আইনশৃঙ্খলা
ভুয়া নারী সৈনিক সেজে প্রতারণা, রংপুরে যুবক গ্রেপ্তার
রংপুরে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক চক্রের হোতা মো. নাজমুল হাসান জিমকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। তার কাছ থেকে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পোশাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে র্যাব-১৩ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার নাজমুল হাসান জিম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অভিরাম নামাদোলা এলাকার সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার নাজমুল হাসান জিম কখনো সেনা, কখনো নৌবাহিনীর সদস্য, এমনকি নারী সৈনিক সেজেও অনলাইনে মানুষের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। ভিডিও কলে কখনো তিনি জিম, সুরভী, অরিন কিংবা মিম নামে মেয়েদের কণ্ঠে কথা বলতেন। মেকআপ আর পরচুলায় ছেলে থেকে মেয়ে বনে যাওয়া জিমের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ তাকে বিশ্বাস করায় অভিনব কৌশল আর প্রলোভনের ফাঁদে জমির শেয়ার বিক্রির নামে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। রাজশাহীর এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জিম প্রতারণার মাধ্যমে ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা নিয়েছেন।
র্যাব আরও জানায়, নাজমুলসহ তার সহযোগীরা সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলার বাদীর সঙ্গে রাজশাহীতে ১০ কাঠা জমির শেয়ার ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব দেন। তাদের ২টি শেয়ার ক্রয় করা আছে। তার মধ্যে একটি শেয়ার একজন নারী সৈনিকের। কিন্তু নারী সৈনিকের কিছু টাকা বাকি থাকায় বাদীর নিকট থেকে শেয়ার বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতিতে কিছু টাকা চান। এ ছাড়াও আসামিরা বিভিন্ন সময় অনলাইন ভিডিও কলের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে বাদীর সঙ্গে কথা বলে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন এবং বাদীকে অল্প টাকায় একটি শেয়ার ক্রয় করে দেবেন বলে প্রলোভন দেখান।
গ্রেপ্তার নাজমুলের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর পোশাক, কম্ব্যাট ড্রেস ১টি, কম্ব্যাট গেঞ্জি ১টি, ফিল্ডক্যাপ ১টি, তোয়ালে ১টি, ট্রাউজার ১টি, নৌবাহিনীর পোশাক, সাদা ড্রেস ১টি, কম্ব্যাট গেঞ্জি ২টি, নেভি জার্সিক্যাপ ১টি, তোয়ালে ১টি, বিভিন্ন বাহিনীর বিভিন্ন রঙের ক্যান্টিন গেঞ্জি ১৫টি এবং ভুয়া এনআইডি কার্ড ৯টি, ফিচার মোবাইল ফোন ৫টি, স্মার্টফোন ১টি, মেয়েদের পরচুলা ১ গোছা এবং মেকআপ সেট উদ্ধার করা হয়েছে।
আসামি নাজমুল হাসান জিমকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
১১৪ দিন আগে
ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় ১২ প্লাটুন ও আশপাশের জেলায় দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন থাকবে বলে জানা গেছে।
১১৪ দিন আগে
পুরান ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের গেটের সামনে বাসে অগ্নিসংযোগ
রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানাধীন সূত্রাপুর লোহার পুল নতুন রাস্তা ফায়ার সার্ভিস গেটের সামনে মালঞ্চ পরিবহনের দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) মধ্যরাতে রাজধানীতে তিনটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাইদা পরিবহনের দুটি ও রাজধানী পরিবহনের একটি বাস পুড়ে যায়।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে জনমনে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, তবে রাজধানীতে আশঙ্কার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা মহানগরীর চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-সংক্রান্ত বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যাবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। গত তিন দিনে রাজধানীতে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ, ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, আর ঝটিকা মিছিল হয়েছে ১৪টি। এসব কর্মসূচিতে জড়িত ৫৫২ জন গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। তবে গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১১৫ দিন আগে
আবারও বাড়লো সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আরও সাড়ে তিন মাস বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) প্রেষণে থাকা সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ক্ষমতা বলবৎ থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে এই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পট পরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরে প্রথমে দুই মাসের জন্য এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। পরে তা আরও ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলো।
১১৫ দিন আগে
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার নির্দেশ ডিএমপির
ডিউটির সময় টিম ইন-চার্জ ছাড়া অন্য কোনো পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। দায়িত্ব পালনে সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ডিউটির সময়ে মোবাইল ফোন ব্রাউজিং করার ফলে তাদের সতর্ক নজরদারি এবং দায়িত্ব পালন ব্যাহত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে পুলিশ দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও নিজেদের নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হচ্ছে না।
এতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ইনচার্জ ছাড়া অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
কোনো পুলিশ সদস্য এই নির্দেশ অমান্য করলে তা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্য বলে বিবেচিত হবে এবং তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদেশে বলা হয়।
এ বিষয়ে ইউনিট ইনচার্জদের ডিউটিতে মোতায়েনের আগে ফোর্সকে ব্রিফিং করে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যও বলা হয়।
১১৬ দিন আগে
ধানমণ্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আগুন
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসটিতে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম জানায়, খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার শাহজাহান আলী জানান, তীব্র যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
১১৬ দিন আগে
প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
প্রধান বিচারপতির বাসভবন, মাজার গেটসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১১১/৭৬-এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২-এর প্রবেশ গেট, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ভবনের সামনে সকল প্রকার সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।
এ ছাড়া বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় ও প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে যখন তখন সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১১৬ দিন আগে
বাগেরহাটে ৪ ও গাজীপুরে ৫টি সংসদীয় আসনই থাকবে: হাইকোর্ট
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন এবং গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসন থেকে একটি আসন বাড়িয়ে ৬টি করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন এবং গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসন বহাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. মেহেদী হাসান।
ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান জানান, বাগেরহাটের সংসদীয় আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করা এবং গাজীপুরের সংসদীয় আসন ৫টি থেকে বাড়িয়ে ৬টি করতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। হাইকোর্ট ইতোপূর্বে এ বিষয়ে রুল জারি করেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে সোমবার আদালত রায় দিয়েছেন।
তিনি জানান, রায়ে বাগেরহাটের আসন কমিয়ে গাজীপুরের আসন বাড়াতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহাল করতেও নির্দশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তারা সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি গড়ে তোলে, হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে কমিশনের শুনানিতেও অংশ নেন কমিটির সদস্যরা।
এরই মধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। আগের প্রস্তাবের তুলনায় শুধু সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এরপর থেকেই সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি আসন কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ, অবস্থান, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ইসির আসন পুনর্বিন্যাস গণমানুষের দাবিকে উপেক্ষা করেছে।
চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট নিয়ে বাগেরহাট-১; ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-২ এবং কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ গঠিত হয়েছে। ১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। সে অনুযায়ী বাগেরহাট-১ ছিল চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট; বাগেরহাট-২ ছিল বাগেরহাট সদর-কচুয়া; বাগেরহাট-৩ ছিল রামপাল-মোংলা এবং বাগেরহাট-৪ ছিল মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা।
অন্যদিকে, গাজীপুরের সংসদীয় আসন ৫টি থেকে বাড়িয়ে ৬টি করে গেজেট জারি করা হয়। গেজেটে গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর উপজেলা এবং গাজীপুর সিটির ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড), গাজীপুর-২ (গাজীপুর সিটির ১ থেকে ৬ ও ১৩ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড এবং গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন), গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর উপজেলা এবং গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর, ভাওয়াল গড় ও পিরুজালী ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সেনানিবাস), গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ উপজেলা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ড), গাজীপুর-৬ ( গাজীপুর সিটির ৩২ থেকে ৩৯ এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড) নির্ধারণ করা হয়।
পরে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে এবং গাজীপুরের সংসদীয় আসন একটি কমাতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জেলা ট্রাক মালিক সমিতি এ রিট দায়ের করে। রিটে বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়।
এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন এবং গাজীপুরের ৫টি আসন থেকে বাড়িয়ে ৬টি আসন করতে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
১১৬ দিন আগে
গাজীপুরে গ্রেপ্তার নিয়ে অপপ্রচার: ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি সেনাবাহিনীর
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ সাতজনকে আটক করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ করেন ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান জানান, গেল বুধবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ ও র্যাবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় গাজীপুর জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তথা শ্রীপুর এলাকার ত্রাস, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী এবং ডাকাত দলের সর্দার এনামুল হক মোল্লাকে তার নিজ বাসার পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তার আরও ৬ সহযোগীও যৌথ বাহিনীর দ্বারা গ্রেপ্তার হন।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালে তল্লাশির সময়ে তার কাছ থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি ইলেক্ট্রিক শক মেশিন, ৪টি ওয়াকিটকি সেট এবং ২টি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় বেশ কয়েকটি ডাকাতি এবং অস্ত্র মামলা চলমান রয়েছে এবং কিছু কিছু মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও জাও করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি মহল এনামুল হক মোল্লার গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়াসহ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে; সেনাবাহিনী দেশের পক্ষে। যারা এ ব্যাপারে অপপ্রচার করছে এবং অপপ্রচারের প্রশ্রয় দিচ্ছে, আমরা মনে করি এদেরও কোনো না কোনোভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সে বিষয়টিকেও আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি এবং প্রমাণ স্বাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১১৯ দিন আগে
দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের বিচার শুরু
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
এদিন এস কে সুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এস কে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তার নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ ও সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদ নোটিশ জারি করা হয়।
তিনি গত বছরের ২৭ অক্টোবর নিজ সইয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
গত বছর ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এ মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। ওই দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
১২০ দিন আগে