আইনশৃঙ্খলা
যশোরে আ.লীগ নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি অভিযান
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারসহ শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কাউকে অবশ্য আটক বা কিছু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশের দাবি, দলীয় পরিচয়ে কোনো নেতার বাড়িতে অভিযানে যায়নি তারা। বিভিন্ন মামলার আসামি ধরাসহ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অপহৃত চবি শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে যৌথ অভিযান চলছে
এদিকে, দিনদুপুরে পুলিশি বহর নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে অবস্থান ও অভিযানের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। অভিযানের চলাকালে অনেক বাড়ির সামনে উৎসুক জনতাকে ভিড় করতেও দেখা যায়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথমে তারা যায় শহরের কাঁঠালতলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের বাড়িতে। যদিও ওই বাড়িটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন বিক্ষুব্ধ জনতা পুড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে শাহীন চাকলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িটিতে আর দেখা যায়নি। বাড়িটির সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে চলে যায়।
এরপর যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনের বাসায় যায় পুলিশের দলটি। সেখান থেকে শহরের কদমতলায় অবস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েলের বাড়িতে যায়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসে।
এ বিষয়ে জুয়েলের ভাবী জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ‘বাসায় পুলিশ এসে জুয়েলের খোঁজ নেয়। আমরা বলি, সে অনেক আগে থেকেই বাড়িতে নেই। তারপর পুলিশ চলে যায়।’
এরপর কাজীপাড়ায় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুজ্জামান পিকুল ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানেও কাউকে আটক বা কিছু উদ্ধার করতে পারেনি তারা।
যশোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হক ইউএনবিকে বলেন, ‘দলীয় পরিচয়ে কারও বাড়িতে অভিযান চালানো হয়নি। বিভিন্ন মামলার আসামি আটক করতে অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, বিভিন্ন মামলার আসামি ও নানা অভিযোগে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: মাজারে প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান, রুখে দিলেন ভক্তরা
তিনি বলেন, ‘শুধু আওয়ামী ঘরানার লোকজনের বাড়িতে অভিযান চলছে—এমনটি নয়। চলমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটগুলোর দিকেও নজরদারি রয়েছে পুলিশের। সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদে বিরুদ্ধে এ অভিযান চলছে।’
তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, যশোরসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করছেন। গতকাল (শনিবার) ঝটিকা মিছিল বন্ধ করতে না পারলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তারই অংশ হিসেবে (আওয়ামী লীগের) নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পুলিশের এই অভিযান।
৩২০ দিন আগে
ইনুকে ডান্ডাবেড়ি পরানোয় পুলিশকে হুমকি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডান্ডাবেড়ি পরানোয় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান এবং হাসানুল হক ইনু। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু পুলিশ সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তোদের চৌদ্দগোষ্ঠী খেয়ে ফেলবো।’
রবিবার (২০ এপ্রিল) সকালে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, যদি কোনও আসামি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। আর পুলিশও যাতে বাড়াবাড়ি না করে, সেদিক খেয়াল রাখতে বলেছেন।
পরে শুনানি শেষে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুটি মামলার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রবিবার এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দুটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। অপর মামলায় শেখ হাসিনার সাথে আসামি সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ৪৬ জন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, আমলা। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রবিবার এসব মামলার মোট ১৭ আসামিকে গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন: যুবদল নেতাকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে চিকিৎসা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুক খান, দীপু মনি, গোলাম দস্তগীর গাজী, শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ, কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান মোহাম্মদ সেলিম, সাবেক সচিব জাহাংগীর আলম ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হ্যান্ডকাফ পরানো নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান সাবেক দুই মন্ত্রী। এরপর বিচারকাজ শুরুর আগে, ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার সময় শাহজাহান খান তার হাতে হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে। এটা আমার জন্য অমর্যাদাকর। তার আইনজীবীও এই বিষয়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন। এসময় ট্রাইব্যুনালের বিচারক ‘কী হয়েছে’ তা জানতে পুলিশ সদস্যদের ডেকে পাঠান।
পুলিশ সদস্য নুরুন্নবী ট্রাইব্যুনালকে জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের এভাবে হাজির করা হয়। তখন আরেক পুলিশ সদস্য শহীদুল বলেন, প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় তাদের রাজাকারের বাচ্চা বলা হয় এবং বলা হয় তোদের দেখে নেবো।
শহীদুল বলেন আরও বলেন, হাসানুল হক ইনু পুলিশ সদস্যদের বলেন ‘তোদের চৌদ্দগোষ্ঠী খেয়ে ফেলবো’। হাজতখানায় এসে মিটিং করে ফের পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেয়। কাঠগড়ায় থাকা হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম বলেন, না না তারা এসব বলেনি। সব মিথ্যে কথা। এর জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, যদি কোনও আসামি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। আর পুলিশও যাতে বাড়াবাড়ি না করে সেদিক খেয়াল রাখতে হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গত ১৭ অক্টোবর এই দুই মামলার প্রথম শুনানি হয়। সেখানে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ এই ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তারপরও শেখ হাসিনার মামলায় আরও একজনকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে এই দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় তিনবার বাড়ানো হলো।
শুনানি শেষে চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার শুনানি হয়। প্রথম মামলাটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের। এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জন আসামি রয়েছেন, যারা এই অপরাধের নির্দেশদাতা ছিলেন। মামলার ১৭ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আমরা আদালতে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছি এবং দুই মাসের সময় চেয়েছি। আদালত আমাদের দুই মাস সময় দিয়েছেন।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি মামলার শুনানি হয়। জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সম্পৃক্ততার বিষয়ে যে মামলাটি রয়েছে সেটির বিষয়ে আমরা আদালতকে জানিয়েছি, আমাদের তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে। তারপরও আমরা সত্যতার জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় যে মামলাটির শুনানি হয়, সেটি হলো গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ক্রসফায়ার নিয়ে। এই মামলাটিতে আমরা ১১ জনের বিরুদ্ধে শুরু করেছিলাম। মামলায় মাত্র একজন গ্রেপ্তার আছেন, তিনি হলেন সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসান। শতশত গুমের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও আমরা আদালতের কাছে তিন মাস সময় চেয়েছিলাম, আদালত সেটি মঞ্জুর করেছেন। এই সময়ের মধ্যে গুমের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত-প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সাধারণত জঘন্য অপরাধে আসামিদের ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়: হাইকোর্ট
এদিকে আদালতে আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খানকে হাতকড়া পরিয়ে তোলার সময় ওই নেতা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চীফ প্রসিকিউটর বলেন, আসলে এ বিষয়টি আমাদের এখতিয়ার না। আদালতে আসামিকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে তোলা হবে কি না; সেটা জেল অথরিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আসামিকে যদি কন্ট্রোল করতে না পারা যায় এবং তার পক্ষ থেকে যদি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে তাহলে তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বা আরও জটিল কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করে আদালতে তুলতে পারে জেল কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যরা আদালতকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে হাসানুল হক ইনু, শাজাহান খান ও জিয়াউল হাসান তাদের নির্বংশ করার হুমকি দিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেছেন। এছাড়া এদের মধ্যে একজন তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হেলমেটও ছুড়ে মেরেছেন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করে তাদের হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আদালতে তুলেছে। তারা সেটা আদালতকে জানিয়েছে।
৩২০ দিন আগে
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ও রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন—ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সাব্বির আহমদ নির্ঝর (২৮), মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক কামরুল আহসান নিশাদ (২৮), শাহবাগ থানার ২০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ওরফে কালু (২৫), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল হোসেন ওরফে জীবন (৩০), মোহাম্মদপুর থানার ২৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওহিদ এম আর রহমান (৫০), আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শামীম শাহরিয়ার (৫৮), ডেমরা থানার পাইটি ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন (৬৪), ৩৩ নং বংশাল ইউনিট যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন মাছুম (৫৮), ঢাকা মহানগর উত্তর ২৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল হাসান রতন (৩৪) ও উত্তর বাড্ডা এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী রবিন দেওয়ান (২৯)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টায় উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে রবিন দেওয়ানকে ও দুপুর ১টায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে সাব্বির আহমদ নির্ঝরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দুপুর ১২টায় ফুলবাড়িয়ার আনন্দ বাজার থেকে ইব্রাহিম খলিল ওরফে কালুকে এবং সন্ধ্যা ৬টায় উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে কামরুল আহসান নিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল
একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে শাকিল হোসেন ওরফে জীবনকে এবং রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ওহিদ এম আর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে বংশাল এলাকা থেকে মোহাম্মদ হোসেন মাছুমকে এবং রাত ১টায় মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল হাসান রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, শনিবার রাত পৌনে ১২টায় মগবাজার এলাকা থেকে শামীম শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ১১টা ৫০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগে উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে দাবি করেছে। তারা নানাভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
৩২০ দিন আগে
হাতিরঝিলে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর হাতিরঝিলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে হাতিরঝিলের মোড়ল গলি এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
ভুক্তভোগী আরিফ সরদার (৩৫) যুবদলের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
ভুক্তভোগীর বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার হোগলা বালিকান্দি গ্রামে। বর্তমানে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।
হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান চালককে গুলি করে হত্যা
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি তার মুখ দিয়ে ঢুকে কপাল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানায়, আরিফ একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন।
হামলার উদ্দেশ্য ও হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
৩২০ দিন আগে
বনানীতে প্রাইম এশিয়া ভার্সিটিতে সংঘর্ষে শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। জাহিদুল ইসলাম পারভেজ নামের ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২৩ ব্যাচের ছাত্র। ২৩ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থীর বাড়ি ময়মনসিংহে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৪টার পর এই ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার বলেন, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে মীমাংসাও হয়ে যায়।
‘এসময় হঠাৎ করেই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করেন। তৎক্ষণাত তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন,’ যোগ করেন তিনি।
নিহত শিক্ষার্থীর লাশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। ঘটনা সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান ওসি রাসেল।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পেটে হাত রাখা অবস্থায় পারভেজকে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তার আশপাশে কয়েকজন উদ্বিগ্ন অবস্থায় তার সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পথেই তার আর সাড়া পাচ্ছিলেন না শিক্ষার্থীরা। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোশাররফ হোসেন বলেন, এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
টেক্সটাইল বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, শনিবার বিকালে ক্যাম্পাসের কাছে একটি দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় ‘নারীঘটিত’ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিভাগের এক জুনিয়রের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান পারভেজ। এরপর প্রক্টর অফিস দুই পক্ষকে ডেকে কথাও বলে। ওখান থেকে বের হওয়ার পর ‘বহিরাগত’ ২৫-৩০ জন এসে পারভেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিড়িতে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
৩২১ দিন আগে
গৃহবধূকে ধর্ষণের পর চুল কেটে দেওয়া মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২২ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে শিকল দিয়ে হাত–পা বেঁধে ধর্ষণের পর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে হওয়া মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতনের পর তার ঘরে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এমনকি পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা ঘরের জামাকাপড়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ডিবি পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণের দোকানে চাঁদাবাজি, আটক ২
এদিকে এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইমাম হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। এরপর শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ২২ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তিন ব্যক্তি। এরপর তারা এই নৃশংস ঘটনা ঘটান।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহারে গৃহবধূ উল্লেখ করেন, তার স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ শাশুড়ি (৭০) ও মেয়েকে (২) নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তাদের সঙ্গে আসামি ইমাম হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসছে।
ইমামসহ তার লোকজন নিয়ে ওই গৃহবধূ ও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। তিনি আগেও বেশ কয়েকবার তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা দুজনসহ দেশীয় অস্ত্র, লোহার শেকল, তালা–চাবিসহ তাদের বসতঘরের দরজা ভেঙে গৃহবধূর কক্ষে ঢুকে পড়েন ইমাম। এ সময় আসামি গৃহবধূর মেয়ের মুখে তার জামা ঢুকিয়ে দেন এবং অপর আসামিদের সহযোগিতায় ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর লোহার শেকল দিয়ে গৃহবধূর হাত–পা বেঁধে তালা মেরে তারা দুষ্কর্ম করেন। ঘটনার সময় ইমাম হোসেন বারবার জাহিদুল্লাহর নাম উচ্চারণ করেন। পরে তার অসুস্থ শাশুড়ি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তারা পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পর মুখে অ্যাসিড: অপরাধীদের সবাই কিশোর
এ বিষয়ে ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমি বারবার তাদের কাছে মিনতি করেছি, আমার ক্ষতি না করার জন্য। কিন্তু তারা আমার কোনো কথাই না শুনে একের পর এক অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে গেছে। আমি এই লম্পটদের বিচারসহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এরপর শুক্রবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
‘আমামিকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছ।’
৩২১ দিন আগে
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণের দোকানে চাঁদাবাজি, আটক ২
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি স্বর্ণের দোকানে চাঁদাবাজি করার সময় দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পাঁচবিবি উপজেলার চাঁনপাড়া বাজারের এই ঘটনা ঘটেছে।
তারা হলেন—নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুরের তৈয়ব আলীর ছেলে সাগর আহমেদ (৩৩) এবং সদর উপজেলার জগত সিংহপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ইমরান হোসেন (৩১)।
আরও পড়ুন: গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে ৩ লেমুর চুরি, গ্রেপ্তার ১
দোকানমালিক তাপস চন্দ্র বলেন, ‘আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদা পোশাকে দুজন মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে নামেন। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দোকানে ঢুকে অবৈধ মালামাল আছে বলে অভিযোগ করে আমার সঙ্গে আলাদাভাবে গোপনে কথা বলতে চান। এ সময় তার টাকাও দাবি করেন। ওই সময় আমার দোকানে স্থানীয় আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহ আলম বসে ছিলেন। তাদের আচরণে সন্দেহ হলে তিনি তাদের ডিবি পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ পাঁচবিবি থানাকে অবগত করা হয়। পরে পুলিশ দ্রুত ওই দোকানে এসে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায়।’
৩২১ দিন আগে
চাঁদপুর জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৩
নাশকতার মামলায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ ছাড়াও যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হজু ব্যাপারী ও যুগ্ম সম্পাদক রাসেল গাজী।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ইউএনবিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজী ও হজু বেপারীর বিরুদ্ধে থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে। তবে রাসেল গাজী গ্রেপ্তার হয়েছে মাদক মামলায়। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে ৩ লেমুর চুরি, গ্রেপ্তার ১
চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ইউসুফ গাজীকে শনিবার ভোরে শহরের মুখার্জিঘাটের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়া একই রাতে গ্রেপ্তার হন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হজু ব্যাপারী ও যুগ্ম সম্পাদক রাসেল গাজী।’
৩২১ দিন আগে
স্ত্রীকে খুন করে স্বামীর আত্মহত্যা
নরসিংদীর মাধাবদীতে স্ত্রী মানসুরাকে (২৫) শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী রাজু মিয়া (৩৮) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে বাবুরহাট বাজারের ধুমকেতু সংঘ মাঠ-সংলগ্ন একটি ভবনের কার্নিশ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্বামী রাজু মিয়ার লাশ।
এর আগে, নিজ ঘর থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মানসুরার লাশ উদ্ধার করে মাধবদী থানা পুলিশ। পরে লাশদুটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
রাজু মিয়া বালুসাইর গ্রামের আলী আহম্মেদের ছেলে এবং মানসুরা বেগম একই গ্রামের আব্দুল আলীর মেয়ে। দীর্ঘ ১৫ বছর সংসারে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পর মুখে অ্যাসিড: অপরাধীদের সবাই কিশোর
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানসুরা-রাজু দম্পত্তির পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কলহের জের ধরেই গতকাল (শুক্রবার) মানসুরা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পালিয়ে যান রাজু। পরে শনিবার সকালে উদ্ধার করা হয় তার লাশ।
পুলিশের ধারণা, স্ত্রীকে হত্যা করে শোক সইতে না পেরে রাজু নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’
৩২১ দিন আগে
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পর মুখে অ্যাসিড: অপরাধীদের সবাই কিশোর
নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা করে অ্যাসিডে মুখ ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় ৫ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।
তিনি জানান, অপরাধীদের ধরতে নাটোর জেলা পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা দল মাঠে ছিল। তারা অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার পাঁচ কিশোরের মধ্যে চারজনের বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলার গারফা ও আশপাশের গ্রামে। আরেকজনের বাড়ি চাটমোহরের রামপুর।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে শিকার করেছে। নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের কেউই প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাদের পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তাদের মধ্যে স্কুল ও মাদরাসার ছাত্র রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) শিশুটি বেড়াতে বের হয়। পাশেই দাদিবাড়ি গিয়ে তার সেমাই খাওয়ার কথা ছিল বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বিকাল হয়ে গেলেও দুই বাড়ির কোথাও সে না গেলে স্বজনরা খোঁজাখুজি শুরু করেন। তবে কাল তাকে খুঁজে পায়নি কেউ। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে চাটমোহর উপজেলার কাটাখালী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের একটি ভুট্টাখেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে তারা শিশুটির পরিবারে খবর দেন, এরপর পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে নাটোর ও পাবনা জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় শিশুটির মুখমণ্ডল অ্যাসিডে ঝলসানো এবং শরীর বিবস্ত্র ছিল। পরে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে লাশটি পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সেদিন প্রতক্ষ্যদর্শী ও শিশুটির প্রতিবেশী এমদাদুল হক বলেন, এলাকার কৃষকরা খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রথম তার লাশ দেখতে পায়। পরে পরিবারে খবর দিলে আমরা সেখানে যাই। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ভুট্টাখেতে শিশুর ঝলসানো বিবস্ত্র লাশ, ধর্ষণ সন্দেহ পুলিশের
তিনি বলেন, তার মুখের পুরোটাই পোড়া ছিল। গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। আমাদেরও ধারণা, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে পাষণ্ড দুর্বৃত্তরা। লাশের মুখ যাতে চেনা না যায়, তার জন্য অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে নিজের ধারণার কথা জানান বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহনাজ পারভীনও।
লাশ উদ্ধারের পর থেকেই অপরাধীদের শনাক্ত ও ধরতে পুলিশের গোয়েন্দা দল মাঠে নেমেছে বলে জানিয়েছিলেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
সেদিন তিনি জানান, শিশুটির বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলায় (নাটোর) হলেও লাশটি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাবনার চাটমোহর এলাকায় পাওয়া গেছে। ফলে সংঘটিত অপরাধটির মামলা চাটমোহর থানায় লিপিবদ্ধ হবে। তবে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।
৩২১ দিন আগে