগে