আইনশৃঙ্খলা
আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: অভিযোগ গঠনের আদেশ ২১ আগস্ট
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন (এম এইচ) তামীম।
প্রসিকিউটর গাজী তামীম সাংবাদিকদের জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আগামী ২১ আগস্ট আদালত নির্ধারণ করবেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে নাকি তারা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন।
এ মামলার ১৬ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা আটজন হলেন—ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন এবং কনস্টেবল মুকুল।
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ বাকি আটজন পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে দুইজনকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় একজন ভুক্তভোগী জীবিত ছিলেন। তাকেও পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১৭৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ২ জুলাই আদালত সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। পরে ওই আহত ব্যক্তিসহ ছয়জনকে পুলিশের গাড়িতে তুলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন— সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন এবং এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।
২৯৫ দিন আগে
জামিনের জন্য আদালতে কাঁদলেন ছাগলকান্ডের মতিউর
আলোচিত ছাগলকান্ডের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে জামিনের জন্য আদালতে কাঁদতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন তাকে ধৈর্য ধরতে বললেন এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় মতিউরের আইনজীবী মো. ওয়াহিদুজ্জামান জামিন শুনানির শেষে মতিউর নিজে কিছু বলার অনুমতি চান।
আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, ‘আমি কারাগার থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি চিঠি দিয়েছিলাম। আমি আপনাকে এ চিঠিটি দিলাম। আপনি দয়া করে আমার চিঠিটি পড়ে যে আদেশ দেবেন, আমি তা মাথা পেতে নেব।’
মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘আমার পরিবারটা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই কারাগারে আছি। আমার মা প্যারালাইজড, তাকে দেখার কেউ নেই।’
এই কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাকে জামিন দিন। আমাকে জামিন দিলে আমার কাছে যে নথিপত্র আছে, আমি তা আদালতে উপস্থাপন করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারব।’
তখন বিচারক তাকে বলেন, ‘আপনি দোষী বা নির্দোষ তা এখনই বলা যাবে না। মামলাটি এখন তদন্তাধীন। তাই আপনাকে আরও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
গত বছর কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামে ছাগল কেনার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে মতিউর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
ছাগলসহ ইফাতের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়—১৫ লাখ টাকা দিয়ে ছাগল কেনার অর্থের উৎস কী? ইফাত সংবাদমাধ্যমে বাবার পরিচয় দিলে মতিউর রহমানের নাম উঠে আসে।
মতিউর রহমান এ আলোচনায় ঘি ঢালেন, ছেলের পরিচয় ‘অস্বীকার’ করে। একটি টেলিভিশনের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, মুশফিকুর রহমান ইফাত নামে কেউ তার ছেলে বা আত্মীয় নয়, এমন নামে কাউকে তিনি চেনেন না পর্যন্ত। তার একটিই ছেলে, যার নাম তৌফিকুর রহমান।
এরপর ইফাতের সঙ্গে মতিউর রহমান এবং পরিবারের অন্যদের ছবিও প্রকাশিত হয়। ইফাত হচ্ছেন মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের (স্ত্রীর) ছেলে।
মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকি ছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা। সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান। পরে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমান এবং তার স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
গত ৬ জানুয়ারি মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রত্যেক মামলায় মতিউর রহমান আসামি।
২৯৬ দিন আগে
সচিবালয়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, সন্ধ্যা ৬টার পর অবস্থান করতে লাগবে অনুমতি
দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে সরকার। এবার সচিবালয়ের অভ্যন্তরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টার পর সচিবালয়ে অবস্থান করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার বিধান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্রত্যেকটি ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রতিটি ভবন/প্রাঙ্গণের সার্বক্ষণিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলো হলো— সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা,সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অননুমোদিত কোনো সভা বা সমাবেশ অথবা কোনো পেশাগত সংগঠন, সমিতির সভা, সম্মেলন, বৈঠক করা যাবে না।
পড়ুন: শুক্রবার থেকে যমুনা ও সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
এ ছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর সচিবালয়ের অভ্যন্তরে জরুরি দাপ্তরিক প্রয়োজনে অবস্থান করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে, সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা অন্য কোনো ছুটির দিনে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে দাপ্তরিক প্রয়োজনে অবস্থান করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে, সচিবালয়ের অভ্যন্তরে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সচিবালয়ে প্রবেশ পাস দৃশ্যমান রাখতে হবে, সচিবালয়ের অভ্যন্তরের কোনো ভবন বা প্রাঙ্গণে কোনোরূপ লিফলেট বিতরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ঝুলানো বা স্থাপন করা যাবে না এবং সচিবালয়ে প্রবেশকালীন গাড়ি বা ব্যক্তির নিরাপত্তা তল্লাশি দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে নির্দেশনাগুলো আবশ্যিকভাবে পালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
২৯৬ দিন আগে
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২০ বার পেছানোর রেকর্ড
বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবার পেছানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালত সোমবার (১১ আগস্ট) আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।
এ পর্যন্ত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা মোট ১২০ বার পিছিয়ে এসেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হন। ঘটনার সময় বাসায় তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ উপস্থিত ছিলেন। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন — রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান।
এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন, বাকিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পিছিয়ে আসায় এ মামলার দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
২৯৭ দিন আগে
জবি ছাত্রী অবন্তিকার মৃত্যু: মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম
গত বছরের ১৫ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেন। তার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অবন্তিকার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী (আম্মান) অভিযুক্ত হয়েছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লার আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মিজানুর রহমান অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার প্রায় দেড় বছর পর রবিবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানান, অবন্তিকার মা সহপাঠী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অবন্তিকার মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু ছবি, স্ক্রিনশট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের কিছু সংক্ষিপ্ত বার্তা জব্দ করা হয়েছে। তার ফেসবুকে দেওয়া ‘সুইসাইড নোট’ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোবাইলটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আম্মান বিভিন্নভাবে অবন্তিকাকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। মোবাইলে এমন কিছু ক্ষুদে বার্তাও পাওয়া গেছে। এসব হয়রানির কারণে অবন্তিকা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এসব বিষয় উল্লেখ করেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৫ মার্চ রাতে কুমিল্লা নগরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। এর আগে ফেসবুক পোস্টে শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন ১৬ মার্চ তার মা তাহমিনা শবনম দুইজনকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।
অবন্তিকার মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে যারা জড়িত, তারা শাস্তি পাবে কিনা শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল। যে জবি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি, সেই প্রশাসন কীভাবে দায় এড়াতে পারে?’
তিনি আরও বলেন, ‘অবন্তিকার মতো অসংখ্য মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়রানির শিকার হয়। কেউ নীরবে সহ্য করে, কেউ প্রতিবাদ করে মৃত্যুর মুখে পড়ে।’
২৯৭ দিন আগে
মৌচাকে হাসপাতালের পার্কিং থেকে দুটি লাশ উদ্ধার
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পার্কিং লটে একটি প্রাইভেট কার থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, ওই গাড়িটি শনিবার সকাল সাড়ে ৫টায় পার্কিংয়ে প্রবেশ করেছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, গাড়ির ভেতরে একজন রোগী ছিলেন।
গাড়িটি দুই দিন ধরে পার্কিংয়ে থাকায় সোমবার দুপুরে নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির মধ্যে দুইটি লাশ দেখতে পান।পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে।
২৯৭ দিন আগে
খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হট্টগোল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিল আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
এই সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে, এখন মায়া কান্না দেখাতে এসেছে।’ সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে যখন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?
পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী রোববার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। জানা গেছে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় করা হত্যা মামলা বাতিল ও জামিন চেয়ে গত রোববার আবেদন করা হয়। আজ দুপুরে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
শুনানির আগেই খায়রুল হকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এম কে রহমান, মহসিন রশিদ, জেড আই খান পান্না, মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ অনেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিচারক এজলাসে ওঠার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিবেন। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল আহমেদ যোগাযোগ করেন এবং জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন।
এ সময়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘আমরা এখানে চার-পাঁচজন, যারা ৭৫ বছরের ওপরে। আমরা শুনানির জন্য অপেক্ষা করছি, আজ শুনানি কেন হবে না? শুনানি করে রুল জারি করুন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসিন রশিদ আদালতকে বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতিকে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আসামিকে রিমান্ডে না পাঠানোর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমরা কোন আদালতে আছি? এমন বিচার বিভাগ আগে দেখিনি। আমরা জুডিশিয়ারিকে রক্ষা করতে এসেছি।’
এর উত্তরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘খায়রুল হকের মতো কুলাঙ্গার আর কেউ এই বিচার বিভাগে আসেনি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তার কারণে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে যখন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন কেউ কোথাও কথা বলেনি, এখন কেন মায়াকান্না দেখাতে আসছেন? তখন মায়াকান্না কোথায় ছিল।’
এই সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো: উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, ছাত্র থাকাকালে আমার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা হয়েছিল। তখন সিনিয়ররা কোথায় ছিলেন? কেউ আমার পক্ষে দাঁড়ায়নি।’
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, আজ শুনানি হবে না, এক সপ্তাহ পর শুনানির দিন ধার্য করা হলো।
এ সময় এম কে রহমান বলেন, ‘আদালতকে ডিকটেট করবেন না।’ এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা প্রতিবাদ জানায়।
এজলাস কক্ষে ধীরে ধীরে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের এক আইনজীবীকে ধাক্কাও মারা হয়।
পরবর্তীতে আদালত আগামী রোববার বেলা ১১টায় মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিন রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ি থানায় আব্দুল কাইয়ুম হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হন।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন খায়রুল হক। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে সাংবিধানিক শূন্যতার সূচনা করেন। অবসর নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন।
এই রায়ের ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
গত বছরের ২৮ আগস্ট সুপ্রিম আইনজীবী কোর্টের মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন দুর্নীতিমূলক, বিদ্বেষাত্মক ও জালিয়াতিমূলক রায় দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া গত বছরের ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ২৭ এপ্রিল ‘বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দকরণ’ দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সংবাদ সম্মেলন করে।
২৯৭ দিন আগে
সাংবাদিক তুহিনের শরীরে ৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাতে পুলিশের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দেয় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তির— গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর ৯টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো আকারে ছোট-বড় হলেও প্রতিটিই সমান, গুরুতর ও গভীর ছিল।
পাশাপাশি, সোমবার (১১ আগস্ট) তুহিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাত আসামি দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে গ্রেপ্তারদের মধ্যে আসামি শাহজালাল দুপুরে তুহিনকে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই আসামি গাজীপুরের মেট্রোপলিটন আদালত-৩ এর বিচারক ওমর হায়দাররের আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে রিমান্ডে থাকা সাতজনকেই জেল হাজতে পাঠানো নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক।
পড়ুন: গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার ৭ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দুলাল চন্দ্র দাস জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় রিমান্ডে থাকার সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তুহিনকে হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
এ ছাড়া আসামিদের মধ্য থেকে একজন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে হত্যার সাথে জড়িত বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। নিহত আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ থেকে শনাক্ত করে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যা মামলায় পুলিশ ও র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া সাত আসামি হলেন-—মিজান ওরফে কেটু মিজান ও তার স্ত্রী পারুল আক্তার ওরফে গোলাপি, আল-আমীন, স্বাধীন, মো. শাহজালাল, মো. ফয়সাল হাসান, সুমন ওরফে সাব্বির।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ও শহিদুল কে অন্য একটি মামলা চালান করা হয়েছে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় তার ভাই মোঃ সেলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে গত ৮ আগস্ট জিএমপির বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২৯৭ দিন আগে
অতিরিক্ত আইজি হলেন পুলিশের সাত কর্মকর্তা
পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজি করেছে সরকার।
সোমবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজি হলেন যারা–এপিবিএনের ডিআইজি মো. আলী হোসেন ফকির, এসবির ডিআইজি জি এম আজিজুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. সরওয়ার, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ডিআইজি মো. মোস্তফা কামাল, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কাজী মো. ফজলুল করিম, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৫ শাখার ০৯-১০-২০২৪ তারিখের ০৭.১৫৫.০১৫.৪৪.০৩.০৩৪.২০১০ (অংশ-২)-৫৪০ নং পত্রে উল্লিখিত সব আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে নবসৃষ্ট সাতটি সুপারনিউমারারি পদের বিপরীতে উপরোক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলো।ৎ
আরও পড়ুন: বাধ্যতামূলক অবসরে ৯ পুলিশ পরিদর্শক
এতে আরও বলা হয়েছে, পদগুলোতে কর্মরত পদধারীদের পদোন্নতি, অবসর, অপসারণ কিংবা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে পদগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে ও পদ সৃজনের তারিখ থেকে সাতটি সুপারনিউমারারি পদের মেয়াদ হবে এক বছর। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২৯৭ দিন আগে
নবজাতকের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল
রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগে চিকিৎসা অবহেলায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে চিকিৎসায় অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগের তদন্ত করে আগামী তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবজাতকের বাবার করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন বলে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. শফিকুল ইসলাম (সোহেল)।
গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকের চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে শিশুর পিতা মো. নূরের সাফাহ্ পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ‘নি হাও! চায়না-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী’ সেমিনার অনুষ্ঠিত
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল সাত দিনের নবজাতকের শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর অধীনে ভর্তি করেন মিরপুরের বাসিন্দা নবজাতকের বাবা মো. নূরের সাফাহ্। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ নবজাতকের বাবার। বিষয়টি নিয়ে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুর বাবা নূরের সাফাহ্ বলেন, গত ৩ এপ্রিল সাত দিনের নবজাতকের বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি থাকায় ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি ফটোথেরাপি দেওয়ার জন্য। ভর্তির পরপরই তারা জানায় যে, দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে থেরাপি দেওয়ার জন্য তারা দুই থেকে তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করতে দেবে এবং বাকি সময় ব্রেস্ট পাম্প করে তাদের কাছে দিলে তারাই নিজ দায়িত্বে বাচ্চাকে খাইয়ে নেবে। ট্রিটমেন্ট চলাকালীন সময়ে কেউ বাচ্চার কাছে যেতে পারবে না এবং দেখতে পারবে না। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ও বাচ্চার কাছে যেতে পারবে না।
তাদের নিয়ম অনুযায়ী, আমার স্ত্রী বাচ্চাকে রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাইয়ে দিয়ে আসে। সকাল ৭টায় তারা পুনরায় তাকে খাওয়ানোর জন্য ডেকে নিয়ে গেলে আমার স্ত্রী অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারেনি, কারণ বাচ্চা ঘুমাচ্ছিল এবং কোনোভাবেই ঘুম থেকে উঠছিল না। কর্তব্যরত নার্স জানায় যে, ঘুম থেকে উঠলে খাওয়ানোর জন্য ডেকে দেবে। তখন সে আবারও ব্রেস্ট পাম্প করে তাদের নিকট খাওয়ানোর জন্য দিয়ে আসে।
তিনি বলেন, পরের দিন সকাল ১০টায় ডিউটি চিকিৎসক জানায় যে বাচ্চার বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তাকে রিলিজ দিয়ে দেবে—আমরা যেন বিল ক্লিয়ার করে আসি। ১১টার দিকে তারা বাচ্চাকে তার মায়ের কাছে দিয়ে যায় এবং জানায় যে বাচ্চার ডান হাতে ক্যানোলা পরানোর কারণে ব্যথা আছে, তাই এই হাত যেন কম নাড়ানো হয়। এখানে জানিয়ে রাখা ভালো যে তখনো বাচ্চা ঘুমাচ্ছিল এবং পুরো শরীর কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ছিল। বাসায় নিয়ে আসার পর কাঁথা থেকে বের করে খাওয়ানোর চেষ্টা করার সময় দেখা যায় যে বাচ্চার ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভাঙা, যেটা স্পর্শ করলেই সে মারাত্মকভাবে কান্না করছে।
হাত ভাঙা থাকার বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই দুপুর ১২টার সময় আমরা পুনরায় তাকে ডেলটা মেডিকেল কলেজের নিয়োনেটাল ওয়ার্ডে নিয়ে যাই, যেখানে সে ভর্তি ছিল। তাদেরকে দেখানোর পর ডিউটি চিকিৎসক জানায় যে, সে নিজে চেক করে দিয়েছিলো ডিসচার্জ করার আগে এবং তাদের দাবি আমরা বাসায় নেওয়ার পর টানাটানি করে হাত ভেঙে ফেলেছি।
মনে হচ্ছিল, মোবাইল কেনার মতো কেন চেক করে বাচ্চা নেইনি, সেটা আমাদের অপরাধ—যোগ করেন নবজাতকের বাবা মো. নূরের সাফাহ্।
আরও পড়ুন: শাহরাস্তিতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর-তালাবদ্ধ
তিনি বলেন, এ পর্যায়ে তারা একটি এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়ে আমাদের শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে, কারণ তাদের ওখানে এক্স-রে করার সুযোগ নাকি নেই। এ পর্যায়ে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে চলে আসি, কারণ বাচ্চার ট্রিটমেন্ট আমাদের কাছে জরুরি ছিল। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট চলাকালীন বাচ্চা ঘুমিয়েই ছিল এবং কোনোভাবেই তাকে খাওয়ানো যায়নি। সন্ধ্যার পরপরই বাচ্চা স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে এবং খাওয়া শুরু করে। যেহেতু রাত ১২টায়ও বাচ্চা স্বাভাবিক ছিল এবং খাওয়াতে পেরেছে, কিন্তু সকাল ৭টায় পুনরায় দেখার পর থেকে সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে—তাতে আমাদের ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে হাত ভেঙেছে এবং সেটা স্বাভাবিক দেখানোর জন্য তাকে কোনো ধরনের সিডেটিভ ব্যবহার করে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল যেন আমরা না বুঝতে পারি।
২৯৭ দিন আগে