আইনশৃঙ্খলা
ভারতে ৫ বছর সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী
ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে পাঁচ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি ৬ নারী।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।
এরা হলেন— আনজু খাতুন (৩০), রাশেদা বেগম (৪৮), ইয়াসমিন খাতুন (২৬), রোজিনা পারভিন, (২৭), তাসলিমা (৩৫), শারমিন আক্তার (৩০)। তারা যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরার বাসিন্দা।
ফেরত আসা তাসলিমা খাতুন বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালচক্রের মাধ্যমে তারা ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর সীমান্তপথ দিয়ে ভারতের গুজরাট গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা-বাড়িতে কাজ করার সময় ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে সেদেশের আদালত তাদের পাঁচ বছর সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
তিনি বলেন, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় তারা দেশে ফিরেছেন।
আরও পড়ুন: তামাবিল দিয়ে ১৪ বাংলাদেশিকে ফেরত দিলো ভারত
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আহম্মেদ বলন, ‘ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৬ বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।’
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সিনিয়র প্রোগ্রামার অফিসার মুহিত হোসেন বলেন, ‘ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
৩৩১ দিন আগে
বাসে শাবিপ্রবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে সুপারভাইজার আটক
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগে সিলেটগামী প্যারাডাইস এক্সপ্রেস বাসের সুপারভাইজারকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর হুমায়ুন রশিদ চত্বরে বাসটিকে থামিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত মাইন উদ্দিন (২১) নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্যারাডাইস এক্সপ্রেস বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্যারাডাইস এক্সপ্রেসের স্লিপার কোচ বাসে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন শাবিপ্রবির এক ছাত্রী। পথে সুপারভাইজার মাইন উদ্দিনের হেনস্তার শিকার হন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শাবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষার্থী সিলেটের হুমায়ুন রশীদ চত্বরে গিয়ে বাস থামিয়ে সুপারভাইজারকে আটক করেন।
পরে হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থীর বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তার ঘটনায় কুমিল্লায় আটক ৫
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আজিজুল বাতেন বলেন, ‘শিক্ষার্থী হেনস্তার খবর পেয়ে বিভাগের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।’
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন শিকদার বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে থানায় মামলা করবে।’
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
৩৩১ দিন আগে
হবিগঞ্জে হত্যা মামলায় ১৬ বছর পর ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
হবিগঞ্জে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে দিনমজুর ছাবু মিয়াকে হত্যার ঘটনায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ এ কে এম কামাল উদ্দিন এই দণ্ড দেন। ১৬ বছর পর এই হত্যাকাণ্ডের রায় দেন আদালত।
আসামিরা হলেন— মাধবপুর উপজেলার বার চান্দুরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এমরান মিয়া, মারাজ মিয়ার ছেলে সোলেমান, মৃত হরমুজ আলীর ছেলে জাহেদ মিয়া ও মুরাদপুর গ্রামের মৌলা মিয়া ছেলে আবুল। তারা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সাজা দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি মারাজ মিয়ার মৃত্যু হওয়ায় অব্যাহতি পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: কিশোরীকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা, নানা-নানীকে কুপিয়ে জখম
আদালত সূত্র জানায়, মাধবপুরের বার চান্দুরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে দিনমজুর ছাবু মিয়াকে ২০০৯ সালের ১৩ এপ্রিল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে আসামিরা খুন করেন। এরপর গ্রামের একটি জঙ্গলে লাশ ফেলে রাখে। পরদিন তার স্বজনরা লাশ খুঁজে পায়। এ ব্যাপারে ছাবু মিয়ার ভাই হাফিজ মিয়া ৩ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন।
মাধবপুর থানার এসআই আলমগীর তদন্ত শেষে ওই বছরের ২১ মে তারিখে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ১৩ জনের সাক্ষী শেষে বিচারকিআজ (বুধবার) রায় দেন।
৩৩১ দিন আগে
ব্যাংক বুথের নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার ঘটনায় আব্দুল মতিন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. কাইউম খান বলেন, ‘১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল মতিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকার মৃত হাসমত উল্লাহর ছেলে। তিনি ভূঁইগড়ের আনোয়ার বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সেই সঙ্গে নিহত আলী হোসেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে। তিনি ফতুল্লার ভূঁইগড় বাজারের ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।’
আরও পড়ুন: নৌকায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, ‘২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আলী হোসেন বুথে ডিউটিকালীন সময়ে আব্দুল মতিন তার মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর আলী হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। সেই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেছন।’
৩৩১ দিন আগে
নড়াইলে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
নড়াইলের নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের আইচপাড়া গ্রামের আব্দুল আহাদ মল্লিক হত্যা মামলায় ইলিয়াস সরদার নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শারমিন নিগার এ রায় দিয়েছেন।
নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত ইলিয়াস সরদার খুলনা জেলার তেরখাদা থানার পারখালি গ্রামের সবুর সরদার এর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে ২০১২ সালের ১৭ আগস্ট রাতে কালিয়া উপজেলার বড়নাল মাদরাসার কাছে এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা নড়াগাতি থানার আইচপাড়া গ্রামের আব্দুল আহাদ মল্লিককে কুপিয়ে জখম করে। এ নিয়ে মামলার পর আসামিদের জেল-জরিমানা হয়। এ ঘটনায় বিগত ২০১৮ সালের ৪ জুলাই আপিল করে জামিনে বাড়িতে আসে আসামিরা। পরে এদিন রাতে ইলিয়াছ সরদার আব্দুল আহাদ মল্লিককে ফোন করে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে কথা বলার জন্য বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। এরপরে তিনি বাড়িতে না ফিরলে পরেরদিন ৫ জুলাই সকালে গ্রামের একটি পাটখেতে স্বজনরা ও থানা পুলিশ তার লাশ শনাক্ত করেন।
আরও পড়ুন: নৌকায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
এসময় লাশটির শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ও গলায় রশি পেচানো অবস্থায় দেখা যায়।
এ ঘটনার দুইদিন পর ৭ জুলাই নিহতের ভাই আবুল বাসার মল্লিক বাদী হয়ে আইচপাড়া গ্রামের জুয়েল মল্লিক, সোহেল মল্লিক, সাজেল মল্লিক, টুয়েল মল্লিক ও পাশ্ববর্তী খুলনা জেলার তেরখাদা থানার পারখালি গ্রামের ইলিয়াস সরদারসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ ও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার আদালত ইলিয়াছ সরকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। বাকি আসামিদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন।
৩৩১ দিন আগে
নৌকায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে নৌকায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. সাদিকুল ইসলাম কনক (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসি ঘাট এলাকায় যমুনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ কলেজছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় ও ধর্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।
মো. সাদিকুল ইসলাম কনক বোয়ালী খেয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস আলী ছেলে।
ফুলছড়ি থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কিছুদিন আগে ফেসবুকে সাদিকুল ইসলাম কনকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর পরিচয় হয়। ধর্ষিতার অভিযোগ, কনক তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বালাসি ঘাটে ডেকে নিয়ে যান। পরে সুযোগ বুঝে তাকে নৌকায় ঘুরতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে সে তাকে ফেলে পালিয়ে যেতে থাকলে ঘটনাটি বুঝতে পারে ও তাকে জাপটে ধরে চিৎকার করলে লোকজন এসে গণপিটুনির পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় ধর্ষণচেষ্টায় প্রেমিকের বন্ধুকে ব্লেড দিয়ে আঘাত তরুণীর
এদিকে স্থানীয়রা জানান, নৌকা তীরে ভিরলে ধর্ষক সাদিকুল পালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় কলেজছাত্রী ধর্ষকের কলার চেপে ধরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা সাদিকুল ইসলাম কনক (২৫) নামে এক যুবককে ধরে ফেলে। মেয়েটির মুখে ধর্ষণের কথা জানতে পেরে বালাসীঘাটে অবস্থানরত জনগণ ধর্ষককে গণপিটুনি দেয়। তারা ধর্ষক সাদিকুলের দুই পা পিটিয়ে ভেঙ্গে দেয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফুলছড়ি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ধর্ষিতার মা মিরা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ধর্ষক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
৩৩১ দিন আগে
আমু-সালমান-দীপু মনি-শমী কায়সারসহ ১০ জন নতুন মামলায় গ্রেফতার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানার পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অভিনেত্রী শমী কায়সারসহ ১০ জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
গ্রেফতার হওয়া অপর আসামিরা হলেন- ওয়ার্কাস পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাদেক খান, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সাবেক দুই আইজিপি শহীদুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিন সকাল ৯টায় তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় হাজির করে পুলিশ। এরপর ১০টা ১৫ মিনিটে তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন: খুলনায় বাটা-ডমিনোস-কেএফসিতে হামলা, ২৯০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাজী সেলিম তার আইনজীবীর ওপর রেগে যান।
ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতেও অস্বীকৃতি জানান। পরে আইনজীবী তাকে বোঝালে তিনি স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে তার আইনজীবী প্রাণ নাথ বলেন, আমার মক্কেল কথা বলতে পারেন না। কারাগারে খাবার খেতে পারেন না। কাউকে কোনো কিছু বোঝাতে পারেন না।
এই অভিমানে আমার ওপর রেগে গিয়েছিলেন। এজন্য তিনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে চাইছিলেন না। কিছুক্ষণ বোঝানোর পর তিনি স্বাক্ষর করেন। তাকে বলেছি, সিস্টেমের বাইরে তো কিছু করতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, আমার মক্কেলকে ১৯ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এখনো ১০ দিনের রিমান্ড চলমান রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় আমির হোসেন আমু, সালমান এফ রহমান, ডা. দীপু মনি, শহীদুল হক, হাজী সেলিম, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার দেখায় আদালত।
এছাড়া শাহবাগ থানার মনির হোসেন হত্যা মামলায় রাশেদ খান মেনন, ভাটারা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব, মোহাম্মদপুর থানার মামলায় সাদেক খান, উত্তরা পূর্ব থানার জুবায়ের ইউসুফ হত্যাচেষ্টা মামলায় শমী কায়সারকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সালমান এফ রহমানসহ ৬ জনকে গ্রেফতার দেখানোর মামলায় জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ২১ জুলাই দুপুর আড়াইটায় যাত্রাবাড়ী থানাধীন ফুটওভার ব্রিজ নিচে ছাত্রজনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন সাজেদুর রহমান ওমর।
পরে বিকেলে আসামিদের আক্রমণে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট মারা যান। এ ঘটনায় এ বছরের ৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
শমী কায়সারকে গ্রেফকার দেখানো মামলায় জানা গেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট টঙ্গী সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান ইউসুফ আন্দোলনে অংশ নেন।
এদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিছিলটি উত্তরা পূর্ব থানাধীন আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে আসামিদের ছোঁড়া গুলি তার বাম কাঁধে লাগলে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হন তিনি।
পরে গত ২২ আগস্ট ১১ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী জুবায়ের হাসান ইউসুফ।
৩৩১ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ১৫ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
একই সঙ্গে এ মামলায় সাবেক এসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সকালে এই চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদের অসুস্থ বাবাকে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
পরে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। এ হত্যা মামলায় আটক চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত শেষ করতে আরও দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে তদন্ত সংস্থাকে।
এর আগে আজ সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ২ মার্চ আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় চারজনকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়ে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। আর বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা এমরান চৌধুরী আকাশসহ আরও অনেকে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা ওই আসামিদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন জানার প্রসিকিউশন।
৩৩১ দিন আগে
ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ৪ দিনের রিমান্ডে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল জব্বার নামে এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া। অপরদিকে আসামিপক্ষে তুরিন আফরোজ নিজেই আদালতে বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে তুরিনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।
আদালতে উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ৭ এপ্রিল তুরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট আব্দুল জব্বার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: ফের রিমান্ডে ইনু-মেনন-আনিসুল ও দীপু মনি
এর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা নেন।
গত ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলাটি করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রসিকিউটরের দায়িত্বে ছিলেন তুরিন আফরোজ।
৩৩২ দিন আগে
সাবেক এমপি ফজলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ফিরোজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে একদিনের (১৬ এপ্রিল) জিজ্ঞাসাবাদ এবং যুবলীগ কর্মী মো. ফিরোজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) এই আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ৯ জন শহীদ এবং ৪৫৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ মামলায় আরও অনেকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সবাইকে চিহ্নিত করার তৎপরতা চলমান আছে।‘
‘সে কারণে আদালত আরও তিন মাসের সময় দিয়েছেন এবং আগামী ৭ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: জামিন মেলেনি আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দিনের, কারাগারে প্রেরণ
তিন পুলিশ সদস্যকে হাজিরের নির্দেশ
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় আরও তিন পুলিশ সদস্যকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন— ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, বরখাস্ত ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী ও ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।
ট্রাইব্যুনালকে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই তিন আসামি অন্য মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার আছেন।’
৩৩২ দিন আগে