আইনশৃঙ্খলা
পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ছবি তোলায় যুবকের কারাদণ্ড, ছাত্রী বহিষ্কার
নরসিংদীর রায়পুরায় এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে রায়পুরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়াল টপকিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে মুঠোফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার অপরাধে ওবায়দুল্লাহ (১৯) নামে এক যুবককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে ফখরুল আলম আরমান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় নকল করার অপরাধে ইসরাত জাহান নামে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওই ছাত্রী আদিয়াবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাজিস্ট্রেট ও রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা।
তিনি বলেন, ‘গণিত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে রায়পুরা সরকারি কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল টপকিয়ে এক যুবক কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রশ্ন পত্রের ছবি তুলে তা বাহিরে প্রকাশ করতে যাচ্ছিল।’
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষককে কারাদণ্ড
‘এ সময় তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই যুবকের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই দিন ফখরুল আলম আরমান উচ্চ বিদ্যালয়ে নকল করার অপরাধে এক ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান সবসময় চলমান থাকবে।’
৪০৯ দিন আগে
এসএসসি পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষককে কারাদণ্ড
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার ডগ্রী ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্ত জুলহাস উদ্দিন পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুলের ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক জুলহাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে অশালীন আচরণের অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল অভিযুক্ত শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ডিসি হিলে বর্ষবরণের মঞ্চ ভাঙচুর, বাতিল অনুষ্ঠান
পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুলহাস উদ্দিনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।'
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বা হয়রানিকে বরদাশত করা হবে না।’
৪০৯ দিন আগে
খুলনায় আ. লীগের ঝটিকা মিছিল, তিন মামলায় গ্রেপ্তার ৪০
খুলনার বিভিন্ন স্থান থেকে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) নগরীর হরিণটানা, আড়ংঘাটা ও খালিশপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, ‘তিনটি থানাতেই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এদিকে মামলা করার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের অন্তত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
কেএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিছিলের ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে অংশগ্রহণকারী অন্যান্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাশার বলেন, ‘থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোনায়েম হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় আওয়ামী লীগের ৭৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হরিণটানা থানা পুলিশ এ পর্যন্ত এই মামলায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন: গুলশান থেকে সাবেক এমপি মনু গ্রেপ্তার
মামলার এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি কেএমপির মিডিয়া শাখা থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন।
আড়ংঘাটা থানাতেও একই ধরনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তকার অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেন হঠাৎ মিছিল করে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নগরীতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। জোরদার করা হয়েছে টহল।
৪০৯ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ আইনজীবী কারাগারে, ডিম নিক্ষেপ
কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট নগরীর পুলিশ লাইন্সে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলায় ৬ আইনজীবীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুবুর রহমান এই আদেশ দেন।
এরা হলেন— সাবেক পিপি কুমিল্লা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান লিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট জিয়াউল আহসান সোহাগ, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট এএমএম মইন।
এই ছয়জনের মধ্যে মামলার শুনানিতে চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুইজন অনুপস্থিত ছিলেন। মামলার আসামি মোট ২৪ জন আইনজীবী জামিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আদালতে অনুপস্থিত থাকা দুই আইনজীবী হলেন— জিয়াউল আহসান সোহাগ ও এএমএম মঈন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আরও পড়ুন: সাবেক ডেপুটি স্পিকার টুকুকে লক্ষ্য করে ডিম-জুতা নিক্ষেপ
এদিকে আইনজীবীদের আদালতে শুনানিতে হাজিরা নিয়ে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় সেনাবাহিনীসহ পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। আদালতের রায় শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় চার আইনজীবীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন কয়েকজন।
কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট নগরীর পুলিশ লাইন্সে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ইনজামুল হকের করা মামলায় ২৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ২৬ জন আইনজীবী।
৪০৯ দিন আগে
গুলশান থেকে সাবেক এমপি মনু গ্রেপ্তার
ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি তাকে গ্রেফতার করেছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। আজ বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: ফতুল্লায় আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মী আটক
কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ২০১৬ সাল থেকে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০০৩ সালে তিনি বৃহত্তর ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭৭ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ১ বার ও ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
২০২০ সালের ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা মারা গেলে শূন্য আসনে একই বছরের ১৭ অক্টোবর উপ-নির্বাচন তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
৪০৯ দিন আগে
ফতুল্লায় আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মী আটক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ বলছে, তারা গোপনে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আটকরা হলেন, যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন, মোল্লা জাফর, সোহাগ, উজ্জ্বল, শাহ আলম, তপন ও রাসেল। এদের মধ্যে কেউ কেউ রাজমিস্ত্রী ও অন্যান্য পেশার পরিচয় দিলেও পুলিশের দাবি। তারা রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে মিছিল আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের ‘বনদস্যু’ করিম বাহিনীর ২ সদস্য আটক, উদ্ধার দুই জেলে
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লা থানা পুলিশ শিবু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তারা রাজমিস্ত্রীসহ বিভিন্ন পেশার পরিচয় দিয়ে অবস্থান করছিলেন, তবে গোপনে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা মিছিল আয়োজন করছিলেন।’
আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৪০৯ দিন আগে
রাজধানীতে আ.লীগের আরও ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের আরও ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ছাত্রলীগের বংশাল থানা ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাপ্পি (৩০), আওয়ামী লীগের দক্ষিণ বাড্ডা বাজার ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. মহিবুর রহমান (৫০), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (৪৭), বংশাল থানা ৩২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু আহাম্মেদ (৫৫), ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক (৫৫), কলাবাগান থানা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন (৪৮), ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল শাখার নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক দীপম সাহা (২৬), ছাত্রলীগের ডেমরা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ইসমাইল হোসেন (৪২) ও ছাত্রলীগ কর্মী মুহতাসিন ফুয়াদ ওরফে পিয়াল।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা ১১ টার দিকে বাপ্পিকে নবাবপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-লালবাগ বিভাগের একটি টিম। একই দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বেরাইদ এলাকা থেকে মহিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-গুলশান বিভাগের একটি টিম ।
এছাড়া, রবিবার দুপুর ৩ টার দিকে রমনার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবনের সামনে থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের একটি টিম। ওইদিন রাত ১১ টার দিকে বংশাল এলাকা হতে বাবু আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-লালবাগ বিভাগের একটি টিম।
এদিন রাত ১০ টার দিকে মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল খালেককে এবং রাত সাড়ে এগারোটায় রাজধানীর হাতিরপুল থেকে কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-রমনা বিভাগের পৃথক দুইট টিম।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে কাজী ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-ওয়ারী বিভাগের একটি টিম। তিনি রবিবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানায় ডিএমপি।
ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে দীপম সাহাকে তেজগাঁও এলাকা থেকে এবং দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে আদাবরের একটি বাসা থেকে ছাত্রলীগ কর্মী মুহতাসিন ফুয়াদ ওরফে পিয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-সাইবারের পৃথক টিম।
আরও পড়ুন: খুলনায় আ.লীগের ২৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
তালেবুর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রুজুকৃত মামলার এজাহারনামায় থাকা আসামি। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নানাভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।’
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
৪০৯ দিন আগে
চানখারপুল গণহত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন
জুলাই-আগস্টে গণহত্যার প্রথম মামলা হিসেবে রাজধানীর পুরান ঢাকার চানখারপুলের ঘটনায় তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ আটজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
সোমবার (২১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১৯৫ দিনের মধ্যে এই তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তশেষে ৯০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এ মামলার আসামির হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা জোনের সাবেক এডিসি শাহ আলম, মো. ইমরুল সাবেক এসি রমজান ডিএমপি, আরশাদ হোসেন সাবেক পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন শাহবাগ থানা, কনস্টেবল সুজন, কনস্টেবল ইমাদ হোসেন এবং কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে: সাকি
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চানখারপুলে গত ৫ আগস্ট ৬ জন নিহত হন। সেই গণহত্যার তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে। রবিবার (২০ এপ্রিল) তদন্ত সংস্থা আমাদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যদিয়ে জুলাই আগস্টের গণহত্যার প্রথম কোনো ঘটনার তদন্তের কাজ শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ আটজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, যারা জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগে এবং যারা সরাসরি গুলি করেছেন বিভিন্ন ভিডিওয়ের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে এই আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পুলিশের আইজিপির সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে।
এ মামলার চারজন আসামি পলাতক রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৪০৯ দিন আগে
যশোরে আ.লীগ নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি অভিযান
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারসহ শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কাউকে অবশ্য আটক বা কিছু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশের দাবি, দলীয় পরিচয়ে কোনো নেতার বাড়িতে অভিযানে যায়নি তারা। বিভিন্ন মামলার আসামি ধরাসহ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অপহৃত চবি শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে যৌথ অভিযান চলছে
এদিকে, দিনদুপুরে পুলিশি বহর নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে অবস্থান ও অভিযানের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। অভিযানের চলাকালে অনেক বাড়ির সামনে উৎসুক জনতাকে ভিড় করতেও দেখা যায়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথমে তারা যায় শহরের কাঁঠালতলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের বাড়িতে। যদিও ওই বাড়িটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন বিক্ষুব্ধ জনতা পুড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে শাহীন চাকলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িটিতে আর দেখা যায়নি। বাড়িটির সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে চলে যায়।
এরপর যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনের বাসায় যায় পুলিশের দলটি। সেখান থেকে শহরের কদমতলায় অবস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েলের বাড়িতে যায়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসে।
এ বিষয়ে জুয়েলের ভাবী জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ‘বাসায় পুলিশ এসে জুয়েলের খোঁজ নেয়। আমরা বলি, সে অনেক আগে থেকেই বাড়িতে নেই। তারপর পুলিশ চলে যায়।’
এরপর কাজীপাড়ায় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুজ্জামান পিকুল ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানেও কাউকে আটক বা কিছু উদ্ধার করতে পারেনি তারা।
যশোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হক ইউএনবিকে বলেন, ‘দলীয় পরিচয়ে কারও বাড়িতে অভিযান চালানো হয়নি। বিভিন্ন মামলার আসামি আটক করতে অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, বিভিন্ন মামলার আসামি ও নানা অভিযোগে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: মাজারে প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান, রুখে দিলেন ভক্তরা
তিনি বলেন, ‘শুধু আওয়ামী ঘরানার লোকজনের বাড়িতে অভিযান চলছে—এমনটি নয়। চলমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটগুলোর দিকেও নজরদারি রয়েছে পুলিশের। সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদে বিরুদ্ধে এ অভিযান চলছে।’
তবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, যশোরসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করছেন। গতকাল (শনিবার) ঝটিকা মিছিল বন্ধ করতে না পারলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তারই অংশ হিসেবে (আওয়ামী লীগের) নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পুলিশের এই অভিযান।
৪১০ দিন আগে
ইনুকে ডান্ডাবেড়ি পরানোয় পুলিশকে হুমকি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডান্ডাবেড়ি পরানোয় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান এবং হাসানুল হক ইনু। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু পুলিশ সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তোদের চৌদ্দগোষ্ঠী খেয়ে ফেলবো।’
রবিবার (২০ এপ্রিল) সকালে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, যদি কোনও আসামি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। আর পুলিশও যাতে বাড়াবাড়ি না করে, সেদিক খেয়াল রাখতে বলেছেন।
পরে শুনানি শেষে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুটি মামলার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রবিবার এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
দুটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। অপর মামলায় শেখ হাসিনার সাথে আসামি সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ৪৬ জন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, আমলা। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রবিবার এসব মামলার মোট ১৭ আসামিকে গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন: যুবদল নেতাকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে চিকিৎসা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুক খান, দীপু মনি, গোলাম দস্তগীর গাজী, শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ, কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান মোহাম্মদ সেলিম, সাবেক সচিব জাহাংগীর আলম ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হ্যান্ডকাফ পরানো নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান সাবেক দুই মন্ত্রী। এরপর বিচারকাজ শুরুর আগে, ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার সময় শাহজাহান খান তার হাতে হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে। এটা আমার জন্য অমর্যাদাকর। তার আইনজীবীও এই বিষয়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন। এসময় ট্রাইব্যুনালের বিচারক ‘কী হয়েছে’ তা জানতে পুলিশ সদস্যদের ডেকে পাঠান।
পুলিশ সদস্য নুরুন্নবী ট্রাইব্যুনালকে জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের এভাবে হাজির করা হয়। তখন আরেক পুলিশ সদস্য শহীদুল বলেন, প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় তাদের রাজাকারের বাচ্চা বলা হয় এবং বলা হয় তোদের দেখে নেবো।
শহীদুল বলেন আরও বলেন, হাসানুল হক ইনু পুলিশ সদস্যদের বলেন ‘তোদের চৌদ্দগোষ্ঠী খেয়ে ফেলবো’। হাজতখানায় এসে মিটিং করে ফের পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেয়। কাঠগড়ায় থাকা হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম বলেন, না না তারা এসব বলেনি। সব মিথ্যে কথা। এর জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, যদি কোনও আসামি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। আর পুলিশও যাতে বাড়াবাড়ি না করে সেদিক খেয়াল রাখতে হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গত ১৭ অক্টোবর এই দুই মামলার প্রথম শুনানি হয়। সেখানে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ এই ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তারপরও শেখ হাসিনার মামলায় আরও একজনকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে এই দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় তিনবার বাড়ানো হলো।
শুনানি শেষে চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার শুনানি হয়। প্রথম মামলাটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের। এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জন আসামি রয়েছেন, যারা এই অপরাধের নির্দেশদাতা ছিলেন। মামলার ১৭ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আমরা আদালতে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছি এবং দুই মাসের সময় চেয়েছি। আদালত আমাদের দুই মাস সময় দিয়েছেন।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি মামলার শুনানি হয়। জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সম্পৃক্ততার বিষয়ে যে মামলাটি রয়েছে সেটির বিষয়ে আমরা আদালতকে জানিয়েছি, আমাদের তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে। তারপরও আমরা সত্যতার জন্য দুই মাসের সময় চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় যে মামলাটির শুনানি হয়, সেটি হলো গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ক্রসফায়ার নিয়ে। এই মামলাটিতে আমরা ১১ জনের বিরুদ্ধে শুরু করেছিলাম। মামলায় মাত্র একজন গ্রেপ্তার আছেন, তিনি হলেন সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসান। শতশত গুমের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও আমরা আদালতের কাছে তিন মাস সময় চেয়েছিলাম, আদালত সেটি মঞ্জুর করেছেন। এই সময়ের মধ্যে গুমের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত-প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সাধারণত জঘন্য অপরাধে আসামিদের ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়: হাইকোর্ট
এদিকে আদালতে আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খানকে হাতকড়া পরিয়ে তোলার সময় ওই নেতা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চীফ প্রসিকিউটর বলেন, আসলে এ বিষয়টি আমাদের এখতিয়ার না। আদালতে আসামিকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে তোলা হবে কি না; সেটা জেল অথরিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আসামিকে যদি কন্ট্রোল করতে না পারা যায় এবং তার পক্ষ থেকে যদি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে তাহলে তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বা আরও জটিল কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করে আদালতে তুলতে পারে জেল কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যরা আদালতকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে হাসানুল হক ইনু, শাজাহান খান ও জিয়াউল হাসান তাদের নির্বংশ করার হুমকি দিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেছেন। এছাড়া এদের মধ্যে একজন তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হেলমেটও ছুড়ে মেরেছেন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করে তাদের হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আদালতে তুলেছে। তারা সেটা আদালতকে জানিয়েছে।
৪১০ দিন আগে