আইনশৃঙ্খলা
ডিএনএ পরীক্ষা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করল সিআইডি
পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ ডোবায় ফেলে দিয়েছিল খুনিরা। দুজনের নাম পরিচয় জানা গেলেও বাকিরা ছিল অজ্ঞাত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের তৎপরতায় বের হয়ে এলো অজ্ঞাতনামা খুনির পরিচয়।
এরপর সিআইডির এলআইসি শাখার পরিশীলিত তথ্য বিশ্লেষণে শনাক্ত হলো তার অবস্থান। এভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লো অজ্ঞাতনামা খুনি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, বরগুনার আমতলী থানার ঘাটখালী গ্রামের আলী মাদবরের ছেলে সেলিম মাদবর ওরফে রফিক (৪৯)।
সোমবার (২৩ জুন) সিআইডি এলআইসি শাখার একটি একটি টিম ডিএমপির ডেমরা ধানাধীন সারুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, টোল উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভাধীন নান্দিকাঠি গ্রামস্থ লাইফকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ২০০ গজ পূর্বে পাকা রাস্তার উপর ভিকটিম ইমরান হাওলাদারকে (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী কচুরিপানা ভর্তি ডোবার পানিতে ফেলে দেয় খনিরা।
তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন নিহত ইমরানের স্ত্রী ফাহিমা বেগম। পরে দুজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সিআইডি’র ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। সেসব আলামত ঢাকায় সিআইডির সদর দফতরের ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে আলামত পরীক্ষা করে অজ্ঞাতনামা একজনের ডিএনএন পান বিশেষজ্ঞরা। পরে ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম রফিক। পরে ঢাকার ডেমরার সারুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: দখলদার ও খুনিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে: মুফতি ফয়জুল করীম
২৫৫ দিন আগে
ইডেন ছাত্রীর মামলায় গায়ক নোবেলের জামিন
ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীকে বাসাবাড়িতে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। মঙ্গলবার (২৪ জুন) ঢাকার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার আইনজীবী মো. খলিলুর রহমান জামিনের আবেদন করেন। এদিন বিচারক নোবেলের উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। আজ নোবেল ও ভিকটিমের উপস্থিতিতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নোবেল জামিন পেলে ভিকটিমের আপত্তি নেই বলে আদালতে জানান। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামি নোবেল গত ২০ মে থেকে জেল হাজতে আটক আছেন। যেহেতু বাদী ও আসামির মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় মামলাটি দায়ের করেছেন। বাদী ও আসামির মধ্যে শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অঙ্গীকারনামা দিয়ে স্বীকার করেছেন। বাদীর জিম্মায় আসামি জামিন পেলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই। আসামি জামিন পাওয়ার পর বিবাহ রেজিস্ট্রি করে নিবেন।
এর আগে ১৮ জুন উভয়ের সম্মতি সাপেক্ষে তাদের বিয়ে সম্পাদন করে আদালতকে অবগত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে নোবেলের আইনজীবী একটি আবেদন করেন।
এর আগে গত ১৯ মে রাত ২টার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে বাসাবাড়িতে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর ডেমরা থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যায়নরত ছিল। ২০১৮ সালে আসামি নোবেলের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদীর পরিচয় হয়। নোবেল বাদীর সাথে মোবাইল ফোনে প্রায় সময় কথা-বার্তা বলতো। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে বাদীর সাথে দেখা করে বাদীকে আসামি নোবেল তার স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ডেমরা থানা এলাকায় নোবেলের নিজ বাসায় নিয়ে আসে।
নোবেলের বাসায় আসার পর বাদী বাসা থেকে চলে যাওয়ার কথা বললে আসামির সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ থেকে ৩ জন আসামির সহায়তায় বাদীকে বাসার একটি কক্ষে আটক করে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। বাদী আসামির কথা মতো আসামির বাসায় না থাকলে তার মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে মর্মে হুমকি দেয়।
বাদী আসামি নোবেলের ভয়ে কাউকে কোনো কিছু বলার সাহস পাননি। নোবেল তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ থেকে ৩ জন বিবাদীর সহায়তায় বাদীকে সিঁড়ি দিয়ে চুলের মুটি ধরে টানা হেঁচড়া করে অপর একটি কক্ষে আটক করে রাখে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাদীর পিতা-মাতা বাদীকে চিনতে পারে। বাদীর পিতা-মাতা বাদীকে খোঁজাখুঁজি করা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবায় গেল ১৯ মে কল দিলে ডেমরা থানা পুলিশের সহায়তায় ভুক্তভোগী বাদী আসামি নোবেলের বাসা থেকে বের হয়ে আসে।
আরও পড়ুন: নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার সঙ্গীতশিল্পী নোবেল
২৫৫ দিন আগে
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুলাই
গত জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে এ মামলার দুই পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।
শুনানিকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে, এই মামলার পলাতক দুই আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশের পর আজ (মঙ্গলবার) অগ্রগতি শুনানির জন্য ধার্য করা হয়।
এর আগে, গত ১ জুন এ মামলার অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। পাশাপাশি ১৬ জুন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির ও মামলার পরবর্তী আদেশের দিন নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: সংবাদপত্রে শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ
পরে ১৬ জুন অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ২৪ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়।
সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়াসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তার (শেখ হাসিনার) বিরুদ্ধে মূলত ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার ঘটনায় সব হত্যাকাণ্ডের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার। তিনি এ গণহত্যা ও হত্যার উসকানিদাতা, প্ররোচনাদাতা ও সরাসরি নির্দেশদাতা। এ বিষয়ে তার বহু কল রেকর্ড, অডিও-ভিডিও পাওয়া গেছে।’
৫টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগটি হচ্ছে— গত বছরের ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের উসকানি দিয়েছেন ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। যেখানে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি এসব বলেছিলেন। এসব বলার মাধ্যমে তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল
এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অর্থাৎ সহযোগী বাহিনী হিসেবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের) হত্যা করে, আহত করে, অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় যে অভিযোগটি করা হয়েছে সেটা হচ্ছে— সরাসরি নির্দেশ। তদন্তে শেখ হাসিনার কিছু টেলিফোন কনভারসেশন (বার্তালাপ) জব্দ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বারবার সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রীয় সব বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন হেলিকপ্টার, ড্রোন, এপিসিসহ মরণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র, নিরীহ আন্দোলনকারী সিভিলিয়ান (নাগরিক), যারা দেশে একটা ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রত ছিল, তাদেরকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন ও নির্মূল করার জন্য।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এছাড়া বাকি ৩টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে, যেখানে শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রেক্ষিতে অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে। কিভাবে মানুষকে মারা হয়েছে, নৃশংসতাগুলো করা হয়েছে সে ব্যাপারে সুনিদিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রিক ওই ৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে যত লোক মারা গেছেন, যত লোক আহত হয়েছেন প্রত্যেকটার ব্যাপারে তার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে চার্জ রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘প্রতিবেদনে এসেছে প্রায় দেড় হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে, ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুলি করে আহত করা হয়েছে, নারীদের ওপর বিশেষভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছিল, লাশ একত্রিত করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, পোস্টমর্টেম করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, ডাক্তারদের চিকিৎসা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।’
শেখ হাসিনার বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে তিনি নিজে গিয়ে বলেছিলেন, এসব ভর্তি রোগীকে যাতে চিকিৎসা দেওয়া না হয়। রোগীরা যখন যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, তাদের সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি। যাতে পচে গেলে কেটে ফেলতে হয়, সেরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন ‘
বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় নিজেদের লোকদের দিয়ে অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।’
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচ অভিযোগ
সে সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলাটি (মিস কেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও (গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন) আসামি করা হয়।
২৫৫ দিন আগে
এস আলম গ্রুপকে ভুয়া ঋণ: ইসলামী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদান করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় ইসলামী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, ব্যাংকটির কর্মকর্তা মিফতাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম, মোহাম্মদ সিরাজুল কবির, মুহাম্মদ কায়সার আলী, তাহের আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ, হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল, আহমেদ জুবায়েতুল হক ও এস. এম. তানভির হাসান।
এদিন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক।
আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, এস আলমের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদানে সহায়তা করা ইসলামী ব্যাংকের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা দেশত্যাগ করার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হতে পারে। এজন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া একান্ত আবশ্যক।
প্রসঙ্গত, দুর্দকের করা মামলায় মনিরুল মাওলাকে গতকাল (২৩ জুন) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন একই আদালত।
আরও পড়ুন: সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় একীভূত করা হবে: গভর্নর
২৫৫ দিন আগে
ডিবির অভিযান: জামালপুরে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ডিবি পুলিশের পৃথক ৩টি অভিযান জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ জুন) এই তথ্য জানান জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব।
গ্রেপ্তাররা হলেন—পৌর এলাকার লাঙ্গলজোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে আব্দুল মিঠুন ওরফে আব্দুল রুবেল (৩৬), সদর উপজেলার রেহাই পলাশতলা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ফরহাদ আলম ওরফে তাপস (২৬), মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের উমেদ আলীর ছেলে আহালু ওরফে মইনুদ্দীন (৩২), মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম জৈটাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মিন্টু (৩৮) ও একই উপজেলার ভেলামারী গ্রামের মোন্নাতের ছেলে সাগর।
জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, জামালপুর ডিবি পুলিশ ভিন্ন ভিন্ন ৩টি গ্রুপের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় প্যারালাল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও জানান, এসব অভিযান পরিচালনার সময় আসামিদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জামালপুর, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ৩টি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে, জামালপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি পুলিশের এই অভিযান জামালপুরে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চলমান থাকবে।’
২৫৬ দিন আগে
রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের শপথ পড়ানোর বৈধতার প্রশ্নে রুল শুনানি ৭ জুলাই
প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর বিধান কেন ’৭২ এর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে জারি করা রুল শুনানির জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।
কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ১১ মার্চ এই রুল জারি করেছিলেন।
সোমবার (২৩ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। এর আগে ১০ মার্চ শহীদুল্লাহ ফরায়জী এ রিট দায়ের করেন।
প্রধান বিচারপতিকে দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর বিধান পরিবর্তন করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে দিয়ে শপথ পড়ানোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, প্রথম থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি একজন আরেকজনকে শপথ পড়াতেন। সেটি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে স্পিকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ৫ম সংশোধনীতে সেটা বাতিল করে প্রধান বিচারপতির কাছে আনা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াতেন। কিন্তু ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীতে আবার স্পিকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রিট আবেদেনে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাষ্ট্রপতির শপথে প্রধান বিচারপতির অনিবার্যতা’ শীর্ষক প্রকাশিত একটি কলামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেটি লিখেছেন রিটকারী শহীদুল্লাহ ফরায়জী।
পড়ুন: জুলাই আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দ্য রিমান্ড’ প্রদর্শনীর অনুমতি দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের
ওই কলামের একটি অংশে বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্টকে শপথ বাক্য পাঠ করান সেই দেশের প্রধান বিচারপতি। সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির দেশেও রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতির নিকট। এটা বিশ্বব্যাপী সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত রেওয়াজ। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার। রাষ্ট্রের প্রধানের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে উপেক্ষা করা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বিনষ্ট করা। এতে সংবিধানের গভীর দার্শনিক ভিত্তি থেকে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি সংসদের নির্বাচিত হয়ে প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক নির্দেশনা। রাষ্ট্রপতির প্রধান বিচারপতির নিকট শপথবাক্য পাঠ করার এই বাধ্যবাধকতা এবং মহিমান্বিত সাংবিধানিক মর্যাদা প্রজাতন্ত্রের কেউ বিনষ্ট করতে পারেন না, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা করেছে।
সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইন বলবৎ করা হয়েছে, যা প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। এটা আইন ও বিচারবিভাগের প্রতি ছিল আওয়ামী সরকারের অসম্ভব বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রকাশের নজির— যা সাংবিধানিক ন্যায্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। ‘৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও প্রধান বিচারপতির মর্যাদা সুরক্ষার প্রশ্নে শপথ ও ঘোষণার তৃতীয় তফসিলে বলা হয়েছিলো— ‘রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হইবে।’ এগুলো আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সঙ্গে বিচারবিভাগের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি—যা সংবিধান প্রণয়নের সময়ই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত।
১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্র যতটুকু সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিলো, আওয়ামী লীগ অতি দ্রুত তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ নামক দলটি কীভাবে দেখতে চায়— তার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের আনীত সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীতে। রাষ্ট্রপতির শপথ স্পিকারের নিকট; এমন দেশ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধারে— রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে, এ বিধান বাংলাদেশে আবার চালু বা পুনর্বহাল করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশের স্বার্থেই তা করা প্রয়োজন।
২৫৬ দিন আগে
জনবান্ধব হতে পারলে পুলিশের কলঙ্ক মুছবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুলিশ জনবান্ধব হতে পারলে বাহিনীটির কলঙ্ক মুছে ফেলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (২৩ জুন) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভাটি হয়।
রবিবার ঘটে যাওয়া মব হামলায় হতাশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে কেন্দ্র করে যারা ওই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়—তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি নুরুল হুদার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট থেকে পুলিশকে আরও জনবান্ধব করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এখন আর আগের মতো আচরণ করে না। জনগণ যদি পুলিশের আচরণে সন্তুষ্ট হয়, আমিও খুশি। জনগণকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
আগামী জাতীয় নির্বাচন এখনও অনেক দূরে হলেও পুলিশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো।’
সভায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক রেজা, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৫৬ দিন আগে
সাবেক সিইসি নুরুল হুদার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। এর আগে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা এলাকার তার বাসা থেকে নুরুল হুদাকে আটক করে পুলিশ।
রবিবার সকালে শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এই আটক করা হয়। মামলায় আসামি করা হয় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের। এছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে ওই মামলায়।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি হুদার গণপিটুনিকে সমর্থন করে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন
রবিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করে।
অভিযোগে সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ, কেএম নূরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন কারচুপি এবং দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেসময় যদিও বারবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং ভোটগ্রহণের সময় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছিল।
২৫৬ দিন আগে
শাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: দুই আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৩ জুন) অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক হারুন রশিদ এই আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানির সময় গ্রেপ্তার দুই আসামি শাবিপ্রবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তারা আদনান (২৩) ও স্বাগত দাস পার্থ (২২) কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত পুলিশের পরিদর্শক মো. আহসান হাবিব আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
পুলিশ জানায়, গত ২০ জুন গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে আদনান ও স্বাগতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে, ভুক্তভোগী ছাত্রী ১৯ জুন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঈদের আগে গত ২ মে একটি কনসার্টে যাওয়ার কথা বলে এক পরিচিত যুবক ওই ছাত্রীকে সুবিদবাজার এলাকার একটি মেসে ডেকে নেন। সেখানে কোমল পানীয়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধর্ষণের সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ফাঁসের হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইলও করা হয়।
ঘটনার পর গত ১৯ জুন ভুক্তভোগী ছাত্রী বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালে, প্রক্টরের পরামর্শে আইনি সহায়তা নেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মুহাম্মদ শামছুল হাবিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ডিভাইসে ঘটনার ডিজিটাল প্রমাণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর শিশুমেলা থেকে এনবিআর এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পেছনের বিস্তারিত, প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা—তা জানার চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, ঈদের পূর্বে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে একটি কনসার্টে যাওয়ার পূর্বে অচেতন করে সহপাঠীর দ্বারা ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
সহপাঠী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাস পার্থের বিরূদ্ধে অবিযোগ দেয় ওই ভুক্তভোগী। শুধু যৌন নির্যাতন নয়, তা ভিডিও ধারণ করে নিয়মিত অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ব্লাকমেইল করেছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১৯ জুন রাতেই দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ২০ জুন সিলেট কোতোয়ালি থানায় আটক দুজন ও অজ্ঞাতসহ ৫ জনের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
২৫৬ দিন আগে
সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, শাজাহান খানসহ পাঁচজন ৫ দিনের রিমান্ডে
সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, শাজাহান খান, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পল্টন থানায় করা রমজান মিয়া জীবন হত্যা মামলায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামকে এবং মোহাম্মদপুর থানার হত্যা মামলায় কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান (বাদশা) কে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইল।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সাজেদুর রহমান ওমর নিহতের মামলায় আনিসুল হক, শাজাহান খান এবং সালমান এফ রহমানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এদিকে একই থানার এলাকায় রিটন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে এক দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে যাত্রাবাড়ী থানায় করা রাসেল হত্যা মামলায় তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের কর্মী বদরুল ইসলাম সায়মনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইলের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার মমেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম সোমবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আনিসুল হক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমানের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন পিবিআইর এসআই আমিরুল ইসলাম মীর।
মনিরুল ইমলাম মনুর দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তদন্ত সংস্থা পিবিআই।
আরও পড়ুন: ফের রিমান্ডে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল-মোশাররফ
সোহাইলের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই বিমান তরফদার।
পল্টন থানায় করা রমজান মিয়া জীবন হত্যা মামলায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামকে এবং মোহাম্মদপুর থানার হত্যা মামলায় কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আ. কা. ম. সরওয়ার জাহানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন।
এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ড এবং গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২১ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন সাজেদুর রহমান ওমর।
বিকালে আসামিদের আক্রমণে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় সৈয়দ তানভীর আহমেদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
বদরুল ইসলাম সায়মনকে হত্যাচেষ্টার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর শেখ হাসিনা সরকারের গুম, খুন, নিপীড়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এতে দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদসহ অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দল মহাসমাবেশের ডাক দেয়। ভুক্তভোগী গণঅধিকার পরিষদের কর্মী বদরুল ইসলাম সায়মনও সমাবেশে অংশ নেন।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আসামিরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আসামিদের ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে সায়মন গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ২৯ এপ্রিল ভুক্তভোগী বদরুল ইসলাম সায়মন বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানা হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪৫ জনকে আসামি করা হয়।
৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হন রিটন উদ্দিন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন সকাল ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী ফুটওভার ব্রিজের নিচে গুলিবিদ্ধ হন রাসেল। পরে তিনি মারা যান।
২৫৬ দিন আগে