আইনশৃঙ্খলা
সাঁওতালদের কবরস্থান-পুকুর দখলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তার দাবি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসীদের কবরস্থান ও সরকারি খাস পুকুর দখলের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাঁওতাল সম্প্রদায়।
রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করে সাঁওতালদের সংগঠন মানঝি পরিষদ।
এ সময় বক্তব্য দেন— ফিলিমন বাস্কে, বৃটিশ সরেন, প্রিসিলা মুর্মু, অঞ্জলী মুর্মু, আনিসুর রহমান, জুলিয়াস সরেনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তার বাহিনীর অত্যাচারে সাঁওতালরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একের এক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, জমি, পুকুর ও সাঁওতালদের কবরস্থান দখলের ঘটনা নতুন নয়।
পরে আজ (রবিবার) তারা রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যাকে গ্রেপ্তার ও কবরস্থান দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
৪৩৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় আ.লীগ নেতা হত্যা মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন
কুষ্টিয়ার মিরপুরে আওয়ামী লীগের নেতা ও পল্লী চিকিৎসক লুৎফর রহমান সাবুকে হত্যার দায়ে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুমিয়া খানম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাদের পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিরা হলেন— কুষ্টিয়ার মিরপুরের উপজেলা আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাসদের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন। আমবাড়িয়া এলাকার জসিম উদ্দিন বুড়ো, এখলাস আলী, মুরাদ আলী, মাহাবুল হোসেন, রাশেদুল আলী, ওয়াসিম আলী, রফিকুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিন শিলু।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পল্লী চিকিৎসক সাবুকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লুৎফর রহমান সাবু ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে মিরপুরের আমবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে আমবাড়িয়ার কাছে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা সাবুর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে ও এলোপাতাড়িভাবে রামদা দিয়ে তার মাথা, পিঠ, মুখ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত সাবুর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব বাদী হয়ে মিরপুর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে এ মামলার ৯ জন আসামিকে যাবজ্জীবন ও একজনকে খালাস দেন।
নিহত লুৎফর রহমান সাবু মিরপুরের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত অজিত মোল্লার ছেলে। তিনি মিরপুর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন।
৪৩৮ দিন আগে
পোষা বিড়াল হত্যা: আসামি ধরতে পরোয়ানা জারি
পোষা বিড়াল হত্যা মামলায় আসামি আকবর হোসেন শিবলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রবিবার (২৩ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াক এ আদেশ দেন।
আকবর হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এরাকার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের বাসিন্দা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পিপলস ফর এনিম্যাল ওয়েলফেয়ারের পক্ষে নাফিসা নওরীন চৌধুরী এ মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরপর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আকবর হোসেন শিবলুকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত তা গ্রহণ করে আজ (রবিবার) আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।’
আরও পড়ুন: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় যুবককে মারধর, মোটরসাইকেলে আগুন
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের নবম তলার মনসুর নামে এক ব্যক্তির বিড়াল হারিয়ে যায়।
পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আসামি আকবর হোসেন শিবলু বিড়ালটিকে ফুটবলের মতো লাথি মারছেন। লাথির আঘাতে বিড়ালটির নিথর দেহ পড়ে থাকার পরও পা দিয়ে পাড়া দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে দেখা যায় তাকে।
৪৩৮ দিন আগে
বাসসের এমডিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে যুগান্তর সম্পাদকের মামলা
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক (এমডি) মাহবুব মোর্শেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।
রবিবার (২৩ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিনের আদালতে এ মামলা করা হয়। আদালত বাদির জবানবন্দি রেকর্ড করে আগামী ২৮ এপ্রিল আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল আলম ও আসাদুজ্জামান আসাদ।
বাদী তার অভিযোগে বলেন, ‘আমি ক্লিন একটা জীবনযাপন করেছি। আসামিরা আমার ইমেজ, সম্মান, মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্ভট একটা পোস্ট দিয়েছে ফেসবুকে। তারা বলেছে, আমি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এরশাদের পক্ষে কবিতা লিখেছি। যেটা আদৌ আমার লেখা না। দেখলেই বোঝা যায়, এ ধরনের থার্ড ক্লাস কবিতা আমি আদৌ লিখি না।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ মার্চ আসামি মাহবুব মোর্শেদ তার ফেইসবুক আইডিতে একটি মনগড়া কবিতা পোস্ট করেন। সেটি আমার লেখা কবিতা বলে পোস্টে করেন।’
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন প্রশ্নে রুল শুনানি এপ্রিলে
পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের এই কবি কীভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে অবমাননা করেছেন, তা পড়ে দেখার অনুরোধ জানাই। মন থেকে এত ঘৃণা পোষণ করার পরও এমন কবিরা বিএনপির সুবিধাভোগী হয়ে থাকতে চান।’
আসামি খাইরুল আলম গত ১৬ জানুয়ারি তার ফেসবুক আইডি থেকে একই কবিতা পোস্ট করেন এবং লেখেন, ‘শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবিতাটি তিনি (আব্দুল হাই শিকদার) এরশাদকে উপহার দিয়েছিলেন। আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধেও ফেসবুকে একই কবিতা নিয়ে পোস্ট করার অভিযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, অসত্য, কাল্পনিক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর কবিতা এবং পোস্টের মাধ্যমে তার ১০ কোটি টাকার সম্মানহানি করা হয়েছে।
৪৩৮ দিন আগে
দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনগণ দুর্নীতিবাজ বলে ধারণা করেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব সচিব ও সরকারি দপ্তরের মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের গত ২০ মার্চ এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, যুগ্ম সচিব ও ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে গত ৮ জানুয়ারি জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি গঠন করে সরকার।
এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি কমিটির দ্বিতীয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং আওতাধীন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে যাদের বিষয়ে জনমনে দুর্নীতিবাজ মর্মে ব্যাপক ধারণা রয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
৪৩৮ দিন আগে
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন প্রশ্নে রুল শুনানি এপ্রিলে
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি হবে হাইকোর্টের অবকাশকালীন ও ঈদের ছুটির পর। এই ছুটি চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির এ সময় নির্ধারণ করেছেন।
রবিবার (২৩ মার্চ) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সে রুল শুনানির জন্য গত ১৯ মার্চ উপস্থাপন করা হলে হাইকোর্ট বিষয়টি অবকাশকালীন ছুটি শেষে (১৯ এপ্রিলের পর) শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চট্টগ্রামে চিন্ময়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য ও প্রবীর রঞ্জন হালদার। আর রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ।
গত ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ হয়। এর কয়েক দিন পর গত ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। এ মামলায় আরও ১৮ জনকে আসামি করা হয়। এরপর গত ২২ নভেম্বর চিন্ময়ের নেতৃত্বে রংপুরে আরও একটি বড় সমাবেশ হয়।
এরপর রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে চিন্ময়সহ ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা
আদালত চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে সেদিন চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে চিন্ময়ের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবীর সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত চত্বরের বাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এরপর থেকেই কারাগারে আছেন চিন্ময়। গত ২ জানুয়ারি চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরবর্তীতে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন চিন্ময় দাস।
৪৩৮ দিন আগে
মসজিদে হামলা-চাঁদাবাজি মামলায় জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার
পিরোজপুরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পিরোজপুরের ১ নম্বর সদস্য মুসাব্বির মাহমুদ সানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পিরোজপুরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তার মুসাব্বির মাহমুদ সানি (৩২) পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মাছিমপুর এলাকার মো. কিসলুরের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে মুসাব্বির নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে ৩০-৪০ জনের একটি দল নিয়ে পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের স্থাপনায় হামলা চালান। হামলাকারীরা সাইটের স্টাফ ও কর্মচারীদের থাকার ঘরে ভাঙচুর করেন এবং অফিস কক্ষে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরাসহ এর হার্ডডিস্কও ভেঙে ফেলেন।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্কে এবার এরদোয়ানের পদত্যাগ দাবি
এ ঘটনায় মুসাব্বির মাহমুদ সানি, সানির কথিত ভাই ও সমন্বয়ক দাবি করা সাজিদ ও সাজিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সোবাহান বলেন, ‘সানির বিরুদ্ধে ভাঙচুর, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। মামলার পর আমরা তাকে আটক করেছি।’
‘এছাড়া, পিরোজপুর বালেশ্বর ব্রিজ টোল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪৩৯ দিন আগে
জামালপুরে ২৯ লাখ টাকার মাদকসহ তিনজন আটক
জামালপুরে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) পৌরসভাধীন মনিরাজপুর ছোটগড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক পরিবহনের ব্যবহৃত তিনটি গাড়ি, ১৪৩৪ ফেন্সিডিল ও ২৪ বোতল মদ জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
আটকরা হলেন—জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার চর বাগবাড়ি গ্রামের মালেক খোকন (৪৭), একই উপজেলার ভাবকী গ্রামের মো. আজিজুর রহমান বাবু (২৪) ও পার্শ্ববর্তী পাঠনিপাড়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান (৪০)।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ৫৬ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আনোয়ার বলেন, ‘মনিরাজপুর ছোটগড় এলাকার হাফিজুর রহমান আকন্দের জমিতে একটি ড্রাম ট্রাক থেকে অন্য ২টি গাড়িতে স্থানান্তরের সময় ৯টি সাদা প্ল্যাস্টিকের বস্তায় ১৪৩৪ ভারতীয় ফেন্সিডিল পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এছাড়া একটি চটের বস্তার ভেতর থেকে ২৪ বোতল আইকনিক ভারতীয় মদ পাওয়া গিয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭২ হাজার টাকা। এ সময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সাল মো. আতিক বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
৪৪১ দিন আগে
গুলশানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
রাজধানীর গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে সুমন নামে (৩৫) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে গুলশান পুলিশ প্লাজার উত্তর পাশে সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
মুমূর্ষু অবস্থায় গুলশান থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফ আহমেদ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, নিহত ব্যক্তি পুলিশ প্লাজার উত্তর পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে কয়েকজনের সাথে হঠাৎ ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এসআই আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত সুমনের বাবার নাম মাহফুজুর রহমান। তার মাথা এবং বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়েছে।
হাসপাতালে নিহত সুমনের স্ত্রীর বড় ভাই বাদশা মিয়া রুবেল জানান, সুমনের বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায়। সুমন স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে মিরপুর ভাষানটেক এলাকায় থাকতেন। মহাখালী টিভি গেট এলাকায় ‘প্রিয়জন’ নামে তার ইন্টারনেট ব্যবসা রয়েছে।আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
তিনি বলেন, টিভি গেট এলাকায় ‘একে-৪৭’ গ্রুপের রুবেল নামে এক ব্যক্তি ডিসের ব্যবসা করেন। তার সাথে সুমনের ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ আছে এবং তিনি মাঝে মাঝে সুমনকে হত্যার হুমকি দিত। ওই পক্ষের লোকই গুলি করেছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি'র অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, নিহতের বিরুদ্ধে গুলশান, বনানীসহ কয়েকটি থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা করেছে, অন্তঃকোন্দল থেকেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের এখনো চিহ্নিত করা যায়নি বলে জানান তিনি।
৪৪১ দিন আগে
আ.লীগের সাবেক এমপি নাসিম ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং আইনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও তার স্ত্রী ডা. জাহানারা আরজুর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৯ মার্চ) দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বাদী হয়ে ফেনীর বিশেষ জজ আদালতে মামলাদুটি করেছেন বলে নিশ্চিত করেন ওই কার্যালয়ের আদালত পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. ইদ্রিস।
অভিযুক্ত নাসিম ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একসময়ের প্রটোকল কর্মকর্তা ছিলেন। তার স্ত্রী বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক।
মামলায় নাসিমের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ৫২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং তার স্ত্রী ডা. জাহানারা আরজুর বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আরেক মামলা থেকে খালাস পেলেন তারেক রহমান
আদালত পরিদর্শক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ ও সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান অনুসন্ধান করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মামলা দুটি করেছেন।’
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ১৯৮৬ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২৩ বছর পর ২০০৯ সালে যুগ্ম সচিবের পদ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গত বছর ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন নাসিম।
তিনি ফেনী, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১২৬টি দলিলের মাধ্যমে পাঁচটি ফ্ল্যাট ও দুটি প্লটসহ মোট ৩৯ কোটি ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৫ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তার নামে ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৮ হাজার ১০৮ টাকা জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলা সূত্রে জানা যায়।
আরও পড়ুন: অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড থেকে খালাস পেলেন বাবর
এ ছাড়াও, ১৫টি কোম্পানিতে ৩৪ কোটি ৬২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৪ টাকার শেয়ারসহ তার নামে ঢাকা-চট্টগ্রামে ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬ টাকায় ১০টি ক্লাবের সদস্যসহ স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৮৪ কোটি ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৩ টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। পারিবারিক ব্যয়সহ এ হিসাবের পরিমাণ ১০২ কোটি ৩৮ লাখ ৭ হাজার ৪৯১ টাকা।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী ডা. জাহানারা আরজুর নামে ফ্ল্যাট, প্লট ও জমিসহ মোট ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় দুদক আইনসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
৪৪১ দিন আগে