শিক্ষা
দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৯৩৭ পরীক্ষার্থী
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ৯১ হাজার ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৯৩৭ জন অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ঠাকুরগাঁও জেলায় একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ইমেইলে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন।
এই শিক্ষাবোর্ডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল দিনাজপুর জেলায়।
অভিন্ন প্রশ্নপত্রে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৬৬৫টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯জন পরীক্ষার্থী। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি-ওন ক্যামেরা দেখা যায়নি।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ৪৩ জন এবং ছাত্র সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪৩৬ জন। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
২ ঘণ্টা আগে
২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু, গঠিত হয়েছে কমিটি: শিক্ষামন্ত্রী
২০২৮ সাল থেকে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরে যুগোপযোগী নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কারিকুলাম প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে চার মাস হয়েছে। তাই আগামী শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ২০২৮ সাল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। তিনি বলেন, অতীতের পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা হবে।
মন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, কর্মদক্ষতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব থাকবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রথমে তাত্ত্বিক, পরে ব্যবহারিক শিক্ষা যুক্ত হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষাও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এ জন্য প্রয়োজন হলে সরকারি সহায়তা ও স্টুডেন্ট লোন দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে নতুন সাইবার আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ সম্পূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নপত্র পরিবর্তন, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অনিয়ম করে কেউ যেন পার না পায়, সে লক্ষ্যেই আইনটি কঠোর করা হয়েছে।
পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তনের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে শিক্ষার্থীরা শুধু ট্যাবুলেশন শিট যাচাইয়ের সুযোগ পেত। এখন উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নও নমুনাভিত্তিকভাবে পুনরায় যাচাই করা হবে, যাতে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার প্রবণতা শনাক্ত করা যায়। পরীক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং একজন পরীক্ষকের ওপর অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ বা অবহেলার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে পরীক্ষা স্থগিতের পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করছে। কেন শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, তার কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও ডিজিটাল প্রশ্নপত্র হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাই বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।
এহছানুল হক মিলন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার সূচি যেমন অনেক আগে ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি ভর্তি পরীক্ষাগুলোও সমন্বয় করে সেশনজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানানো হবে।
কোচিং নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পাঠদান বা ইন-হাউস কোচিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের বাইরে কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোচিংমুখী হয়ে পড়ে, সেগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। কোচিং সেন্টার পরিচালনায়ও সরকারি অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতে এবার জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় বেশি। সরকার ধাপে ধাপে এই বরাদ্দ আরও বাড়াবে। তবে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদেরও পরীক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই গুজব বা বিভ্রান্তি এড়িয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
১ দিন আগে
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, এবার দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ও ছাত্রীর ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এ বছর ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি।
তিনি আরও জানান, নকলের জন্য পরিচিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য এলাকা ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর নেওয়া হবে।
আবদুল খালেক বলেন, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। এ বোর্ডে কেন্দ্র বেড়েছে ২টি এবং প্রতিষ্ঠানও ২৩টি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। এ বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬৪৭ জন কমেছে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি কমে ৬১০টিতে নেমে এসেছে।
১ দিন আগে
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে ৫ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জিও-এনজিও কোলাবরেশান ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে—কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য এবং টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল সরকার কাজে লাগাতে চায়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতের মতো এবারও কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
দেশের এইচএসসির শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমানের: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় এইচএসসির শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬) নবীন বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রিধারী নয়, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান-উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অতীতের মতো কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ ও বাস্তব কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।
এ সময় বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই বাস্তবতা পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।
৪ দিন আগে
কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮৪৮৬ শিক্ষকের পদ শূন্য: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী
দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে আট হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বৈঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতের সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবদুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে ৮ হাজার ৭৪ জন কর্মরত আছেন, আর ৮ হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর (নবম গ্রেড) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (দশম গ্রেড) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরইমধ্যে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে পিএসসিতে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসে পিএসসি ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমেও শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে। তবে পদোন্নতিযোগ্য ৪ হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে কর্মরত জনবল না থাকায় সেসব পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা পাবে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, একই শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তকও চালু করা হবে। বইটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিখনপ্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে যেসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে তাদের ভাষাগত প্রতিবদ্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ৫টি ভাষার (চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাদারি) শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। যার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।
বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগসরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
কক্সবাজার–৩ আসনের সরকারদলীয় সদস্য লুৎফুর রহমান এবং ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক জানান, বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৪ টি। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ২ টি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি এবং প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ৮টি রয়েছে।
৪ দিন আগে
নকল আর হচ্ছে না, এখন লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘নকল এখন আর হচ্ছে না। আমরা এখন শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। শিক্ষকদের কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, কোন কোন কারণে শিক্ষার মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সভায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, উজিরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সন্টু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. ইউনুসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
৭ দিন আগে
টিএইচই র্যাঙ্কিংয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে গাকৃবি
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) বিশ্বখ্যাত টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট রেটিং ২০২৬-এ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি বৈশ্বিক পর্যায়ে ৪০১-৬০০তম স্থান লাভের গৌরবময় স্থান লাভ করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) টিএইচই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে।
সেখানে দেখা গেছে, এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছে।
জাতিসংঘ-ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সামগ্রিক কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এসডিজি-১ (দারিদ্র্যমুক্তি) সূচকে গাকৃবি ৭৪ দশমিক ৮ স্কোর অর্জন করে বিশ্বের ৮২তম অবস্থানে রয়েছে। এসডিজি-২ (ক্ষুধামুক্তি) সূচকে ৭৮ দশমিক ৩ স্কোর পেয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ৬৬তম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) সূচকে ৬৮ দশমিক ৫ থেকে ৭৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০১-২০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে।
গত বছর এ র্যাঙ্কিংয়ে যেখানে গাকৃবির অবস্থান ছিল বৈশ্বিকভাবে ৮০১-১০০০, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৪০১-৬০০তম অবস্থানে উন্নীত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সুনিপুণ নেতৃত্ব, পরিকল্পিত অগ্রযাত্রা, একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা সক্ষমতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
শুধু টিএইচই নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও গাকৃবি অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। টিএইচই র্যাঙ্কিং ২০২৫ ও ২০২৬-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এছাড়া, বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ফর ইনোভেশন (উরি) ২০২৬-এর ফিন্যান্সিয়াল ইমপ্যাক্ট ড্রাইভেন ট্রান্সফার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩তম স্থান অর্জন করে।
এ অসামান্য অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই সাফল্য শুধু একটি র্যাঙ্কিংয়ের অর্জন নয়, এটি আমাদের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যালামনাই এবং সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৮ দিন আগে
জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতা-ভিত্তিক ও শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছি। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সিভিক এডুকেশন, ক্রীড়া শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
৮ দিন আগে