শিক্ষা
অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সাত কলেজের
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হলে সোমবার থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
তবে ছাত্র প্রতিনিধিরা জানান, তারা এবার দাবি আদায়ের সময় জনদুর্ভোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করবে। শনিবার (১৭ মে) ইডেন মহিলা কলেজের ভেতরে ১ নম্বর ফটকের কাছে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি• অন্তর্বর্তী প্রশাসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশের পাশাপাশি ভুতুড়ে ফলের সমাধান• বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধসহ যাবতীয় অসংগতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ• অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ• আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা ও লোগো/মনোগ্রাম প্রকাশ এবং আগামী এক মাস তথা ১৬ জুনের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া।
আরও পড়ুন: সাত কলেজ নিয়ে যৌক্তিক সমাধান আসবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জাফরিন আক্তার ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান।
ঢাকার এই সাত সরকারি কলেজ হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ। শিক্ষক এক হাজারের বেশি।
উল্লেখ্য, এই কলেজগুলো একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। পরে ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।
তবে অধিভুক্তির পর থেকে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া, ফল প্রকাশসহ বিভিন্ন দাবিতে সময়-সময় আন্দোলন করে আসছিলেন এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিগত আট বছরে সমস্যাগুলো বড় আকারে রূপ নেয়। শুরু হয় নানা আন্দোলন।
সবশেষ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে এই সাত কলেজকে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথকীকরণ এবং কলেজগুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি সভা করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কাছে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আহ্বান করেছিল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
আরও পড়ুন: সাত কলেজ সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আহ্বান ইউজিসির
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব কলেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না। অর্থাৎ, উল্লেখিত সেশন থেকেই সাত কলেজ নিয়ে নতুন করে গঠিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে’ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেছে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধ্যাদেশ ১৬ জুনের মধ্যে জারি ও নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২৯৩ দিন আগে
বাকৃবির গবেষণায় মানুষের অন্ত্রে ক্ষতিকর পরজীবী শনাক্ত
মানুষের অন্ত্রে ক্ষতিকর কয়েকটি পরজীবী জীবাণুর সংক্রমণের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যারাসাইটোলজি বিভাগের একদল গবেষক। বিশেষ করে বস্তির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে এই জীবাণুর সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। এমনকি সেখানকার প্রাণীদের শরীরেও এর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে গবেষক দলটি।
ময়মনসিংহ শহরের রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন একটি বস্তি এলাকার মানুষ ও প্রাণীর ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এই গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে যা রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন গবেষকরা।
বাকৃবির প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে গবেষক দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বেনী আমীন ও স্নাতক শিক্ষার্থী মো. আশিকুজ্জামান।
অধ্যাপক ড. সহিদুজ্জামান ইউএনবিকে বলেন, “আমাদের এই গবেষণাটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিনটিকে আলাদা করে না দেখে ‘ওয়ান হেলথ’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।”
গবেষণাটির পদ্ধতি সম্পর্কে বেনী আমীন বলেন, ‘রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন বস্তি এলাকার হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, কবুতরসহ শিশু ও বয়স্কদের মল, পানির নমুনা ও মাটির ১০২টি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। পশুপাখি থেকে কিছু কিছু জীবাণু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। আমরা এই জীবাণুগুলোই শনাক্ত করার চেষ্টা করেছি।’
আশিকুজ্জামান বলেন, “সংগৃহীত নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে এনে প্রথমে ডিএনএ নিষ্কাশন করা হয়। পরে ‘পিসিআর ও সিকোয়েন্সিং’ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণুগুলো শনাক্ত করা হয়েছে।’
গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে অধ্যাপক সহিদুজ্জামান বলেন, ‘গবেষণায় মানবদেহে ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম—এমন তিনটি অন্ত্রে বসবাসকারী পরজীবী, যথা: ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম, ব্লাস্টোসিস্টিস ও জিয়ারডিয়ার প্রজাতি ও উপপ্রজাতি (সাব টাইপ) শনাক্ত হয়। এসব জীবাণুর জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই, কিছু কিছু উপপ্রজাতি পশুপাখি থেকে মানুষে, আবার মানুষ থেকে পশুপাখিতে সংক্রমিত হতে পারে।’
আরও পড়ুন: সনদ পেলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ নেপালি শিক্ষার্থী
এ ছাড়া, পয়নিষ্কাশনের পানি, দূষিত মাটি ও মল থেকে জীবাণু পুকুর, ডোবা বা নালায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওই পানিতে গোসল করা, কাপড় পরিষ্কার করা বা বাসনপত্র ধোয়ার সময় মানুষ সংক্রমিত হতে পারে বলে জানান তিনি।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, পরিত্যক্ত আবর্জনা থেকে গরু-ছাগলসহ অন্যান্য প্রাণী এসব পরজীবীতে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে সেগুলোর সংস্পর্শে এসে মানুষেরও সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ওই জীবাণুগুলোর সংক্রমণের কারণ নিয়ে অধ্যাপক সহিদুজ্জামান বলেন, ‘বস্তি এলাকার অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন, যত্রতত্র পশুপাখির বিচরণ ও ময়লা-আবর্জনার কারণে সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এসব পরজীবীর সংক্রমণের অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করছে। এসব দূষিত পানি ও মাটির সংস্পর্শে এসে মানুষ ও প্রাণী উভয়েই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।’
তিনি জানান, গবেষণায় ব্লাস্টোসিস্টিসের সর্বাধিক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি ২৪টি নমুনায় শনাক্ত হয়েছে। মানব শরীরে এর উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও ছাগল, গরু ও হাঁস-মুরগির মধ্যে এটির ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। ছাগলের মধ্যে এই পরজীবীর উপস্থিতি ছিল শতভাগ, যা গবেষকদের বিস্মিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘গবেষণায় ব্লাস্টোসিস্টিসের সাতটি ভিন্ন সাব টাইপ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে এসটি২ ও এসটি৩ শুধু মানুষের দেহে পাওয়া গেছে, আর এসটি২৩ ও এসটি২৪ প্রাণী ও পাখির দেহে পাওয়া গেছে। একই বাড়ির মধ্যে থাকা ছাগল ও মুরগির শরীরে একই রকম উপপ্রজাতি পাওয়া গেছে।’
‘বিভিন্ন পশু ও পাখির দেহে একই ধরনের ব্লাস্টোসিস্টিসের সাবটাইপের উপস্থিতি এসব পশু-পাখির মধ্যে সংক্রমণের বিষয়টিকে প্রমাণ করে।’
ওই গবেষক আরও জানান, ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম ধরা পড়েছে ৮টি নমুনায়, যার মধ্যে একটি ছিল মানুষের নমুনা। ওই রোগীর শরীরে ‘ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম পারভাম’ এর একটি বিশেষ সাব টাইপ শনাক্ত হয়েছে, যা সাধারণত প্রাণীর মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়াও তিনটি ছাগল ও তিনটি মুরগির শরীরেও এই পরজীবীটি পাওয়া গেছে। মাটির একটি নমুনায় ‘ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম মেলিয়াগ্রেডিস’ পাওয়া গেছে, যা এক ধরনের পাখিজনিত পরজীবী।
তবে ‘জিয়ারডিয়া ইন্টেসটাইনালিস’ পাওয়া গেছে শুধুমাত্র একটি মাটির নমুনায়, যা সেখানকার প্রাণী বা মানুষের মল থেকে এসেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক সহিদুজ্জামান।
মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিকার নিয়ে এই গবেষক বলেন, বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর এলাকায় অন্ত্রপরজীবী জীবাণুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে পশুপাখির মল নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষণ, সুপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে এসব জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
গবেষণার সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে অধ্যাপক ড. সহিদুজ্জামান বলেন, ‘এই গবেষণা একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। অর্থাৎ এটি ছিল ছোট পরিসরে প্রাথমিক অনুসন্ধান। তবে এতে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও বিস্তৃত গবেষণার জন্য ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
যদি দেশের অন্যান্য বস্তি অঞ্চল, গ্রামীণ এলাকা ও শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতেও এ ধরনের গবেষণা চালানো যায়, তবে পরজীবী সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে আসবে বলে ধারণা তার।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আরও বিস্তৃত ও গভীর গবেষণায় এগিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান এই গবেষক।
২৯৩ দিন আগে
সনদ পেলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ নেপালি শিক্ষার্থী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ১২ নেপালী শিক্ষার্থী স্নাতক সনদ পেয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী নেপালি শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘ছোট-বড় টিলা ঘেরা সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ভাল লাগার চারণভূমি হয়ে উঠছে।’
সে ধারাবাহিকতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা সিকৃবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষে নিজ নিজ দেশে গিয়ে কর্মক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রাখছেন বলেও জানান তিনি।
সনদপত্র গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন, ২০১৮ -২০১৯ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম কুমার ইয়াদব, সুরাজ সাহা, দেবরাজ চৌধুরী, ধর্ম নারায়ন ইয়াদব, অস্মিতা রাই, রোজ কমল চৌধারী এবং ২০১৯- ২০২০ শিক্ষাবর্ষের অঙ্কিত গুরু, রেশমা থাপা, বিষ্ণু সাহী, মাধব কৈরালা, মিরাজ বহরা, সিরাজুল হামাল।
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও, আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
সনদপত্র প্রদান শেষে সিকৃবি উপাচার্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় পারদর্শিতা অর্জনেরও পরামর্শ দেন।
সিকৃবিতে ২০১৯ সালে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভেটেনারি, এনিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদে ৬ জন নেপালি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে ১৮৯ ক্রেডিট সম্পন্ন করে ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ২০২০ সালে ২০১৯ -২০২০ শিক্ষাবর্ষে কৃষি অনুষদে ৬ জন নেপালি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে ১৯০ ক্রেডিট সম্পন্ন করে বিএসসিএজি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুব ই ইলাহী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আসাদ উদ দৌলা, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন, গণসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ খসরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মামুন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ গোলাম রসুল প্রমুখ।
২৯৪ দিন আগে
বোতলকাণ্ডে আটক জবি শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর
বোতলকাণ্ডে অভিযুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পর শুক্রবার (১৬ মে) বিকালে ইশতিয়াক হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থীকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দিকে বোতল ছুঁড়ে মারা ইশতিয়াক হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: উপদেষ্টা মাহফুজের ওপর ‘প্রতীকী বোতল’ নিক্ষেপ
এর আগে, শুক্রবার বিকালে যমুনা অভিমুখের কাকরাইল মোড়ে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিতে জবি শিক্ষার্থীরা ইশতিয়াক হোসেনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তদন্ত ব্যতীত কোন পদক্ষেপ নিলে ডিবি কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বুধবার রাতে কাকরাইল মসজিদের সামনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রাত ১০টার দিকে তিনি সেখানে পুলিশি ব্যারিকেটের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎই তাকে লক্ষ্য করে একটি পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয়। বোতলটি গিয়ে উপদেষ্টার মাথায় লাগে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বোতলকাণ্ড ঘটানো শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপর প্রতীকী বোতল নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: জবি শিক্ষার্থীদের গণঅনশন শুরু
সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি প্লাস্টিকের ঝুড়িতে ‘সান্ডা মাহফুজ’ লেখা সাঁটিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর পালাক্রমে শতাধিক শিক্ষার্থী বোতল নিক্ষেপ শুরু করেন।
এছাড়াও, এদিন যমুনা অভিমুখের কাকরাইল মসজিদ মোড়ে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ মে) বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনশন শুরু করেন তারা। অনশন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন জবির শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইঁয়া।
জবি শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো- আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঁটছাট না করেই অনুমোদন করতে হবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২৯৪ দিন আগে
সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও, আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ থানা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে হত্যায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।শুক্রবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ‘বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ’ ব্যানারে থানার সামনে অবস্থান নেন।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের সামনে জড়ো হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে, মিছিল নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য হয়ে থানার দিকে এগিয়ে যান তারা।
এ সময় সাম্য হত্যার বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
পরে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে গঠিত আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল শাহবাগ থানায় প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. অসীম দাসসহ ৪ জন শিক্ষার্থী এই দলে ছিলেন।
আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তের হাতে ঢাবি শিক্ষার্থী খুন: ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিলে বহিরাগত!
থানা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, এটি একটি নির্দলীয় আন্দোলন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাম্যর মৃত্যু নিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের একমাত্র দাবি সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও জানান, ‘ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
আজ একটি মাত্র দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানান এ শিক্ষার্থী। তবে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে, আবারও থানা অবরোধের হুশিয়ারি দেন ইব্রাহিম।
মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।
২৯৪ দিন আগে
উপদেষ্টা মাহফুজের ওপর ‘প্রতীকী বোতল’ নিক্ষেপ
তৃতীয় দিনের মতো জবি শিক্ষার্থীদের অবস্থানস্থলে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপর প্রতীকী বোতল নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকাল ৪টায় কাকরাইল মসজিদ মোড়ে শিক্ষার্থীরা এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংলগ্ন রাস্তার উপর তিনটি প্লাস্টিকের ঝুড়িতে 'সান্ডা মাহফুজ' লেখা সাঁটিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর পালাক্রমে শতাধিক শিক্ষার্থী বোতল নিক্ষেপ শুরু করেন।
এই সময় আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, তার মাথায় বোতল নিক্ষেপের ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের শিক্ষকরা তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন। উপদেষ্টা মাহফুজের উদ্ধতপূর্ণ আচরণকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
আরও পড়ুন: জবি শিক্ষার্থীদের গণঅনশন শুরু
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাওন বলেন, বোতল নিক্ষেপের মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওনি আমাদের সাথে কথা না বলে চলে গেছেন। সরকারের একজন ছাত্র প্রতিনিধি হয়েও আমাদর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। পুলিশ আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করেছে। ওনি এটার জন্য আমাদের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে পুলিশের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা আজকে সান্ডা মাহফুজের উপরে প্রতীকী বোতল নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করছি।
এর আগে গত বুধবার থেকে যমুনা অভিমুখে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। সবশেষ খবর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সমাবেশ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০টি বাস চক্রাকারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলস্থলে নিয়ে আসছেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। চলমান আন্দোলনের চার দফা দাবি হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন দেওয়া, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাশ ও দ্রুত বাস্তবায়ন, গত ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২৯৪ দিন আগে
জবি শিক্ষার্থীদের গণঅনশন শুরু
শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের দাবিতে যমুনা অভিমুখের কাকরাইল মসজিদ মোড়ে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনশন শুরু করেন তারা। অনশন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইঁয়া।
এর আগে বিকাল ৩টায় সমাবেশে জবি ঐক্যের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে আমাদের আর পেছনে ফেরার জায়গা নেই। আমরা বিকাল সাড়ে ৩টায় অনশন কর্মসূচি শুরু করব। বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরছি না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন এ ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাকরাইল মোড়েই অবস্থান করবেন শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের নিকট আমাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মেরেছে কিন্তু আমাদের অধিকারের বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। এমনকি ৩৫ ঘণ্টা পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন। সরকার থেকে কোনো বার্তাও আসেনি।
আরও পড়ুন: জবি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ শুরু
তিনি আরও বলেছেন, দাবি আদায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাল জুম্মার পরে গণঅনশন শুরু করবে। এতে সকল সাবেক ও বর্তমান জবিয়ানদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকদের উপর পুলিশের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো- আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঁটছাট না করেই অনুমোদন করতে হবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২৯৪ দিন আগে
জবি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ শুরু
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জুমার নামাজ শেষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাকরাইল মোড়ে সমাবেশ শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ মে) সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, এই ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী) সরকার আমাদের রক্তের সরকার। আমাদের আন্দোলনে রেখে আপনারা এসিতে বসে থাকবেন না। আপনারা জেগে উঠুন। আমাদের দাবিতে দাবিতে আপনাদের ঘুম ভেঙে যাবে।
আরও পড়ুন: আন্দোলন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে যে বার্তা দিলেন জবিসাস সেক্রেটারি
সমাবেশে (জবি) ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি ঘুম থেকে উঠুন, আর ঘুমাবেন না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার যৌক্তিক দাবিতে আপনার দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুনতে চায়, আপনি আমাদের জন্য কী বার্তা নিয়ে আসেন।’
এর আগে, গত বুধবার থেকে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান করছেন জবি শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সমাবেশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০টি বাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলস্থলে নিয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
চলমান আন্দোলনে তাদের দাবিগুলো হলো—
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা।
২. জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন দেওয়া।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
৪. ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২৯৪ দিন আগে
শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেনি সরকার: হাদী
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদী বলেছেন, `আমরা কথার জবাব কথা দিয়ে দিব। কোনোভাবেই কোনো হামলা দিয়ে নয়। আমরা দেখেছি, আমাদের পিতৃতুল্য শিক্ষকরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু তাদের ওপর যে পেটোয়া বাহিনী হামলা করলো, তার জন্য কি সরকার থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে? করেনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানীর কাকরাইলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেন।
এ সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, মনে রাখবেন, একপাক্ষিক মহানুভবতা ভালো কিছু বয়ে আনে না।
‘বর্তমানে দেশের সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগে আছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির প্রশ্নে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সকল সংগঠন এক হয়েছে। তাদের বলবো—আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকেন,’ যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: জবির চলমান আন্দোলনে যোগ দিলেন সাবেক শিক্ষার্থীরা
এদিকে চারদফা দাবিতে টানা ত্রিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঁটছাট না করেই অনুমোদন করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে; শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী পুলিশদের বিচারেী আওতায় নিতে হবে।
২৯৫ দিন আগে
সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে জাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা ঢাবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টরের পদত্যাগ ও দেশব্যাপী নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন তৈরির দাবি জানান।
আরও পড়ুন: জাবিতে ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের’ পরিচয়ধারী এক ভুয়া শিক্ষার্থী আটক
এসময় জাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব অসীম আহমেদ অনীক বলেন, কিছুদিন আগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভেজ আনোয়ার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হয়েছেন। গত পরশুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা নিজ ক্যাম্পাসে খুন হলেন। কিন্তু ইন্টেরিম সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে নির্লিপ্ত।
তিনি আরও বলেন, আমরা ন্যায়বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্যাম্পাস নিরাপদ হবে এবং শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের নিরাপদ বোধ করবে না ততক্ষণ আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ইন্টেরিম সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারবে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় কিছুদিন আগে ছাত্রদল নেতা পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ও ঢাবির ছাত্রদল নেতা নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য তার নিজের ক্যাম্পাসে খুন হয়েছে। যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই, ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং ঢাবির উপাচার্যের ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
২৯৫ দিন আগে