আইনশৃঙ্খলা
দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ (রবিবার) থেকেই সারা দেশে একযোগে চিরুনি অভিযান শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রবিবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি চালাবে। কোথাও কোনো অপরাধী বা বিশৃঙ্খলাকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—আইন যেন কেউ নিজের হাতে তুলে না নেন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬ জনকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারাই জড়িত থাকুক না কেন; তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর ও ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে যাচ্ছে এবং অপরাধীদেরকে গ্রেপ্তার করছে।’
তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে খুলনার হত্যাকাণ্ডেও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, অপরাধী অপরাধীই—তা সে যে-দলেরই হোক না কেন। রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো পরিচয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না। কোনো অপরাধীকেই পুলিশ প্রশ্রয় দেবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা কোনো আপস করব না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনকে ঘিরে যেসব নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি, তা ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। আমাদের অংশটুকু যথাসময়ে ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
২৩৬ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: এক আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, আরেকজনের দায় স্বীকার
রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মো. টিটন গাজীর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে, আরেক আসামি ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান রবিন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১২ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াসের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এদিন আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি টিটন গাজী ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তিনি ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামির পরিচিত। এজাহারের অন্যান্য আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যায় ভিডিও থাকার পরেও হামলাকারীদের ধরা হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন তারেকের
বিচারক শুনানি শেষে আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলার ঘটনার ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র-সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আবেদনে বলা হয়।
আদালতে রবিনের দায় স্বীকার
রাজধানীর পুরান ঢাকায় মো. সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার ঘটনায় করা অস্ত্র মামলায় ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান রবিন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াসের আদালতে স্বেচ্ছায় এ জবানবন্দি দেন তিনি।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। জানা যায়, আসামি তারেক রহমান রবিন রাজধানীর চকবাজার থানার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
২৩৭ দিন আগে
মব ভায়োলেন্স করে দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না: র্যাব মহাপরিচালক
র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি), অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, মব ভায়োলেন্স বা মব সন্ত্রাস করে এ দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। অপরাধী যেই হোক বা যে দলেরই হোক, আমরা তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব।
শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ঘটে যাওয়া ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতিসহ আরও কয়েকটি ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন র্যাবের ডিজি। ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘র্যাব এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎপর রয়েছে। দেশে বিগত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের র্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তাদের যেন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মব ভায়োলেন্স সৃষ্টির অপরাধে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন অপরাধীকে র্যাব আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।’
আরও পড়ুন: নির্বাচনের সব প্রস্তুতি আছে, মব মোকাবিলায় সচেষ্ট সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
‘গত ২ জুলাই লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানায় সন্ত্রাসী কর্তৃক মব সৃষ্টির মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের আহত করে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ছাড়াও গত ৩ জুলাই কুমিল্লার মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় একই পরিবারের মা ও দুই সন্তানের ওপর মব ভায়োলেন্সের অযাচিত ঘটনায় ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
সলিমুল্লাহ মেডিকেলের সামনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি আলমগীর (২৮) এবং ৫ নম্বর আসামি মনির ওরফে লম্বা মনিরকে (৩২) আমরা গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’
আরও পড়ুন: মব সন্ত্রাস জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি: অ্যাটর্নি জেনারেল
‘এ ঘটনায় আমরা ছায়া তদন্ত করছি, আর পুরো বিষয়টি দেখছে ডিএমপির তদন্ত বিভাগ।’
র্যাবের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
২৩৭ দিন আগে
মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিক্ষোভ
রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং সারা দেশে অব্যাহত চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া প্রায় একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিলটি শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে রায় সাহেব বাজার, তাঁতিবাজার, নয়াবাজার ও মিডফোর্ড হাসপাতাল ঘুরে ক্যাম্পাসের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘যুবদলের অনেক গুণ, পাথর মেরে মানুষ খুন’, ‘বিএনপির অনেক গুণ, দশ মাসে দেড়শ’ খুন’, ‘যুবদলের চাঁদাবাজরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘বিএনপি, ভুয়া ভুয়া’, ‘আমার ভাই খুন কেন, তারেক রহমান জবাব দে’, ‘জিয়ার সৈনিক, চাঁদা তোলে দৈনিক’, ‘চাঁদা তোলে পল্টনে, ভাগ যায় লন্ডনে’ ইত্যাদি এসব স্লোগান দিতে শোনা যায়।
সমাবেশে চাঁদা না দেওয়ায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে পাথর দিয়ে নৃসংসভাবে হত্যাসহ সারা দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
এ সময় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা চেয়েছিলাম সাম্যের ও শান্তিপূর্ণ একটি বাংলাদেশ, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। কিন্তু হাসিনা যাওয়ার দিন বিকাল থেকেই একটা দল চাঁদাবাজি শুরু করেছে। শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ ওয়াসিম, শহিদ সাজিদের ভাইয়েরা মারা যায়নি। প্রয়োজনে আবার জুলাই হবে।’
আরও পড়ুন: ঢাকায় ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় যুবদলের ২ নেতাকে আজীবন বহিষ্কার
বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শশিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নূর নবী বলেন, ‘এই পাথরটা আমার ভাইয়ের ওপরে নয়, মনে হয় আমার বুকের ওপর পড়ে। এই ক্যাম্পাসে যেমন ছাত্রলীগ বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে, ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি মিলফোর্ডে ঘটেছে। ১০ মাস না যেতেই আপনারা আপনাদের দলের লোকদেরই হত্যা করছেন। হাসিনার দায়িত্ব আপনাদের ওপর দিয়ে যায়নি। ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্টকে যেভাবে প্রতিহত করেছি, তাদেরও প্রতিহত করতে বাধ্য হব।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছরও পূরণ হয়নি। এরই মধ্যে চাঁদা না দেওয়ায় জনসম্মুখে পাথর দিয়ে মানুষ খুন করার মতো ঘটনা ঘটছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তারা জুলাইকে ধারণ করতে পারে না। যদি বিএনপি এই ঘটনার বিচার না করে, তবে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি নিয়েও আমরা প্রশ্ন তুলব। আর ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকার জনগণের ম্যানডেট নিয়ে বসেছে, কোনো দলের ম্যানডেট নয়। আমরা এর বিচার চাই।’
২৩৭ দিন আগে
সোনারগাও থানায় পদায়নের ৩ দিনের মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহার
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা না মেনে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগ দেওয়া পুলিশ পরিদর্শক ইসমাইল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পদায়নের তিন দিনের মধ্যেই তাকে সরিয়ে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের সই করা এক অফিস আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে ৫৪ বছর বয়সী পরিদর্শক মো. ইসমাইল হোসেনকে ৭ জুলাই সোনারগাঁও থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয় এবং তিনি যোগদান করেন।
গত ১৭ জুন পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে সকল রেঞ্জ ডিআইজি ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের চিঠির মাধ্যমে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়েছে, ৫২ বছরের উপরে কোনো পুলিশ পরিদর্শককে থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এরপরও নারায়ণগঞ্জ জেলার এসপি প্রত্যুষ কুমার তাকে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে ৭ জুলাই অফিস আদেশ জারি করে ।
ওসি ইসমাইল হোসেনের পদায়নের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয় মর্মে বার্তা সংস্থা ইউএনবি একটি প্রতিদেন প্রকাশ করে ৮ জুলাই। এরপর আজ তাকে প্রত্যাহার করে অফিস আদেশ জারি করেছে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি।
২৩৯ দিন আগে
নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কনভেনশনে যোগদানের প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন
নিষ্ঠুর নির্যাতন, অমানবিক বা অপমানজনক আচরণবিরোধী জাতিসংঘের কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকল (ওপি-ক্যাট)-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এ ছাড়া, সভায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের খসড়া সমঝোতা স্মারক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) খসড়া অধ্যাদেশ, মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের নতুন কনস্যুলেট স্থাপনের প্রস্তাব, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫’র খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৩৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০০২ সালে নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলটি ঘোষিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো— নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত ও জোরদার করা।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদে যুক্ত হয়েছিল বলে বৈঠকের পর জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আরও পড়ুন: অধ্যাপক ইউনূসের নির্দেশে দ্রুত নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে ইসি, আশা ফখরুলের
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) স্থাপনে খসড়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর হচ্ছে সংস্থাটির মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রধান নীতিনির্ধারণী ও তত্ত্বাবধানকারী দপ্তর।
এ ছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মালয়েশিয়ার জহুর বাহরুতে নতুন একটি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়াকে আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের চূড়ান্ত যাচাই সাপেক্ষে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’র খসড়াও ওই সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও, ফেনী ও নোয়াখালীতে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা বন্যা পরিস্থিতি এবং সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করেন।
২৩৯ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা: পলাতক ২৬ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২৬ পলাতক আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২
বৃহস্পতিবার(১০ জুলাই) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে সকালে এ মামলার চার গ্রেপ্তারকৃত আসামি- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার মোট আসামি ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জনই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে, গত ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৩০ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যা ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
আরও পড়ুন: ছেলের কবরের পাশে দিন কাটে আবু সাঈদের মায়ের, বিচার নিয়ে সংশয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ ছোড়া গুলিতে আহত হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
২৩৯ দিন আগে
১১ বছর পর রায়, ফরিদপুরে রাজন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের মধুখালীতে রাজন হত্যা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার প্রমাণ লোপাটের দায়ে ওই পাঁচজনকে আরও সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি আরমান হোসেন (৩৬), মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন (৩৯), মামুন শেখ (৩৮) ও ইলিয়াছ মৃধা (৩৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামি আছাদ শেখ পলাতক রয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে চারজনকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
এদের সবার বাড়ি মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। অপরদিকে, মামলার অপর দুই আসামি হাসান সিকদার ও আশরাফুল সিকদারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিকালে ফরিদপুরের মধুখালীর রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহ মো. রাজন (২৮) মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে না ফেরায় তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
চার দিন পর তার পালসার মোটরসাইকেল মধুমতি নদীর পাশে তারাপুর শ্মশানঘাট সংলগ্ন পানিতে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ মামুন শেখের বাড়িতে গিয়ে রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এবং মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরমান রাজন হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রাজনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মামুনের সহায়তায় কৌশলে কুড়ানিয়ার চর এলাকায় একটি বাগানে ডেকে নিয়ে গিয়ে আছাদ ও মামুন শেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জন ধারালো অস্ত্র দিয়া কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাগানের মাটির নীচে চাপা দিয়া রাখে। পরে পুলিশ মাটি খুড়ে রাজনের লাশ উত্তোলন করে।
হত্যাকাণ্ডে মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলনসহ অন্যরা লাশ ময়না তদন্তে বাঁধা দেওয়া, বিবিধ নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও পারিপার্শ্বিকতায় হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত রাজনের মা জোৎন্সা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে পুলিশ। দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, রাজনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার লাশ মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনে। এঘটনায় রাজনের মা বাদী হয়ে মামলা করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে আজ আদালতের বিচারক রাজন হত্যা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে একজন পলাতক রয়েছে। অন্যরা আদালতে হাজির ছিলেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অনাদায়ে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া মামলার প্রমান লোপাটের দায়ে ওই পাঁচ জনকে আরও ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
২৩৯ দিন আগে
মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে করায় এনসিপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেট এলাকায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। তবে, পুলিশের দাবি টাকা-পয়সা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে কৃষি মার্কেট সংলগ্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫ কার্যালয়ে গিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বৈধ দোকানিদের পুনর্বহালের দাবিতে স্মারকলিপি দিতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন এনসিপির ঢাকা উত্তর শাখার অফিস সমন্বয়কারী এম এম শোয়াইব।
তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাহবুব আলম অপসারিত মেয়র আতিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।’
এনসিপির মোস্তাকিম, কবির সুজন, জাভেদ, শাওন ও সানিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান শোয়াইব।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির একজন কর্মকর্তা তাদের ঘটনার বিষয়ে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কোনো রাজনৈতিক দল জড়িত কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ ঘটনাটি রাজনৈতিক মনে হয়নি এবং এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।
২৪০ দিন আগে
প্রতারণার দায়ে হজ এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল
হজে না পাঠিয়েও অর্থ ফেরত দিতে গড়িমসি ও ভয়-ভীতি দেখানোর কারণে একটি হজ এজেন্সির নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) জামালপুরের ছালাম আবাদ ট্রাভেলস নামের হজ এজেন্সির (হজ লাইসেন্স নং-১৪৪৭) নিবন্ধন সনদ বাতিল করে সম্প্রতি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামালপুরের ইসলামপুরের মো. নুরুজ্জামানসহ ৬ জন অভিযোগ এই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের হজে যাওয়ার জন্য এজেন্সির প্রতিনিধি ও মালিকের ছেলে সৈয়দ আবু তালহাকে ২৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা দেন তারা। কিন্তু এজেন্সি তাদের হজে পাঠাতে পারেননি।
অভিযোগকারীরা অর্থ ফেরত চাইলে আবু তালহা টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা করেন ও সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে স্থানীয় বিচার-সালিশের পর আবু তালহা অভিযোগকারীকে ৩১ জুলাই ৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ফেরত দেন। অবশিষ্ট টাকা আদায় করতে না পেরে অভিযোগকারী গত ২১ নভেম্বর ধর্ম সচিবের কাছে অভিযোগ দেন।
পরে গত ১ ডিসেম্বর অতিরিক্ত সচিব (হজ) উভয় পক্ষের শুনানি নেন। এতে এজেন্সির প্রতিনিধি আবু তালহা ৩০ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং আলাদা সমঝোতা পত্রে উভয় পক্ষ সই করেন। সমঝোতা পত্র অনুসারে আবু তালহা ৩০ জানুয়ারি অভিযোগকারীকে দ্বিতীয় পর্যায়ে মাত্র ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই কিস্তিতে ১২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর বাকি ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করায় অভিযোগকারী ওই টাকা পাওয়ার জন্য ধর্ম সচিবের কাছে ১৮ জুন আবারো একটি অভিযোগ দেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে গত ২৯ জুন উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ফের শুনানি হয়।
এ ছাড়া, শুনানিতে বাকি অর্থ ৩০ জানুয়ারির মধ্যে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে সমঝোতা পত্র সইয়ের পরও অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হজযাত্রীদের হজে যাওয়া থেকে বঞ্চিত করে এজেন্সি ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১’ এর ধারা ১২ এর দফা (খ), (ঞ), (ট) ও (১) লঙ্ঘণ করে অনিয়ম ও অসদাচরণ করেছে।
তাই 'হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১' এর ধারা ১৩(১) অনুসারে ছালাম-আবাদ ট্রাভেলসের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হলো। একই আইনের ধারা ১৩(৫) অনুযায়ী অভিযোগকারীসহ ৬ জন হজযাত্রীর আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় তাদের প্রাপ্য অবশিষ্ট ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের জন্য আদেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে অভিযোগকারীদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এজেন্সির জামানত থেকে ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে অভিযোগকারীদের পরিশোধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ এজেন্সিকে ফেরত দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়।
একই আইনের ধারা ১৩(৬) অনুসারে এজেন্সিতে প্রাক-নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী থাকলে তাদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তরেরও আদেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
২৪০ দিন আগে