বিশেষ সংবাদ
রাইস গার্ডেন—এক মাঠে ৫২ জাতের ধান
একই মাঠে ৫২ জাতের ধান। কোনো জাতের গাছ লম্বা, কোনোটি শীষের গঠনে আলাদা। কোনো জাত খরাসহিষ্ণু, আবার কোনোটি জলমগ্ন পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।
সারি সারি ধানগাছের পাশে নামফলক দেখে বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করছেন কৃষকরা। এভাবে ধানের ফলন ও বৈশিষ্ট্য দেখে নিজেদের জমির উপযোগী জাত বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই ‘রাইস গার্ডেন’।
এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে চলতি আমন মৌসুমে স্থাপন করা এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য, হাওরের জমি ও পরিবেশের উপযোগী ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়া এবং উন্নত জাত চাষে তাদের উৎসাহিত করা।
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা প্রদর্শনীতে রয়েছে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, জিংকসমৃদ্ধ, সুগন্ধি ও উন্নত রান্নার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিভিন্ন জাতের ধান। সেই সঙ্গে রয়েছে খরা, বন্যা ও জলমগ্নতা-সহনশীল জাত।
প্রতিটি জাতের পাশে পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড থাকায় কৃষকরা ধানের বৃদ্ধি, গাছের উচ্চতা ও শীষের গঠন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
কৃষক সাহেল বলেন, ‘একসঙ্গে এত জাতের ধান জীবনে কখনও দেখিনি। অনেক ধানের নামও আগে শুনিনি। এখন চোখের সামনে এসব ধানের বেড়ে ওঠা দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখান থেকে দেখে আমাদের জমির জন্য যেটা ভালো ও উচ্চফলনশীল হবে, সেটাই চাষের জন্য বেছে নেব।’
প্রদর্শনীতে আসা অন্য কৃষকরাও জানান, আগে তারা পরিচিত জাতের ধানই বেশি চাষ করতেন। এখানে এসে নতুন নতুন জাত সম্পর্কে জানতে পারছেন।
কোন জাতের ফলন ভালো এবং কোনটি তাদের এলাকার জন্য উপযোগী, তা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।
উপযুক্ত জাত বেছে নিতে পারলে ফলন বাড়বে এবং লাভবান হবেন বলেও আশা কৃষকদের।
ধানের জাত প্রদর্শনের পাশাপাশি রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ, বায়োকোটেড ইউরিয়া ও সৌরবিদ্যুৎচালিত আলোকফাঁদ ব্যবহার নিয়েও কাজ করছে ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়।
কৃষিশ্রমিকের সংকট মোকাবিলায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, উইডার ও কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহারও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এছাড়া কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বীজ সরবরাহে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে রয়েছে ব্রি ধান ১১২, ১১১, ১১০, ১০৯, ১০৩, ৯৫, ৯৪, ৯৩, ৯১, ৯০, ৮০, ৭৯, ৭৮, ৭৭, ৭৬, ৭৫, ৭৩, ৭২, ৭১, ৭০, ৬৬, ৬২, ৫৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ৪৯, ৪৬, ৪৪, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৩৭, ৩৪, ৩৩, ৩২, ৩০ ও ৩১; বিনা ধান ২৫, ২৩, ২২, ১১, ১০, ৫, ৪ ও ৩; এবং হাইব্রিড ধান ৪ ও ৬।
হাওরের কৃষিতে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে উৎপাদন বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে এলাকার পরিবেশের উপযোগী জাত নির্বাচন ও আধুনিক চাষপ্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি উন্নত চাষপদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে পারছেন।
ব্রি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, ৫২টি ধানের জাত নিয়ে স্থাপিত রাইস গার্ডেন থেকে কৃষকরা তাদের এলাকার উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারবেন।
এছাড়া সার, আগাছা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে বলেও জানান তিনি।
এসব উদ্যোগ হাওরে ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্রির এই কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
তিন দশকেও চাঁদপুর বিসিক শিল্পনগরীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই, বন্ধ অনেক কারখানা
চাঁদপুরের বাবুরহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে প্রায় তিন দশকেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। শিল্পনগরীটিতে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পনগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম।
জেলার আটটি উপজেলার কোথাও বিসিক উপজেলা পর্যায়ের অফিস না থাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও নানা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর সদরের বাবুরহাটে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বিসিক শিল্পনগরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৭ সালে এবং ১৯৯৮ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই বিসিকের জেলা কার্যালয় অবস্থিত। তবে যথাযথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অভাবে দীর্ঘ সময়েও শিল্পনগরীটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করছেন সচেতন ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পপণ্যের জায়গা ক্রমেই দখল করছে প্লাস্টিকসামগ্রী। এতে ক্ষুদ্র শিল্পের সম্ভাবনা ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মাসুম, মো. মাসুদ আলমসহ অন্যরা।
বিসিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি দেশের একমাত্র মিনি শিল্পনগরী। এখানে মোট ৩৩টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি চালু এবং ছয়টি বন্ধ বলে জানিয়েছেন বিসিক জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শিল্প কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার খান।
তবে শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, একসময় চালু থাকা বেশ কয়েকটি কারখানা এখন বন্ধ। কোথাও কোথাও কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ, আঙিনায় জমেছে শুকনো পাতা, চারপাশে গজিয়েছে ঝোপঝাড়। উৎপাদন ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকার কথা যে শিল্পাঞ্চলের, সেখানে অনেক জায়গায় বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
চালু কারখানার কয়েকজন কর্মচারী ইউএনবিকে জানান, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করেও অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখতে পারেনি। লোকসানের কারণে জুস কারখানাসহ কয়েকটি শিল্প ইউনিট একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বহু শ্রমিক।
১২ দিন আগে
ফেনীতে ৯ কোটি টাকার সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক, লোহার সিঁড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার
ফেনীর দাগনভূঞায় ছোট ফেনী নদীর ওপর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেতুর দুই পাশে বসানো হয়েছে লোহার সিঁড়ি, যা বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন মানুষ।
একসময় নদী থাকলেও সেতু না থাকায় নৌকায় পারাপার হতে হতো মানুষকে। কিন্তু ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের বেকের বাজার এলাকায় চিত্রটি ভিন্ন। এখানে নদীর ওপর সেতু থাকলেও নেই সংযোগ সড়ক। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে কোনো কাজে আসছে না।
সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখনো চলাচলের উপযোগী করা যায়নি। প্রকল্পের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর কাজ। এতে একদিকে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে দুর্ভোগ বাড়ছে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা থেকে বেকের বাজার সড়কে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়কসহ প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি সেতু ও বিদ্যমান সড়কের উচ্চতার ব্যবধান বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে হেঁটে পারাপারও কঠিন হয়ে পড়েছে।
১২ দিন আগে
ঢাবির আইবিএতে পরিচালকের মেয়ের জন্য নিয়োগের শর্ত শিথিলের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক নিয়োগে পরিচালকের মেয়েকে সুবিধা দিতে যোগ্যতা শিথিল করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আইবিএর বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মেয়েকে নিয়োগ দিতে প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতার শর্ত কৌশলে শিথিল করে প্রশাসনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
‘ইন্টিগ্রেটেড রুলস অ্যান্ড কোয়ালিফিকেশনস ফর অ্যাডভারটাইসড টিচিং পজিশনস’ অনুযায়ী, প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০ এর মধ্যে) অথবা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। গত ১৩ মে আইবিএর প্রভাষকের ৭টি শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সেই নিয়ম মেনেই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে আইবিএর পরিচালকের মেয়ে নূর জাহান আব্দুল্লাহ আবেদন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে ‘সেকেন্ড ক্লাস অনার্স (আপার ডিভিশন)’ ফলাফল নিয়ে ইতিহাস, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বিএ (স্নাতক) সম্পন্ন করেছেন। তাই ঢাবির নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা শর্ত তিনি পূরণ করতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদনকারীদের নাম ও যোগ্যতা উল্লেখ করে আইবিএ পরিচালক একটি তালিকা উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) কাছে পাঠান। তবে কারা বিজ্ঞাপনের শর্ত পূরণ করেছেন এবং কারা করেননি, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট মন্তব্য না থাকায় উপ-উপাচার্য সেটি ফেরত পাঠান। পরে পরিচালক সেপ্টেম্বরে আরেকটি তালিকা উপ-উপাচার্যের দপ্তরে পাঠান। এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এর মাঝেই অভিযোগ ওঠে, বিজ্ঞপ্তির শর্তের কারণে পরিচালকের মেয়ে বাদ পড়ার আশঙ্কায় আইবিএ থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রভাষকের দুটি পদে নিয়োগের জন্য নতুন চাহিদাপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, পরিচালকের মেয়েকে সুযোগ দিতে নতুন চাহিদাপত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি পরিবর্তন করে ‘সিজিপিএ ৩.৫০ অথবা প্রথম শ্রেণি অথবা ৬৫ শতাংশের বেশি নম্বর’ লেখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে পরিচালকের মেয়ের স্নাতকে পাওয়া নম্বরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন এই শর্তটি আগের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল না এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থি।
এছাড়া চাহিদাপত্রে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতাও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিচালকের মেয়ের ডিগ্রির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
১৩ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘অর্থনীতি’ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন চাহিদাপত্রে নির্দিষ্ট করে অর্থনীতি, বিজনেস অ্যানালিটিক্স, বিজনেস ল ও এন্টারপ্রেনারশিপ চাওয়া হয়েছে। নূর জাহানের স্নাতক অর্থনীতিতে ও স্নাতকোত্তর এন্টারপ্রেনারশিপে হওয়ায় নতুন চাহিদাপত্রটি মূলত তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূলত নিয়োগের শর্ত ও মানদণ্ড ঠিক করে ইনস্টিটিউশনের ‘কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএন্ডডি)’ কমিটি। জ্যেষ্ঠতম এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষকের সমন্বয়ে কমিটিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক।
নতুন এই চাহিদাপত্রের শর্তের বিষয়ে আইবিএর একটি সূত্র জানায়, ‘চাহিদা অনুযায়ী সিঅ্যান্ডডি এটা অনুমোদন দিয়েছে, বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ইচ্ছা।’ ফলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদন পেলেই চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে।
এদিকে রেজিস্ট্রার ভবনের আরেকটি সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরে পাঠানো নতুন শর্তযুক্ত চাহিদাপত্রটি অনুমোদনের জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর পাঠানো হয়েছিল। তিনি নিজস্ব কোনো মতামত না দিয়ে সেটি সরাসরি উপাচার্যের কাছে পাঠান। কিন্তু উপাচার্য সেখানে উপ-উপাচার্যের কোনো মন্তব্য বা মতামত না দেখে ফাইলটি ফেরত পাঠান। ফাইলটি বর্তমানে সেখানেই আটকে আছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তিন দিন চেষ্টা করেও আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায়নি। তার মুঠোফোনে বার্তা পাঠালে তিনি অসুস্থ বলে জানান।
পরে পরিচালকের একজন সহকারী প্রতিবেদককে ফোন করে বনানীতে তার ব্যক্তিগত অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে বলেন। প্রতিবেদক সেখানে গিয়েও আইবিএ পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তিনি অসুস্থ বলে তার একজন গবেষণা সহকারী জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রথমত এটা প্রক্রিয়াধীন। তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই। আমরা সাধারণত সিঅ্যান্ডডি কমিটির সুপারিশকে সম্মান করার চেষ্টা করি। যদি এ রকম কিছু হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘এখনও আমার কাছে আসেনি।’
১২ দিন আগে
ছয় মাস ধরে অচল নারায়ণগঞ্জের একমাত্র মর্গের ফ্রিজার
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে জেলার একমাত্র মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অচল। লাশ কাটার ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রও নষ্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মর্গের প্রবেশপথে সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লা পানি জমে থাকার সমস্যা।
এসব কারণে ময়নাতদন্ত ও মরদেহ সংরক্ষণ করতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসক, কর্মচারী ও নিহতদের স্বজনরা। ফ্রিজার অচল থাকায় কোনো কোনো পরিবারকে বাইরে থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
সম্প্রতি শহরের চাষাঢ়ায় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের (৩২) মরদেহ সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় বাইরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখতে হয়। চার দিনে এ জন্য তাদের প্রায় ৪৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
শুভর ভাই মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের লাশটাও ঠিকমতো রাখতে পারেনি। মর্গের মধ্যে পড়ে পচে যাচ্ছিল। পরে আমরা নিজেরাই ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখার ব্যবস্থা করি। পুলিশকে অনুরোধ করে দ্রুত ঢাকার হিমাগারে রাখা হয়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, মর্গে প্রবেশের পথেই জমে আছে ময়লা পানি। সেই পানিতে সাঁতার কাটছে হাঁস। মর্গের ভেতরে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই অচল পড়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মর্গের এক কর্মচারী বলেন, মরদেহ আনা হলেও সেগুলো সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা বাইরে থেকে ফ্রিজিং গাড়ি ভাড়া করেন। আর নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পচে যাওয়া ঠেকাতে বাইরে থেকে বরফ এনে কোনোরকমে ঢেকে রাখেন।
মর্গের দায়িত্বে থাকা ডোম দর্পন দাস বলেন, ‘এখানে অনেক মরদেহ আসে। তবে বেশির ভাগ মরদেহ এক-দুই দিনের বেশি রাখতে হয় না। কখনও অর্ধগলিত মরদেহ এলেও তা মর্গের ভেতরে রাখা হয়। ভালো অবস্থায় থাকা মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে লাশ রাখার গাড়ি ভাড়া করতে হয়।’
মর্গের প্রবেশপথের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে দর্পন দাস বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই সেখানে ময়লা পানি জমে যায়। মর্গে যেতে রিকশা বা ভ্যানের প্রয়োজন হয়। অথচ এর পাশেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। মর্গের সামনে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩২টি মরদেহ এ মর্গে আসে। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুল হোসেন বিপুল বলেন, মর্গের ফ্রিজার ছয় মাস ধরে নষ্ট। এটি মেরামতের জন্য হাসপাতাল থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ফ্রিজারগুলো ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় যেসব মরদেহ হাসপাতালে আসে, সেগুলোর ময়নাতদন্ত করে একই দিন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রাতে মরদেহ এলে সেদিন ময়নাতদন্ত সম্ভব না হলে পরদিন সকালে করার চেষ্টা করা হয়। আপাতত এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রিজার নষ্ট থাকায় ময়নাতদন্তে সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আরএমও বলেন, হাসপাতালে আসা মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের রোস্টার রয়েছে। সাধারণত যেদিন মরদেহ আসে, সেদিনই ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ধ্যার পর মরদেহ এলে পরদিন পরীক্ষা করা হয়। ফলে দুই-তিন দিন মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
১৬ দিন আগে
তিস্তার পানি বাড়া-কমায় পাকা ধান নিয়ে ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
উত্তরের তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তিস্তার পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চরের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুরো চরাঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিস্তার পানি ওঠানামা না করলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার কৃষকরা লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানিবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন তারা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে সাত বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ, তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। জানি না এবার কী হবে।’
এদিকে চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকারের জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। তিনি বলেন, ‘বড় চিন্তায় রয়েছি, কী হবে? পাকা ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২০ দিন আগে
রংপুরে ৬৬৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
রংপুর জেলার এক হাজার ৪৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৬৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলাতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কাউনিয়া উপজেলার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতে, গঙ্গাচড়া উপজেলার ১৭৮টির মধ্যে ৬০টিতে, তারাগঞ্জ উপজেলার ৭৫টির মধ্যে ৫৬টিতে, পীরগঞ্জ উপজেলার ২৩৬টির মধ্যে ১২৫টিতে, পীরগাছা উপজেলার ১৭৮টির মধ্যে ৯৪টিতে, বদরগঞ্জ উপজেলার ১৭৬টির মধ্যে ১১০টিতে, মিঠাপুকুর উপজেলার ২৭৫টির মধ্যে ১৪৬টিতে ও রংপুর সদর উপজেলার ২২২টির মধ্যে ২৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
রংপুরের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের একাংশ নিজেদের জ্যেষ্ঠ দাবি করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির দাবিতে মামলা করেছিলেন। এসব মামলার কারণে কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া আটকে ছিল।
এদিকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তির নেতৃত্ব অন্য শিক্ষকরা সহজভাবে গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে এবং দাপ্তরিক কাজেও নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এছাড়া প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
মিঠাপুকুরের শিববাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ২০২৫ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের তিনটি পদও শূন্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক হিসেবে আমাকে ক্লাসও নিতে হয়। আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় বিদ্যালয়ের বাইরেও থাকতে হয়। শিক্ষক সংকটের কারণে ঠিক মতো ক্লাস নিতে না পারায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।’
ভারপ্রাপ্ত এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘সরকার আমাদের পদোন্নতি দিচ্ছে না, আবার নতুন প্রধান শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে থাকলেও আমি সহকারী শিক্ষক হওয়ায় অনেক সময় অন্য শিক্ষকরা নির্দেশনা মানতে গড়িমসি করেন। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।’
মিঠাপুকুরের আমাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলা বিদ্যালয়টিতে খাতাকলমে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তবে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহিবুল হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নেই চলছে। এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিদ্যালয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিববাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা একজন কমেছে। শিক্ষক সংকটের কারণে চাইলেও ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীও কমে গেছে। এ সমস্যার জরুরি সমাধান প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় উপজেলার অনেক শিক্ষক হতাশ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও ইমাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে কোনো সার্কুলার নেই। এর মধ্যে অনেকে অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদ আরও বেড়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহকারী শিক্ষকরা যথাযথ নির্দেশনা পাচ্ছেন না।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে প্রেষণে এনে কাজ চালানো হচ্ছে। তার পরও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা একদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে তাদের সহকারী শিক্ষকের পদটিও সংরক্ষিত রয়েছে। তারা মূলত সহকারী শিক্ষক। হিসাবের চেয়ে বাস্তবে আরও বেশিসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে শিক্ষকদের একসঙ্গে একাধিক ক্লাস নিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা করেছিলেন। মামলাটি দীর্ঘ সময় আদালতে ঝুলে ছিল। পরে মন্ত্রীরা পদক্ষেপ নিয়ে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য তালিকা পিএসসিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এরপর আদেশ হবে। আশা করি, শিগগিরই কাজটি হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, মামলার কারণেই এত দিন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এ কারণে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া রংপুর জেলায় ৩৮৭ জন সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে পদায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী ১ অক্টোবর তারা যোগদান করলে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে জানান তিনি।
৩৪ দিন আগে
ঝিনাইদহের কৃষিতে আশা দেখাচ্ছে সৌরসেচ
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে সেচের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া কৃষকদের জন্য ঝিনাইদহের মাঠে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচের খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নিজেদের জমিতে তুলনামূলক কম খরচে সেচ দিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের পানি আশপাশের কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ১০৬টি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প চালু হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাতটি, এইড ফাউন্ডেশনের ৩৪টি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ৬৫টি পাম্প রয়েছে। শুধু সীমান্তঘেঁষা মহেশপুরেই স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি পাম্প। এর বাইরেও কিছু ছোট ছোট সৌর প্যানেল রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) উদ্যোগে ব্যক্তিগত পর্যায়েও বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল।
ফুলচাষিদের বাড়তি আয়
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে মহেশপুরের সীমান্ত এলাকার ফুলচাষিদের মাঝে।
উপজেলার ফুলচাষি গফুর মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প বসানোর পর থেকে তেল বা বিদ্যুতের কোনো ঝক্কি আর তাকে পোহাতে হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পর সাশ্রয়কৃত পানি অন্যদের কাছে বিক্রি করে ভালো বাড়তি আয় হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, প্রকল্পের ঋণ ও অনুদান নিয়ে তিনি সৌর সেচ প্রকল্প গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমির চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আশপাশের আরও ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত সেচ দিচ্ছেন।
৩৫ দিন আগে
উদ্বোধনের পর থেকেই বন্ধ ঝিনাইদহের ১০ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানা
ঝিনাইদহে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানাটি উদ্বোধনের পরদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে। কসাইদের অনাগ্রহ ও দক্ষ জনবলের অভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কোটি টাকার মেশিনপত্র অব্যবহৃত পড়ে থেকে মরিচা ধরছে। অন্যদিকে, কসাইখানাটি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনছে পৌরসভা।
ফলে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের পরও শহরের মাংস ব্যবসায়ীরা ঘিঞ্জি পরিবেশে বাজারের পাশে গরু-ছাগল জবাই করছেন।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ওই বছরের ৬ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কসাইখানাটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৭ জুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী কলার হাটসংলগ্ন ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত কসাইখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আড়াই হাজার বর্গফুটের কসাইখানাটিতে গরু ও ছাগল জবাইয়ের জন্য দুটি পৃথক স্বয়ংক্রিয় স্লটার লাইন রয়েছে। এগুলো দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
তবে উদ্বোধনের পর থেকেই কসাইদের অনাগ্রহের কারণে কসাইখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এর মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে আমদানি করা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় আছে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চান জানান, আধুনিক মেশিন পরিচালনার জন্য বহু চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কসাইখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রয়োজন। এসব কারণে আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় মেশিনে চামড়া ছাড়ানোর সময় চামড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত মাংস চলে যায়। এতে তাদের লোকসান হয়। এ কারণে তারা আধুনিক কসাইখানায় যেতে আগ্রহী নন। তাই প্রথাগত পদ্ধতিতেই তারা বাজারের পাশে পশু জবাই করছেন।
মাংস ব্যবসায়ী মোস্তাক বলেন, ‘পবহাটী কলার হাট এলাকাটা শহরের মূল মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে। ভোর ৪টার সময় গরু-ছাগল নিয়ে এত দূরে যাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর। তাই অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাছাড়া আধুনিক স্লটার হাউসে প্রতি গরু জবাইয়ের ফির পরিমাণও বেশি। বেশি টাকা দিয়ে আমাদের পোষাবে না।’
তবে মাংস বেশি চলে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘মাংস বেশি চলে যাচ্ছে, এটা ঠিক নয়। আধুনিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। প্রথম দিকে একটু সমস্যা মনে হলেও এটাই আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি। ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘কসাইখানাটি অত্যন্ত আধুনিক। এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। আমরা লোকবল তৈরির চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে এবং মেশিনগুলো ভালো রাখতে ন্যূনতম বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উৎপাদনের জন্য কসাইখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু হলে ঝিনাইদহবাসী নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবে।
৩৬ দিন আগে
পাঁচ বছর ভোগার পর ভাসমান সেতুতে চার গ্রামের মানুষের স্বস্তি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের বড়হরপাড়া খালের ওপর ভাসমান সেতু নির্মাণের ফলে পাঁচ বছর ধরে দুর্ভোগে থাকা চার গ্রামের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরতে যাচ্ছে। বিশেষ করে পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান হচ্ছে।
সুফি মোতাহার উদ্দিনের বাড়ি-সংলগ্ন বড়হরপাড়া খালের ওপর এলজিইডি নির্মিত লোহার সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর আগে ধসে পড়ে। এরপর নতুন করে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মম্বিপাড়া, পৌরগোঁজাসহ চার গ্রামের মানুষের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোভাবে চলাচল সচল রাখেন।
তবে সাঁকোতে দুর্ভোগ খুব বেশি কমেনি। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই শিশুরা খালে পড়ে যেত। একপর্যায়ে সাবিনা নামে এক শিশু পানিতে পড়ে প্রাণশঙ্কা সৃষ্টি হয়। সাঁকো পার হতে না পেরে অনেকে কলাগাছের ভেলায় খাল পার হতেন। পরে বাঁশের সাঁকোটিও জীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছিল।
এ অবস্থায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’ এলাকাবাসী দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসে। সংস্থাটি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে ১৬৫ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট প্রশস্ত ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতুটি নির্মাণে ৪০টি ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, এখন সামান্য সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করা হবে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণে প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। এই সেতুর মাধ্যমে বিশেষ করে শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাসে যাওয়া-আসার ঝুঁকি ও ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল গাজী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে এলজিইডির লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আর কোনো সেতু নির্মাণ বা মেরামত করা হয়নি। ভাসমান সেতু নির্মাণ হওয়ায় এখন তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হচ্ছে।
পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মেশকাত বলেন, ভাসমান সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও নিরাপদে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারবে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মানুষ ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা এই ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, এর ফলে চারটি গ্রামের মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্নে হবে। এমন একটি ভালো কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
সারা দেশে সংস্থাটির এমন নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এটি একটি ভালো ও মহতি উদ্যোগ। আপাতত স্কুলগামী শিশু ও স্থানীয় মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভাসমান সেতুটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এমন কাজে এগিয়ে আসা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিক।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ওই খালের ওপর স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
৩৮ দিন আগে