আইনশৃঙ্খলা
মুন্সীগঞ্জে নারীকে হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মুন্সীগঞ্জে এক নারীকে হত্যা করে গুম করার চেষ্টার অভিযোগে হাবিবুর রহমান মিজি নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডসহ অনাদায় আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ- দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ড. মো. আলমগীর এর রায় দেন।
এ সময় আসামি আদালতের উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আসামি হাবিবুর রহমান মিজি টঙ্গীবাড়ি উপজেলার উত্তর কুরমিরা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিজির ছেলে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীবাড়ী লাখারন গ্রামের মৃত শফি উদ্দিনের মেয়ে মামলার ভিকটিম সালেহা উদ্দিন ওরফে ডলি একজন অবিবাহিতা নারী ছিলেন। তার মানসিক সমস্যা ছিল। ২০১৮ সালের ২ মার্চ দুপুরে কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, আসামি হাবিবুর রহমান মিজি লৌহজং উপজেলার নওপাড়া গ্রামের হাজী কালাম মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকে।
সেখানে এজন নারীর লাশ গোপন কক্ষে রাখা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ডলির ভাই সেখানে গিয়ে তার বোনের ছবির সঙ্গে লাশের ছবির মিল পায় বলে জানতে পারে।
আরও পড়ুন: চাঞ্চল্যকর লক্ষণ পাল হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন
আসামি হাবিবুর রহমানকে স্থানীয় লোকজন মেয়েটির কথা জিজ্ঞাসা করলে ওই সময় তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদীতে ভেসে আসা লাশটি ঘরের ভেতর রেখে দিয়েছে।’
পরে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ পুলিশ হাবিবুরের স্বয়ং কক্ষ থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ও হাবিবুরকে আটক করে। এ সময় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মৃত নারীর ভাই টঙ্গীবাড়ী উপজেলার লাখারন গ্রামের মৃত শফি উদ্দিন ছেলে নূর মোহাম্মদ দপ্তরি বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২২ মার্চ টঙ্গীবাড়ী থানায় হাবিবুর রহমান মিজিকে আসামি করে মামলা করে। এ ঘটনায় ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাবিবুরকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডসহ অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী হাছান সারওয়ার্দী।
৪৫৬ দিন আগে
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী-ওসিসহ ৯ জন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর বিভিন্ন থানার হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানসহ ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেনসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
অন্যরা হলেন— সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিম, সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদ।
আরও পড়ুন: মানি লন্ডারিং মামলায় সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
তাদের মধ্যে আনিসুল হক, শাজাহান খান, আতিকুল ইসলামকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি করে হত্যা মামলায়, ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে দুইটি হত্যা মামলায়, মো. তাজুল ইসলামকে খিলগাঁও থানার হত্যাচেষ্টা ও পল্টন থানার হত্যা মামলায়, কামাল আহমেদ মজুমদারকে মিরপুর থানার হত্যা মামলায় এবং সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিমকে লালবাগ থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুই হত্যা মামলা ও এক হত্যাচেষ্টা মামলায় সংশ্লিষ্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
৪৫৬ দিন আগে
গুলশানে বাসায় তল্লাশি-ভাঙচুরে উসকানিদাতা সাবেক কেয়ারটেকার: প্রেস উইং
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর গুলশানের বাসায় তল্লাশির নামে ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় উসকানি দিয়েছে ওই বাসারই সাবেক কেয়ারটেকার।
বুধবার (৫ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গুলশানের ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ, অস্ত্র ও আওয়ামী লীগের দোসরদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার(৪ মার্চ) মধ্যরাতে দরজা ভেঙে ‘তল্লাশির’ নামে ২০ থেকে ২৫ জন লোক ঢুকে পড়ে। তল্লাশির অজুহাতে সেখানে প্রবেশ করে বাসাটি তছনছ, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা করা হয়।
৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে আসে গুলশান জোনের ডিসি, গুলশান থানার ওসি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকে তিন জন আটক করা হয় ও তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: সীমান্তের কাছে আইএসআই জড়ো হওয়ার খবর খাঁটি কল্পকাহিনী: প্রেস উইং
আটকরা হলেন— জুয়েল খন্দকার ( ৪৮) ও তার ছেলে শাকিল খন্দকার (২৪), শাকিল আহমেদ (২৮)।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শাকিল আহমেদ (২৮) একসময় বাসাটিতে কেয়ারটেকারের কাজ করতো। সেই মূলত জনতাকে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে—এমন তথ্য দিয়ে বাসাটিতে তল্লাশি চালালোর জন্য উসকানি দেয়।
এর আগে গত পরশুদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকেও একই অজুহাতে একদল জনতা বাসাটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আরও জানায়, এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় সতর্ক করে দিয়েছে যে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে নিকটবর্তী থানাকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।
৪৫৬ দিন আগে
সাবেক বিচারপতি মানিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
গুলশান থানার একটি হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৫ মার্চ) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাবেক বিচারপতি মানিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে, এ সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
আরও পড়ুন: সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বিচার চাইলেন ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি মুরাদ
শুনানিতে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এই আসামি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী। সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনগণ তাকে আটকে দেয়। তিনি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, যারা টাকার বিনিময়ে তাকে দেশত্যাগে সহযোগিতা করবে বলেছিল, তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে হাফপ্যান্ট পড়া ও কলাপাতার ওপর শুয়ে থাকা অবস্থায় জঙ্গলে পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি বিভিন্ন সময়ে টকশোতে গিয়ে মারামারি করতেন। ফ্যাসিস্টের পক্ষে সাফাই গাইতেন। আন্দোলনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’ শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৯ জুলাই গুলশান থানাধীন প্রগতি স্বরণী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী মো. আবু যর শেখ।
পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুলাই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা মামলায় জামিন পেলেও কারামুক্তি মিলছে না সাবেক বিচারপতি মানিকের
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর সময় শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে একাধিক হত্যা মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
৪৫৬ দিন আগে
বাস থামিয়ে তল্লাশি, দুই যুবকের শরীরে মিলল ১৮টি স্বর্ণের বার
চুয়াডাঙ্গায় বাস থামিয়ে তল্লাশি করে দুই যুবকের শরীর থেকে মোট ১৮টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সরজগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানান চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল মো. নাজমুল হাসান।
আরও পড়ুন: ওসমানী বিমানবন্দরে ৮টি স্বর্ণের বার জব্দ
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১৮টি স্বর্ণের বার, ২টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০,১৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়।’
৪৫৭ দিন আগে
তারেক রহমান-মামুনের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ৬ মার্চ
অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রায়ের জন্য ৬ মার্চ দিন রেখেছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান। এর আগে ১০ ডিসেম্বর এ মামলায় মামুনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে দণ্ড স্থগিত করা হয়। পরে মামুন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
আরও পড়ুন: অস্ত্র মামলায় খালাস পেলেন গিয়াস উদ্দিন মামুন
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলাটি করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্মাণ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন।
সিঙ্গাপুরে এ টাকা লেনদেন হয়। এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটি ব্যাংক এনএতে তার নামের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এ টাকার মধ্যে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, যাদের মধ্যে চার্জ শিটের বাইরের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপরোভেট।
বিচার শেষে এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র এখনো বিপদমুক্ত নয়: তারেক রহমান
এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আপিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি এ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি গিয়াস উদ্দিন মামুনও আপিল করেন। দুই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২১ জুলাই তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
একই মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিন মামুন আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
৪৫৭ দিন আগে
নীতিমালা ছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ক্ষমতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে ক্ষমা করার ক্ষমতা কেন অসাংবিধানিক হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা সংক্রান্ত নীতিমালা করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ মার্চ) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহসীন কবীর রকি।
এর আগে আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি বা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমা প্রদর্শনের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপারিশ করে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। এজন্য একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা ও সেই বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে ক্ষমা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা সুপারিশে বলা হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি সংস্কার কমিশন ওই সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাখিল করা হয়। এরপর গত ২০ জানুয়ারি কোনো নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে ক্ষমা করার ক্ষমতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
রিটে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রয়োগে নীতিমালা করার আবেদন জানানো হয়।
আরও পড়ুন: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার খালাসের রায় বহাল
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করার ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের ক্ষমা করা হয়েছে। এর ফলে, সাধারণ জনমনে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা ও হতাশাগ্রস্ত হয়। এই ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে, নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক।’
রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা রয়েছে। ক্ষমা করার ক্ষমতা অবাধ, যার কোনো নীতিমালা নেই। কে, কীসের ভিত্তিতে ক্ষমা পাচ্ছেন কোনো নীতিমালা নেই। যা সংবিধানের ৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা ক্ষমা পেয়েছেন। যার মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধানের ভাই জোসেফ, আসলাম ফকির অন্যতম।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পার্লামেন্ট সচিব ও রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়। আজ (সোমবার) ওই রিটের শুনানি করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
৪৫৮ দিন আগে
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার খালাসের রায় বহাল
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা বহাল রয়েছে আপিল বিভাগেও।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক তিনটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার (৩ মার্চ) জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দিয়েছেন।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের দণ্ড থেকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ৩ মার্চ
এদিন আপিলের শুনানির জন্য ২ মার্চ ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের দণ্ড থেকে খালাস দেন হাইকোর্ট। সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর আজ শুনানি হয়েছে।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া।
এরপর কারান্তরীণ অবস্থায়ই ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ও ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লার নাশকতা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন খালেদা জিয়া
এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। তবে এরই মাঝে দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তার পরিবার সরকারের কাছে আবেদন জানায়। পরে কয়েক দফায় খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত রাখে সরকার।
গত ৩ নভেম্বর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়া কোনো অনুকম্পা চান না। তিনি আইনিভাবে মামলা নিষ্পত্তি করতে চান। এ কারণে আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল শুনানি করতে চেয়েছি।
৪৫৮ দিন আগে
ছাত্রলীগ নেতার মামলা থেকে ২ সাংবাদিককে অব্যাহতি
সাভারের আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগ সভাপতির সাজানো মামলা থেকে দুই সাংবাদিককে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম ইসরাত জাহান মুন্নি এই আদেশ দেন।
এদিন সাংবাদিকদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আল মামুন রাসেল।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুই সাংবাদিক হলেন— তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি সোহেল রানা ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের জাহিন রিয়াজ।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে হকারকে ‘অপহরণ’, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
আইনজীবী আল মামুন রাসে বলেন, ‘সোহেল ও রিয়াজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো তথ্য ও প্রমাণ উপস্থিত না করতে পারায় আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সামিউল আলম শামীমের করা সাজানো মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।’
তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একতরফা রিপোর্ট প্রদান করেছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, সংবাদ প্রকাশের কারণেই দুই সাংবাদিককে জড়িয়ে মামলা দেওয়া হয়েছিল।’
৪৫৯ দিন আগে
আদালত চত্বরে সাবেক পিপি-জিপিসহ আ.লীগ নেতাদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা
পিরোজপুর জেলা জজ আদালত চত্বর থেকে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও জেনারেল প্র্যাকটিশনারসহ (জিপি) আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের ওপর হামলা করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
গ্রেপ্তাররা হলেন— পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক জিপি এম মতিউর রহমান, সাবেক পিপি খান মো. আলাউদ্দিন, সাবেক জিপি শহিদুল হক খান পান্না, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহমেদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা ইরতিজা হাসান।
এদের মধ্যে খান মো. আলাউদ্দিন একটি মামলায় পরোয়ানাভূক্ত আসামি।
গত ১৮ অক্টোবর হওয়া একটি মামলায় তাদের রবিবার (২ মার্চ) অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়। সেই মামলাগুলোতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন তারা। পরে রবিবার সকালে জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত জামিনের মেয়াদ এখনও শেষ না হওয়ায়, আদালত জামিন শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন: ভিক্টোরিয়া কলেজ অধ্যক্ষের ওপর হামলা, শিক্ষকদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী
এদিন আদালতে তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে, আদালত চত্বরে ভিড় করতে থাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিলও করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
পরে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। পুলিশ দ্রুত তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার (এসপি) খান মুহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ৫ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে খান মো. আলাউদ্দীন একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভূক্ত আসামি এবং অন্য ৪ জনকে একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে।’
৪৫৯ দিন আগে