আইনশৃঙ্খলা
সিলেটে বিপুল ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজা জব্দ, ২ জন আটক
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাজাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ মে) উপজেলার পারুয়া লামাপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৬০০টি ইয়াবা, দুই কেজি গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার আটরিল জব্দ করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার ২০০ টাকাও উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে ৯৩৮০ ইয়াবা জব্দ, আটক ১
আটক দুজন হলেন— ওই এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী ও ইসাক আলী।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আটক দুজন কোম্পানীগঞ্জ থানা হাজতে আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৩৮৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে আ.লীগ নেত্রী জিনাত সোহানা আটক
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমন্বয়ক আইনজীবী জিনাত সোহানা চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ মে) নগরীর বায়েজিদ থানার আতুয়ার ডিপো এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান। ওসি বলেন, ‘দিবাগত রাত ১টার দিকে ভাই জিতে লাগার একটি বাসা থেকে জিন্নাত নামে এক নারীকে আমরা আটক করেছি। তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’
আরও পড়ুন: যশোরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৬
জিনাত সোহানার চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এছাড়া জিনাত সাবেক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ফারমিন গ্রুপের চেয়ারম্যান। তার স্বামী মোহাম্মদ ইমরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অতীতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জিনাত মাদরাসায় জাতীয় সংগীত পাঠ ও জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। এ ছাড়াও পতিত আওয়ামী লীগের সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাতের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জিনাত সোহানা এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটি কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী। এতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী লীগ ও ইসকন নেতাদের নাম উল্লেখ করে মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ৪০–৫০ জনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৩৮৭ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে দুই তরুণীকে মারধর: আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
মুন্সীগঞ্জে পিকনিকের লঞ্চে দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় জিহাদ হাসান (২৪) নামের এক যুবকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ মে) জেলার আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্তারপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান আহমেদ বলেন, ‘আসামি জিহাদ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার যোগনীঘাট এলাকার মনিরুজ্জামানের সন্তান।’
এর আগে, রবিবার (১১ মে) আসামির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে আনা হলে বিচারক আজ সোমবার শুনানির দিন ঠিক করেন ও আসামিকে হাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল কর্মী পারভেজ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে টিনা
পুলিশের তথ্যমতে, গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে যাত্রাবিরতির পিকনিকের লঞ্চে উঠে দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে মারধর করেন জিহাদ হাসান নামের ওই যুবক। পরে তার নামে যৌন নিপীড়ন, বেআইনিভাবে মারধর, ভাঙচুর, ক্ষতি ও হুমকির অভিযোগ তুলে মামলা করেন মুক্তারপুর নৌপুলিশের এসআই মিলন বিশ্বাস।
মুন্সীগঞ্জ থানায় করা এ মামলায় জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে জিহাদকে আটক করে পুলিশ।
এ বিষয়ে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের নাম সংগ্রহসহ আসল ঘটনা জানার জন্যই রিমান্ডের যৌক্তিকতা আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।’
৩৮৮ দিন আগে
ছাত্রদল কর্মী পারভেজ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে টিনা
ঢাকার বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যার ঘটনায় ফারিয়া হক ওরফে টিনাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার আদালত।
সোমবার (১২ মে) তাকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান।
এর আগে শুক্রবার (৯ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম টিনার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এর আগে ৮ মে রাত ৮ টায় ভাটারা থানার জগন্নাথপুর এলাকা থেকে টিনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই আসামি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলার প্রধান আসামি ও জবানবন্দি দেওয়া আসামিসহ মোট ৬ জন বর্তমানের কারাগারে আছে।
আরও পড়ুন: প্রাইম এশিয়ার ছাত্র পারভেজ হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
টিনার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেপ্তার আসামি মাহাদী হাসান ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে আসামি টিনার নাম উল্লেখ করেছেন। তদন্তের স্বার্থে টিনাকে রিমান্ডে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল নিহতের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বনানী থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ এপ্রিল প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে পুরি-সিংগারার দোকানে আড্ডা ও হাসাহাসি করছিল। বিকাল ৩টায় আসামিরা তার কাছে হাসাহাসির কারণ জানতে চাওয়ার উভয়ের মাঝে তর্ক শুরু হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ প্রক্টর মীমাংসা করেন। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা চুরি, চাকু, চাপাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে পারভেজ ও তার বন্ধুদের উপর হামলা করে। এতে পারভেজ মারাত্মক আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
৩৮৮ দিন আগে
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি
জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা, গুম, নিপীড়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার (১২ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০০৯ সালে ৬ জানুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা, গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন নিপীড়নমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
‘তাদের বিরুদ্ধে গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে গুম-খুন, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, গণহত্যা, বেআইনি আটক, অমানবিক নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কার্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।’
এসব অভিযোগ দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে প্রজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও দলটির সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের ফৌজদারি আদালতে বহুসংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: র্যাব হবে পুনর্গঠন, পুলিশের হাতে থাকবে না মারণাস্ত্র: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
‘এ সব মামলার বিচারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বাংলাদেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, উসকানিমূলক মিছিল আয়োজন, রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেট বিতরণ এবং ভিনদেশে পলাতক তাদের নেত্রীসহ অন্য নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধমূলক বক্তব্য দেওয়া, ব্যক্তি ও প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের চেষ্টাসহ আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়েছে।’
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু এসব কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। দলটি ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মনে ভীতির সঞ্চার করা হয়েছে ও এভাবে বিচার বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।’
‘এছাড়া, সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ জনমনে ভীতি ছড়াতে সন্ত্রাসী সংগঠনের মতো বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে,’ বলা হয় প্রজ্ঞাপনে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারি গেজেটের অপেক্ষায় ইসি: সিইসি
‘সরকার যুক্তিসঙ্গততভাবে মনে করে, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না-হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সমীচীন।’
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সে কারণে তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিকমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা করা হয়েছে। শনিবার আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
৩৮৮ দিন আগে
র্যাব হবে পুনর্গঠন, পুলিশের হাতে থাকবে না মারণাস্ত্র: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির নবম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এমন তথ্য জানিয়েছেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘র্যাব পুনর্গঠন করা হবে। র্যাব পুনর্গঠনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
পুলিশের হাতে কোনো মারণাস্ত্র থাকবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা ঈদের আগে পরিশোধ করতে হবে। তবে তাদের অবৈধ দাবি বরদাশত করা হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আরও পড়ুন: প্রয়োজনে র্যাব নতুন করে গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘গরুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রতি হাটে ১০০ আনসার সদস্য রাখতে হবে। যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে যেতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় যেন চাঁদাবাজি না হয়।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) এক প্রতিবেদনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে সরকার এই এলিট বাহিনীকে ‘নতুন করে গঠনের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশে জুলাই-অগাস্টের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওএইচসিএইচআর।
সেখানে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কেবল সীমান্তরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরকে কেবল সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়।
প্রতিবেদনে র্যাব সম্পর্কে বলা হয়, ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে বিলুপ্ত করুন এবং গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নয় এমন কর্মীদের স্ব স্ব ইউনিটে ফিরিয়ে দিন।’
পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ওএইচসিএইচআরের ওই সুপারিশকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এটা ওয়েলকাম করা হয়েছে। তারা একটা ভালো কাজ করেছে। তারপরে আমরা বসে একটা ডিসিশন নিব।’
৩৮৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচ অভিযোগ
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
সেখানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
সোমবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।’
‘অভিযোগপত্রে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাকিগুলো আপাতত সবার জন্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।’
‘প্রথম অভিযোগটি হচ্ছে—শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে রাজাকারের নাতিপুতি বলে উল্লেখ করেছিলেন। এটা বলার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এরপর তারা মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো করে। এই উসকানির দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ উঠে এসেছে।’
আরও পড়ুন: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ২৫ মে
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে সরাসরি নির্দেশ। তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার অনেকগুলো টেলিফোন কনভারসেশন জব্দ করেছে। সেখানে তিনি বারবার সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, হেলিকপ্টার, ড্রোন, এপিসিসহ মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র নিরীহ আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশনা দেন।’
সরাসরি সেই নির্দেশের প্রমাণপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা হাতে পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এই দ্বিতীয় অভিযোগটি দাখিল করেছে বলেও জানান তাজুল ইসলাম।
৩৮৮ দিন আগে
হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ২৫ মে
প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ মে) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল।
তবে এদিন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন এদিন ধার্য করেন। দুদকের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ১৫ এপ্রিল ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ চার্জশিটভুক্ত ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালত।
আরও পড়ুন: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পরে ওইদিন প্রতিবেদন দাখিল না করায় ১২ মে দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে এ বছরের ১৪ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন।
মামলাটি তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আরও চারজনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া।
শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলায় অপর ১১ আসামি হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য শফি উল হক, খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপ- পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
অপর মামলা সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ১৪ জানুয়ারি সজিব ওয়াজেদ জয় ও তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারি পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন
মামলাটি তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আরও দুইজনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান।
শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়াও এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত অপর ১৫ আসামি হলেন— জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন,সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার,রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারি পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ- পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সদস্য মো. নুরুল ইসলাম,তদন্ত প্রাপ্তে আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
৩৮৮ দিন আগে
রাজধানীতে অহেতুক সড়ক অবরোধ না করতে ডিএমপির অনুরোধ
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদের নামে অহেতুক রাস্তা অবরোধের ঘটনা বাড়ছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। এ অবস্থায় সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (১২ মে) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অকারণে রাস্তা অবরোধের কারণে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অফিসগামী যাত্রীরা নানা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদেশগামী যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগী পরিবহনে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক ব্যাঘাত।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা: নাগরিকদের চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা
এতে আরও বলা হয়, যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ প্রাণান্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তথাপি, কারণে-অকারণে রাস্তা অবরোধ করলে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
এ পরিস্থিতিতে নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের অহেতুক সড়ক অবরোধ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তালেবুর রহমান।
৩৮৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আজ
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। সোমবার (১২ মে) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে তদন্ত সংস্থা।
আজ (সোমবার) দুপুর ১টা নাগাদ এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এই তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার ঘটনায় নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এর আগে শুক্রবার (৯ মে) এক ফেসবুক পোস্টে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সোমবার তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রথমে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর চিফ প্রসিকিউটর সেই তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
শুক্রবার তাজুল ইসলাম পোস্টে লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার তদন্ত রিপোর্ট সোমবার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দাখিল করবে বলে আশা করছি। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হওয়ার পর ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিলের মাধ্যমে হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে।’
গত বছর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলাটি (মিস কেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এ মামলায় পরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও (গণ–অভ্যুত্থানের সময় আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন) আসামি করা হয়।
এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় এ পর্যন্ত তিনবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। অবশ্য এর আগেই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান ট্রাইব্যুনাল ।
এ মামলা ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগ শাসনামলের সাড়ে ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপর মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলও চলতি সপ্তাহে
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে রাজধানীর চানখাঁরপুলে গুলি করে হত্যা করা হয় ছয়জনকে। গণহত্যার এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করে ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ২১ এপ্রিল এই প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেন তারা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় এটিই ছিল তদন্ত সংস্থার প্রথম কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন: হেলিকপ্টার দিয়ে ছাত্রজনতার ওপর গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা: এ্যানি
তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে জমা দিতে চার সপ্তাহ সময় নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করার কথা রয়েছে। অবশ্য তার আগেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা যাবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের দায়ে সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। ওই হত্যকাণ্ডের দায়ে আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য ফরমাল চার্জ চলতি সপ্তাহেই দাখিল করা হবে এবং এর মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।’
৩৮৯ দিন আগে