শিক্ষা
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ অনুমোদন
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনই এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।
কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে। এর নেতৃত্ব দেবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’।
সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া দেশি-বিদেশি সকল উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণা-সমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ইউজিসি নিয়মিতভাবে তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে ঢাকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন ধারা সূচিত হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
সরস্বতী পূজা কাল, জগন্নাথ হলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা-১৪৩২ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল (শুক্রবার)। পূজা উদযাপনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।
বসন্ত পঞ্চমীতে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করতে অসংখ্য মণ্ডপ প্রস্তুত করা হয়েছে জগন্নাথ হলে। সেখানকার এক মণ্ডপে এবার বাক দেবী আসবেন ‘ঘরের নারীর’ আবহে। এ বছর জগন্নাথ হল প্রশাসনের কেন্দ্রীয় পূজাসহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিক জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে প্রতিবছরের মতো এবারও সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা পূজার আয়োজনে অংশ নেবেন। এ বছর পূজা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জগন্নাথ হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোট ৭৬টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে।
জগন্নাথ হলের দীর্ঘদিনের পূজার ঐতিহ্যকে ধারণ করে অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ভক্তিমূলক সংগীত ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা আয়োজন থাকবে। নারী ও শিশু ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রয়োজনীয় আয়োজনও করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
পূজায় সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আতশবাজি ও ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেছে হল প্রশাসন।
হল কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই সকল ধর্ম-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করে আসছে। আমরা সর্বদাই সকল ধর্মের প্রতি সমান ও বৈষম্যহীন আচরণের মাধ্যমে এক সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন টেকসই সমাজ বিনির্মাণে সদা যত্নশীল।
সকল ধর্ম, মত, আদর্শ, শ্রেণি, পেশার মানুষকে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সরস্বতী পূজায় স্বাগত ও সাদর নিমন্ত্রণ জানিয়েছে জগন্নাথ হল প্রশাসন। এই উৎসবে আগত সকল পুণ্যার্থীর শুভাগমনে জগন্নাথ হল সম্প্রীতির বন্ধনের এক অপূর্ব মিলনমেলায় রূপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে তারা।
১ দিন আগে
অবশেষে শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেছেন, ‘সকলের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই দুটি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রমের জন্য আমাদের অনুমোদন দিয়েছে। অত্যাধুনিক শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাবসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত রয়েছে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের বাইপাস সড়কের বরুণকান্দি এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক হাছানাত আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়ে যোগদানের পর থেকে কাজ শুরু করি।’
তিনি বলেন, ‘ইউজিসি থেকে আমাদের হিসাববিজ্ঞান এবং আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন পরিচ্ছন্ন এবং রুচিশীল পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে, সে ধরনের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়া শিক্ষকরা যেন তাদের কক্ষে বসে পাঠ এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারেন, তার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।’
২ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে আজও বিক্ষোভ অব্যাহত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সহকারী উপাচার্যকে দেখে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনরত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের গাড়ি উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে থামে। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে দেখে ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন। তবে বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্যানেলের সাবেক নেতা সহকারী উপাচার্য সাজেদুল করিম কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে, শাকসু নির্বাচনের দাবিতে সকাল থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রার্থীদের একটা প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তারা ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও, এক হও’, ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু নিয়ে মববাজি চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দাও’, ‘দালালদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
কর্মসূচি চলাকালে শিবিরের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, গতকাল আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বলেছি যে, যেভাবেই হোক চেম্বার জজ আদালতের মাধ্যমে বুধবার শাকসু নির্বাচন করতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়া হবে, কেননা আমাদের দাবি যৌক্তিক।
শিবিরের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ আমাদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন হয়নি। গতকাল চেম্বার জজের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাও হয়নি। আজকে আদালতের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, চেম্বার জজ শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় দেবেন।
৩ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ
চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্ট।। এর আগে গতকাল রবিবার রিটটি করেছিলেন স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শরু করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ সময় তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
তারা বলেন, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটকারী প্ররোচনার শিকার। তিনি রিট করে সকলের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। আমরা নির্বাচন যথাসময়েই চাই। নির্দেশনা আসা না পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সড়ক অবরোধের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
গতকাল (রবিবার) শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে এবং সে নির্দেশনার আলোকে শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসম্মত নয়।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে চারজন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাতজন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজন প্রার্থী রয়েছেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপরদিকে হল সংসদে পদ সংখ্যা ৯টি।
এদিকে, প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয়।
প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রচারণার শেষ সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা আজ (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
৪ দিন আগে
স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
জাতীয় বেতন কমিশনের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, যাদের মাথাপিছু আয় আমাদের থেকে কম, তাদের থেকেও কেন আমাদের শিক্ষকরা পিছিয়ে থাকবেন? সেই দেশগুলোকে অনুসরণ করে আমাদের শিক্ষকদেরও সম্মানজনক অবস্থানে রাখা হোক। আমরা আশা করব, সরকার এই দিকটিতে সংস্কার করবে।
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, আমরা জানি, আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে তিনজন শিক্ষক আছেন। আমরা জানতে চাই, আপনারা থাকা অবস্থায় কী করে এ রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে। সরকারের কাছে আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানাব।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত উপকমিটি তিনটি ‘টিওআর’ (টার্মস অব রেফারেন্স) দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় যেন মেধাবীরা আসতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা, মেধাবীরা যেন দেশেই থাকেন সেটা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ প্রদান করা—যার কোনোটিই গ্রহণ করা হয়নি।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা কি চান না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় মেধাবীরা আসুক, গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি পাক? আপনাদের কাজ সেটাই প্রমাণ করে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে শিক্ষকদের বেতন ৬ গুণ বেশি। তাহলে আমাদের দেশে এই চিত্র কেন? জাতীয় বেতন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি যে অবজ্ঞা ও বৈষম্য করেছে, আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
৪ দিন আগে
৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশনের সভাপতি করা হয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে। কমিশনকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পর্যালোচনা করে তাদের জন্য একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কমিশন গত বছরের ১৪ আগস্ট প্রথম আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে পূর্ণ উদ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। একটি ন্যায়সংগত ও কার্যকর বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনলাইনে মতামত গ্রহণের জন্য চাকরিজীবী, সর্বসাধারণ, প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থা বা সমিতির জন্য মোট চারটি প্রশ্নমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে পে-স্কেলের অংশীজনরা প্রায় সব পেশাজীবী গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করে বেতন কাঠামোর ব্যাপারে সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে।
জোটের সদস্যসচিব বলেন, পে-স্কেলের অংশীজন হওয়ার কারণে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিনিধি হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আহ্বান জানালে তারা জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবনাগুলো তাদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে জোটের নেতাদের আশ্বাস দেয়।
তিনি বলেন, আমরা ইদানীং গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন যাতে জারি না হয়, এ ব্যাপারে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে যাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই তারাও হরহামেশা মতামত দিয়ে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ করেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করায় জনরোষ তৈরি হয়েছে। তার নেতিবাচক মন্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে সপ্তম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছিল। এর ৬ বছর পর ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এরপর ১১ বছর যাবৎ কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে দুটি পে-স্কেল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। এভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পে-স্কলের প্রজ্ঞাপন জারি বন্ধ করা হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের মধ্যেই আমরা নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে জোর দাবি জানাচ্ছি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠনের ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পক্ষে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হবে। যদি নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয়, তাহলে কমিশন গঠন করে রাষ্ট্রের টাকা কেন অপচয় করা হলো? পে-স্কেলের অংশীজনরা মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আগামী ৫ বছরেও তা জারি হবে না।
তার দাবি, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেশাজীবী গোষ্ঠী। আমাদের রয়েছে ৬ লক্ষাধিক পরিবারের অর্ধকোটি সদস্য। কিন্তু আমরা সরকারের বেতনভোগী পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলেই কেবল আমাদের বঞ্চনার অবসান হবে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছি। যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে শিক্ষক সমাজ তাদের পাশেই থাকবে।’
এই শিক্ষক নেতা বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপরও সরকার দাবি মেনে না নিলে জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন হেলালী, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজু।
যুগ্ম সদস্যসচিবদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার, মো. শান্ত ইসলাম, মো. আশরাফুজ্জামান হানিফ, মো. ইমরান হোসেন ও জোটের ঢাকা উত্তরের সমন্বয়ক মো. বাছির উদ্দিন।
এ ছাড়াও ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নির্বাহী সমন্বয়ক এমএ মান্নান, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আব্দুল মালেক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব-১ আশিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৪ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন নিয়ে শাবিপ্রবি প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এ সভায় নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
আলোচনা সভায় ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সকলের দেওয়া পরামর্শ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সকলের সহযোগিতায় একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবদুল মুকিত মোহাম্মদ মোকদ্দেছ, রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এছাক মিয়া, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান ও প্রশাসনের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
৪ দিন আগে
২০ জানুয়ারিই শাকসু নির্বাচন, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি মেনে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই এই নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা–২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ এ তথ্য জানায় ইসি।
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দেশিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
ইসির পত্রে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, জাতীয় নির্বাচনের কারণে দেশের সকল সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচন স্থগিত করায় শাকসু নির্বাচনও ১২ ফেব্রুয়ারির আগে আয়োজন না করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল ইসি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস এই খবরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন শিক্ষকদের একটি বড় অংশও। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে নির্বাচন আয়োজনের অনুমতির জন্য অনলাইনে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইসি এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
৭ দিন আগে
ব্রাকসুর সকল কার্যক্রম স্থগিত, অনিশ্চয়তায় নির্বাচন
আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু)। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল আবারও স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনার আলোকে দেশের সকল সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুর থেকে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাকসু ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫-সংক্রান্ত চলমান সকল নির্বাচনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে পরবর্তী সময়ে নতুন তফসিল প্রণয়ন ও নির্বাচনি কার্যক্রম পুনরায় আরম্ভ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারছে না এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই চান না যে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বেরোবি শাখার সভাপতি মো. সুমন সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
সুমন সরকার বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদ ভাইয়ের রক্তের ওপর অধ্যাপক শওকাত আলী ভিসি হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বোঝার চেষ্টা করেননি, বরং ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছেন।
একই কথা বলেন ছাত্রদলনেতা আল আমিনও। তার ভাষ্য, এই ভিসি আওয়ামী দোসর। তিনি কোনোভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের ধারা ফেরাতে চান না।
ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরিফ বলেন, এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেই শুনতে পারেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করায় তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ডিসি এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে সমস্যা বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর শওকাত আলী বলেন, সামনে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ওই নিবার্চনের পরে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, ব্রাকসু নির্বাচনের এখন পর্যন্ত চারবার তফসিল পরিবর্তন করে পাঁচটি তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বারবার তফসিল পরিবর্তন ও নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পর সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবারও তা স্থগিত ঘোষণা করায় ২৫ ফেব্রুয়ারিও হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
৯ দিন আগে