শিক্ষা
ডাকসু নির্বাচন বানচালে পাঁয়তারার অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
সাম্য হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক ঘটনায় স্থবির হয়ে আছে ডাকসু নির্বাচন কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়সীমা মে মাসের মাঝামাঝি নির্ধারিত থাকলেও এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ডাকসু নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে ডাকসু নির্বাচনসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। মিছিল শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
এসময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, ‘আজকের মধ্যেই ডাকসুর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আর কোনো টালবাহানা আমরা মেনে নেব না। ডাকসু নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টাই সফল হবে না।’
আরও পড়ুন: জুনের আগে ডাকসু নির্বাচনের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং পুলিশের নির্লিপ্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটি মহল এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাকসু নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে। সাম্য হত্যাকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ইস্যু করে পরিকল্পিতভাবে ডাকসু নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে। বিষয়টি এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ব্যাহত এবং ডাকসু নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।’
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য, ‘আমরা আর কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। প্রশাসনকে এখন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আমাদের সামনে আসতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যাল প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্য হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
এদিকে একই দাবিতে উপাচার্য বাংলোর সামনে চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন খালিদসহ একদল শিক্ষার্থী। অনশনরত অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত তারা চিকিৎসাধীন।
২৮৬ দিন আগে
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে কুয়েটের অন্তবর্তীকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হযরত আলী।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। কুয়েটের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হযরত আলীকে কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ মে তিনি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থীদের একটি দলও মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাছুদ ও উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২৮৮ দিন আগে
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে শাবিতে নারীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল ও নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীরা। এসময় নারী সংস্কার কমিশন ধর্ম ও জাতিসত্ত্বার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্বরূপ ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশনের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে ‘নারী পুরুষ বাইনারি, এই শর্তেই দেশ গড়ি’, ‘যৌন কর্মী স্বীকৃতি দান, মায়ের জাতির অপমান’, ‘সম অধিকার নয়, চাই ন্যায্য অধিকার’, ‘নারী পুরুষ একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’, ‘পতিতাবৃত্তি কে না বলি’, ‘সমতার নামে নারীর বিকৃতি চলবে না’, ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল চাই, অপসংস্কৃতি চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান সংবলিত প্লেকার্ড দেখা যায়।
আরও পড়ুন: নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় কমিটি চেয়ে রিট
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের নিন্দা জানিয়ে জান্নাতুল সুমাইয়া সাফি বলেন, ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের পেশকৃত প্রস্তাবনার অধিকাংশই ইসলাম ধর্ম-জাতিসত্ত্বার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটা নারীদের মর্যাদা খর্ব করে। স্বাধীনতার নামে কমিশন যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন তা পরিবারিক কলহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্মতির অভাবকে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দিয়ে যৌনকর্মীদের শ্রমজীবী হিসেবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদানের সুপারিশ প্রকৃতপক্ষে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর ব্যবস্থা। ইসলাম ও সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে মানে না বরং তা নির্মূল করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই অবিলম্বে এসব প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।’
‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রার’ সমালোচনা করে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আদিবা সালেহা বলেন, ‘মৈত্রী যাত্রায় অংশগ্রহণকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীর মধ্যে বাংলাদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীর উপস্থিতি নেই। উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, অশালীন পোষাকে নারীর অধিকার আদায়ের নামে নারীর ভূষণকে খর্ব করা হয়েছে, ধর্মীয় শিষ্টাচারকে উগ্রবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যা ধর্মীয় অবমাননা, ট্রান্স মুক্তিকে নারীমুক্তি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। যেখানে অধিকাংশ কার্যক্রম নারীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা এলজিবিটিকিউকে প্রমোট করছে। যা আমাদের মানব সম্প্রদায়ের জন্য একটা বিধ্বংসী মতবাদ। অথচ ট্রান্সজেন্ডার ধারণা বিকৃত মস্তিষ্ক থেকেই উদ্ভুত, মানবকল্যাণেই যার বৈধতা নয় বরং চিকিৎসার প্রয়োজন।’
এছাড়াও অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে ৪ দফা দাবিও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। দাবি সমূহ হলো- নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, ধর্ম, সংস্কৃতি ও জনমতকে অবজ্ঞা করে গঠিত বর্তমান কমিশন বাতিল করে ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় বিশ্বাসী এবং দেশের অধিকাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন—এমন প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। পতিতাবৃত্তি নির্মূলের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট নারীদের মানবিক ও হালাল উপায়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিধানসমূহকে সংবিধানের আলোকে রক্ষা করে নারী উন্নয়নের একটি ভারসাম্যমূলক ও সমাজবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২৮৮ দিন আগে
জবির ১৫ বছরের নিয়োগ-দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ১৫ বছরে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে এই বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্টার মোহাম্মদ মশিরুল ইসলামের সই করা একটি উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কমিটির আহ্বায়কের কাছে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তথ্য প্রমাণসহ জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যদি কারো কাছে ২০০৯ সাল থেকে আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ এবং পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকলে—সেই সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে। অভিযোগপত্র সিলগালাকৃত খামে জমা দিতে বলা হয় এবং তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ত্রৈমাসিক সেরা রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন জবিসাসের ৬ সাংবাদিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র জানা যায়, বিগত দেড় দশক ধরে কিছু নিয়োগ ও পদোন্নতির স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলছেন সংশ্লিষ্টরা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৮৮ দিন আগে
ত্রৈমাসিক সেরা রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন জবিসাসের ৬ সাংবাদিক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) ত্রৈমাসিক সেরা রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সংগঠনটির ৬ সাংবাদিক। দৈনিক সর্বোচ্চ রিপোর্ট ও বিশেষ রিপোর্ট ক্যাটাগরিতে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকতার বুনিয়াদি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রৈমাসিক বিশেষ রিপোর্টিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মো. জুনায়েত শেখ, দ্বিতীয় স্থান দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক তানজিম মাহমুদ এবং তৃতীয় স্থান দৈনিক সময়ের আলোর সাংবাদিক মোশফিকুর রহমান ইমন।
ত্রৈমাসিক সর্বোচ্চ রিপোর্টিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন দৈনিক বাংলাদেশের খবরের সাংবাদিক জান্নাতুন নাইম, দ্বিতীয় স্থান দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক রাকিব মাদবর এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক তাহমিদ আব্দুল্লাহ রাদ।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন লিমন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে দৈনিক সময়ের আলোর চিফ রিপোর্টার ও জবিসাসের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক এম মামুন হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ড. রিফাত হোসেন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক ড. আনওয়ারুস সালাম, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে কেউ কথা বলত না। তখনও আমাদের সাংবাদিকরা কলম ধরেছে, তাদের এই কাজ যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাব পোষণ করত, তােদর জন্য অনুপ্রেরণা ছিল।
তিনি বলেন, একজন রিপোর্টারের নীতি হবে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখা। সকল বাধাকে সততার সঙ্গে মোকাবেলা করা। সাংবাদিককে নির্মোহ হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ২৩ দিনের লম্বা ছুটিতে যাচ্ছে জবি
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, সাংবাদিকতায় সকল বিভাগের শিক্ষার্থী আসে। সাংবাদিকতার কর্মশালায় যারা অন্য বিভাগ থেকে আসে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেখনিতে ভালো কাজের সুনাম ও মন্দ কাজের সমালোচনা করতে হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রথমে মনে রাখা দরকার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পরে রিপোর্টার।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো রেজাউল করিম বলেন, সাংবাদিকতার নীতি ও দায়বদ্ধতা সাংবাদিকদের অনুধাবন করতে হবে। তবেই এ পেশায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আমরা যে কাজেই যাই, সেটা অনুধাবন করতে হবে। সাংবাদিকতা করতে হবে ফ্যাক্টভিত্তিক। ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সত্যকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সনদ গ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২৮৮ দিন আগে
১৪ বছর পর নিয়োগ পেলেন বাকৃবির ৫ শিক্ষক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দীর্ঘ ১৪ বছর পর সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাকৃবির পাঁচজন।
নবনিযুক্ত ৫ জন শিক্ষক হলেন—ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিউর রায়হান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ।
ওই পাঁচ শিক্ষক অভিযোগ করে জানান, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তারা নিয়োগ বঞ্চিত ছিলেন। এরপর আমরা দেশের বাইরে চলে যাই। দেশের বাইরে অনেক সুযোগের হাতছানি থাকার পরও বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার স্বপ্নেই আমরা দেশে ফিরে এসেছি। আমাদের ফিরে আসার সিদ্ধান্ত কোনো দলীয় বা সুবিধাবাদী সিদ্ধান্ত নয়। আমরা ক্যারিয়ারের অনেক বড় আপস করেই এসেছি। তাই আমাদের নিয়োগকে দলীয় সুবিধা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
নবনিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, ‘২০১১ সালে অনার্সে পঞ্চম ও মাস্টার্সে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও আমাকে দুইবার শিক্ষক নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, শুধুমাত্র আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে ছিলাম বলে। আমার চেয়ে কম মেধাবী প্রার্থীরাও তখন নিয়োগ পেয়েছিল। এমনকি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এনএসআই ভেরিফিকেশনেও চারটি সরকারি চাকরি হাতছাড়া হয়।’
নবনিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা বলেন, ‘২০১১ সালে কৃষি অনুষদের অনার্সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছিলাম। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে থাকার কারণে আমাকে দুইবার শিক্ষক নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।’
নবনিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সালে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। এজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে হল থেকে বের করে দেয়। বাইরে ভাড়া বাসায় থেকে অনার্সে প্রথম হই। পরে ডেনমার্ক থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করি। ২০১৮ সালে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হলে আবেদন করি, কিন্তু আমার চেয়ে পিছিয়ে থাকা একজনকে বাছাই করা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনকে ধন্যবাদ, আমাদের দেশের সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’
নবনিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ড. লামিউর রায়হান বলেন, ‘২০০৯-১০ সালে অনার্স এবং ২০১৫ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করি ৪.০০ সিজিপিএ পেয়ে। আমি প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেলও পেয়েছি। ২০১১ সালের ৫ জুন ছাত্রলীগের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমাকে ও আরও ৬৬ জনকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় আমার হাত ও পা ভেঙে যায়। অনেক নির্যাতনের মধ্যে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করি। ২০১৫ সালের শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার সময়, তৎকালীন উপাচার্যের পাশের কক্ষে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি বাবুসহ ৮ জন অস্ত্রসহ এসে আমাকে হুমকি দিয়ে চলে যেতে বলে। তারা বলে, না গেলে গুলি করবে। তৎকালীন প্রক্টর ও প্রশাসন কোনো সহায়তা করেনি। পরে পুলিশ এসে আমাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যায়। অসংখ্য শহীদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীর ত্যাগে আজ আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি।’
জানা যায়, ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৮তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, মেধাবী প্রার্থীদের উপেক্ষা করে প্রভাবশালী শিক্ষকদের ঘনিষ্ঠজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম বাকৃবির ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।
বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি শুধু পাঁচজনের নিয়োগ নয়, এটি বাকৃবির জন্য একটি নৈতিক বিজয়। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও অনার্সে প্রথম হয়েছিলাম, তাই মেধার মূল্য কতটা তা জানি। বিগত ১৪ বছর মেধাবী অনেকেই ধর্ম, আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত কিছুটা হলেও সেই অবিচার দূর করতে। এই উদ্যোগ যেন দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রেরণাদায়ী হয় কারণ মেধা যেখানে সম্মান পায়, সেখানেই গড়ে ওঠে জাতির ভিত্তি।’
২৮৯ দিন আগে
যবিপ্রবিতে প্রযুক্তিখাতের নারীদের উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে নারীদের ক্যারিয়ার ও নেতৃত্বের ভূমিকায় অগ্রগতি অর্জনের জন্য কৌশলসমূহ নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১১টায় যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের ডিজিটাল ক্লাসরুমে ‘স্ট্রাটেজিস ফর উইমেন ইন আইসিটি টু অ্যাডভ্যান্স দেয়ার ক্যারিয়ারস অ্যান্ড লিডারশিপ রুলস’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে যবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগ ও ইমপ্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারসিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (আইসিএসইটিইপি)।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ গঠনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল বাধা পেরিয়ে দেশ তথা জাতি গঠনে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের এই বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বের বুকে যবিপ্রবির নাম উজ্জ্বল করবে। এই সেমিনার থেকে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্বগুণে এগিয়ে যাবে এবং পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করবে বলে আমি মনে করি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের হাত ধরেই যবিপ্রবি হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়।
সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিএসইটিইপির উইমেন আইটি লিডারশিপ স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. শাহিনা সুলতানা ও স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সিনিয়র সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার কানজুম আতিয়া বিনতি।
বক্তারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নারীদের ক্যারিয়ার এবং নেতৃত্বের ভূমিকায় অগ্রগতি অর্জনের জন্য কৌশলসমূহ ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও আইসিএসইটিইপির পিইইউ ড. মো. আলম হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল ইসলাম।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মো. আমজাদ হোসেন, সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন, ড. মোহাম্মদ নওশীন আহমেদ শেখ, ড. মো. নাসিম আদনান, প্রভাষক এসকে. সালাউদ্দিন কবির, জুবায়ের আল মাহমুদসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেমিনারটি পরিচালনা করেন সিএসই বিভাগের প্রভাষক আবু রাফে মো. জামিল।
২৯০ দিন আগে
সাম্য হত্যার বিচারসহ ঢাবি শিক্ষার্থীদের চার দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডর ঘটনা রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল শিক্ষার্থী। এ সময়ে সাম্য হত্যার বিচার নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাম্য হত্যাকাণ্ডর দ্রুত বিচার, দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনিক গাফিলতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা, দেশজুড়ে নাগরিক নিরাপত্তার বেহাল দশা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে তারা সাম্য হত্যাকাণ্ডের একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তদন্তের দাবি জানান।
এ ছাড়া, প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, তদন্তের প্রতিটি ধাপ জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং দায়িত্বহীনতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়র প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ড, রাতের আধাঁরে শেখ হাসিনার ঘৃণাস্তম্ভে গ্রাফিতি মুছে ফেলা, বিশ্ববিদ্যালেয়ের চারুকলার শোভাযাত্রার মোটিফে আগুন দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করেন শিক্ষার্থীরা।
সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নানা স্তরে গভীর শূন্যতা ও সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বেহাল দশা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান মিশু। তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের প্রতিটি ধাপ জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে তাদের দায়িত্বহীনতার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা।’
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্য ছিল একজন সদা সক্রিয় তরুণ, যিনি গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড তাই ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বুকে এক রক্তাক্ত আঘাত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চাই। পাশাপাশি আমরা চাই এই হত্যার পেছনে কাঠামোগত ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির ও স্থায়ী সংস্কার।’
চার দফা দাবিগুলো হলো— দ্রুততম সময়ে শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, দায়িত্বগ্রহণের পর গত নয় মাসে ক্যাম্পাসে দুই হত্যাকাণ্ডসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ, গত নয় মাসে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী সব ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাস এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার, মাদক-সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করাসহ সার্বিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা।
২৯১ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও বিভাগে তালা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) তাজবিউল ইসলাম নামের এক অযোগ্য প্রার্থীকে অনিয়মের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরেও বিভাগে যোগদানের চিঠি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বিভাগে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি অযোগ্য শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে তাজবিউল ইসলাম নামের এক প্রার্থীকে পিএমই বিভাগে নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রশাসন। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইইএসটি), শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী। স্নাতকে তিনি সিজিপিএ ৭.৩৫ অর্জন করেন। ভারতের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট সিজিপিএ ১০ পয়েন্টে হিসাব করা হলেও শাবিপ্রবিসহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ৪ পয়েন্টের।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর যোগ্যতা চাওয়া হয় স্নাতক সিজিপিএ কমপক্ষে ৩.৫০। কিন্তু তাজবিউলের স্নাতকের সিজিপিএ ৭.৩৫-কে সিজিপিএ ৪-এ পরিবর্তন করলে তা ৩.৫০-এর চেয়ে কম হয়। তবে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই ওই বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় তাজবিউলকে।
আরও পড়ুন: শাবিপ্রবির শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ১
এ নিয়ে এ নিয়ে গত বছরের ৯ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্তে ও ২৩৫তম সিন্ডিকেটে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল আছেন এই শিক্ষক। ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।
পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছি এই অযোগ্য শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করার জন্য। দ্রুত তার নিয়োগ বাতিল করার দাবি জানিয়ে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি।’
এ ব্যাপারে পিএমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে প্রমাণিত ও সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও এই ক্যান্ডিডেটকে চিঠি দিয়েছে বিভাগে যোগদান করার জন্য। দীর্ঘদিন আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও দাবি জানিয়ে আসছেন কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।’
২৯১ দিন আগে
শাহবাগ ছেড়েছে ছাত্রদল, যান চলাচল স্বাভাবিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় টানা দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা শাহবাগ ছেড়ে যায়, এতে আশেপাশের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
রবিবার (১৮ মে) বিকাল পৌনে ৪টায় তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সেখানে বিক্ষোভ চালায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসন নিপাত যাক’ প্রভৃতি স্লোগানে মুখর করে তোলে শাহবাগ এলাকা। আন্দোলনে ঢাবিসহ রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনকারীরা সাম্য হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমেদের পদত্যাগের দাবি জানান।
ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। এর আগে একই দাবিতে কালো পতাকা মিছিল করেছে ঢাবি ছাত্রদল।আরও পড়ুন: ঢাবির সাম্য হত্যাকাণ্ড: ৬ দিনের রিমান্ডে তিনজন
দুপুর ২ টার দিকে ঢাবির ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে অপারেজেয় বাংলায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘যে প্রশাসনের ওপর ছাত্রসংগঠনগুলোর আশা ভরসা ছিল, সেই আশা ভরসার জায়গা নষ্ট করেছে এই ভিসি-প্রক্টর।’
এদিকে, জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে।
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘সাম্য হত্যা আইওয়াশ গ্রেপ্তারে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের না করলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’
২৯২ দিন আগে