প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
সহিংসতায় আহতদের দেখতে কুর্মিটোলা হাসপাতাল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় সহিংসতায় আহতদের দেখতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার(৩১ জুলাই) বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে কুর্মিটোলা হাসপাতালে যান তিনি।
শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনের সময় হামলার শিকার চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: কোটাবিরোধী সহিংসতায় হারানো প্রাণ আর কখনো ফিরে আসবে না: প্রধানমন্ত্রী
আক্রান্তরা যাতে সুচিকিৎসা পান তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় আহতদের আঘাত কতটা ভয়াবহ ছিল, তা দেখেন তিনি। ভুক্তভোগীদের কাছে হামলার নৃশংসতার বর্ণনা শুনে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রহমান আহতদের চিকিৎসা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।
শেখ হাসিনা আক্রান্তদের সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি।
গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) পরিদর্শন করেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মিরপুর ১০-এর ভাঙচুর করা মেট্রোরেল স্টেশন, রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন, সহিংসতায় বিধ্বস্ত সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ভবন এবং মহাখালীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজা পরিদর্শন করেছেন।
আরও পড়ুন: সরকার পতনের জন্য সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল: ভারতীয় হাইকমিশনারকে শেখ হাসিনা
৫৮৩ দিন আগে
সরকার পতনের জন্য সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল: ভারতীয় হাইকমিশনারকে শেখ হাসিনা
দেশের সাম্প্রতিক সহিংসতাকে 'সন্ত্রাসী হামলার কাছাকাছি' বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
বুধবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় আহতদের দেখতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটি মোটেও কোনো আন্দোলন ছিল না এবং এক পর্যায়ে এটি প্রায় সন্ত্রাসী হামলায় পরিণত হয়েছিল।’
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, সহিংসতাকারীরা আসলে তার (শেখ হাসিনা) সরকারকে উৎখাতের জন্য শ্রীলঙ্কায় যেমনটি ঘটেছিল, ঠিক সেরকম পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে তারা (নৈরাজ্যকারীরা) শ্রীলঙ্কার মতো সহিংসতা সৃষ্টি করে সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিল।’
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চালানো সহিংসতায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু হওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।
ভার্মা বলেন, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ঢাকার রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সব সময় সহযোগিতা দেয় ভারত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল ভারত সফর উল্লেখযোগ্য ফলাফল বয়ে এনেছে, অতীতের অর্জনগুলোকে সুসংহত করেছে এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের জাতীয় উন্নয়ন রূপকল্প-বাংলাদেশেল ভিশন ২০৪১ এবং ভারতের ভিশন ২০৪৭ এর ভিত্তিতে উভয় দেশ সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।’
এই সহযোগিতার মধ্যে ডিজিটাল, গ্রিন, স্যাটেলাইটের যৌথ উন্নয়ন এবং সুনীল অর্থনীতি, সমুদ্রবিজ্ঞান ও আর্থিক প্রযুক্তির (ফিনটেক) মতো সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র থাকবে।
ভার্মা বলেন, ‘এর অর্থ আমাদের জনগণের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎভিত্তিক অংশীদারত্বকে তুলে ধরে।’
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোটাবিরোধী সহিংসতায় হারানো প্রাণ আর কখনো ফিরে আসবে না: প্রধানমন্ত্রী
৫৮৩ দিন আগে
কোটাবিরোধী সহিংসতায় হারানো প্রাণ আর কখনো ফিরে আসবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব হলেও হারানো প্রাণ আর কখনো ফিরিয়ে আনা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘যেসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে সেগুলো নতুন করে নির্মাণ করা যাবে। কিন্তু যেসব প্রাণ চলে গেছে তা আমরা আর কখনো ফিরে পাব না।’
বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি প্রতিটি দাবি পূরণ করেছেন। এছাড়া সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। তাই আন্দোলন করার কোনো কারণই ছিল না।
তিনি বলেন, এরপরও এ ধরনের ঘটনা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটানো হলো। তারপর আন্দোলনের নামে অনেকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হলো।
তিনি বলেন, 'আমি কখনো ভাবিনি যে এই সময়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং এত তাজা প্রাণ ঝরে পড়বে।’
তিনি বলেন, কেউ দাবি করার আগেই সরকার সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আরও পড়ুন: দেশপ্রেম থাকলে তারা উন্নয়ন কাঠামো ধ্বংস করত না: প্রধানমন্ত্রী
সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দেশব্যাপী তাণ্ডবের সুষ্ঠু তদন্তে সহায়তার জন্য জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছে, যাতে এই হামলার প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তদন্তের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে কমিটির আরও দুইজন সদস্য বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকার এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষ করে বিদেশি সংস্থাগুলোকে তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি বলেন, 'এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।’
মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের মৎস্য খাতে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাদের ছয়টি স্বর্ণপদক, আটটি রৌপ্য পদক ও আটটি ব্রোঞ্জ পদক এবং সার্টিফিকেট দেন।
আরও পড়ুন: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন খামার মালিক, দুজন মৎস্য কর্মকর্তা, একজন প্রকল্প পরিচালক, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, একজন অ্যাসোসিয়েশন লিডার, একটি প্রকল্প ও একটি কমিটি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জেলেদের স্মার্ট কার্ড দিতে সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দু'জন জেলেকে স্মার্ট পরিচয়পত্র দেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান দেশের মৎস্য খাতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশেষ স্মারক তুলে দেন।
১৫ খামার মালিকের মধ্যে যশোরে তিনজন, খুলনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজারের দুইজন করে, ঝিনাইদহ, বগুড়া, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফেনীতে একজন করে খামারি রয়েছেন।
টেকসই উন্নয়ন ও মৎস্য সম্পদের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী 'জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪' উদযাপন হচ্ছে। তবে বুধবার মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় আহতদের দেখতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
৫৮৩ দিন আগে
সহিংসতায় আহতদের দেখতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে দেশজুড়ে সহিংসতায় আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর আহতদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এসময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
হামলার নৃশংসতার কথা শুনে এবং আহতদের শরীরে আঘাতের তীব্রতা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এসময় চোখের জল ধরে রাখতে তাকে বেগ পেতে হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
পরিদর্শনকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় আহতদের দেখতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র।
পরিদর্শনকালে তিনি আহতদের সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
এ ছাড়াও, মিরপুর ১০ এ ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন, রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ভবন এবং মহাখালীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী
৫৮৪ দিন আগে
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি যেন সুষ্ঠু ও মানসম্মত তদন্ত করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, 'আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিকে যথাযথ ও মানসম্মত করতে বৈদেশিক কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করব।’
মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রস্টার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেসময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: দেশপ্রেম থাকলে তারা উন্নয়ন কাঠামো ধ্বংস করত না: প্রধানমন্ত্রী
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রসঙ্গত, দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সব নিহতের ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।
আরও পড়ুন: শিবির-ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত জঙ্গি, কোটা সংস্কার ইস্যু ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
৫৮৪ দিন আগে
দেশপ্রেম থাকলে তারা উন্নয়ন কাঠামো ধ্বংস করত না: প্রধানমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে তারা উন্নয়ন কাঠামো ধ্বংস করত না।
সোমবার (২৯ জুলাই) গণভবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তাদের যদি এত দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ থাকে, তাহলে তারা উন্নয়ন কাঠামো ধ্বংস করতে পারত না।’
শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে তার সরকারের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেছি। আমি বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসিছি এবং তারা এটিকে ধ্বংস করেছে। এটা দুঃখজনক।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তুলে বালে,‘এত টাকা তারা কোথায় পায়? তাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় অর্থায়ন করছে কারা?'
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার সারা দেশে শোক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও জনগণের কল্যাণে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ফল আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা ধ্বংস হচ্ছে।
বিএনপি-জামায়াতের 'সন্ত্রাসীরা' কোটা সংস্কার আন্দোলনকে নিজেদের এজেন্ডা হাসিলের জন্য ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই আন্দোলনের ঘাড়ে ভর করে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সুযোগ নিয়েছিল। এখন আমার প্রশ্ন, আমি কী অপরাধ করেছি?'
নিজের অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বাংলাদেশকে সম্মান বয়ে এনেছি। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আজকে যদি দেখেন বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটা সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে। তাদের আন্দোলন কীভাবে বাংলাদেশকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে এবং আমাকে হেয় করছে তারা তা চিন্তাও করে না।’
আরও পড়ুন: শিবির-ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত জঙ্গি, কোটা সংস্কার ইস্যু ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
৫৮৫ দিন আগে
শিবির-ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত জঙ্গি, কোটা সংস্কার ইস্যু ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াতের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা জাতিকে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
সোমবার (২৯ জুলাই) সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'শিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে জঙ্গি, যারা বাংলাদেশের ওপর তাদের থাবা বসিয়েছে।’
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, জঙ্গিবাদের কাজ।
আরও পড়ুন: ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন মেরামতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের অগ্রগতি দেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, 'আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে মর্যাদাশালী করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের সঙ্গে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সম্পর্ককে প্রত্যাখ্যান করে এর সঙ্গে থাকা অসৎ উদ্দেশ্যকে দায়ী করেন। তিনি বলেন,‘তাদের অসৎ উদ্দেশ্য দৃশ্যমান ছিল, কোটা সংস্কার মোটেও কোনো ইস্যু ছিল না।’
সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য 'জঙ্গিদের' সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। জনগণকে সেবা ও সুবিধা প্রদানকারী কাঠামো ধ্বংস করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার শেখ হাসিনার
৫৮৫ দিন আগে
ব্যাপক অপপ্রচারের মাঝেও বৈশ্বিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ সরকার: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সরকার ও জনগণের সময়োপযোগী ও যথাযথ পদক্ষেপের কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে বলে সকল আন্তর্জাতিক অংশীদারকে আশ্বস্ত করেছে সরকার।
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার (২৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘অপপ্রচার, ভুল ও মিথ্যা তথ্যের ব্যাপক প্রচারের মাঝেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য সরকার তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১৪৭ জনে পৌঁছেছে।
সরকার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে তাদের জন্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের তদারকি করছেন এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জীবিকার সুযোগের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সুশীল সমাজের সংগঠন ও গণমাধ্যমসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অংশীদার যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তা বাংলাদেশ সরকার লক্ষ্য করেছে।
সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্কে জড়ানোর আশায় রয়েছে, যা তরুণদের জন্য তাদের মতামত শোনা এবং একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনা উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়।
সহিংসতায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছে, তা মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার প্রতি সরকার সংবেদনশীল রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক ঘটনা সারা পৃথিবীতে ভিন্নভাবে প্রচার হয়েছে যা দুঃখজনক: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
এতে বলা হয়, এটা এখন স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার রাজত্ব কায়েম করতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে।
তারা কিছু সহিংস চরমপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থনও তালিকাভুক্ত করেছিল এবং জনজীবন ব্যাহত ও অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়।
একই স্বার্থান্বেষী মহল এখন তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনানুগ প্রতিক্রিয়াকে ‘শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমন’ হিসেবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার ঘোষণা দিলেও এ ধরনের বিকৃত প্রক্ষেপণ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় বেসামরিক শক্তির সহায়তায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন এবং নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে কারফিউ জারির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনকে গুলিয়ে না ফেলার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, গত ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। ২০১৮ সালে সরকার নিজেই কিন্তু এই আইন বিলুপ্ত করেছিল!
সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবারও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে।
সরকার এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি প্রতিবাদ স্মারকলিপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থাও নিয়েছিল।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ক্ষতি সাড়ে ৫ কোটি টাকা: আব্দুর রহমান
শুরু থেকেই সরকার স্পষ্ট করেছে যে, কোটা সংস্কারের প্রশ্নে তাদের নিজস্ব অবস্থান মূলত ছাত্র আন্দোলনকারীদের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রায় বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা এবং রায় ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেয়।
পরবর্তীকালে, প্রধানমন্ত্রী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করার জন্য একটি মন্ত্রিপরিষদ কমিটিও নিয়োগ করা হয়। সে অনুযায়ী আপিল বিভাগের গত ২১ জুলাইয়ের রায়ের মাধ্যমে সংস্কার করা কোটা পদ্ধতির ওপর সরকারি গেজেট জারি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক দাবির চেয়েও বেশি এই রায়ের মাধ্যমে বাস্তাবায়ন করা হয়েছে। এভাবে তাদের আন্দোলনের অন্তর্নিহিত কারণকে যথাযথভাবে সমাধান করেছে সরকার।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৭ জুলাই জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বিএনপি-জামায়াত জোট সংবাদ সম্মেলন করে (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে উসকানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগান দিয়ে ছাত্রসমাজের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ও সহিংসতা উসকে দিয়েছে।
ফলে পরিস্থিতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আন্দোলনটি অভূতপূর্ব মাত্রায় সহিংসতা, নৈরাজ্য ও নাশকতার দিকে ধাবিত হয়, যাকে কেবল সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবেই অভিহিত করা যেতে পারে।
এর ফলে শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি এবং ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় নিহত ১৪৭: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা এবং হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, নৃসংশতা ও নাশকতাসহ সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী সকলকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ১৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশন ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
এছাড়া হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সংশ্লিষ্ট ঘটনার দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিভাগীয় তদন্তও করা হচ্ছে।
সরকার নিশ্চিত করছে যে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাদের প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের আওতায় আনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার হয়রানি যেন না করা হয়, সে বিষয়েও বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত ভুল ও অপতথ্য ছড়ানোর প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেছে সরকার-
১. শান্তিপূর্ণ ও নির্দিষ্ট দাবির ছাত্র আন্দোলনকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।
২. সরকার পুনর্ব্যক্ত করছে যে, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে সহিংসতার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার করা হবে।
৩. সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে একটিও ‘দেখামাত্র গুলির’ ঘটনা ঘটেনি।
৪. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় নজরদারি, নির্দিষ্ট স্থানে আটকে পড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্ধার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
৫. রঙ করে ঢেকে ফেলা সত্ত্বেও জাতিসংঘের চিহ্নটি অসাবধানতাবশত প্রকাশিত হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
৬. ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা এখন সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ল্যান্ডফোন ও মোবাইল ফোন যোগাযোগসহ যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমগুলো সহিংসতা চলাকালে সম্পূর্ণ কার্যকর ছিল।
৭. কারফিউ চলাকালেও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সব জরুরি পরিষেবা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সরকার যেকোনো মূল্যে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মতামতের অধিকার সমুন্নত রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও তা রাখবে।
পরিশেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, স্বার্থান্বেষী মহলগুলোর কারণে অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে।
৫৮৬ দিন আগে
সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার শেখ হাসিনার
কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশব্যাপী সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। তাদের অবশ্যই শাস্তি হবে।’
সাম্প্রতিক তাণ্ডবে প্রাণ হারানো রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ ৩৪ জনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অপরাধীদের চিহ্নিত করতে জনসাধারণের সহায়তার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমার (আপনাদের) সাহায্য দরকার। আপনাদের যদি কিছু জানা থাকে দয়া করে আমাদের জানাবেন।’
আরও পড়ুন: সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কাউকে দেশ ও জনগণের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে দেবে না।
তিনি বলেন, 'আমরা কাউকে বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না, কাজেই আমি আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।’
শেখ হাসিনা দেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
শোকাহত পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কীভাবে আপনাদের সান্ত্বনা দেব। তবে আমি আপনাদের কষ্ট বুঝতে পারছি।’
হামলাকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'সাধারণ মানুষের কী দোষ, যার জন্য তারা নিহত হয়েছেন এবং চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন? মানুষ হত্যা করে, সরকারের পতন ঘটানো- এটা কখন হয়, কখন সম্ভব?’
শেখ হাসিনা, ‘আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আমি আপনাদের মতোই। বাবা-মা ও ভাই হারানো এক এতিম। আমি আপনাদের কষ্ট বুঝি। আমি আপনাদের পাশে থাকব।’
হামলার নৃশংসতার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'সবকিছু পুড়িয়ে ফেলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মানুষকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা অকল্পনীয় নৃশংস। কীভাবে একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের লাশ ঝুলিয়ে রাখতে পারে? যারা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হবে।’
তিনি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বিচার না হলে মানুষকে রক্ষা করা যাবে না।’
তিনি পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার এবং এ ধরনের বর্বরতা থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'আজীবন আপনাদের সঙ্গে আছি।’
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলনে জামায়াত-শিবির প্রথমে আড়ালে থাকলেও পরে তারাই সহিংসতা বাড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
৫৮৬ দিন আগে
ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন মেরামতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশে চলা সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন দ্রুত চালু করতে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান তিনি।
পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে দুর্বৃত্তরা।
‘যেসব প্রতিষ্ঠান জনগণের জন্য উপকারী আক্রমণকারীরা সেসব প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
গত ১৫ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলন: ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভবন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
এসময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের বহু শ্রমিকের ‘ঘাম ও চোখের জলের’ বিনিময়ে মেট্রোরেল নির্মিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি যে, কিছু লোক মেট্রোরেলের মৌলিক কাঠামো (মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ায়) ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা থেকে বিপুলসংখ্যক নাগরিক সুবিধা ভোগ করে থাকে।’
প্রথমে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং তারপর এ স্টেশন দুটি চালু করতে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দেশে সেনা মোতায়েনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আগস্টের শেষভাগে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য পাবলিক প্রাইভেট ইকোনমিক সংলাপের জন্য তার দেশের ব্যবসায়ীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
সংলাপের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কিমিনোরি।
সহিংসতায় হতাহতের জন্য এসময় সমবেদনা জানান তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: অর্থনীতিকে পঙ্গু করাই ছিল এ তাণ্ডবের উদ্দেশ্য: পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী
৫৮৭ দিন আগে