শিক্ষা
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে ঢাবিতে মিছিল
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই প্রধান উপদেষ্টার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, জুলাই গণহত্যায় আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত এবং প্রধান উপদেষ্টার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নেই এ বক্তব্য প্রত্যাখানের দাবিতে হল থেকে রাস্তায় বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে একদল শিক্ষার্থী।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে শুরু হয়ে মল চত্বর, ভিসি চত্ত্বর হয়ে টিএসসিতে এসে শেষ হয়।
পরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চায় না ছাত্রজনতা। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেয়া মানে জুলাই শহীদের সঙ্গে প্রতারণা করা।
মিছিলে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, আওয়ামী লীগকে ফেরাতে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রে যারা মদত দেবে, তারা যেই হোক না কেন ছাত্রসমাজ রুখে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন: গুলশানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
আরেক শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা নেই। দেড় হাজার মানুষ হত্যার পর তারা ক্ষমা পর্যন্ত চাননি। অথচ সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করতে এখন থেকে নানা ফন্দি-ফিকির হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দিবে না ছাত্রসমাজ।
যতদিন পর্যন্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হবে, ততদিন পর্যন্ত লড়াই চলবে জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা বলেন, জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার হতেই হবে। গণভোটের মাধ্যমে হলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তার আগ পযন্ত কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময়, শুক্রবার বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভের আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
৩৫১ দিন আগে
গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজার নিরপরাধ মানুষদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মার্চ ফর প্যালেস্টাইন কর্মসূচি পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত সোয়া ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।
এসময় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব হাসানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বুকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ইহুদিবাদী শক্তি। তারা আমেরিকার মদত পেয়ে বার বার আইন লঙ্ঘন করে চুক্তি অমান্য করে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেইসাথে অনতিবিলম্বে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বশক্তিগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।’
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস; স্টপ জেনোসাইড, জাস্টিস ফর প্যালেস্টাইন; নেতানিয়াহুর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে; নেতানিয়াহুর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও; অবৈধ ইসরায়েলের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে; স্বৈরাচার নিপাত যাক, ফিলিস্তিন মুক্তি পাক; উই ওয়ান্ট জাস্টিস, ফ্রি ফ্রি ফিলিস্তিন; ফ্রম দ্যা রিভার টু দ্যা সী, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’ এসব স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার আহবায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে অবৈধ ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী। তারা নির্বিচারে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের হত্যা করছে। আমরা এ-ও দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র ইহুদিবাদীদের মদত দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, তোমরা যদি নিরপরাধ মানুষদের উপর বর্বরোচিত হামলা বন্ধ না করো, তাহলে দুইশত কোটি মুসলমান তোমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আলী জাকি শাহরিয়ার বলেন, ‘ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হাতে লাখো ফিলিস্তিনের রক্তের দাগ লেগে আছে। তাদের ইতিহাস বেইমানির ইতিহাস, তাদের ইতিহাস অবাধ্যতার ইতিহাস। তারা আল্লাহর সাথে বার বার বেইমানি, অবাধ্যতা করেছে। জাতি হিসাবে তারা অকৃতজ্ঞ, অভিশপ্ত। অথচ তারা আজ সভ্যতার নীতিকথা শোনায়। এটা অত্যন্ত লজ্জার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুসলমান। আমরা মরতে ভয় পাই না, আমাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ ইতিহাস, ইহুদিবাদী অপশক্তিকে রুখে দিয়ে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনের মাটিতে আবারো আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের জাবি শাখার আহবায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘ফিলিস্তিনের নিরপরাধ জনগণ আজকে নিজ দেশে পরবাসীর মতো বসবাস করছেন। উদ্বাস্তু হয়ে বিশ্বের নানান প্রান্তে শরণার্থী শিবিরগুলোয় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা আজ নিজ ভূমি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন জায়নবাদী অপশক্তিদের কারণে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আফসোস করে বলতে হয়, যারা সভ্যতার বুলি আওড়ায় তারা ফিলিস্তিনের বেলায় চুপ হয়ে যায়। আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই যতদিন না ফিলিস্তিনের উপর হামলা বন্ধ হবে, ততদিন প্রতিবাদ চলমান থাকবে।’
৩৫২ দিন আগে
হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেট পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
ভোকেশনাল ও পলিটেকনিক থেকে পাশ করা প্রকৌশলীদের একই গ্রেডে অন্তর্ভুক্তির হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে একটি মিছিল নিয়ে কাজির বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় তারা।
এ সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: জাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আটক রিকশাচালক নির্দোষ: দাবি পরিবারের
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা চারবছর ডিপ্লোমা করার পর চাকরিতে দশম গ্রেড পান। অথচ ভোকেশনাল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে দশম গ্রেডে চাকরি পাবে, এটা যৌক্তিক না। হাইকোর্টের আদেশের ফলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরিপ্রাপ্তি সংকুচিত হবে। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
অন্যথায় ক্লাস, পরীক্ষা বর্জনসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
৩৫২ দিন আগে
ঈদ উপলক্ষে ১৬ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাবি
আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে মোট ১৬ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুসারে, পবিত্র রমজান, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২৩ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৬ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১২ দিন।
অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান জানান, আগামী ২৫ মার্চ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ কর্মদিবস। এরপর বুধবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের ছুটির মাধ্যমে অফিস বন্ধ হয়ে আগামী ৭ এপ্রিল সোমবার থেকে পুনরায় অফিস কার্যক্রম শুরু হবে।
আরও পড়ুন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাবিতে হামলা: ২৮৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৯ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
তিনি বলেন, ‘তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) পর্যন্ত চলবে। এরপর ছুটি শুরু হবে। এ কারণে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষা-বন্ধ থাকবে।’
গত ২ মার্চ রমজান মাস শুরু হয়। সেই হিসেবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ৩১ মার্চ বা ১ এপ্রিল দেশে ঈদ উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩৫৩ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাবিতে হামলা: ২৮৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৯ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
বিগত জুলাই আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নিন্দনীয় হামলার অভিযোগে ২৮৯ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং পুলিশি হামলায় সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ (সিন্ডিকেট)। বহিষ্কৃত সকল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো।
সোমবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন (রেজিস্ট্রার বিল্ডিং)-এ সকাল ১১ টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত চলা সিন্ডিকেট সভার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে দিবাগত রাত সোয়া ৩টায় সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং কালে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান।
আরও পড়ুন: জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ: শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ে কম নম্বর পেলেন শিক্ষার্থী
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন, সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ,সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক প্রাক্টর অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল, ইতিহাস বিভাগের অধ্যপক হোসনে আরা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সাবেক প্রক্টর নাজমুল হাসান তালুকদার এবং পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন সিকদার
জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে আরও ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে অনুষদভিত্তিক ছয়টি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্ট্রাকচারাল কমিটির আওতায় অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক কানন কুমার সেন, পলাশ বাহা, শফি মোহাম্মদ তারেক, জহিরুল ইসলাম খন্দকার, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মনির উদ্দিন শিকদার, সাইদুর রহমান, আনোয়ার খসরু পারভেজ, মুহিবুর রউফ শৈবাল, এ এ মামুন।
এছাড়াও শিক্ষকদের পাশাপাশি আরও ২ জন অফিসারকে (রাজিব, নাহিদুর) এবং ১ জন কর্মচারীকে (মুজিব হল) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হলোঃ
শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আলম এবং তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসান অবসরে চলে যাওয়ায় তাদের অবসরকালীন ভাতা (পেনশন) সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের গত কয়েক মাস ধরে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ পরিবারের নামে জাবিতে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেখ মুজিব হল, শেখ হাসিন হল ও শেখ রাসেল হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে নতুন নামকরণের বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিজে, গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা শূট্যার শামীম মোল্লা হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ প্রদান করা হয়েছে। তাদের শাস্তি পূর্বের সিন্ডিকেট সভার দিন থেকে শুরু হবে। সেই হিসাবে অভিযুক্তদের শাস্তির মেয়াদ আগামীকাল বুধবার (১৯ মার্চ) থেকে শেষ হবে। সেইসাথে সাবেক আরও ২ শিক্ষার্থীর সনদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া, চারুকলা অনুষদের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি হবে ক্যাম্পাসের প্রান্তিক গেইট এলাকায়। সেইসাথে এই অনুষদে ক্যালিগ্রাফি এ্যান্ড টাইপোগ্রাফি, ইসলামিক আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার নামের নতুন দুইটি বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ব অনুষদ চালুর ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় ২৮৯ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি ভোগ করবে। যাদের ছাত্রত্ব শেষ তাদের সনদ বাতিল করা হবে। যারা পরীক্ষা বা ভাইবা দিয়েছে তাদের ফলাফল স্থগিত করা হবে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলায় সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও ১০জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য অনুষদভিত্তিক ছয়টি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাবিতে শিশু আছিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত
উল্লেখ্য, ১৫ই জুলাই সন্ধ্যায় জাবি শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের ঘৃণ্য হামলা এবং মধ্যরাতে ছাত্রলীগ-টোকাই-পুলিশের ত্রিমুখী সশস্ত্র হামলায় সাংবাদিকসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।
সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৫ জুলাইকে জাবির কালোরাত হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৩৫৪ দিন আগে
জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে ঢাবির ১২৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলার বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোমবার(১৭ মার্চ) ঢাবি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামসুদ্দিন আহমেদ।
বহিষ্কৃতদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ১২৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন: চুয়েট ছাত্রলীগের ১৯ নেতা বহিষ্কার
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আরও রয়েছেন প্রক্টর স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ কাজী মাহফুজুল হক স্বপন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকসহ বেশ কয়েকজন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জড়িতদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রক্টর আরও উল্লেখ করেন, ৫০০ পৃষ্ঠার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলাদা একটি কমিটিও কাজ করছে।
৩৫৪ দিন আগে
চুয়েট ছাত্রলীগের ১৯ নেতা বহিষ্কার
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (১৭ মার্চ) শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহবুবুল আলমের সই করা পৃথক ২১টি বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে শৃঙ্খলা কমিটির ২৮১তম সভায় (জরুরি) এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরমধ্যে ৭ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থায়ীভাবে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার ও আবাসিক হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে ১২ শিক্ষার্থীকে। বহিষ্কৃতরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চুয়েট শাখার সাবেক নেতা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে সভায় শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ জনকে ২ বছর ও বাকি ৩ জনকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
আরও পড়ুন: চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বাসচালক গ্রেপ্তার
দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজয় হোসেন, সাবেক সহসভাপতি মো. ইমাম হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌফিকুর রহমান।
এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌমিক জয়, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম ও তাহসিন ইশতিয়াক।
আবাসিক হল থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি তোফাইয়া রাব্বি, মো. সাদিকুজ্জামান, ইউসুফ আবদুল্লাহ, মো. তানভীর জনি, ইফতেখার সাজিদ ও শাকিল ফরাজী; সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, মাহমুদুল হাসান, মো. রিফাত হোসাইন, মইনুল হক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফানুল করিম ও আবদুর রহমান।
৩৫৪ দিন আগে
কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আসন প্রতি লড়বেন ২৫ ভর্তিচ্ছু
কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ের ডিগ্রি প্রদানকারী নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় তিন হাজার ৮৬৩টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৯৪ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থী। এই হিসাবে প্রতিটি আসনে গড়ে লড়বেন ২৫ জন ভর্তিচ্ছু।
সোমবার (১৭ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান।
আগামী ১২ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।
আরও পড়ুন: এবার গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে গেল দিনাজপুরের হাবিপ্রবি
দেশের ৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হল: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ; গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর; শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী; চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম; সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট; খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা; হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ; এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম।
উল্লেখ্য, গত বছর কৃষি গুচ্ছভুক্ত ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট আসন ছিলো ৩ হাজার ৭১৮টি, বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৭৫ হাজার ১৭ জন।
৩৫৪ দিন আগে
জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ: শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ে কম নম্বর পেলেন শিক্ষার্থী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থীর গবেষণার রিপোর্টে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
তারা হলেন—প্রভাষক অশীষ কুমার দত্ত ও অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে জাবি উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্রটি পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রবিন হোসেন।
এতে বলা হয়, ‘গত ৫ মার্চ আমার অনার্স ৪র্থ বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। আমি গত ১০ মার্চ ফলাফলের গ্রেডশিট উত্তোলন করি। সেই গ্রেডশিটে আমার ‘রিসার্চ রিপোর্ট’ কোর্সে ‘ডি’ গ্রেড দেখতে পাই, যা আমার প্রত্যাশার চেয়ে বহুলাংশে কম। বিগত বছরে অনার্সের কোনো পরীক্ষায় আমি ‘ডি’ গ্রেড পাইনি। আমার বিভাগের ‘ওয়াইল্ডলাইফ’ ব্রাঞ্চের কিছু শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটা করেছেন। এমতাবস্থায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আমার এই রিপোর্টটির রেজাল্ট পুনঃনিরীক্ষণ না করা হলে, আমি আমরণ অনশনে বসব।’
আরও পড়ুন: জাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আটক রিকশাচালক নির্দোষ: দাবি পরিবারের
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাণিবিদ্যা বিভাগে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রজেক্ট/রিসার্স রিপোর্ট কোর্স করতেই হবে। এটা বাধ্যতামূলক। এটি দুই ক্রেডিটের একটি মূল্যায়নভিত্তিক কোর্স। এখানে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার, পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরীক্ষক হিসেবে বিভাগের অন্য দুজন শিক্ষক নম্বর দিয়ে থাকেন।’
রবিন হোসেন বলেন, ‘আমি ওয়াইল্ডলাইফ ব্রাঞ্চের প্রফেসর ড. মনিরুল হাসান খানের অধীনে আমার গবেষণা রিপোর্ট সম্পন্ন করি। যিনি অরাজনৈতিক শিক্ষক হিসাবে পরিচিত। এতে অন্য গ্রুপের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেন। আমার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরীক্ষক উভয়ই আওয়ামীপন্থি।’
‘আমি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্র দিয়েছি। আমার গবেষণা রিপোর্ট অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করুক, এতে আমার মার্কস না বাড়লে মেনে নেব, আর যদি বাড়ে তাহলে যেন তদন্ত সাপেক্ষে একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্যথায় আমি অনশনে বসব,’ বলেন ওই শিক্ষার্থী।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী মারফত জানা যায়, বন্যপ্রাণিবিদ্যা গবেষক শিক্ষকদের মধ্যে দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি আওয়ামীপন্থি, অন্যটি অরাজনৈতিক। আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নেতৃত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও জুলাই হামলায় অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, প্রফেসর ড. কামরুল হাসানসহ অন্যন্য আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা। অরাজনৈতিক গ্রুপটির নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খানসহ অন্যন্য শিক্ষকরা। তাদের মধ্যকার দ্বন্দের কারণে ভুগতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী জানান, ‘এখানে শিক্ষকদের মাঝে প্রচুর গ্রুপিং হয়ে থাকে। আমি একজন শিক্ষকের অধীনে থিসিস করেছিলাম, যার ফলে অন্যগ্রুপের শিক্ষকরা আমাকে ভাইভাতে অনেক কম মার্কস দিয়ে রেজাল্ট ধসিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ বাকি কোর্সগুলোতে আমি ভালো করেছিলাম। শুধু আমি না, আমার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটছে, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান বলেন, ‘আমার অধীনে দুজন শিক্ষার্থী কাজ করেছেন। তার মধ্যে একজনকে অকৃতকার্য করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী রবিনকে 'ডি' গ্রেড দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ একটি অস্বাভাবিক বিষয়। কেননা, আমি দেখেছি তার অন্যান্য বিষয়গুলোতে অনেক ভালো মার্কস আছে। আমি বিষয়টি বিভাগীয় প্রধানকে জানিয়েছি। অথোরিটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এটা ভালো কাজ হয়েছে। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুজ্জামান মনির বলেন, ‘মার্কস দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষা কমিটির কোনো ইখতিয়ার নেই। পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস ও বিভাগের শিক্ষকদের যোগ করা মার্কস ক্রোস চেক করেন। ওই শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে নিজের আবেদন পেশ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রশাসন এ বিষয়ে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেবেন।’
আরও পড়ুন: জাবিতে বসন্তের আগমন, প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মানছুরুল হক বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখন কিছুই বলতে পারছি না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তসাপেক্ষে একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরেছি। এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না। অভিযোগপত্র এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগপত্র সম্ভবত অফিসে এসেছে। আমার হাতে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
অভিযুক্ত দুই শিক্ষক প্রভাষক অশীষ কুমার দত্ত ও অধ্যাপক ড. কামরুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
৩৫৪ দিন আগে
ইসলামী ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
ইসলামী ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ মার্চ) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ। তিনি বলেছেন, পবিত্র রমজান একজন ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী মানুষ হতে শেখায়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী এবং সকল ধরণের মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে জাতির সেবা করার জন্য রমজানের এই আদর্শকে তাদের জীবনে ধারণ করতে পারে।
ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক সাঈদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাইয়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, অধ্যাপক আব্দুল করিম, ইসলামী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুল্লাহ, ব্যাংকার জিল্লুর রহমানসহ আরও অনেক পেশাজীবী বক্তব্য দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুল মান্নান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামা, গবেষণা, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অ্যালামনাইরা উপস্থিতি ছিলেন।
৩৫৯ দিন আগে