শিক্ষা
শিক্ষা কারিকুলামে বড় পরিবর্তন আসছে: ববি হাজ্জাজ
ঢাকা, ২০ মে (ইউএনবি)— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই ভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে বিশ্বমানের নেতৃত্বে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আজ আমি শুধু গার্ল গাইডদের মাঝে নেই, আমি আগামী বাংলাদেশের নেতাদের মাঝে আছি। আপনারাই ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কারিকুলামে শিশুদের শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবসম্মত দক্ষতা শেখানো হবে। শিক্ষার্থীরা শিখবে কীভাবে ভালো নাগরিক হতে হয়, কীভাবে নিজের স্কুল, ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হয় এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়। শিশুদের বয়স আনন্দের মাধ্যমে শেখার, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা বড় বড় বই চাপিয়ে দেওয়ার সময় নয়। নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হবে যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে নীলকমল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হলদে পাখির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অর্জন দেশের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। এ অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে মোট ৫৭ জন হলদে পাখি সদস্যকে নীল কমল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গার্ল গাইডস নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন
আগামী এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে শুরু হবে আগামী বছরে ৬ জুন এবং শেষ হবে ১৩ জুলাই।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের এসএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ এবং এইচএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ; এই ৪০ লাখ শিক্ষার্থী—এদের লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসএসসি পরীক্ষা দিতে এবং পাস করতে স্বাভাবিকভাবে একটি ছাত্রের জীবনে ১৬ বছর সময় লাগে। আর এইচএসসি অর্থাৎ টুয়েলফথ গ্রেড, হায়ার সেকেন্ডারি—আরও দুই বছর যোগ করলে ১৮ বছর সময় লাগে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি যে এই এইচএসসি পাস করতে ২০ বছর বয়স হয়ে যায়। অর্থাৎ জ্যামিতিক লভ্যাংশে আমরা দেখেছি যে জাতি ৪০ লাখ বছর পিছিয়ে যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি সেশন জটকে কমিয়ে আনা, সিলেবাস কভার করা এবং সঠিকভাবে তাদের শিখন সম্পন্ন হওয়ার পরে পরীক্ষা নেওয়া। এই বিষয়গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার জন্য বসে থেকে ছাত্রছাত্রীদের প্রায় এক বছর নষ্ট হয় এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা বসে থেকে প্রায় এক বছর নষ্ট হয়। এই গ্যাপটাকে ক্রমান্বয়ে আমরা বন্ধ করতে চাচ্ছি। ধরে নিচ্ছি যে ডিসেম্বর বছরের শেষ মাস এবং এটা হলো পরীক্ষার মাস; সেই দিকে আমরা এগোচ্ছিলাম।
তিনি বলেন, নবম-দশম শ্রেণিতে দুই বছরের সিলেবাস কারিকুলাম ডিসেম্বরে শেষ হবে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ঠিক সেভাবে ফলাফল দুই মাসের মধ্যে বেরিয়ে যাবে। আবার এইচএসসিতে ভর্তি হবে এবং তারা সময়মতো বেরিয়ে যাবে। এবং পরীক্ষা দেওয়ার পর ফল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আবার তারা ভর্তি হতে পারে, সেই জিনিসগুলো আমরা সমন্বয় করার জন্য লক্ষ নির্ধারণ করেছি যে এসএসসি এবং এইচএসসির সেশন সমাপ্ত করার জন্য ডিসেম্বর হচ্ছে উপযুক্ত মাস।
এহছানুল হক মিলন বলেন, সেটাকে সামনে রেখে আমরা কাজ শুরু করেছি। এবার আমরা ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তবে অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা সাপেক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী এসএসসি পরীক্ষা আমরা শুরু করব ৭ জানুয়ারি এবং পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আমরা রুটিন ইতোমধ্যে করেছি, একইসঙ্গে তা দিয়ে দিচ্ছি, যেন শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে লেখাপড়া করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। এখানে কিছুটা সময় আমরা গুছিয়ে এনেছি যেন তারা পরীক্ষায় পাস করার পর ফল সেমিস্টার (বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার সময়কাল) ধরতে পারে। সেই টার্গেট নিয়ে এবং সিলেবাসও যেন কাভার করতে পারে। যদিও এর আগে অ্যাডমিশন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে, সেটাকে আমরা গুছিয়ে আনছি। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করব ৬ জুন এবং শেষ করব ১৩ জুলাই। এই পরীক্ষার রুটিনও আমরা করে ফেলেছি।
ফল প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের সময় দুই মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করা হবে।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর কোনো গ্যাপ না রেখে দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না হয়।
৮ দিন আগে
প্রাথমিকের ঝরে পড়া-পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করবে সরকার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করবে সরকার।
তিনি আরও বলেছেন, লার্নিং সার্কেল, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, অভিভাবকের অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কনটেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা: কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এখনো কাঙ্ক্ষিত শেখার দক্ষতা অর্জিত হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও তাদের বড় একটি অংশ শ্রেণি-উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের চার থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি দৃঢ় করা। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়লেও সেই শ্রেণির উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) অনুযায়ী প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পিছিয়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘দ্য লার্নিং নেশন’ গ্রন্থে ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বইটিতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন
২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় বঞ্চিত আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশে এ প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ে জিতে দুই দশক পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ প্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে এর মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না পেলে ওই তারিখেই তিনি যোগদান করবেন। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল হয়ে যাবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে তাদের ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, সেই তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধাদি পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি সরকারের আমলে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩০ জুন জরুরি অবস্থার সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ওই ফল বাতিল করে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত সরকার। এরপর মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন উত্তীর্ণরা। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন রিটকারীরা।
৯ দিন আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাপাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার। আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন। আমরা মনে করি, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি।
এ সময় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছেনি।
তারেক রহমান বলেন, র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু পুথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজর না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা এগিয়ে নিতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি অ্যালামনাইদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অ্যালামনাই বর্তমানে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, তাদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে তিনি শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। এর কারণ সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে অনেকেই একমত যে অ্যাকাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
১০ দিন আগে
বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য আমরা চীনের সঙ্গে যৌথভাবে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
শনিবার (৯ মে) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চীন দূতাবাস ও ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত চায়না-বাংলাদেশ এজুকেশন কোঅপারেশন ফোরাম-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সিলেবাস, কারিকুলাম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য আমরা চীনের সঙ্গে যৌথভাবে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরো সুদৃঢ় করে চাই। সেই সেতুর মূল উপকরণ হবে শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
ফোরামে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম বদরুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি শিগগিরই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি শিগগিরই চালু করা হবে। সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে, এখন কমিটিগুলো হচ্ছে। তারপর বদলি শুরু হবে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান।
মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষকদের বদলি করা হবে। সবকিছু প্রস্তুত করেছি, এখন কমিটিগুলো হচ্ছে, বদলি শিগগিরই করব। চাকরির বিধিমালায় যে শর্তগুলো রয়েছে, সেগুলো দিয়েই তাদের যোগদান করানো হবে বলেও জানান তিনি।
আয়োজিত খেলায় বালকদের মধ্যে ফাইনালে কচুয়া সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাগদৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে জয় লাভ করে কচুয়া সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া বালিকাদের মধ্যে ১-০ গোলে শিলাস্থান প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে আশরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল বিজয়ী হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী ও মেয়ে তানজিনা নাহার হককে নিয়ে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে ট্রফি তুলে দেন।
এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা মোসাদ্দেক হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার, সাবেক পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস কর্মসূচি
আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ২৫টি উপজেলা বা থানার ৩ হাজার ৫২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভা শেষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের সভায় আমাদের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। বিজিএমইএ আমাদের এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরকম আরও সহযোগিতা পেলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্কুল ড্রেস দিতে পারব।’
কবে থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই থেকে এটা শুরু করব। এটা পাইলট প্রোগ্রাম। প্রথমে আটটি বিভাগেরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আমরা ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে এর আওতায় আনব।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদরাসা এই সুবিধা পাবে। এরপর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রাথমিক স্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে পোশাক বিতরণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতি শ্রেণিতে এক সেট করে পোশাক পাবে। পরবর্তীতে আমাদের সক্ষমতা বাড়লে আমরা আরও বেশি দিতে পারি কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে প্রথমে এক সেট করে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে।
পোশাকের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক একই রকম হবে। ছেলেদের পোশাক এক ধরনের, মেয়েদের আরেক ধরনের হবে। ইবতেদায়ী মাদরাসার পোশাক কিছুটা ভিন্ন হবে। কেমন রঙের হবে, সেটাও আমরা ঠিক করেছি। শিগগিরই তা জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করবে। তবে এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব এবং শিক্ষাকে এগিয়ে নেব।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বিজিএমইএ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
প্রাথমিকের আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করে স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে নিয়োগপত্রের দাবিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী আন্দোলনরত শিক্ষকদের ৭ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাত সদস্যের এই প্রতিনিধ দল তাদের নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে অযথা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে আন্দোলন স্থগিত করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
২৬ দিন আগে
নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শাহবাগে অবস্থান
নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
এদিন বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পরে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে জেলা ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, যদিও পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আন্দোলনে আসা সুনামগঞ্জের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও খুব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা মানসিক চাপে আছি। আমাদের দাবি পূরণ না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাব।’
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানান, তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
২৬ দিন আগে