আইনশৃঙ্খলা
যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন।’ তবে অস্ত্রের ম্যাগাজিন বহনের ঘটনাটি ভুল ছিল বলে আবারও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
এ ছাড়া, মুরাদনগরে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউই পার পাবে না।’
২৪৭ দিন আগে
চাকুরি হারালেন সেই সহকারী কমিশনার তাপসী ঊর্মি
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক সহকারী কমিশনার (বর্তমানে ওএসডি সহকারী সচিব, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া) তাপসী তাবাসসুম ঊর্মিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অসদাচরণের অভিযোগে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বুধবার (২ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত বছরের ৬ অক্টোবর তিনি নিজ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি নিরাপত্তার কারণে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ না নিয়ে লিখিতভাবে জবাব দেন। তার জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব, পারিপার্শ্বিকতা এবং বিভাগীয় মামলার নথি পর্যালোচনা তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিধিমালা অনুযায়ী ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও গুরুদণ্ড দিতে কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে পরামর্শ দেয়। রাষ্ট্রপতিও তাকে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন বলেও প্রজ্ঞাপনের জানানো হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নিয়ে তাপসী তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’
এ ছাড়া, জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ছাড়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশকিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন তাপসী তাবাসসুম।
গত বছরের ৬ অক্টোবর তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরের দিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান রয়েছে।
২৪৭ দিন আগে
৮৬ বারের মতো রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন পেছাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়ে আগামী ২৪ জুলাই দিন ঠিক করেছেন আদালত।
এ নিয়ে ৮৬ বারের মতো মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ দিনটি ঠিক করেন।এ দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ঠিক করা ছিল।তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন দিন ঠিক করেন দেন।
আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান: ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়।
দেশের অভ্যন্তরের কোনও একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থপাচার করেছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন।
২৪৭ দিন আগে
পবিত্র আশুরা: তাজিয়া মিছিলে নিষিদ্ধ থাকছে যা
আগামী ৬ জুলাই পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে জননিরপত্তা রক্ষায় নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ।
এছাড়াও অনেকে মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটান—যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এমতাবস্থায় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ডিএমপি।
পড়ুন: ঢাকায় কোনো তাজিয়া মিছিল নয়: ডিএমপি
২৪৭ দিন আগে
আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ড
আদালত অবমাননার একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার অপসারণের পর এটাই প্রথম কোনো আদালতের রায়, যাতে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) আইসিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
একই মামলায় গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের মামলায় পলাতক আসামির জন্য আইনজীবী নিয়োগের পূর্ব নজির না থাকলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ অক্টোবর শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
সেই অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘২২৬ জনকে মারার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’—যা বিচারব্যবস্থার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আদালত। পরে এই ঘটনায় আইসিটিতে মামলা করেন রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৩০ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত শুনানিতে দুই আসামিকে ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তারা হাজির হননি। কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমেও ব্যাখ্যা দেননি। সেদিন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে সশরীর হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দেন।
পরদিন দুটি সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দুজনকে গত ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। সেদিনও তারা হাজির হননি। পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য ১৯ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
১৯ জুন এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয় ২৫ জুন।
২৫ জুন মামলায় প্রস্তুতি নিতে অ্যামিকাস কিউরি মশিউজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এক সপ্তাহ সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় ২ জুলাই। আজ দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিলেন ট্রাইব্যুনাল।
২৪৭ দিন আগে
আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবি সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান।
তিনি জানান, মামলার এজাহারে মোট ৩১ জনের নাম ছিল। তদন্ত শেষে এদের মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অপরদিকে, তদন্তে নতুনভাবে জড়িত হিসেবে ১০ জনের নাম উঠে আসে। যাদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর দুপুরে জামিন নামঞ্জুরের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে শুরু হয় উত্তেজনা। তার অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন।
পড়ুন: আরও ৪ মামলায় গ্রেপ্তার ইসকন নেতা চিন্ময়
প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার একপর্যায়ে পুলিশ ‘সাউন্ড গ্রেনেড’ ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। তখনই আদালতের সামনে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামির বাড়ি চান্দগাঁও মোহরা ও বান্ডেল সেবক কলোনি এলাকায়।
তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় চিন্ময় পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যে উসকানি পেয়ে তার অনুসারীরা আইনজীবীর ওপর হামলা চালায়। জবানবন্দি ও তথ্যপ্রমাণে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।’
পড়ুন: ‘সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার’
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আলিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।’ এখন পর্যন্ত ২০ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের মধ্যে চন্দন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য ও রিপন দাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ১৮ জন এখনও পলাতক।
চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতের সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য আগামীকাল বুধবার শুনানি করবেন আদালত।
২৪৮ দিন আগে
মুক্তি পাচ্ছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৬ বন্দী
সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে ২০ বছরের অধিক সাজাভোগকারী ৫৬ বন্দীকে মুক্তি দেবে। সরকার তার ক্ষমা করার ক্ষমতাবলে এসব বন্দীর সাজা মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারা সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (কারাগার, গণমাধ্যম) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, জেল কোডের ৫৬৯ বিধি, যা সাধারণত 'বিশ বছরের বিধি' নামে পরিচিত এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ধারা ৪০১(১) এর অধীনে এই মুক্তি অনুমোদিত হয়েছে।
এআইজি জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেশ কয়েকজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে বাকিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
পড়ুন: কারাগারে 'ঈদ খাবার উদ্যোগে’ শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বন্দীদের মুখে হাসি
জেল কোড অনুসারে, বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩০ বছর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে, সরকারি বিবেচনা এবং ভালো আচরণের ভিত্তিতে, সিআরপিসির বিধি ৫৬৯ এবং ধারা ৪০১(১) অনুসারে, কমপক্ষে ২০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার পর, বন্দীদের প্রাথমিক মুক্তির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে, যার মধ্যে মওকুফও অন্তর্ভুক্ত।
তবে কোন কোন কারাগার থেকে কোন কোন বন্দী মুক্তি পেয়েছেন তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
২৪৮ দিন আগে
প্রহসনের নির্বাচনের জন্য দোষ স্বীকার সাবেক সিইসি নূরুল হুদার
প্রহসনের নির্বাচন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুই দফায় চারদিন করে আটদিনের রিমান্ড শেষে নূরুল হুদাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার।
এরপর নূরুল হুদা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নূরুল হুদার পক্ষে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম সজিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজকে রিমান্ড শেষে নূরুল হুদাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আমরা তার জামিনের দরখাস্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়। এরপর আদালতে এসে জানতে পারি তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিচ্ছেন।
পড়ুন: সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে জুতাপেটার মামলায় হানিফসহ ৩ জনের জামিন
গত ২২ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে নূরুল হুদার বাড়িতে গিয়ে ‘স্থানীয় জনতা’ তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পরদিন প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। চারদিনের রিমান্ড শেষে একই মামলায় গত ২৭ জুন আবারও চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত।
একই মামলায় গত ২৯ জুন তিনদিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২২ জুন দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা তিন সিইসি যথাক্রমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান।
পরবর্তীতে গত ২৫ জুন এ মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত করা হয়।
সাবেক সচিব নূরুল হুদা ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিইসি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দেশের দ্বাদশ সিইসি। তার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশনের অধীনে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের সব ভোট হয়।
২৪৮ দিন আগে
শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামির আপিল শুনবেন হাইকোর্ট
মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। হিটু শেখ শিশুটির বোনের শ্বশুর।
বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার(১ জুলাই) এ আদেশ দেন। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের করা আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন।
আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হিটু শেখের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তার অর্থদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে।’
শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়।
পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৬ মার্চ ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে ৭৩ দিনের মাথায় গত ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এছাড়া ডেথ রেফানেন্স হিসেবে গত ২১ জুন মামলাটির যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এখন একসঙ্গে ডেথরেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
পড়ুন: আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড
২৪৮ দিন আগে
এনবিআরের আরও ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরও পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে জড়িত।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুদক এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে এই কর্মকর্তারা বড় পরিসরে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এমন সব অভিযোগে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তারা হলেন— বড় করদাতা বিভাগের (ভ্যাট) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া, সদস্য মো. লুৎফুর আজিম, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন, ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ এর উপ-কর কমিশনার মো. শিহাবুল ইসলাম এবং যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাসান।
এর আগে ২৯ জুন দুদক এনবিআরের আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। যাদের বিরুদ্ধে কর্তৃত্বের অপব্যবহার ও গত দুই দশক ধরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ছয় কর্মকর্তা হলেন— আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য একেএম বদিউল আলম, ঢাকা কর অঞ্চল-৮ এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান, ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ এর উপ-কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, অডিট-গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর-ভ্যাটের ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদার এবং কাস্টমস-আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর অতিরিক্ত কমিশনারসাধন কুমার কুন্ডু।
এই ছয় কর্মকর্তার মধ্যে হাসান তারেক এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বাধীন পরিষদটি রাজস্ব বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে এর অভ্যন্তরে কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে।
দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কর দায় কমানোর বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কেউ কেউ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছেন—যারা তাদের অবৈধ দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, করদাতাদের কর ফেরত ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতাদের তাদের পাওনা পেতে ঘুষ দিতে বা উপহার দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কখনো কখনো এই ঘুষের পরিমাণ ছিল করদাতাদের পাওনার অর্ধেকের সম পরিমাণ।
পড়ুন: হাসনাতের পোস্ট ‘যাচাইবিহীন ও মানহানিকর’ দাবি দুদকের
২৪৮ দিন আগে