প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করাই ছিল বিএনপি-জামায়াতের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার ধারণা ছিল, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এবং সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।
বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ডের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি জানতাম, (৭ জানুয়ারি) ইলেকশন করতে দেবে না। তারপরও আমরা ইলেকশন করে ফেলেছি। (তারা বলেছিল) ইলেকশন করার পর ইলেকশন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেটাও গ্রহণযোগ্য আমরা করতে পেরেছি। সরকার গঠন করতে পেরেছি। আমার ধারণা ছিল, এ ধরনের একটা আঘাত আবার আসবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩-১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরেও বিএনপি-জামায়াত জোট অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা এবং হাজার হাজার মানুষকে আহত করে।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যে একটা বিরাট চক্রান্ত, সেটা বোঝাই যাচ্ছিল।... এই যে লোক চলে আসা, এবার আমরা কিন্তু আগে থেকে খবর পেয়েছি- লোক ঢুকবে। গোয়েন্দা দিয়ে সব হোটেল, কোথায় থাকতে পারে, সেগুলো নজরদারিতে আনা হয়েছে। কিন্তু ওরা সেখানে ছিল না; এরা চলে এসেছে ঢাকার ঠিক বাইরের পেরিফেরিতে (সংলগ্ন এলাকায়)।’
আরও পড়ুন: ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা মেটাতে সমুদ্র সম্পদে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী
‘সারা বাংলাদেশ থেকে শিবির-জামায়াত এরা কিন্তু এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু ছাত্রদলের ক্যাডাররাও সক্রিয় ছিল। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, এতে এরাও (বিএনপি) সক্রিয় ছিল।’
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন, তখনও কিন্তু লাশ পড়েনি। অথচ স্টেট ডিপার্টমেন্টের (যুক্তরাষ্ট্রের) বক্তব্যে এসে গেল- লাশ পড়েছে। লাশের খবর তাদের কে দিল? তাহলে লাশ ফেলার নির্দেশটা কে দিয়েছে, এটারও খবর নেওয়া দরকার। তারপর কিন্তু লাশ পড়তে শুরু করল।’
তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো ঘটনা দেখতে চাই না, যাতে দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়। তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার টার্গেট করেছিল।’
দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতি যারা সমর্থন দিয়েছিলেন, তাদের বোঝার সক্ষমতা নিয়ে এসময় প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহলের একমাত্র লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করা এবং গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ যে গণতন্ত্র ভোগ করে আসছে তা বন্ধ করা।
সাম্প্রতিক সহিংস পরিস্থিতিতে কারফিউ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি তো চাইনি আমাদের গণতান্ত্রিক ধারায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটুক, আমাদের কারফিউ দিতে হোক।... একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা আমাদের কাম্য ছিল না। কিন্তু আজ না দিয়ে কোনো উপায় ছিল না; না দিলে আরও যে কত লাশ পড়ত, তার হিসাব নেই।’
তিনি বলেন, ‘যখন তারা (শিক্ষার্থীরা) ঘোষণা দিল যে, চলমান নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নয়, তখনই আমরা সেনাবাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
দেশবাসীকে সব ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশবাসীকে অনুরোধ করব, যারা এভাবে দেশের সর্বনাশটা করল- গণমানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য, তাদের আয় বৃদ্ধি, তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য, তাদের জীবনমান উন্নত করার জন্য যতগুলো স্থাপনা তৈরি করেছি, সবগুলোতেই তারা আঘাত করেছে, সবগুলো তারা ভেঙে দিয়েছে। (এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে) ক্ষতিটা কার? নিশ্চয়ই জনগণের। এখানে তো জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে; এ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে। কারণ এরা তো কোনোদিনই কোনো দেশে ভালো কিছু করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই তাণ্ডবের টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে দাবি তারা করেছিল কোটা সংস্কারের, যতটুকু চেয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছি। যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো, তারপরও তারা এ জঙ্গিদের সুযোগ করে দিল কেন? কোটা আন্দোলনকারীদের কিন্তু জাতির কাছে একদিন এ জবাব দিতে হবে। কেন মানুষের এত বড় সর্বনাশ করার সুযোগ করে দিল?’
‘আমরা সবসময় তাদের সহানুভূতি দেখিয়েছি। তাদের সবসময় নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছি; কিন্তু যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে কখনো ক্ষমা করা যায় না।’
মত বিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এডিটরস গিল্ডের প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল বাবু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন- জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ডিবিসি টেলিভিশনের এডিটর ইন চিফ মঞ্জুরুল ইসলাম, ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা জার্নালের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, নাগরিক টেলিভিশনের হেড অব নিউজ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব দীপ আজাদ, আরটিভির হেড অব নিউজ মামুনুর রহমান খান, দৈনিক আমাদের সময় ও বিজনেস পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক মাইনুল আলম, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাজাহান সর্দার, ডিবিসি টেলিভিশনের নিউজ এডিটর জায়েদুল আহসান পিন্টু, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের হেড অব নিউজ আশিষ সৈকত, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, ৭১ টিভির হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ, কিংস নিউজের হেড অব নিউজ নাজমুল হক সৈকত প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বাংলাদেশে পেরোদুয়া গাড়ি উৎপাদন করতে মালয়েশিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
৫৯০ দিন আগে
বাংলাদেশে পেরোদুয়া গাড়ি উৎপাদন করতে মালয়েশিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বাংলাদেশে পেরোদুয়া গাড়ির সম্পূর্ণ উৎপাদন সুবিধা স্থাপনের জন্য মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মালয়েশিয়ার বিদায়ী হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম বুধবার (২৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এম নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, স্থানীয় পিএইচপি মোটরস এখানে পেরোদুয়া গাড়ি সংযোজন করছে।
পিএইচপি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিএইচপি মোটরস মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল ব্র্যান্ড পেরোদুয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে তাদের গাড়ি এবং এসইউভি সংযোজন এবং স্থানীয় বাজারে বাজারজাত করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময় থেকে দু'দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও চলমান সম্পর্কের ভিন্নতা নিয়েও আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনায় প্রধানমন্ত্রীর সক্ষমতার প্রতি তার আস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা মেটাতে সমুদ্র সম্পদে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলেন, 'আপনারা পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবিলা করছেন এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যার বেশিরভাগই দুটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি রবি এবং ইডটকো বাংলাদেশ তাদের মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থী বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।
এ জন্য হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাদের স্বাস্থ্য অনুষদের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রদত্ত সেবা এবং কম খরচ বিবেচনায় মালয়েশিয়ার অনেক হাসপাতাল সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে ৭০ জনেরও বেশি চিকিৎসক মালয়েশিয়ার নাগরিক হওয়ায় বাংলাদেশিরা সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
৫৯০ দিন আগে
সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
দেশব্যাপী সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও 'কমপ্লিট শাটডাউনে' ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগণের পাশে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক বিবৃতিতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠন এবং দলের শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশাপাশি সচ্ছল জনগণের সহায়তা বাড়াতে আহ্বান জানান দলের সভাপতি।
শেখ হাসিনা বলেন, কোটা আন্দোলন পরবর্তী সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিঘ্নিত হয়েছে। এছাড়া বিএনপি, জামায়াত-শিবির সম্মিলিতভাবে মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, বিটিভি ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।
অগ্নিসংযোগের কারণে বাস-ট্রাকসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং জীবিকার মান স্বাভাবিক করার স্বার্থে সরকার গত ২০ জুলাই কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ ও যারা দিন আনে দিন খায় তাদের আয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিম্ন আয়ের জনগণ বিশেষ করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল সেভাবেই এই সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলামের সই করা বিবৃতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাশাপাশি আমি সমাজের বিত্তবানদের তাদের এলাকার দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
৫৯০ দিন আগে
ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা মেটাতে সমুদ্র সম্পদে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বে ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাবারের চাহিদার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের সমুদ্র সম্পদ আহরণে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বড় পরিসরে এই সম্পদ ব্যবহার করতে আমি দেশি-বিদেশি সকল বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সিফুড শো-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চান তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক ভারত
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, গভীর সমুদ্রের সম্পদের ব্যবহার কীভাবে করা যায়, সেদিকে আমাদের আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। আমরা সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, কারণ সারা বিশ্বে সামুদ্রিক খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ যত বেশি এই সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে, তত দ্রুত এগিয়ে যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যৌথভাবে এখানকার সমুদ্র সম্পদ আহরণে বিনিয়োগ করতে পারে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছ থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে।’
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার ব্যাংক লেনদেন অনেক সহজ করায় তারা সহজেই তাদের লভ্যাংশ নিতে পারছে। এখানে তারা অফশোর ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সুবিধাও নিতে পারে।’
এ খাত থেকে রপ্তানি আয় বাড়াতে মৎস্য পণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মাছ রপ্তানি বাড়াতে টেস্টিং ও প্যাকেজিংয়ের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ সামুদ্রিক পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে মৎস্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরীক্ষণ ও রপ্তানি চেইনে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছে।’
‘সরকার ইতোমধ্যে টেস্টিং ল্যাবরেটরিও স্থাপন করেছে। আমাদের তিনটি ভালো ল্যাবরেটরি রয়েছে।’
আরও পড়ুন: দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এসময় তরুণ প্রজন্মকে মৎস্য উৎপাদনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণে মনোযোগী হওয়া এবং এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারে তরুণ প্রজন্ম। তারা মাছ চাষের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ঋণও নিতে পারে। আশা করি, আমাদের যুব সমাজ বৃহত্তরভাবে এ শিল্পে সম্পৃক্ত হতে এগিয়ে আসবে।’
বাংলাদেশে সমুদ্রের পানি থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আশা করি, এক্ষেত্রেও আমরা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হব।’
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সরকার মিরসরাই (বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চল)-কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করবে। মেরিন ড্রাইভ হলে সমুদ্র সৈকত রক্ষা পাবে এবং জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতিও হ্রাস পাবে।’
এরপর দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক অ্যাকুয়াকালচার ও সামুদ্রিক খাদ্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ ম রেজাউল করিম, জার্মানিভিত্তিক প্ল্যানকোয়াড্রেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্টিন গেসকেস, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বক্তৃতা দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অ্যাকুয়াকালচার ও সামুদ্রিক খাদ্য শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলনে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
৫৯৬ দিন আগে
কোটা আন্দোলনে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি, যারা হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এরা যেই হোক না কেন, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কোটা আন্দোলন: শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান জিএম কাদের
তিনি বলেন, ‘কাদের উসকানিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, কারা কোন উদ্দেশ্যে দেশকে একটি অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল, তা তদন্ত করে বের করা হবে।’
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ একযোগে সম্প্রচার করা হয়।
৫৯৭ দিন আগে
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম ইউএনবিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন থেকে একযোগে সম্প্রচার করা হবে।
৫৯৭ দিন আগে
দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
দলমত নির্বিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সবসময় সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৪-২৫ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা এটা সব সময় মনে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘নিজের জীবনের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে, পরিবার-পরিজন, বাবা-মাসহ সবকিছু ফেলে রেখে তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।’
তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তাদের সব সময় সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া উচিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জানেন মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের হয়তো তার দলের প্রতি সমর্থন নেই, হয়তো অন্য দলে চলে গেছেন বা অন্য কোনো কারণ।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারী জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ
তিনি বলেন, ‘তারা যেখানেই যাক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে তারা এই দেশকে মুক্ত ও বিজয়ী করতে তাদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। তাদের অনেকে পঙ্গু হয়েছে।’
মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুকে পরাজিত করে বিজয় এনে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘তাই এক্ষেত্রে আমি মনে করি, তাদের সম্মানই হতে হবে সর্বোচ্চ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক মুক্তিযোদ্ধা তার মতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, তার দলের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু তারপরও তারা মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে সম্মান করি। এদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে তাদের এই সম্মান দিয়ে দিক এটাই চাই আমরা।’
একসময় মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিল বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। তারা গর্ব করে বলতে পারে আমি মুক্তিযোদ্ধা।’
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা মাথায় রেখেই আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষদের কাউকে অবহেলা করা হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সংখ্যালঘু আছে, প্রতিবন্ধী মানুষ আছে, অটিস্টিক আছে। সরকার তাদের সবার প্রতি সহানুভূতিশীল।
তিনি বলেন, 'তারা যেন সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা পায়, তারা যেন পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে আমরা বিশেষ নজর রাখছি।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের ফেলোদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ভবিষ্যতে আপনাদেরই দেশকে আরও উন্নত করতে হবে।’
জনগণের টাকায় ফেলোশিপ নিয়ে তারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন এই বিষয়টি তাদের মনে রাখতে বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনাদের উচ্চশিক্ষায় যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা জনগণের টাকা। জনগণের সেবায় আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’
ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফেরার পর দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর ১১ জন পিএইচডি এবং ৩৯ জন মাস্টার্স ফেলোশিপ পেয়েছেন।
বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে এ পর্যন্ত ৩০৮ জন মাস্টার্স ফেলো ও ১১৬ জন পিএইচডি ফেলোকে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ২১৫ জন মাস্টার্স ফেলো এবং ২৬ জন পিএইচডি ফেলো ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
তিনটি ক্যাটাগরিতে এই ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে- সরকারি কর্মকর্তা (বিসিএস), সরকারি কর্মকর্তা (নন-বিসিএস) ও অন্যান্য (বেসরকারি পরীক্ষার্থী)।
সব সেক্টরের সম্পদের সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৮ সালে এই ফেলোশিপ চালু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটকে (জিআইইউ) এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছেন এই ফেলোরা।
ফেলোশিপ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
ফেলোশিপ পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে কয়েকজন পিএইচডি ও মাস্টার্স ফেলো তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ ও এর জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার জানা তারা।
অনুষ্ঠানে ফেলোশিপের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়।
আরও পড়ুন: রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের রাজাকার বলতে পারে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
৫৯৮ দিন আগে
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের রাজাকার বলতে পারে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীরা নিজেদের রাজাকার- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী বলে স্লোগান দেওয়ায় তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল রোকেয়া হলের ছাত্রীদের নিজেদের রাজাকার বলতে শুনে আমার দুঃখ হয়। তারা কি জানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সেখানে কী ঘটেছিল? প্রায় ৩০০ মেয়েকে হত্যা করা হয় এবং ৪০ জন মেয়েকে ধর্ষণ করে পাকিস্তানি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীরা ১৯৭১ সালের রাস্তায় এসব নিপীড়ন দেখেনি। তাই তারা নিজেদের রাজাকার বলতে লজ্জাবোধ করে না।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে মেয়েরা এখন এই জাতীয় স্লোগান দেয়।
তিনি বলেন, ‘এ কোন দেশে আছি আমরা? তারা কোন চেতনায় বিশ্বাসী? কী শিক্ষা পেল তারা? কী শিখল তারা? এটা আমার প্রশ্ন।’
অনুষ্ঠানে এপিএ বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানে চমৎকার অবদানের জন্য যথাক্রমে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য এপিএ অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুদ্ধাচার পুরস্কার সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়।
৫৯৯ দিন আগে
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বাহিনীর গণহত্যা বন্ধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বিষয়ে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এই গণহত্যার বিরুদ্ধে আমাদের (মুসলিম উম্মাহ) ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
সোমবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশে মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যখনই কোনো বিদেশি দেশ বা কোনো ফোরামে গিয়েছেন তখনই ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধে কথা বলেছেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনে ব্যয়িত অর্থ মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এটি পুরো বিশ্বের জন্য আরও বেশি কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।’
বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আশানুরূপ বাড়েনি বলে বৈঠকে বলেন তিনি।
২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮০.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (রপ্তানি ৩০.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও আমদানি ১৫০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি, বস্ত্র, ওষুধ, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে।
মিসরের রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনের গণহত্যার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনার মতো নেতা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই প্রয়োজন।’
মিশরের গ্র্যান্ড ইমাম- যার পদমর্যাদা মিশরের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদার সমতুল্য, তিনি বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ।
দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে নিজ দেশের আগ্রহের কথাও ব্যক্ত করেন মিশরের রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও প্রশংসনীয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
এ সাক্ষাতে আরও ছিলেন অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
আরও পড়ুন: চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত: শেখ হাসিনা
৫৯৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী চান তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক ভারত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি চান ভারত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক, কারণ এটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমি ভারতকেই অগ্রাধিকার দেব। ভারতের হাতে তিস্তা নদীর পানি রয়েছে। সুতরাং তাদের প্রকল্পটি করা উচিত এবং তারা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে এখানে যা প্রয়োজন তা দেবে।’
আরও পড়ুন: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল নিয়ে তার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, চীন তিস্তা প্রকল্প সম্পর্কে কিছু প্রস্তাব নিয়ে এসেছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইবাছাই করেছে। এদিকে ভারতও প্রস্তাব দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইবাছাই করবে।
তিনি বলেন, ভারতের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হওয়ার পর সরকার বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের ওপর বন্দুক হামলার নিন্দা প্রধানমন্ত্রীর
৬০০ দিন আগে