আইনশৃঙ্খলা
জুলাই হত্যাকাণ্ডের এক মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদের জামিন স্থগিত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীর ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাজ্জাদ-উজ্জামানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। একই সঙ্গে তাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের বিশেষ চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। তাইম হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি আন্তর্জাকি অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। এ সময় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হেলাল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, এসআই সাজ্জাদ-উজ্জামানকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে এসআই সাজ্জাদ-উজ্জামানকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের করতে বলেছেন আদালত।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হেলাল আমিন বলেন, এ মামলায় গত ২০ মে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি কাজী এবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এসআই সাজ্জাদ-উজ্জামানকে জামিন দেন। পরে তিনি কারামুক্ত হন। আজ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তার জামিন স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে এসআই সাজ্জাদ-উজ্জামানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এসআই সাজ্জাদ উজ্জামানের জামিন এবং কারামুক্ত হওয়া নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে এসআই সাজ্জাদ-উজ্জামানকে পুনরায় গ্রেপ্তারের দাবি জানায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা। তারা আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পদত্যাগ ও জামিন প্রদানকারী দুই বিচারপতির অপসারণের দাবি তোলেন।
পড়ুন: জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা: প্রধান উপদেষ্টা
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডে শহীদ পরিবারের করা একটি মামলায় হাইকোর্ট পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্যকে জামিন দিয়েছেন। এটি নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিক কারণেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে এই জামিনের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। হাইকোর্ট দেশের উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের অধীনে নয়। জামিন বা হাইকোর্টের অন্য কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাই আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
হাইকোর্ট উচ্চ আদালত হলেও তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে ওই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে তাই আপিল করা হয়েছে। জামিন বাতিল হলে পুলিশ ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করবে।
২৮৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা বাবর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাতক আলোচিত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রায় ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে চট্টগ্রামের আলোচিত যুবলীগ নেতা বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারি পরিচালক মো নওশাদ আলী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
অভিযোগে এজাহারে বলা হয়েছে, বাবরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এসব সম্পদ অর্জনে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।
আরও পড়ুন: দুদকের মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ কর্মকর্তা কারাগারে
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জেসমিন আক্তার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অপরাধ করেছেন। আর স্বামী বাবর সহযোগী হিসেবে দণ্ডবিধি ১০৯ ধারার আওতায় অভিযুক্ত।
বাবর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে তার পরিচিতি তিনি পুলিশ ও র্যাবের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে। কোটি টাকার রেলের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার আর একের পর এক খুনের ঘটনায় তার নাম বহুবার শিরোনাম হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ জুন রেলের টেন্ডার নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাবরের অনুসারী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীদের সংঘর্ষে এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়। এই জোড়া খুন মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তার বিরুদ্ধে রাউজানের আকবর-মুরাদ হত্যা, বিএনপিকর্মী আজাদ হত্যা, মির্জা লেনের ডাবল মার্ডার, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আশিক হত্যা, তামাকুমুণ্ডি লেনে রাসেল হত্যা, ষোলশহরে ফরিদ হত্যা এমন ডজনখানেক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী অসীম রায় বাবু নিহত হওয়ার পর বাবর দুবাই পালিয়ে যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে আসলেও, ২০১৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম কারাগারে সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী খুন হওয়ার পর তিনি আবার বিদেশে পালান। পরে শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ছায়ায় দেশে ফিরে ফের সক্রিয় হন রাজনীতিতে।
২০ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে বাবর ও তার সহযোগীদের প্রকাশ্যে রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত এবং ছাত্রদের উপর হামলা করতে দেখা গেছে। এমনি একাধিক মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সে আবার দুবাই পালিয়ে যায়।
২৮৮ দিন আগে
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী নাজনীন মাওলা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১ এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৬০ কোটি ৭৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড নগরীর পাহাড়তলী শাখা থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করায় এ আদেশ দেওয়া হয়। ব্যাংকে যে বন্ধকি সম্পদ রয়েছে, তা নিলামে বিক্রির চেষ্টা করেও ব্যাংক ব্যর্থ হয়। ফলে ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পড়ুন: বিএনপির আসলাম চৌধুরীর জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত
বিভিন্ন মামলায় প্রায় আট বছর কারাগারে ছিলেন আসলাম চৌধুরী। গত বছর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।
বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলা হয়।
২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির (সন্দেহজনক) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর একই বছরের ২৬ মে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২৮৯ দিন আগে
পদত্যাগ করেছেন ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হাসানুল বান্না
অসুস্থতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রসিকিউটর হাসানুল বান্না। মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটরে কাছে তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
গত ১ জানুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রসিকিউটর হাসানুল বান্না চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর তার সে আবেদন মঞ্জুর করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিস ও লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত।’
তামীম বলেন, নিয়োগের পর মাত্র কয়েকদিন অফিস করার পরই তার শরীরে এই জটিল রোগ ধরা পড়ে। এর পর থেকেই তিনি ছুটিতে ছিলেন।
পড়ুন: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ
২৮৯ দিন আগে
সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
সাভারের হেমায়েতপুরে ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম অহিদুজ্জামান মুকুল (৫০)। তিনি সাভারের হেমায়েতপুর দক্ষিণ শ্যামপুরের মরহুম আব্দুল আলীর ছেলে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
সোমবার হেমায়েতপুরে ফুটপাতে চাঁদাবাজির সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুকুলকে চাঁদাবাজির অভিযোগে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৫ আগষ্ট দেশের ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে স্থানীয় মোশাররফ হোসেন মোশা তাকে চাঁদাবাজির জন্য এলাকায় নিয়ে আসেন।
হেমায়েতপুরের ফুটপাতের সব চাঁদাবাজির টাকা-পয়সা মোশাররফ হোসেন মোশার হাত নিয়ন্ত্রণে। আর সারা দিনের কালেকশনের চাঁদাবাজির টাকা দিনের একটি সময়ে মোশাররফ হোসেন মোশার হাতে বুঝিয়ে দিয়ে আসেন মুকুল।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাতে পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়ে চাঁদাবাজির সময় মুকুলকে গ্রেপ্তার করে।
সাভার মডেল থানা ও ট্যানারী ফাঁড়ির এসআই আমির জানান, আজ দুপুরে মুকুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২৯০ দিন আগে
সুষ্ঠু নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে বড় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে পুলিশে ১৫ হাজার ৮৫১ জন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, আনসারে ৫ হাজার ৫৫১ জন, কারা অধিদপ্তরে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ২০৮ জন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের মধ্যে কিছু নতুন পদ, কিছু আবার শূন্যপদের বিপরীতে। পুলিশের ক্ষেত্রে কনস্টেবল ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদে, আর আনসার ও বিজিবিতে সমমানের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া নির্দেশনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা ছিলো— যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।’
পড়ুন: মব জাস্টিস কমাতে কাজ করছি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সম্প্রতি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৮ জন কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল থেকে ৬০ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকা ডেজারশন অপরাধ। সে অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং তা অব্যাহত থাকবে।
হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সাধারণ জনগণ বা নির্দোষ কেউ যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। তবে যে দোষী, সে কোনো অবস্থাতেই ছাড় পাবে না। নির্দোষ কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলে আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ সময় তিনি সত্য ঘটনা তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সভায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা অংশ নেন।
২৯০ দিন আগে
মব জাস্টিস কমাতে কাজ করছি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
মব জাস্টিস যত কমিয়ে আনা যায় এ লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘মব জাস্টিস যত কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বলবো না যে মব জাস্টিস ইলিমিনেট (দূর) হয়ে গেছে। এখনও হচ্ছে, যেমন রংপুরে একটি মব জাস্টিস হয়েছে। ঢাকায় তুলনামূলক কমেছে, তবে আশেপাশে মব জাস্টিস দু-একটি হয়েই যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এটি যতটা কমিয়ে আনা যায়।’
গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে একজন রিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে (ধানমন্ডি ৩২ নম্বর) যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা ছিল।’
পড়ুন: জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ নেই: ইসি সচিব
সভায় কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় ১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামীতে এমন আরও পরিকল্পনা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ছুটি নেওয়া ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ৬০ দিন হলে বরখাস্ত হয়। এটি চলতেই থাকবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি সাধারণ জনগণ বা নির্দোষ জনগণ যাতে কোনো অবস্থায় শাস্তির আওতায় না আসে। যে দোষী সে কোনো অবস্থায় ছাড়া পাবে না। আমরা সব সময় চুনোপুঁটি ধরি। রুই–কাতলা ধরা পড়ে না। রাঘব বোয়ালদের ধরার চেষ্টা চলছে।’
২৯০ দিন আগে
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় সব উপজেলায় এন্টিভেনম সরবরাহে নির্দেশ
দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের কামড়ের ওষুধ এন্টিভেনম অবিলম্বে সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে সোমবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে রিটকারী এ কে এম নুরুন নবী উজ্জ্বল নিজেই শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. ইসমাঈল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও তানিম খান।
আদেশের পর আইনজীবী এ কে এম নুরুন নবী উজ্জ্বল বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে দেখা যায়, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের কামড়ের ওষুধ (এন্টিভেনম) না থাকায় আহত রোগীর মৃত্যু ঘটছে। বিষয়টি জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা উচ্চ আদালতে রিট করি। আদালত রিটের শুনানি শেষে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালে অবিলম্বে এন্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ১৭ আগস্ট সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরুন্নবী। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়।
পত্রিকায় একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়, সারা দেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই পাঁচ মাসে সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন ৬১০ জন। রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনসচেতনতা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসব তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।
পড়ুন: মাগুরায় সাপের কামড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপার নিয়ে সারা দেশে বিভিন্ন তত্ত্ব, তথ্য, গুজব, কিছুটা ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশে সর্পদংশন নীতিগতভাবে একটি স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের চার লাখের বেশি মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন— যার মধ্যে দুঃখজনকভাবে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সাপ বিষয়ে অপর্যাপ্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিষধর সাপের মধ্যে গোখরা, ক্রেইট (কালাচ), চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার ও সবুজ সাপ অন্যতম। কিছু কিছু সামুদ্রিক সাপের দংশনের তথ্যও আছে।
চন্দ্রবোড়া ভাইপারিড গ্রুপের একটি বিষাক্ত সাপ। বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়ায় অস্তিত্ব এবং এর দংশনে মৃত্যুর ইতিহাস ১৯২০ সালেই স্বীকৃত আছে। ২০১৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চন্দ্রবোড়া অথবা উলুবোড়া সাপের দংশনের প্রথম রিপোর্ট হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা গেলেও পরে ধীরে ধীরে চন্দ্রবোড়ার বিস্তৃতি ২৭টি জেলায় ছড়িয়েছে।
ডা. রোবেদ আমিন জানান, বিষধর সর্পদংশনের স্বীকৃত চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিভেনম। দেশের প্রধান বিষধর সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা ঘোড়ার শরীরে প্রয়োগ করা, ঘোড়ার রক্তের সিরাম থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় না। ভারতে তৈরি (৪টি প্রধান বিষধর সাপের বিষয়ে বিরুদ্ধে প্রস্তুত) অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করে অসংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবারহ করা হয়ে থাকে। অ্যান্টিভেনম ক্রয়, বিতরণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার, ব্যবহার পরবর্তী প্রভাব (নজরদারি) দেখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কমসূচি না থাকা সত্ত্বেও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সুফল লক্ষ্যণীয়।
২৯০ দিন আগে
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের রায় প্রকাশ
চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ।
রায়ে আবেদনকারী এসব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ২০০৭ সালে বরখাস্তের পর থেকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন ভাতা জ্যেষ্ঠতাসহ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া এসব কর্মকর্তার বরখাস্ত থাকাকালীন সময়কে বিশেষ ছুটি হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির দেওয়া এই রায়ের ১৭ পৃষ্টার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ২০২২ সালে আবেদনকারীদের আপিল খারিজ করে দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা পৃথক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের ওই রায় দেন। আজ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়।
আদালতে আবেদনকারী পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া।
পড়ুন: ২৪-২৭ আগস্ট নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের আপত্তি শুনবে ইসি
২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৩২৭ জনকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে অস্থায়ীভাবে নির্বাচিত করা হয়। চারদলীয় জোট সরকারের সময়ের এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ৩২৭ জনের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮৫ জনকে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর চাকরিচ্যুত করা হয়। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই ৮৫ জন কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চাকরিচ্যুত করা হয়।
এর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুত প্রার্থীরা মামলা করলে ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ তা খারিজ করে রায় দেন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। এর বিরুদ্ধে তারা আপিল করেন। এই আপিল মঞ্জুর করে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল আপিল মঞ্জুর করে চাকরিতে পুনর্বহালের পক্ষে রায় দেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক চারটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে সরকারপক্ষ পৃথক আপিল করে। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর পুনর্বহাল করতে প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করেন আপিল বিভাগ। ফলে তাদের চাকরিতে ফেরত আটকে যায়। পরে ২০২৩ সালে আপিল বিভাগের রায় রিভিউ চেয়ে তারা আবেদন করেন। সেই আবেদনের ওপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি আবেদনকারীদের আবেদন মঞ্জুর করে এবং ২০২২ সালে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল করে তাদের চাকরিতে পুর্নবহালের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
২৯০ দিন আগে
সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
গাজীপুরের জয়দেবপুরে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে সাত যুবককে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলামসহ অন্যরা।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইসলামী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন যুবক-কিশোরকে আটক করা হয়। তারা মাদরাসার ছাত্র অথবা ইসলামী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসার ছাত্র ইবরাহীম। ১৯ বছর বয়সী ওই কিশোর গাজীপুরের সেই কথিত ‘জঙ্গি নাটকে’ খুন হন। বিচারবহির্ভূতভাবে ছেলেকে গুম ও হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ করেন ইবরাহীমের বাবা। পরে এ ঘটনার তদন্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাংবাদিকদের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর সারাদেশ থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করে গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি ভাড়া বাসার দোতলায় রাখা হয়। পরে বাইরে তালা ঝুলিয়ে সেখানে জঙ্গি আস্তানা রয়েছে বলে অভিযান চালান সিটিটিসি ও সোয়াতের সদস্যরা। একপর্যায়ে সরাসরি গুলি চালিয়ে সাতজনকেই হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে প্রচার করা হয়।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
অন্য আসামিরা হলেন— গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন এসপি ও এএসপি।
২৯০ দিন আগে