সারাদেশ
বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
বগুড়া সদরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উড়ালসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অন্য একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে পড়ে। চালক ও সহকারী ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী অন্য একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহত তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করলে পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে নিহত হন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। একটি ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আমরা আসার পর দুইজনের মরদেহ ভেতর থেকে উদ্ধার করেছি।’
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৮ মিনিট আগে
কুমিল্লায় গৃহবধূকে খণ্ডিত করে হত্যার অভিযোগ, ভাড়াটিয়া আটক
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম ওই এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে ফরিদা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন।
পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি বস্তা ও প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় কাছে গিয়ে তিনি খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। সে সময় সন্দেহের ভিত্তিতে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, লাইলী বেগম প্রায় আট দিন আগে দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রাম থেকে এসে ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন।
নিহত ফরিদা বেগমের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের এক ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এদিকে, স্থানীয়রা জানায় সূত্রে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের একটি পুরোনো হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় একটি শিশুকে হত্যার অভিযোগে লাইলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তারা জামিনে মুক্তি পান। তবে ওই মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক, কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘৯টি প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটক নারী আরও চারজনের নাম বলেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
১ ঘণ্টা আগে
পুলিশি অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
রংপুরের পীরগাছা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পীরগাছা থানার সামনে নিহতের মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত ওই নেতার নাম মনোয়ারুল বকসি (৩০)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। পরিবারটির স্থায়ী বসবাস ছিল ঢাকার সাভারে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তার বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট ঢাকার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্যমতে, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায়, মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৯ ঘণ্টা আগে
‘যুবদল নেতার’ ছুরিকাঘাতের ৪৯ দিন পর আহত জামায়াতকর্মীর মৃত্যু
গাইবান্ধার সাঘাটায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা শামসুজ্জামান দুদু এবং গাইবান্ধা জেলা জামাতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছুরিকাঘাতে সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় ওইদিন সাইফুল ইসলাম নামের এক শিবির নেতা মারা যান। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টির মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যায়।
তার কিছু সময় পরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা-সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় মুকুল ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করেন।
হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও হাত-পায়ের নানা স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৯ দিন পর আজ (শনিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়েত নেতা রোকনুজ্জামান বলেন, নিহত সালাউদ্দিন ছিলেন জামায়াতে ইসলামের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তার মৃত্যুতে জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নামে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সাঘাটার বোনারপাড়ায় জামাত-শিবিরের দুই নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকেলে উপজেলা জামায়াতের ডাকে বোনারপাড়ায় প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভে জামাত-শিবিরসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আশুগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে নদী তীরবর্তী তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুরে দেড়টা পর্যন্ত মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিক্ষুব্ধরা। এতে মহাসড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ পুলশের কর্মকর্তরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভকারীরা আড়াই ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে বলে এ সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারিভাবে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মেন্দিপুর বালু উত্তোলনের ইজারা নিলেও মহলটি স্থান পরিবর্তন করে মেঘনা নদীতে আশুগঞ্জের বিভিন্নে এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। ইজারাদাররা প্রতিদিন অর্ধশত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের টাওয়ারসহ নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানালেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
গত বৃহস্পতিবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনের পর প্রভাবশালী মহল থেকে হামলা ও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ অবস্থায় দ্রুত হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও জামাল হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তারা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা যায়নি। তবে একটি ভলগেট সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০ ঘণ্টা আগে
তেজগাঁওয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় মো. ইমরান (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহাখালীর পাগলার পোল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১১টার তাকে দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাজীরন সোম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাখালী পাগলার পোল এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় মো. ইমরান গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওই হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত ইমরান ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার কামারপুকুর গ্রামের পার্থ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি মহাখালী এলাকায় থাকতেন বলে জানান তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা মরদেহটি রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহতদের পরিচয় মিলেছে
সিলেটে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় মিলেছে। এ দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের ১৪ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের চার বছর বয়সী মেয়ে শিশু ফাইজা আক্তার, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (২৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন (৪৫), এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন—ওয়াহাব (৪৫), ঢাকার মনসুর আলী (৩৪), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আতিকুল ইসলাম (৪৮), কিশোরগঞ্জের বাবুল (৪০), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (২৯), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০), সুমানগঞ্জের রাজু দাস (৩৫)। এক জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আহত অন্যরা হলেন—কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদ (৫০), ফরিদপুরের শামীম আহমদ (৫০), ঢাকার মঞ্জু দাস (৫০), কুমিল্লার ইমরান (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কাশিকাপন নামক এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতগামী ইউনিক পরিবহন বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের ডান দিক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা, শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ওসমানীগর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে হতাহতদের উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে পুলিশ আধঘণ্টা চেষ্টা করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার কোচ ওভারটেক করতে গিয়ে ঢাকাগামী ইউনিক বাসকে আঘাত করে। ঘটনার পর স্বজনহারাদের ভিড় নামে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের খুঁজছে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মোট ১৬ জন আহতকে আনা হয়। এর মধ্যে চার বছরের শিশু জাইফাকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রীতম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন বলেন, আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা পাঁচজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ইএনটি বিভাগে ভর্তি দুইজনের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানান তিনি।
চক্ষু বিভাগে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং একজনের চোখে গুরুতর আঘাত থাকায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। নিউরো সার্জারিতে ভর্তি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা ভালো হলেও আফতাব নামে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে যাই। ঘটনার কথা মনে হলে শরীর কেঁপে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে ইউনিক গাড়িকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তরতাজা প্রাণগুলো ঝরে যায়।’
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা থানা পুলিশ এবং ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস মিলে হতাহতদের উদ্ধার করি। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিজ লেনেই চলছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত পাশে চলে আসে এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
২২ ঘণ্টা আগে
নড়াইলে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নড়াইলে অবিরাম বর্ষণ আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিস্তীর্ণ মাঠের আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বিলের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ আটকে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
আবাদের এমন আকস্মিক বিনাশে শত শত কৃষক চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, এই ফসলহানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
সরেজমিনে লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদার বিল, আন্ধারকোটা বিল ও কুচিয়াবাড়ির বিলসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ বুকসমান পানিতে তলিয়ে আছে। যেখানে এখন সোনালী ধানের সমারোহ থাকার কথা, সেখানে শোভা পাচ্ছে শাপলা, শালুক আর জলজ আগাছা। ফসলশূন্য খেতে এখন চরে বেড়াচ্ছে পাতিহাঁসের দল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, নিচু অঞ্চলের এসব জমি অধিক পানি সহনশীল স্থানীয় জাতের ‘রাতুল আউশ’ ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ জাতের ধানের গাছ দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে। বিগত বছরগুলোতে সহনীয় বৃষ্টিপাতের কারণে রাতুল ধানের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবারও চাষিরা ব্যাপক উৎসাহে আবাদ করেছিলেন। লক্ষ্মীপাশা ছাড়াও জেলার বাঁশগ্রাম, নলদি, কোটাকোল, কলাবাড়িয়া, বাঐসোনা, পহরডাঙ্গা, খাশিয়াল, মাইজপাড়া ও সেখহাটীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বিলে এই ধানের চাষ হয়েছিল।
তবে এবার জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ টানা বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমিগুলো হঠাৎ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি সরার পথ অবরুদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধান গাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে এবং একপর্যায়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষকদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করে অবরুদ্ধ খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং নদীর সঙ্গে সংযোগকারী খালগুলো পুনঃখনন করা জরুরি।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত বলে দাবি করা হলেও কৃষকেরা তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলের উপরিভাগের কিছু ধান রক্ষা পেলেও নিচু এলাকার সিংহভাগ ফসলই পচে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা।
এ বিষয়ে নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, নিচু বিল অঞ্চলের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা বর্তমান চাষাবাদের জন্য একটি বড় হুমকি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কৃষি বিভাগ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে ভরাট ও হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে কাজ করছে।
২২ ঘণ্টা আগে
শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে থৈ থৈ করছে পানি
পদ্মার তীর থেকে প্রায় ৮০০ মিটার পশ্চিমে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি। এখানে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন অসংখ্য গান, কবিতা, নাটক আর ছোটগল্প। যে গীতাঞ্জলি রচনার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন, তার অধিকাংশ কবিতাও এখানে বসেই লেখা। এক কথায়, বাংলা সাহিত্যের অনেক অমর সৃষ্টির জন্ম এই কুঠিবাড়িতে।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো রবীন্দ্রভক্ত ছুটে আসেন বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত এই রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি দেখতে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে সেই ঐতিহ্যের তীর্থভূমির চিত্রই যেন পাল্টে গেছে। কুঠিবাড়ির প্রধান প্রবেশপথ, মুক্তমঞ্চ, ম্যুরালের সামনে, জাদুঘরের আঙিনা, এমনকি ফুল ও ফলের বাগান—সবখানেই এখন থৈ থৈ করছে পানি। কুঠিবাড়িজুড়ে জলমগ্নতার এই চিত্র শুধু এ বছরই নয়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এমন চিত্র চোখে পড়ে।
২২ ঘণ্টা আগে
রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, দেড় ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী ৪৬১ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনের কয়েকটি চাকা এবং পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। এতে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি আলাদা করে ট্রেনটি অন্য লাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ হয়নি। এমনকি পর্যাপ্ত পাথরও দেওয়া হয়নি। তাদের ধারণা, লাইনের এমন অবস্থার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম ইসলাম বলেন, ‘রেললাইনের ৩ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান বলেন, মালবাহী ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে এই লাইন দিয়ে চলাচল করলেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ ট্রেনটিকে ৩ নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছে। লাইনটি যাচাই-বাছাই না করে কীভাবে সেখানে ট্রেন ঢোকানো হলো, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এ ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ট্রেনটির নির্ধারিত পথই ছিল ৩ নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একই সঙ্গে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।’
লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, যে অংশটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটুকু ছাড়া আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
২২ ঘণ্টা আগে